نخستین 200 خط.
বাংলা সাবটাইটেলঃ শোভন
রুরৌনি কেন্শিন "কিংবদন্তীর পরিসমাপ্তি"
তুমি এখনো এখানে কি করছ?
গ্রামে গিয়ে সবার সাহায্য চাও।
এতগুলো কবর কি সব তুমি...
যাদের আমি খুন করেছি...
ওদের থেকে কি নিয়েছ তুমি?
ওদেরকে কবর দিলে কেন তুমি?
এরা সবাই মরে গেছে, তাই ওদের কবর দিচ্ছি!
এই ছেলে, নাম কি তোমার?
শিন্টা।
তলোয়ারবাজ হবার পক্ষে নামটা খুবই কোমল।
এখন থেকে তোমার নাম কেন্শিন।
আমি তোমাকে আমার তলোয়ারবিদ্যা শেখাবো।
এ জায়গা তো...
কেন্শিন!
বাত্তোসাই!
এটাই কি তোমার সর্বোচ্চ ক্ষমতা?
মিস কাওরু।
অবশেষে জেগেছ তাহলে।
গুরুজি!
আমার গর্দভ ছাত্রের সাথে বহুদিন পরে দেখা হল।
আমি এখানে কিভাবে এলাম?
ঝড়ের পরে আমি কাঠ কুড়াতে সমুদ্রের তীরে যাই,
তোমাকে ওখানে পেয়ে যাবো তা কখনো ভাবিনি।
আমার সাথে আর কেউ কি ছিল?
নাহ্, শুধু তুমি আর তোমার ওই আজব তলোয়ারটি ছিল।
কেন, তুমি কি অন্য কারো থাকার আশা করছিলে নাকি?
আপনি আমাকে কোথায় পেয়েছিলেন? আমাকে ওখানে ফিরে যেতে হবে।
কোন লাভ হবেনা!
তুমি তিন দিন ধরে অজ্ঞান ছিলে।
সমুদ্রের মধ্যে কেউই তিন দিন ভেসে থাকতে পারবে না।
তিন দিন...
তোমার আচরণ দেখি এখনো আগের মতোই আছে।
তুমি একাই সবার খেয়াল রাখতে চাও।
আমি একটা স্বপ্ন দেখলাম।
সেখানে আপনিও ছিলেন।
আমি কবর খুঁড়ছিলাম...
আর মৃত মানুষদের কবর দিচ্ছিলাম...
অনেক কবর...
গুরুজি...
আমার একটা অনুরোধ আছে।
আমাকে হিতেন মিৎসুরুগি পদ্ধতির শেষ কৌশলটি শেখান।
কি বললে?
আমার একজনকে থামাতে হবে।
আমার উত্তরসূরি শিশিও মাকোতো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।
আর এতে যদি ও সফল হয়, তবে দেশের মানুষের কপালে দুর্গতি আছে।
ওকে থামানো আমার কর্তব্য!
হাতে বেশি সময় নেই।
অনুগ্রহ করুন!
ঠিক আছে।
তোমার বাকি কাহিনী... পরে শোনা যাবে।
যাই হোক...
আমার এই গর্দভ ছাত্রটি...
গত ১৫ বছর কোথায় ছিল?
ওই আজব তলোয়ারটি নিয়ে এসে...
আমাকে দেখাও!
মন্দ না!
- আরে? - কি?
কি হল?
তোমরা কি শব্দটা শোনোনি?
আরে, ওটা কি?
পালাও, পালাও! সবাই পালাও!
- কেন কি হয়েছে? - একটা কালো জাহাজ!
কি বলছ আবোল-তাবোল, কিসের কালো জাহাজ?
দিনের বেলা স্বপ্ন দেখছ নাকি?
নিজেরা গিয়েই দেখে আসুন, একটা দৈত্যাকার জাহাজ।
ওই জাহাজের লক্ষ্যবস্তু কি? অন্য কোথাও কি হামলা চালিয়েছে?
- ওখানে তদারকির জন্য জলদি কিছু সৈন্য পাঠাও। - জী স্যার।
এটা কি শিশিও হওয়া সম্ভব?
বহু বছর পর এদেশে ফিরে এলাম।
ভয় দেখিয়ে রাজত্ব করা সত্যের পথে রাজত্ব করার চেয়ে ঢের ভালো।
হোজি!
- নামার বন্দোবস্ত করো। - এক্ষুনি করছি!
আক্রমণ শুরু করো!
আক্রমণ শুরু করো!
অনেক হয়েছে!
এখন এত খাওয়া-দাওয়ার সময় নয়।
কেন্শিন, কাওরু...
ওরা কেমন আছে কে জানে?
- ওরা কি মরে গেছে? - হতেই পারে না।
ক্ষমার অযোগ্য!
শিনোমোরি আওশি!
ওই লোকটা...
ওকে আমাদের মেরে ফেলতেই হবে!
কি হল? হাল ছেড়ে দিলে নাকি?
হিতেন মিৎসুরুগি হচ্ছে এমন এক পদ্ধতি...
যা ব্যবহার করে অসহায় মানুষের সাহায্য করা হয়...
এবং এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য নয়।
কিন্তু তুমি এটা ভুলে যাচ্ছো, এবং শোগানের জন্য এর ব্যবহার করছো।
এটা কি তোমার একগুঁয়ে মনোভাবের প্রকাশ? নাকি তোমার অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে?
এর কোনটাই নয়।
এ দেশ থেকে দুর্দশা দূর করতে হলে আমাকে এটা শিখতেই হবে।
কে ও?
ও নাকি কয়েকদিন আগে গালে দাগওয়ালা একজনকে সমুদ্রতীরে দেখেছে।
কথাটা কি সত্যি?
বাত্তোসাইয়ের দেখছি 'কই মাছের প্রাণ'!
কোথায় লোকটা?
বল! কোথায় ও? বল! বল!
হোজি, অনেক হয়েছে!
ভালোই হল।
দেশ শাসন করার চেয়ে ওর সাথে লড়াইটা আরও বেশি উপভোগ্য হবে।
মিঃ শিশিও, কি বললেন এটা? কি বললেন?
ওখানে গিয়ে কোন বোকামি করো না যেন!
- চলো এখন! - জী স্যার!
আসুন, আসুন, আমরা আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতো হিরোবুমি'র সাক্ষাৎ পেয়ে আমি ধন্য!
প্লিজ...
খাবারগুলো ভালোই।
ইংরেজি খাবার নাকি এগুলো?
মনে হচ্ছে খাবারে বিষ নেই!
আপনিও বাকুমাৎসু'র অনুসারী ছিলেন, তাইনা?
আপনি কতজন মানুষ হত্যা করেছেন?
আজ পর্যন্ত কতজনকে হত্যা করেছেন?
তোমার এতবড় সাহস কিভাবে হল।!
কি করছ তুমি?
মনে হচ্ছে ছোট একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেল এখানে!
বসো সবাই!
সবাইকে বসতে বললাম!
আবে, তুমি বলবে ও এখানে আসার পথে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
আপনি তো তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন!
এমন একটা নির্মম অপরাধের সাজা সরকারের অবশ্যই দেয়া উচিৎ!
এটাই সুবিচার হয়েছে!
তাহলে তখন কেন আমার সাথে "সুবিচার" করা হলো না?
আমাদের এ সংলাপ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল!
আচ্ছা...
সেই "সুবিচারের" জন্য ধন্যবাদ...
যার জন্য আমার শরীর দিয়ে ঘাম বেরোয় না।
আর তাই, আমার শরীর এতটাই গরম হয় যে,
মনে হয় যেন আমার সমস্ত শরীরে আগুন লেগেছে!
অনুভূতিটা ঠিক নরকে পোড়ার মতোই।
এভাবে বেঁচে থাকা...
আর নরকে বাস করা সমার্থক!
যা বললাম, বুঝেছেন নিশ্চয়ই?
আপনারাই আমাদের তৈরি করেছিলেন।
- "আমাদের" মানে? - আমাকে আর খুনে বাত্তোসাইকে।
নিজের জীবনের মায়া থাকলে, ওকে গিয়ে খুঁজে বের করুন...
আর মৃত্যুদণ্ড দিন ওকে।
কি বললে...?
সরকার ওর হত্যাকাণ্ডগুলো লুকিয়ে মানুষের সাথে মিথ্যাচার করেছে!
এটা কি ক্ষমার যোগ্য?
নইলে আমি এ সরকারব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেবো।
সবাই শুনুন! খুনে বাত্তোসাই এখন পুলিশের ফেরারি আসামী।
ওর আরেক নাম হিমুরা কেন্শিন।
কেউ ওর দেখা পেলে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে জানাবেন!
ও সাধারণত লাল পোশাক পড়ে, এবং ওর গালে কাঁটা দাগ আছে।
অসংখ্য মানুষ হত্যার দায়ে ওর সাজা হবে!
কেউ ওর দেখা পেলে অবশ্যই নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে জানাবেন!
- এসে পড়েছ? - এসব কি?
এটা শিশিও'র নির্দেশ! আমাদের কিছুই করার নেই।
- শিশিও'র নির্দেশ? - হ্যাঁ!
ও তো বাত্তোসাই কে চায়, তাইনা?
তবে প্রাক-মেইজি যুগের অসংখ্য খুনের জন্য শিশিও'র ও তো সাজা হওয়া উচিৎ।
শিশিও এই সরকারব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেবার হুমকি দিয়েছে।
ওর অমান্য হবার ক্ষমতা আমাদের নেই!
তাছাড়া... হিমুরাকে খুঁজে পেতে পুলিশেরও অনেক সময় লাগবে।
এই সুযোগে আমরা ওই জাহাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, আর আত্মরক্ষার বন্দোবস্ত করবো।
আমি বাত্তোসাইকে জেলে পুরতে দেবো না!
কি বলতে চাও তুমি?
মনে হচ্ছে এ সরকার ওর মতো এক কিংবদন্তীর অবদান ভুলে যাচ্ছে।
যত্তসব অকৃতজ্ঞের দল!
এই, ও একজন ফেরারি আসামী মানে ও এখনো বেঁচে আছে!
হিমুরা... এখনো বেঁচে আছে!
ঠিক, ওরা এখনো বেঁচে আছে।
ও হয়তো কাওরু'র বাড়িতে গিয়েছে।
কিন্তু ওকে বাকুমাৎসু যুগের খুনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে কেন?
- চলো ইয়াহিকো, হাতে সময় নেই! - কোথায়?
অবশ্যই টোকিওতে, কামিয়া প্রশিক্ষণশালায়।
ওখানে ছাড়া ওর যাবার আর কোন যায়গা নেই।
এখন জলদি চলো!
- এই যে? - কে!
কি এটা?
এটা কি এই সরাইখানার কারো?
নড়ো না!
তাহলে কি...?
হেই!
- কাওরু! কাওরু! - কাওরু!
হাসপাতালের মধ্যে দয়া করে চিৎকার করবেন না।
দুঃখিত...
কাওরু!
- কাওরু। - আপনারা কি এর আত্মীয়?
হ্যাঁ, আত্মীয়ের মতোই!
একজন লোক ওকে পেয়ে এখানে রেখে গিয়েছে।
কাওরু।
কাওরু, তুমি এখনো ঘুমিয়ে আছো?
এদিকে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গিয়েছে!
আমরা একে অপরকে রক্ষা করার ওয়াদা দিয়েছিলাম, তাইনা?
আমি তোমাকে বহুবার বলেছি...
তলোয়ার হচ্ছে একটা হাতিয়ার।
তলোয়ারবিদ্যা হচ্ছে খুন করার বিদ্যা!
তলোয়ার দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন...
এর কাজই হচ্ছে খুন করা!
তোমার মাথা থেকে ওসব ফালতু কথা ঝেড়ে ফেলে...
সত্যকে মেনে নাও।
তুমি মানুষের সেবা করতে চাও,
কিন্তু কিছুই করতে পারো না!
মিস কাওরু!
তুমি সেই বাচ্চাটিই রয়ে গেছ, যে কিনা আজীবন মানুষের কবরই খুঁড়ে যাবে।
এমন ক্ষমতা নিয়ে... তুমি কিভাবে ওই পদ্ধতি রপ্ত করবে?
তোমার এই অদ্ভুত তলোয়ার দিয়ে আমাকে তোমার সক্ষমতার প্রমাণ দাও!
No comments yet. Be the first to leave one.