نخستین 200 خط.
GYEONGSEONG CREATURE
১ বছর পূর্বে ওংসেওং হাসপাতাল, গ্যেয়ংসং
রিউ সাচিমতো, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ...
তুমি স্বেচ্ছাসেবক?
হ্যাঁ।
মহারাজা এবং জাপান সাম্রাজ্যের সেবা করার জন্য...
এবং তাতে থাকাকালীন ভালো বেতন পেতে।
এটা কী, স্যার?
কাইতাই শিনশো।
মানে শরীরবিদ্যার উপর বই?
এ ধরনের বই ১৭২২ সাল থেকে জার্মানিতে রয়েছে।
আমরা পিছিয়ে থাকলেও,
এই ওংসেওং হাসপাতালে বিভিন্ন গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে
আমাদের সাম্রাজ্যের চিকিৎসা মান উন্নীত করার কাজ করছি।
তোমার কাজ হলো সেগুলো লিখে রাখা।
তো,
আমাকে যা আঁকা লাগবে...
আজ আমরা কোন জায়গার কাজ করবো?
আজ আমাদের সাথে নতুন একজন চিত্রকর আছে।
তাই পেটকাটার মাধ্যমে হালকাভাবে আমরা কাজ শুরু করি না কেন?
হ্যাঁ, স্যার।
ছুরি।
দয়া করে আমাকে মারবেন না।
প্লিজ। দয়া করুন!
ডাক্তার! প্লিজ!
দয়া করে আমাকে মারবেন না!
সাচিমতো!
এদিকে একবার আসো তো!
- আমি নিছক এক গরিব চিত্রকর ছিলাম। - সাচিমতো!
আমার টাকার দরকার ছিলো।
এবং আমি বেশি পারিশ্রমিকের জন্য জোসেওন বেছে নিয়েছিলাম, কিন্তু...
কান্না করার দরকার নেই।
এখানের সবার মতো তুমিও শীঘ্রই অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
এটাই মানুষের বিশেষত্ব।
আমরা কোনো কিছুতে দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারি।
হোক তা আকাঙ্খা...
বা যন্ত্রণা।
এই যে, সময় শেষ। দ্রুত করো।
GYEONGSEONG CREATURE আকাঙ্খা এবং যন্ত্রণার মধ্যে
পর্ব:- ২ মা
অনুবাদ ও সম্পাদনায় সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক
তুমি এরকম একটা মানুষের অনুরোধ গ্রহণ করলে কেনো?
এখানে গ্রহণ না করার মতো তো কিছু নেই।
ওই লোকটা নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাবে। আমাদের সাচিমতোর খবর পেতে হবে।
সে একজন দাম্ভিক এবং লজ্জাহীন ব্যাক্তি।
একজন মানুষকে এত দ্রুত বিচার করিস না।
ওর কথা বলার ধরন দেখেই বলতে পারি,
এবং আরেকজনের সমস্যাকে সে কীভাবে হালকাভাবে দেখে।
আমরা তার কাছে নিছক গুপ্তচর ছাড়া আর কিছুই না।
আমরা একটা চুক্তিতে পৌঁছেছি।
আমাদের সবাইকে পারস্পরিক সুবিধার জন্য কাজ করতে হবে।
এই কাজটা...
আমার কাছে ভালো মনে হচ্ছে না।
মানওল আইল্যান্ডেও আমার একই অনুভূতি হয়েছিলো,
এবং তারপর তুমি বাজেভাবে আহত হলে।
এটাই শেষবার হবে, ছ্যে-ওক।
এটা শেষ হওয়ার পর,
তোর বাড়ি ফেরাটাই ভালো হবে।
আর মায়ের কী?
তোর মাকে খুঁজে পাওয়া আমার ভাগ্য এবং আমার বহন করা বোঝা।
আমি তোকে আর সেটা সহ্য করার জন্য বলবো না।
বাবা।
তোর নিজের জীবনটাও কাটানো উচিত।
এটাই আমাদের একসাথে শেষ কাজ।
যতক্ষণ না চেরি ফুল ঝরে যায়।
এই বাবা-মেয়ের সম্পর্কে কী মনে করেন?
এরা তাকে খুঁজে বের করতে পারবে নাকি?
তাদের কথা শুনে,
আমার কাছে ওদেরকে অপেশাদার মনে হয়নি।
পরের শিফট কে নিচ্ছে?
শুনেছি কিনোশিতা নিচ্ছে।
ওহ, নতুন বাচ্চাটা?
সে ভালো নেই।
- চলো। - হ্যাঁ, স্যার।
এটা কীভাবে সম্ভব যে আমরা একটাও সূত্র খুঁজে পেলাম না।
আমি মিওং-জা'র প্রিয় চায়ের দোকান,
রেস্তোরা, বুটিক এবং জুতার দোকানে ঘুরে বেড়ালাম। তার হদিস কেউ জানে না।
এটা কীভাবে সম্ভব?
সে যে রিক্সা দিয়ে ঘুরাঘুরি করতো তাদের অফিসেও গিয়েছি।
কিন্তু তারাও কিছুই জানে না।
কোনো রিক্সাওয়ালা নিয়ে যায়নি বা দেখেনি।
ধ্যাৎ, সে বাতাসের সাথে চলে গেলো নাকি?
কোনো নাম-গন্ধ না রেখেই নিরুদ্দ্যেশ হয়ে গেছে।
যেনো সে বাতাসে বিলীন হয়ে গেছে। একদম। মিওং-জা বাষ্পীভূত।
একজন মানুষ যেখানেই যাক কিছু না কিছু প্রমাণ পিছনে ফেলে যায়।
আমরা শুধু সেটা খুঁজে পাচ্ছি না।
আচ্ছা, এখন সত্যিই কি এরা আমাদের পিছু করছে?
তারা আমাদের গাধা ভাবে নাকি?
আমার দেখা মতে এটাই সর্বকালের সেরা ফাউল একটা পিছু নেওয়া।
তাদের দেখেও না দেখার ভান করাটা বড্ড প্যারাদায়ক লাগছে। ধুর!
- একটা পাত্রের জন্য মারামারি করছে? - বেটা পাগল হয়ে গেছে নাকি?
প্রশ্নের উত্তর দে! এটা কী রঙের লাগছে?
এটা...
সাদা।
আর জোসেওন মানুষরা সাদা চীনামাটির বাসনকে তোমরা কী ডাকো?
ব্যেকজা, স্যার।
তাহলে...
এটা কী?
উত্তর দে!
জিজ্ঞেস করছি এটা কী?
দেখি তো।
কী বলা যায় এটাকে?
এটাকে তো আসল চীনামাটির বাসন বলা যায় না।
আমার জিনিসটা দেখে শুধু সাধারণ একটা মৃত্শিল্প লাগছে।
আর আমি সেই জিনিসটাই ১০০ ওন দিয়ে কিনেছি।
তো কী?
আমি যদি এটা এখানে বন্ধক রাখি তাহলে তুমি কত দিবে?
তোমার কাছে লিখিত কোনো জামানৎ আছে নাকি?
রশিদ হলেও চলবে।
এসব তো নেই।
তুমি ১০০ ওন দিয়ে একটা রুমে রাখার পাত্র কিনেছো যার মূল্য ১০ জেওন ও না।
এবং তোমার কাছে জামনৎ বা রশিদও নেই।
তারমানে পরিষ্কার যে তুমি মারা খেয়েছো।
এটা পুলিশের কাজ, কোনো বন্ধক দোকানের না।
মাস্টার জাং।
ভালোয় ভালোয় পাত্রটা রেখে দাও না।
আমি শুনেছি ইশিকাওয়া তোমার সবকিছু বাজেয়াপ্ত করবে।
কে বললো?
বোনজেওং এর সব লোকই ইতিমধ্যে এই খবরটা জানে।
হাউজ অফ গোল্ডেন ট্রেজারে'রও নতুন মাস্টার হবে।
এমনিতেই সব কিছু হারাতে যাচ্ছো। আরেকটা পাত্র হলেই বা কী?
চোদনাটার অবস্থা দেখো?
মাত্র তুই কী বললি?
কী?
"চোদনা"?
আমার ব্যবসায় নাক গলানো বন্ধ করে পল্টি মার।
অযথা নাক গলালে নাকটা কেটে রেখে দিবো।
আর যদি পারিস জোসেওনের স্বরে কথা বলবি না।
উচ্চারনটা খুবই বাজে হয়।
চরম খারাপ!
ধ্যাৎ!
তুই শেষ!
হাউস অফ গোল্ডেন ট্রেজার আমার মালিকানাধীন, জাং ত্যে-সাং,
এবং এটা সেভাবেই থাকবে।
তাই তুই যদি আমার দোকানে অশান্তি সৃষ্টি করিস বা আমাকে লুটার স্বপ্ন দেখার সাহস করিস,
তাহলে তোর...
মৃত্যু বা মৃত্যুর কাছাকাছি যাওয়ার প্রস্তুতি থাকাটাই ভালো হবে।
কীরে! আমার হাত কাঁপছে!
আমার হাত জিনিস রাখতে পারে না। হয়তো বয়স হয়ে গেছে!
দেখেছিস? দেখ...
হেই।
চলে গেলেই ভালো হবে।
- সর! - ভাগ!
রাস্তা থেকে সর!
চল।
এখন থেকে আমাদের সবারই সতর্ক থাকা লাগবে।
কী?
মানে কী?
মানে আমাদের মিওং-জা'কে দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।
নাহলে ওদের মতো লেচ্চর আমাদের জ্বালাতেই থাকবে।
এই কথায় মনে পরলো।
মিওং-জা'র সর্বশেষ জায়গার খুঁজ তারা পেয়েছে।
কী?
আমারা একটা রিক্সাওয়ালাকে পেয়েছি যে তাকে ৭ দিন আগে একজায়গায় নিয়ে যায়।
কী? না, না! এটা হতেই পারে না!
আমি স্প্রিং মুন হলের হয়ে কাজ করা প্রত্যেকটা রিক্সাওলাকে জিজ্ঞেস করেছি।
আমি নিজে সবাইকে জিজ্ঞেস করে খুঁজ করেছি!
ওই লোকটা স্প্রিং মুন হলের হয়ে কাজ করে না।
তাহলে কী?
আপনি বলেছিলেন যে তাকে হয়তো খুন করা হয়েছে।
তাই আমরা ভেবেছি কে তাকে খুন করতে পারে।
এবং একজন মানুষের কথা মাথায় এসেছে।
মি. তাকাশি কোথায়?
উনি অসুস্থ, তাই ৩-৪ দিন বিশ্রামে থাকবেন।
লেডি ইউকিকো মাজদা।
তো ইউকিকো মাজদা মিওং-জা'কে ডাকে?
প্রথমে তামকে ইশিকাওয়া'র বাসায় ডাকা হয়,
এবং তার কিছুক্ষণ পর অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়।
কোথায় হতে পারে?
ওংসেওং হাসপাতাল।
ওং... ওংসেওং হাসপাতাল?
আপনি নিশ্চিত?
আমাকে দয়া করে মেরো না!
তুই নিশ্চিত ওংসেওং হাসপাতাল?
হ্যাঁ! আমি দিব্যি করে বলছি ওংসেওং হাসপাতাল ছিলো!
আমার মা বাবা'র দিব্যি করে বলছি!
ওংসেওং হাসপাতাল'ই ছিলো!
বললামই তো, আমি নিজে তাকে সেখানে নিয়ে গেছি!
রিক্সাওয়ালা তাকে ওংসেওং হাসপাতালে নামিয়ে দেয়ার পরই সে নিঁখোজ হয়।
তাই বলাই যায় যে সে এখনো সেখানেই আছে।
ধুর, না। এটা কোনো যুক্তিই না।
"কোনো যুক্তি না" মানে কী?
ওংসেওং হাসাপাতালের কার্যকলাপ শুনো,
ওখানে ঢুকা অনেক কষ্টসাধ্য...
যতক্ষন না তুমি জাপানী সৈনিক, পুলিশ বা সরকারী অফিসার না হচ্ছো।
একজন সাধারণ জোসেওনের মানুষ ওখানে ঢুকার অনুমতিই পাবে না!
তুমি জানোই না তাদের নিরপত্তা কতটা কঠিন সাথে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ।
যদি ইউকিকো মাজদা কোনো ব্যবস্থা করে সব ঠিক করে রাখে?
সে এরকম কেনো করবে?
সে তার স্বামীর উপপত্নীকে নিয়ে জাপানের একমাত্র হাসপাতালে যাবে কেনো?
সেটা আমাদের হাসপাতালে ঢুকেই বের করতে হবে।
ঈশ্বর, তোমার কী হয়েছে?
মাত্রই তো বললাম জোসেওনের লোকের সেখানে যাওয়ার অনুমতি নেই।
শুনেছিলাম মাস্টার জাং এর ভালো চেনা জানা আছে।
কিন্তু ভিতরে ঢুকার জন্য সেটা পর্যাপ্ত না?
আচ্ছা, আমি কিছু জোসেওনের লোকদের জানি যারা হাসপাতালে ঢুকতে পারে।
তো, আমরা ঢুকতে পারবো নাকি পারবো না?
সেটা আমার দেখা লাগবে।
বাদ দিন। আপনি না পারলে আমরা কিছু না কিছু খুঁজে নিবো।
তোমার দেখা যায় সবুর নেই? কে বললো আমি পারবো না?
No comments yet. Be the first to leave one.