نخستین 200 خط.
১৯৭৩ তেলেঙ্গানা গ্রামাঞ্চল - অন্ধ্রপ্রদেশ।
ভগবান!
ভগবান!
ভাই!
-কী সমস্যা? -পুলিশ আর নকশালবাদীদের গোলাগুলির মাঝে...
-আমরা ফেসে গেছি। -কী?!
হায় ভগবান! আমরা ফেসে গেছি।
-সুজাতা। -সুজাতা!
এখন হাসপাতালে কীভাবে যাই?
একটু সবুর করো, মা!
-ভাই, আপনি ঠিক হয়ে যাবেন। ভয় পাবেন না। -ভাই!
মেডিকেল কিটটা দে তো জলদি!
এই তো।
এখানে থাক। আমি ট্র্যাক্টরের লোকগুলোকে দেখে আসছি।
-আপা, এতে বিপদ আছে! -কিছু হবে না আমার। ওনাকে দেখ।
আপা, যেও না। আমার কথা শোনো।
তুমি পারবে।
ঠিক হয়ে যাবে তুমি।
ভয় পাবেন না। আমি একজন ডাক্তার। আমাকে একটু জায়গা দিন। আমি সামলে নিচ্ছি।
ঠিক হয়ে যাবে তুমি।
শক্ত থাকো।
চিন্তা করবেন না। কিছু হবে না আপনার।
শক্ত থাকুন।
একটু জোরে পুশ করুন।
আমার স্ত্রী আর বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য জানি না কীভাবে ধন্যবাদ দিব আপনাকে।
রীতিনীতি সম্পন্ন করুন আর আমাদের সন্তানের নাম দিন।
ভেনেলা।
লাল সালাম!
একটা যুদ্ধ অনেক প্রাণ কেড়ে নেয়…
কিন্তু আমার প্রাণ একটা যুদ্ধই দিয়েছে।
আমি ভেনেলা। গল্পটা আমার।
এই, জলদি করো। মালিক যেকোনো সময় চলে আসবে।
ভেনেলা!
পুতুল রেখে গিয়ে পড়, যা!
তুই কি পড়াশোনা বাদ দিয়ে ভেড়া চড়িয়ে জীবন কাটাবি?
আর কত বলব তোকে? দে পুতুলটা!
এখন যা পড়।
ভেনেলা! হায় ভগবান! আমার মেয়ে!
মাল্লান্না! ইয়াদান্না!
আমার মেয়ে কুয়োতে পড়ে গেছে।
পুতুলের জন্য কোন মেয়ে কুয়োতে লাফ দেয়?
কেউ বাঁচাও ওকে! ভেনেলা!
ভেনেলা!
মেয়ে আমার!
-কী হয়েছে, সুজাতা? -ভেনেলা!
-কী হয়েছে? -হায় ভগবান!
ভেনেলা, চোখ খোল। দেখ তোর মা এখানে। চোখ খোল ভেনেলা।
ওর পুতুলের জন্য কুয়োতে লাফ দিয়েছে।
-চোখ খুলে দেখ। -আমার মেয়ে!
-দোহাই লাগে চোখ খোল! -মা!
-তোর কিছু হতে দিব না আমি। -ওঠ।
-কিছু হবে না তোর। -ভেনেলা, চোখ খুলে দেখ আমায়।
সুজাতা, ওকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করো।
-আহা! ওঠ মা। -মেয়েটা আমার।
-ভগবান! এই মেয়ে এত জেদী কেন? -ওঠ মা!
আমার মেয়ে।
এই নে ভেনেলা। এই যে তোর পুতুল।
আমার মায়ের নিয়মকানুন আমাকে জেদী বানিয়েছে।
আর আমার বাবার কবিতা আমায় জীবনমুখী শিক্ষা দিয়েছে।
Turn your wishes into your wings
And you can soar to the sky
Turn your wishes into your wings
And you can soar to the sky
If your determination becomes your breath
You can swim against any tide
If your determination becomes your breath
You can swim against any tide
A wish made from The bottom of your heart
Will always pave a way to its fulfillment
Turn your wishes into your wings
And you can soar to the sky
সবার জীবনে দুটো গুরুত্বপূর্ণ দিন রয়েছে।
এক, যেদিন তুমি জন্ম নিয়েছিলে সেদিন। আর দুই, সেইদিন, যেদিন তুমি বুঝবে তোমার জন্ম কেন হয়েছে।
Turn your wishes into your wings And you can soar to the sky
কাল রাতে আমার ভাই একটা কবিতার বই এনেছে।
পড়ার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু একটা শব্দও বুঝিনি।
কলেজে লেকচারের সময়ই তুই ঘুমিয়ে পড়িস,
আর তুই কি না নিজে নিজে কবিতা পড়বি?
সত্যি বলতে, ঐ লেকচারগুলোও বইটার কবিতার চেয়ে ভালো।
কেন? তেলুগুতে লেখা নেই?
-তেলুগুতেই লেখা। -তাহলে সমস্যা কী?
তাহলে বুঝতে কঠিন হবে কেন?
আচ্ছা, তোর জন্য তো সহজ কারণ তোর বাবা...
তোর পুরো শৈশব তোকে কবিতা শুনিয়েই কাটিয়েছে।
যাক গে, কী হয়েছে সেটা বল।
বইটার শব্দগুলো বেশ কৌতূহলোদ্দীপক ছিল।
-আচ্ছা। -এত বড় শব্দ কখনো পড়িনি।
-আচ্ছা। -যখন আমি পড়ছিলাম...
আমার বাবা ভেতরে এসে তো উন্মত্ত হয়ে গেলেন।
সম্ভবত আমাদের প্রতিবেশির ছেলে এই ধরণের বই পড়ে নকশালবাদীদের সাথে যোগ দিয়েছে।
-আচ্ছা। -আচ্ছা।
ব্যস, উনি তৎক্ষণাৎ বইটা ছুড়ে ফেললেন আর...
আমার ভাইকে মারলেন।
আমার মা বাধা দিতে চাইলে উনি তাকেও মারধর করে।
বেচারি। কাঁদতে কাঁদতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন।
আহারে!
এই একটা বই এত সমস্যা সৃষ্টি করেছে? সত্যি?
হ্যাঁ!
ভেনেলা, কী ভাবছিস তুই?
ভাবছি যে, বইটাতে কী থাকতে পারে।
ভগবানই জানে। কিন্তু কাল সন্ধ্যায় তো এটা বাসায় ঝড় তুলে দিয়েছিল।
-এই আয় চল। -কোথায়?
ঐ বইটা এখনই পড়তে চাই।
ভাইয়া ওঠো।
অরণ্য
দুর্বলের ওপর শোষণ কবে শেষ হবে?
বৈষম্যের দেয়াল ভাঙবে কবে?
মাঠে কাজ করা শ্রমিকের রক্ত চুষে অর্থলাভ করছে।
এই লুটপাট কবে শেষ হবে?
মেঘ গর্জন
নারীর পায়ে বেড়ী বাধানো অমানবিক।
এই বর্বরতার শেষ কবে হবে?
সারাজীবনের পালের ভেড়ার মতো থেকো না।
এই অন্তহীন যুদ্ধে কবে অংশ নিবে?
কে তুচ্ছ ছোট, আর কে-ই বা অর্থপূর্ণ মহৎ?
কে রাজা হওয়ার যোগ্য?
কমিউনিজমের শাসন কবে এই ভূমিতে প্রতিষ্ঠা পাবে?"
নকশাল কমান্ডার রাভান্নার ছদ্মনাম অরণ্য,
জানিস না?
মোটেও জানতাম না।
অবিশ্বাস্য! সত্যি বলছিস?
হ্যাঁ, সত্যি বলছি।
কিন্তু তার কবিতা আমাকে পুরোদস্তুর অন্য এক রাজ্যে নিয়ে যায়।
দেখলে, জানতাম ও বুঝবে। তাই ওকে বইটা পড়তে দিয়েছি আমি।
রাভান্নার লেখা এরকমই শক্তিশালী।
আমাদের তো মাথা ঘুরে গিয়েছিল যখন আমরা এটা প্রথমবার দেখেছিলাম।
আমাকে আরও কিছু বই দিতে পারবেন?
অবশ্যই। কিন্তু এসব তোকে গোপন রাখতে হবে।
এসব বই নিষিদ্ধ।
পুলিশ এসবের ব্যাপারে জানতে পারলে আমরা সবাই জেলে যাব।
কাউকে বলিস না।
বলব না। কথা দিলাম।
রাতে সবাই ঘুমোলে তখন পড়ব আমি।
ঠিক আছে, সন্ধ্যায় ওগুলো তোর কাছে পাঠিয়ে দিব।
কখনো বদলাবে না!
লুটেরা আর ডাকাতদের এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।
আমাদের লড়াই এই তেজী শত্রুর বিরুদ্ধে।
Let's go! March ahead!
Let each stride resonate like thunder
and highlight the strength of your heart!
Let's go! March ahead!
Remember those martyred at Srikakulam!
Let's reclaim and return the lands stolen from the people to the people!
Let's go! March ahead!
Like a lock on the landlord's door, like a dog before his fortress!
How long? How much longer? When would our lives change?
Fight to protect the honor of women!
Fight to uphold the self-esteem of the Dalit!
Battle for a morsel of food to appease the hunger!
The struggle of farmers!
How long? How much longer?
Shall we bring in a new world
that brings equality among castes and religions?
-Let's do it! -Let's do it!
To usher in the dawn in the whole universe, shall we sacrifice our lives?
-Let's do it! -Let's do it!
Let's go! March ahead!
Can't you see the distressed moon?
Can't you hear the spark of the agony?
Look at the overflowing blood of martyrs…
that inspired the revolutionary songs!
The red jasmine glow across the sky.
The clouds of spring became the roar of the jungle.
The final battle!
The victory of the revolutionary!
Behold the red flag!
Sing the invincible anthem!
There… you see the red light!
He is the proud son of the revolution.
He is the proud son of the revolution.
He is the proud son of the revolution."
আমি আপনার ফ্যান হয়ে গেছি।
আপনার কাব্য আমার হৃদয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু জানি না আপনার প্রতি এই অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করব।
আমি এখনই আপনার সাথে দেখা করতে চাই।
-বাবা! -হ্যাঁ, মা।
মামা আর ওনার পরিবার এসেছে। মা কোথায়?
-রান্নাঘরে মনে হয়। -মা!
অবশেষে আমাদের মনে করলে, ভাইটি আমার?! তিন বছর হয়ে গেছে।
বোনালু উৎসবের জন্য এসেছো বলে খুশি হবো?
বকাবকি বাদ দাও। তারা এসেছে, খুশি হও।
ভেনেলাকে আমার পুত্রবধু বানিয়ে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এসেছি।
-যদি শুধু তোমরাই আমাদের ভালোবাসো-- -মা, থামো তো।
ওনারা এসেছে বলে খুশি হতে পারছো না কেন?
আমি বকাবকি করছি না।
যা গিয়ে তোর মামাতো ভাইকে হাতমুখ ধুতে সাহায্য কর।
ব্রণগুলো তো দেখো। ঝগড়া আছে না কি ওদের সাথে?
-তেমন কিছু না। -আচ্ছা।
বান্ধবীদের মতো বাইরে বেশি ঘুরবে না। ত্বকের বারোটা বেজে যাবে।
এই ক্রিমটা নাও কিন্তু কাউকে বোলো না। আমার সাথে ঠাট্টা শুরু করে দিবে।
ঠিক আছে।
-আশা করি পড়ালেখাতে মন দিচ্ছো তুমি। -জি দিচ্ছি।
ভালোভাবে পড়ো, তোমার...
সরকারি চাকরি আমি নিশ্চিত করব।
তারপর আমাদের জীবন সেট হয়ে যাবে।
দয়া করে এই বইয়ের লেখককে খুঁজে পেতে সাহায্য করুন।
সত্যিই তার সাথে দেখা করতে চাই আমি।
আমার এই ইচ্ছা পূরণ করলে আমি বিশেষ অর্ঘ্যের ব্যবস্থা করব।
সবাই পিছাও।
-এই সর। শালা নীচ। -ভাগ!
No comments yet. Be the first to leave one.