نخستین 200 خط.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
উচ্চাকাঙ্ক্ষী উকিলেরা, শুভ সকাল জানাচ্ছি।
বাস্তবতার একটা ছোট্ট নিদর্শন চেক করি।
যা আমার বইতে এক নাম্বার রুলস হিসেবে আছে।
আইন আর ন্যায়বিচার সমান নয়।
ন্যায়বিচার হচ্ছে একটা আদর্শ।
আইন হচ্ছে সেই আদর্শের মঞ্জিলে পৌছবার সিড়ি।
কখনো কখনো...
রুল নাম্বার ২: যখন আপনি লিখবেন শোনাটাই বন্ধ করে দেবেন।
ভেবে চমকিত হবেন এই কারণে যে...
..কত উকিল ক্রস এক্সামিনেশনের সময় তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে।
কারণ, সাক্ষী জবানবন্দী দেওয়ার সময় তারা নোটস নিতে বেশী ব্যতিব্যস্ত ছিল।
এবং, রুল নাম্বার ৩
কখনো আইনের প্রেমে পরবেন না।
এর আকর্ষণ বেশ...
কিন্তু, একদিন এটা আপনাকে হতাশ করবে।
জি?
দুঃখিত স্যার, কিন্তু একজন উকিল হয়ে এরকমটা কীভাবে বলতে পারেন আপনি?
আরেকটু শুনলেই উত্তর পেয়ে যেতেন।
ওকে। ২০১২ সালের নির্ভয়া কেস।
৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে একজন নাবালকও ছিল।
ওর ১৮ বছর বয়সে পদার্পন করতে আর ৩/৪ মাস বাকি ছিল।
এবং, এই বীভৎস কাজের ক্ষেত্রে সে ছিল সবার চেয়ে এগিয়ে।
ভিক্টিমকে ধর্ষণের সময় যে আঘাত সে করেছিল...
..সেটাই ছিল ভিক্টিমের মৃত্যুর প্রধান কারণ।
কেসের শুনানি যখন চলছিল, সে ১৮তে পদার্পন করে।
পুরো দেশ তাকে প্রাপ্তবয়স্ক সাব্যস্ত করে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে চাচ্ছিল।
কিন্তু, আইন...
আইন তাকে জুভেনাইল কোর্টে নাবালক হিসেবে চেষ্টা করার উপায় বাতলে দেয়।
৩ বছর পরেই সে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যায়।
বাকি সবাইকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয়।
তো...
প্রশ্ন হচ্ছে, এই আইনকে কি সমর্থন করা যায়?
অবশ্যই যায়।
কিন্তু, তাতে ন্যায়বিচার কি পাওয়া গেছে?
জি?
স্যার, আপনার কী মনে হয়?
আমি? আমি আইনের মুখপাত্র।
ন্যায়বিচারটা আসলে এক প্রকার ধোঁয়াশা।
আইনটা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট।
কখন ফিরবি?
জানি না, মা।
ও বোল্ড হয়েছে নাকি?
ও বাবা...
সে বোল্ড হয়েছে?
আসি, বাবা।
বাসায় কখন ফিরবি?
শিউর না।
এই মাধুরী দীক্ষিত, কোথায় যাচ্ছিস?
মাধুরী দীক্ষিত?
অঞ্জলী ধোপা বল!
- রোহান স্যার। - ভেতরে।
গুড মর্নিং, স্যার।
স্যার, মিরা ম্যাম পাঠিয়েছে...
..পরের দিনের শ্যুটের কস্টিউমস দেখানোর জন্য।
বসো।
এখানে বসো।
স্যার, এটা হচ্ছে জ্যাকেট।
এক পিস, আপনি যেরকমটা আনতে বলেছিলেন।
- সাভি! - হ্যাঁ!
টেবিলে টাকা আর লিস্ট আছে। বাজারে যাও।
স্যার, এই যে দেখুন।
স্যার, এটা হচ্ছে ব্ল্যাক জ্যাকেট।
মানাবে কিনা বুঝব কীভাবে?
স্যার, সেজন্যই তো নিয়ে আসলাম দেখাতে।
পরিধান করে দেখাও।
অঞ্জলী!
অঞ্জলী!
অঞ্জু!
অঞ্জু!
কী হয়েছে?
অই!
কী হয়েছে?
বল না?
বল!
- গুড আফটারনুন, স্যার। - গুড আফটারনুন, স্যার।
- লাইট লাগানো হয়েছে? - হচ্ছে, স্যার।
ক্যামেরাম্যানকে বলিস ওর নেক্সট ফিল্মের জন্য এই অ্যাওয়ার্ড উইনিং দৃশ্য ধারণ করতে।
- অভিনেতার সাথে কথা বলব। - ওকে, স্যার।
- দত্তা, চা দিতে বল। - আচ্ছা, স্যার!
জাসবির, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে এত চেক লিখিস টাকা যায় কোথায়?
যা চাই তার কিছুই তো পাই না।
শালা উত্তরে খালি একটা ভেটকি দেবে।
গুড আফটারনুন, স্যার।
এসব কী?
কী এসব?
আমি না বলেছিলাম পাতলা ফিনফিনে সিল্ক শাড়ি পরাতে?
- জি, স্যার। - তাহলে, এসব কী ছাতামাথা পরিয়েছ ভাই?
- স্যার, আমি ভেবেছিলাম... - তুমি ভেবেছিলে!
সে ভেবেছিল?
কে তোমাকে ভাবতে বলেছিল?
আরে বাল, হচ্ছেটা কী এখানে?
কী হচ্ছে আসলে?
প্রোডাকশন ম্যানেজার ঠিকমতো যা চাই তা দিচ্ছে না।
ক্যামেরাম্যান এখনো লাইটিঙই ঠিক করতে পারেনি।
আর কাপড়চোপড়ের ধরন রেলওয়ের বস্তিবাসীদের মতো!
আমি বানচোদ কি একাই এখানে সিনেমা বানাচ্ছি?
মিরা...
বেরিয়ে যাও।
- রোহান, ওকে দরকার আমার। - আরেকটা মেয়েকে ব্যবহার করো।
ওই অঞ্জলীকে।
- ও আজ আসেনি। - আমি কেয়ার করি না!
ব্যবস্থা করো।
যথেষ্ট মেকআপ হয়েছে!
রোলিং ক্যামেরা।
- ক্যামেরা। - রোলিং।
অ্যাকশন!
তুমি জানতে, জহির একজন ফেরারি গ্যাংস্টার!
ওর নামে অসংখ্য খুন আর রাহাজানির কেস আছে।
আপনাদের সাথে সাক্ষাতের আগে তার বউ আর বাচ্চা ছিল।
কাট।
এই, বন্ধ কর এসব! বন্ধ কর!
শ্যুটিং বন্ধ কর! চল!
খবরের শিরোনামের সাথে যেন নারীবাদের কঠিন কানেকশন থাকে!
এক কাজ করো।
অভিযুক্তের চেহারার একটা স্কেচ করো।
আধবোজা চোখ আর উষ্কখুষ্ক চুল এরকম একটা ফেস থাকবে স্কেচে, শিরোনাম দেবে "খাঁচায় বন্দী!"
- ঠিক আছে! - শিউর!
ওকে।
হ্যাঁ, দত্তা।
কী বলছ এসব?
কিন্তু, কেন?
মহিলা ডাক্তার দুদিন ধরে হাসপাতালে আসেনি।
ধর্ষণের বিস্তারিত লেখা আর দৈহিক পরীক্ষা নীরিক্ষা আমি করব।
সম্মতি আছে আপনার তাতে?
পরীক্ষা নীরিক্ষার সময় একজন মহিলা পুলিশ অফিসার আর একজন নার্স থাকবে সাথে।
সম্মতি আছে আপনার তাতে?
সম্মতি না দিলে ডেকেছেন কেন আমাকে? এমনিতেই কত কাজের ঝামেলায় আছি!
মর্গে দুটো ডেড বডি রেখে এসেছি!
পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট না থাকলে কেসের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে।
সময় লাগবে...
..ছোটখাটো ইনজুরি সেরে যাবে।
আপনার গোপনাঙ্গের ফোলা ভাবটাও চলে যাবে।
বীর্য চিহ্নিত করা মুশকিল হয়ে যাবে।
অনুমতি দিলাম।
এখানে স্বাক্ষর করুন।
সাক্ষী স্বাক্ষর করুন।
আপনি উনার মা?
আপনার স্বাক্ষরও লাগবে।
এখন যা যা প্রশ্ন করব, সবগুলো প্রশ্নের ঠিকমত ভেবেচিন্তে উত্তর দেবেন।
যদি পরীক্ষা নীরিক্ষা আর বয়ানের সাথে মিল না থাকে...
..কেসের পাল্লা আসামীর দিকে ভারী হয়ে যাবে।
ঘটনাটা কখন ঘটেছিল?
- সকালে। - সময়?
১১/১১.৩০ টার দিকে।
কতজন লোক ছিল?
রুলস ফলো করছি।
একজন।
অভিযুক্তকে চেনেন আপনি?
হ্যাঁ।
- আপনি বিবাহিত? - না।
আপনার পিরিয়ড হয়েছিল শেষ কবে?
১৫/১৬ দিন আগে।
ধর্ষণের আগে কি কারো সাথে সেক্স করেছেন?
জানাটা জরুরি।
হ্যাঁ, করেছিলাম।
কখনো গর্ভপাত হয়েছে?
না।
ধর্ষণের ঘটনার পরে গোসল করেছিলেন?
মুত্র কিংবা বীর্যের নমুনা দিয়েছিলেন?
মানা করেছিল সে।
এসব কাপড়চোপড় পরেছিল?
- জি। - আন্ডার-গার্মেন্টস?
- ফরেনসিকের কাছে একে নিয়ে যাওয়া হবে বলেছিলে? - বলেছি।
- সাথে ফ্রেশ কাপড় আছে? - আছে।
ধর্ষণের সময় বাধা দিয়েছিলেন?
দিয়েছিলাম।
চুল টেনে ধরেছিলেন, কামড় দিয়েছিলেন কিংবা নখ দিয়ে আঁচড়েছিলেন?
- কী... - ধাক্কা দিয়েছিলাম, চুল টেনে ধরেছিলাম...
এক সেকেন্ড! এক সেকেন্ড!
ধাক্কা দিয়েছিলেন, চুল টেনে ধরেছিলেন...
- আর? - হয়তো পেটে নখ দিয়ে আঁচড় দিয়েছিলাম।
- হয়তো? - জি।
হয়তো হয়তো করে তো অনেক কিছুই বলা যায় ভাই!
ধর্ষণে পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করেছিল সে?
আপনি প্লিজ বাইরে যান।
না, আমি এখানেই থাকবো।
- করেছিল? - হ্যাঁ, করেছিল।
ধর্ষণে আর কিছু ব্যবহার করেছে সে?
না।
ধর্ষণের সময় আপনার পজিশন কী ছিল?
নিচে ছিলাম।
আর কোনো পজিশন?
না।
বীর্যপাত হয়েছিল তার?
না হলে কোন পুরুষ থামে?
এখন গায়ের কাপড়চোপড় খুলুন।
আপনারা বিষয়টা বুঝতে পারেননি।
কমিশনার রয় আমার ভালো বন্ধু।
ফোনটা দিন, ওর সাথে কথা বলব!
স্যার!
ছোটখাটো মেডিক্যাল এক্সামিনেশন, জলদিই শেষ হয়ে যাবে।
- প্লিজ, সহযোগিতা করুন। - করব না সহযোগিতা।
এক ইঞ্চিও নড়বো না এখান থেকে।
আমার ফোনটা দিন। রয়ের সাথে কথা বলতে চাই আমি।
পাগল নাকি রে? কেউ বোঝা উনাকে।
আপনার মর্জিতে কিছু হবে না।
- রুলস ফলো করতে হবে। - যে মিথ্যা মামলা করেছে তাকে যা করার করুন।
ফোনটা দিন, রয়ের সাথে কথা বলব।
- ফোন চান? - হ্যাঁ!
No comments yet. Be the first to leave one.