نخستین 200 خط.
বঙ্গানুবাদেঃ রাকিব হোসেইন এবং সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
সম্পাদনায়ঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
ধুর!
কাজ হয়ে গেছে, স্যার।
সাবাস।
পেয়েছি।
হ্যাঁ।
দারুণ কাজ।
ONE ON ONE
- দীর্ঘজীবী হও। - দীর্ঘজীবী হও।
তো, তোমার নতুন কাজটা কেমন? ভালো লাগে?
সংক্ষেপে বলতে গেলে, কাজটা বেশ বিরক্তিকর। তোমার কাজের কী খবর?
আমাকে যা করতে বলা হয় ব্যস তাই করি।
কিন্তু, তোমাকে যদি খুব খারাপ কিছু করতে বলা হয়?
বেশ, আমাকে সেটাই করতে হয়। যারা হুকুম দেয় এটা তাদের দোষ আমার না!
কিন্তু তুমি তো তাদের দোসর হবে।
এতে কীভাবে তাদের দোসর হই? আমি তো কেবল তাদের হুকুম পালন করি।
মানুষের নিজের ইচ্ছাকে মূল্য দেওয়া উচিত।
তাহলে কি কাজটা ছেড়ে দিব?
তুমি জানো, আজকাল কাজ পাওয়াটা কতটা কষ্টের।
এমনকি আমাকে বসের কথামতোই চলাফেরা করতে হয়!
তাহলে তুমি আসলে করোটা কী?
বলতে গেলে প্রায় সবকিছুই।
তুমি কী করো সেটাতো জিজ্ঞেস করিনি। বলছি কোন ধরনের কাজ করো?
লেনদেন।
একটু খুলে বলা যায় না?
তা যায়, কিন্তু বিরক্ত লাগছে! চলো অন্য বিষয়ে কথা বলি।
আমরা তো একসাথে আছি তাই না?
এমন না যে আমি তোমার ব্যাপারে কিছু বলিনি।
ওয়েটার।
তোমার কোথাও পড়েনি তো?
হ্যাঁ। ঠিক আছে।
অভিনন্দন, ভালোই ধরেছো!
এ কিছুই না।
একটু সামলে কাজ করুন।
দুঃখিত, স্যার।
মনে থাকবে?
আমি না ধরলে তো গায়ের উপর এসে পড়তো।
যথেষ্ঠ হয়েছে!
সব ঠিক আছে আপনি যান।
ক্ষমা চাচ্ছি।
আজকে থাক।
আমাকে বাড়ি যেতে হবে।
তোমাকে ভালোবাসি।
আমাকে ফোন দিও।
ব্যাপার কি!
খোল!
কী সমস্যা? গ্লাস ঠোকাচ্ছেন কেন?
কিম হিয়ুন?
হ্যাঁ।
এদিকে আয় শালা।
এদিকে গাধা।
কমিউনিজম ধ্বংস হোক!
- ধ্বংস হোক! - ধ্বংস হোক!
ক্ষমা চাচ্ছি, স্যার!
মাটিতে উপুড় হ, তারাতারি!
জ্বি, স্যার!
জারজ! আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি,
আর তুই এসব ভুল করছিস?
আর হবে না, স্যার।
তাহলে ঠিক হয়ে দাড়া, হারামি।
- বুঝতে পেরেছিস? - জ্বি, স্যার বুঝতে পেরেছি।
দাঁড়া।
জ্বি, স্যার।
এখানে বস!
না!
বস।
কমিউনিজম ধ্বংস হোক!
কিম হিয়ুন?
আমার নাম জানলে, এটাও নিশ্চয়ই জানেন আমি কার জন্য কাজ করি।
আপনি অনেক বড় ভুল করছেন। এখানকার দায়িত্বে কে আছে?
গত বছর মে মাসের ৯ তারিখের কিছু মনে পড়ে?
এটা দেখলে বুঝতে সুবিধা হবে।
তুই যা যা করেছিস এই কাগজে লেখ।
কিন্তু আপনি কে?
মরতে না চাইলে এখুনি লেখ। আর মিথ্যা লিখলে এখানেই মেরে ফেলব।
এখানকার দায়িত্বে কে আছে?
আমি আছি।
আপনার বস কে?
এখানে বস টাইপের কেউ নাই। লেখা শুরু কর!
আমি পারবো না।
দেখা যাক!
দেখব কীভাবে না লিখিস!
এখানে আয়!
শালা।
চেপে ধর!
ধরে রাখ।
মরার শখ জেগেছে, শালা?
আবারো! ডোবা শালারে।
শুয়োরের বাচ্চা!
চুবা শালারে!
কী ভেবেছিস? আমি বোকা?
এখানে আয়।
আমার সাথে চালাকি?
হারামি!
এবার ঠিক আছে।
আমার কিছু কৌতূহল ছিল, কিন্তু সত্যি করে বলতো।
তুই কাজটা কেন করলি?
আমি কেবল তা-ই করেছি,
আমাকে যা বলা হয়েছে।
তুই কি সিরিয়াস?
তুই ব্যস বাহানা দিচ্ছিস, শালা।
যারা আমাকে দিয়ে কাজটা করিয়েছে দোষটা তাদের।
যখন তোর পদমর্যাদা বাড়বে তখন তুইও অন্যদের আদেশ করবি।
আমাকে যা করতে বলা হয়েছে আমি তা-ই করেছি। তখনও কি এমনটা বলবি?
আজকের কথা মনে থাকে যেন।
কেউ যেন কিচ্ছু না জানে।
যদি মুখ দিয়ে একটা টু শব্দও বের হয় তবে তুই শেষ।
আমি কি বলছি বুঝতে পারছিস তো?
- বুঝতে পেরেছিস? - হ্যাঁ।
মালটাকে ছেড়ে আয়।
এইতো, বাসায় আছি।
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
শহরের বাইরে কিছু কাজ ছিল।
হয়ত একটু, আমি যেতে পারব না।
হ্যাঁ, ফোন দিব।
তোমাকে খুব ভালোবাসি।
শুভরাত্রি।
ওয়েটার।
চু হুন।
পছন্দ হয়েছে?
আপনাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
নেকলেসটা তোর কেমন লেগেছে?
সত্যি বলতে খুবই সুন্দর।
আপনাদের কী লাগবে?
বল তো।
জীবন থেকে তুই কী চাস?
বুঝতে পারিনি?
এই পৃথিবীতে তুই সবচেয়ে বেশি কী চাস?
ঠিক জানি না। আপনি কী চান, স্যার?
আমি?
কিছুই না! জীবনটা খুব ছোট।
হয়তবা একদিন কেউ আমাকে অপহরণ করে মেরে ফেলবে।
সিরিয়াসলি বলছেন, স্যার?
হা হা, আমি কি চাইব এমনটাঘটুক আমার সাথে, হ্যাঁ?
মজা করছিলাম।
কেউ এমনটা চাইবে না।
একটা ভালো ওয়াইনের সাথে কিছু খাবার নিয়ে আয়।
চিজ চলবে?
আমি এখানে প্রায়ই আসি। সবসময় যা খাই তা নিয়ে আয়।
কারণ এতে ওয়েটারের সাথে জোর করা হয়?
তাতে কী?
আমার উপর রাগ হচ্ছে?
এটা যদি আসল হয়ে থাকে তাহলে এর দাম হবে ২০ মিলিয়ন উন।
কিন্তু ঘড়িটা আসল না।
কী করছো তুমি?
এটা আসল, রেখে দে।
চিজ!
ওর মতো গাধারা কখনই এসব মেনে নিতে পারে না।
নিজেকে এরা কী যে ভাবে!
কী করছিস!
গাধার বাচ্চা! কী করছিস তুই?
দুঃখিত!
সহ্য করা শেখ, গাধা!
এই ছেলে, আরেকটা নিয়ে আয়।
কি? সে কি আসলেই প্লেটে থুতু দিয়েছিল?
আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না। আসলেই?
তুমি কিছু খাচ্ছো না কেন?
জানো, আজকাল আমার খাবারের প্রতি রুচি চলে গেছে।
তুমি কিন্তু বেশি করে খাও।
এই কয়েক মাস তোমাকে একটু অন্যরকম লাগছে।
সারাক্ষণ কী নিয়ে যেন চিন্তা করো আর ধুমপান করাও শুরু করেছ।
কিছুই হয়নি। সব ঠিক আছে।
আমাকে কি তোমার বোকা মনে হয়?
তুমি কি জঘন্য কিছু করেছো।
নাকি কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছ।
কী হয়েছে?
আরে, কিছুই না।
তুমি আমাকে বলতে পারো, কী সমস্যা হয়েছে?
বলো, আমি তোমাকে সাহায্য করব। আরে, বলেই দেখো না।
'মি' আমি ব্যাপরটা দেখছি, তুমি চিন্তা কোরো না।
তুমি নড়াচড়া করলে বাচ্চা ব্যাথা পাবে।
এইযে!
আপনাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
আরেকটু পানি দিন, প্লিজ।
খাবার উপভোগ করুন।
কিছু মনে কোরো না, সোনা।
কিন্তু আমাকে এখন যেতে হবে।
জলদি ফিরে আসব।
শালা হারামি! এখনও!
হারামির বাচ্চা!
নে এবার! সোজা হয়ে দাঁড়া। নে শালা।
কুত্তার বাচ্চা, আজ তোকে মেরেই ফেলবো!
শালার পুত!
একটু থাম!
আমি মেরে নিই।
- এখন আমার পালা। - জোরে মার, শালারে!
শুয়োরের বাচ্চা! থাম!
হাই বস।
হয়েছে থাক।
পোলাপান, সবাই শান্ত হ।
তোর রাতে কাজ করতে ভালো লাগে, তাই না?
এখানে নিয়ে আয়।
দাঁড় করা।
উঠ, শালা!
তো, তুই জুং ই?
কিন্তু আপনি কে?
চুপ কর, শুয়োরের বাচ্চা!
ছবিটা দাও।
উপরে তোল! উপরে তোল! উপরে তোল!
No comments yet. Be the first to leave one.