نخستین 139 خط.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
৮৫০ বর্ষ, ট্রস্ট।
এরেন জেগারের হঠাত রহস্যময় টাইটানরুপে আবির্ভাব তার সাথের সৈন্যদের আরোও ভীত করে তোলে।
আমি একজন মানুষ!
সে মানব সভ্যতার জন্য কোন হুমকি নয়!
মৃত্যুর আগে শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমি মানব সভ্যতার জয়গান গেয়ে যাবো!
কমান্ডার, আপনি চাইলে মরতেও রাজী আমরা!
এরেন এবং তার বন্ধুরা হাজারও চেষ্টা করেও যখন বোঝাতে পারেনি...
সেই সময়ে পুরো উপত্যকার উচ্চপদস্থ কমান্ডার পিক্সিস তাদেরকে বাঁচান।
মনে হচ্ছে, ওদের সাথে আরও অনেক কথা বলতে হবে।
আমি করবো।
জানি না, ফাটলটা কীভাবে মেরামত করব তবে ওটা আমি করেই ছাড়ব!
ভাল বলেছ!
আসল পুরুষ হচ্ছো তুমি!
সবাই শোনো! আমার একটা প্ল্যান আছে!
এ সম্ভব!
পুরো প্ল্যানটাই কিছু ধারণার ওপর ভিত্তি করে করা,
উনি আগুপিছু না ভেবেই রাজী হয়ে গেলেন?
আমিও তাই ভাবছিলাম।
কিন্তু, তার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলতে পারছি না।
অন্যরা যা দেখেনি, কমান্ডার পিক্সিস সেটা আমাদের ভেতর দেখেছেন!
তোমার তাই ধারণা?
হুম, তবে প্ল্যান অনুযায়ী মাঠে নামার আগে বড় আরেকটা সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।
কমান্ডার সেটা ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন।
কি হতে পারে সেটা?
টাইটানেরা আমাদের একমাত্র শত্রু নয়।
নষ্ট করার মতো সময় হাতে নেই!
তোমাদের সাহায্য দরকার, তরুণ তুর্কিরা!
ট্রস্ট দখল করার পরিকল্পনা?
মেরামত ফাটল করাটা চাট্টিখানি কথা নয়।
কমান্ডারের মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?
এটা তো আত্মঘাতি মিশন হতে যাচ্ছে!
ফাটল মেরামত না হলে আমাদের ওয়াল রোজের প্রহরায় বাকি জীবনটা কাটাতে হবে।
বেঁচে থাকার ইচ্ছা ফুরিয়েছে কমান্ডারদের।
আবারও সেই নরকে ফিরতে হবে?
না! আমি মরতে চাই না!
আমার পরিবার আছে!
হেই দায, আস্তে কথা বলো!
বানচোত! তোর কথা শুনেছি আমি!
তুই এই অপারেশনে যেতে চাচ্ছিস না?
স্যার, দয়া করুন! এই মিশনে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে ডেকে আনা!
মানব জাতির জন্য তোর কোন দয়া নেই?
যদি চাস, এখুনি তোকে শেষ করে দিতে পারি এখানেই।
তাই করুন, স্যার।
টাইটানের পেটে যাওয়ার চেয়ে শতগুণে ভালো হবে সেটা।
থামো, দায!
না! আমাকে ছেড়ে দাও!
যেতে দাও আমাকে!
চিৎকারটা শুনেছ?
ওকে দোষও দেয়া যায় না!
ইশ, কেউ আমাদের দুঃখটা বুঝলো না!
আমি কীভাবে মরবো সেটা আমার হাতে নেই!
হেই!
আমি মজা করছিলাম, স্যার!!
মজা করতে চাইলে করো কিন্তু অন্যদের ভয় পাইয়ে দিবে না!
গ্যারিসনে আমরা অনেক আছি এরকম যারা খুশি নই, বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আমরা পালাবো!
পালিয়ে কোথায় যাবেন?
আমার মেয়েটাকে দেখতে।
এমনিতেও এই অপারেশন ব্যার্থ হবে।
আমাদের পূর্বপুরুষেরা বলে গেছেন, বিশ্ব জয় করতে হলে অজস্র প্রাণ বিসর্জন দিতে হবে!
আরেকটা তত্ত্ব আছে, "শত্রুর বিপক্ষে জয় পেতে হলে শত্রুর শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা আয়ত্ত করতে হবে।"
তোমার কি মত এই ব্যাপারে?
আমি এরকম কিছু শুনিনি এর আগে, স্যার।
ক্ষমা করবেন আমাকে।..
বিনয়ের অবতার একদম!
তোমার চিন্তাধারা অনেকটা আমার মতোই, বুঝেছ?
হুমকি যতোই শক্তিশালী হোক না কেন, আমাদের সবসময় যে কোন ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সেটা তো বটেই।
নয়তো, লড়াই করা সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে।
এরেন?
বাহ! যুদ্ধে একটা আঁচড়ও লাগেনি গায়ে!
নিজের চরকায় তেল দিতে বলছে?
ফাজিলটা দেখছি দিন দিন বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে!
যাই হোক, তাহলে মিকাসা ও আরমিনও নিরাপদে আছে।
কিন্তু, কমান্ডারের সাথে এরেন কি করছে?
চেখে দেখবে নাকি একটু?
জি, স্যার!
মারতে চাইলে এখুনি আমাকে মেরে ফেলুন, স্যার!
তুই নিশ্চিত? সেটাই করছি তাহলে!
অ্যাটেনশন!
এখন ট্রস্ট পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করবো।
এই মিশনে আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেয়ালের মাঝের ফাটল মেরামত করা।
মেরামত করা?
কীভাবে?
এখন পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি তার সাথে যে আমাদের দেয়ালের ফাটল মেরামতের কাজে সাহায্য করবে।
ট্রেইনি গ্রুপ থেকে, এরেন জেগার!
এ-এরেন!
সে আমাদের গবেষণার ফসল! সে টাইটানে রূপান্তরিত হতে পারে!
টাইটানে রূপান্তরিত হয়ে সে আমাদের পক্ষে কাজ করবে!
হেই...
কমান্ডার কি আবোল তাবোল বলছে কিছুই বুঝতে পারছি না!
একটু মুখটা বন্ধ রেখে কান পেতে শোনো, বুঝবে।
সে টাইটানে রূপান্তরিত হয়ে বড় আকৃতির পাথরটা কাঁধে নিয়ে দেয়ালের ফাটলে পুনঃস্থাপিত করবে।
তোমাদের কাজ হচ্ছে দেয়াল মেরামতের সময় ওর কাছে যেন কোন টাইটান ভিড়তে না পারে সেটা নিশ্চিত করা।
টাইটানদের সাথে লড়াই করতে হবে না আমাদের?
মাফ করবেন।
একজন র্যাংকিং অফিসারের কথার মাঝে কথা বলছি।
না, বলতে থাকো।
জি, স্যার।
টাইটানেরা মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।
যদি ওদের টোপ দিয়ে দেয়ালের ফাটল থেকে সরিয়ে দিতে পারি,
আমরা তাহলে বেশিরভাগ টাইটানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে পারবো।
আর কামানগুলো ব্যবহার করে আমাদের জানমালের ক্ষতিও কমাতে পারবো।
কিন্তু, এরেনকে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা যাবে না, তাই একটা ছোট্ট এলিট ফোর্স ওর সাথে থাকতে হবে।
ফাটল ভেদ করে ভেতরে আসা টাইটানদের সাথে লড়াই করতে হবে তাদের।
এলিট ফোর্সের জন্য সেক্ষেত্রে দক্ষ যোদ্ধাদের লাগবে।
বুঝতে পেরেছি।
আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই কাজ করব।
কিন্তু, এই পরিকল্পনা তখনই কাজ করবে যখন এরেন ওই বড় পাথরটা কাঁধে বহন করতে সক্ষম হবে।
আমরা ওর সক্ষমতার যাচাই করা ছাড়াই অপারেশনে যাচ্ছি।
এখনও আমার মনে সন্দেহ বিরাজ করছে!
সেটাই! অনিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করে আমি সবাইকে আজরাইলের নিকট সোপর্দ করতে পারি না।
তবে, কমান্ডার পিক্সিস কি ভাবছেন সেটা বুঝতে পারছি।
হ্যাঁ।
এখানে সময়ের বিরুদ্ধে লড়ছি আমরা।
টাইটানেরা প্রতিনিয়ত শহরে ঢুকে চলেছে।
ট্রস্টে ওদের সংখ্যা যত বেশি হবে, তত জয় পাবার সম্ভাবনাও ক্ষীন হবে।
অতিরিক্ত প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়বে।
আরেকটা জিনিস,
সৈনিকেরা যুদ্ধের মাঝপথে ভয় পেয়ে গেলে পরাজয়ের শংকা বাড়বে।
এত বড় একটা পাথর কাঁধে বহন করা?
এটা সম্ভব?
মানুষ শেষ পর্যন্ত তাহলে টাইটানদের নিয়ন্ত্রন করা শিখেছে?
উনি মিথ্যে বলছেন!
আমি এভাবে আমার প্রাণ বিসর্জন দিতে পারি না।
আমাদের প্রাণের কি কোন মূল্য নেই?
যখন ইচ্ছা চাইলেই কেউ আমাদের বলি দিতে পারে না!
একটা মনুষ্য অস্ত্র?
আরে, উনি আমাদের বোকা বানাচ্ছেন!
আমাদের মরার বুদ্ধি দিচ্ছেন!
আমি এই মিশনে নেই!
আমিও!
আমিও!
আমিও নেই এই মিশনে!
দাঁড়াও! তোমাকে বিদ্রোহী সাব্যস্ত করে প্রাণদন্ড দেয়া হবে তাহলে!
আমি জীবনের শেষ সময়টা আমার পরিবারের সাথে কাটাতে চাই।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে।
জানি।
অতিসত্বর কিছু না করলে বিদ্রোহের সৃষ্টি হতে পারে!
No comments yet. Be the first to leave one.