نخستین 200 خط.
You Who Came From the Stars অনুবাদ-Rifat Kabir Sharna
খ্যাতনামা আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী হ্যারি হারলো একগুচ্ছ পরীক্ষা চালিয়েছিলেন।
তিনি মানুষের ডিএনএ-র সাথে ৯৫% মিল থাকা একটি বানরকে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখেন।
একে দুইটি বানর-সদৃশ পুতুলের সাথে এক ঘরে আটকে রাখা হয়।
একটি পুতুল ছিল
ধাতব তারের তৈরি আর এর সাথে দুধের বোতল আটকানো ছিল।
আর অপরটি নরম কাপড়ে মোড়ানো ছিল।
দ্বিতীয় পুতুলটির সাথে কোন দুধের বোতল ছিল না।
এই দুইটি পুতুলের মধ্যে কোনটিকে বাচ্চা বানর বেছে নিয়েছিল বলে মনে হয়?
যে পুতুলটির সাথে দুধের বোতল ছিল।
পরীক্ষার আগে বিজ্ঞানীরাও অনুমান করেছিলেন, বাচ্চা বানরটি বোতল সহ পুতুলটিকেই বেছে নেবে।
কিন্তু তাদের অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে,
বাচ্চা বানরটি নরম কাপড়ে তৈরি পুতুলটির প্রতিই তীব্র আকর্ষণ প্রদর্শন করে।
এই পরীক্ষা থেকেই প্রমাণিত হয়, "skinship" (অন্তরঙ্গতা) এর গুরুত্ব।
আমাকে ১৫ সেকেন্ড সময় দাও।
কীসের জন্য ১৫ সেকেন্ড?
১৫ সেকেন্ড পরেই আমি যে মাটির পট, বাচ্চা কুকুর আর পাইন গাছের মতই মেয়ে...
আমি তা মেনে নেব।
যদি তোমার মন ভোলাতে না পারি!
এবং... শুরু হল!
চোখে চোখ রাখাটাও এক ধরনের পরোক্ষ স্কিনশিপ।
মানুষ যখন তাদের ভালোবাসার মানুষটির চোখে চোখ রাখে,
তাদের মস্তিস্ক ডোপামিন নিঃসরণ করে- এই সুখানুভূতিকে সংরক্ষণ করার জন্য।
কিস করার সময়, হৃদস্পন্দনের হার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
আর শ্বাস গ্রহণের হারও বেড়ে প্রায় ২০ গুণ হয়,
আর রক্তচাপও তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
ফলাফলস্বরূপ, হৃদয় ধুকধুক করে আর শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
এমনকি মানুষটির মাথা ঘোরা ভাবও অনুভূত হতে পারে,
যাকে সে প্রেমে পড়ার অনুভূতি ভেবে বিভ্রান্ত হতে পারে।
যাই হোক, এসবই আসলে স্কিনশিপের খেলা
আর হরমোনের চালাকি।
তোমাদের এতে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
কিস করার এক ঘণ্টা পর-
আমি তো প্রথমে করি নাই।
ও, আসলে...
এমন তো হতেই পারে... দু'জন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিতে।
আ, আমার মুণ্ডু!
ম্যানেজার দো?
দো মিন জুন?
সে অসুস্থ নাকি?
কর না! আমাকে স্পর্শ কর না!
সে কী বলছে?
বললাম তো কাছে এসো না!
চলে যাও! যাও!
তোমাদের কখনোই বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি আর প্রেমে পড়া-
এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করতে জানা উচিত।
Kim Soo Hyun (এলিয়েন দো মিন জুন)
Kim Soo Hyun (এলিয়েন দো মিন জুন) & Jun Ji-Hyun (নায়িকা চেওন সং ঈ) অভিনীত
Park Ji-eun এর চিত্রনাট্য, Jang Tae-yoo এর পরিচালনায়
কোরিয়ান ড্রামা সিরিজ বাংলায় অনুবাদের প্রথম প্রচেষ্টা :)- My Love From The Star (2013-14)
별에서 온 그대 (তারা থেকে এলে তুমি) - এপিসোড ০৯ অনুবাদ- রিফাত কবীর স্বর্ণা
কৃতজ্ঞতা- VikiSub & DramaFever Sub Team
কামেরায় ধরা পড়া এই লোকটিই।
সে দিন...
খাদের কিনারে আমি এই লোকটির চেহারাই দেখেছিলাম।
ওর নাম দো মিন জুন তো?
জী।
দো মিন জুন!
আমি ইয়ং দুং পুলিশ স্টেশন থেকে এসেছি।
হান ইউ রা-র মৃত্যুর খবর শুনেছেন তো?
সেই কেসের ব্যাপারে আপনার কাছে কিছু প্রশ্ন ছিল।
চেওন সং ঈ এর কাছে USB না থেকে থাকলে,
খুব সম্ভবত সেটা দো মিন জুনের হাতে গিয়েই পড়েছে।
সে আমার সাথে ওটা করতেই একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়ল।
নিজেকে ভাইরাসের ডিব্বা মনে হচ্ছে।
এদিকে তাকাও তো!
দো মিন জুন!
দো মিন জুন!
মরে গেল নাকি?
হার্ট এত জোরে ধুকধুক করছে!
হৃদস্পন্দন এত জোরে হলে মানুষ বাঁচে নাকি?
হায় খোদা!
ঠিক আছ তো?
খারাপ কিছু হয়ে গেছে ভেবেছিলাম।
সরো।
এভাবে চলতে পারে না। হাসপাতালে চল।
তোমার কপালে তো ডিম ভাজিও করা যাবে।
এত গরম, তাই তাড়াতাড়ি চল।
আমি যাব না।
কেন?
কেন? কেন যাবা না?
হ্যাঁ, ওর সত্যিই প্রচণ্ড জ্বর।
কত জ্বর?
৫০ ডিগ্রীর মত?
৫০ ডিগ্রি? এত জ্বর নিয়ে মানুষ বাঁচে নাকি?
প্লিজ, একটু বুদ্ধি করে কথা বল।
ওর গা গরম, প্রচণ্ড গরম। আমি যে কী করব? সে হাসপাতালেও যেতে চাইছে না।
কে সে?
এটা জানাটা কি জরুরী?
আমার কী করা উচিত? তুই না তোর তিন ভাইপো-ভাইঝিকে মানুষ করেছিস।
অবশ্যই। প্রচণ্ড জ্বর হলে তোর উচিত...
হ্যাঁ?
ওর জামাকাপড় খুলে ফেলা।
আমাকে এটা করতেই হবে?
করেছিস তো?
এখনো করি নাই...
ওর সব জামাকাপড় খুলে হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে সারা শরীর ম্যাসেজ করে দে।
সারা শরীর...
ম্যাসেজ করে দিতে হবে?
আমাকে এটা করতেই হবে?
এটাই তো সহজ রাস্তা।
আমার ভাইপো-ভাইঝিদের বেলায় আমি তো ওদের ডায়াপারও খুলে নিতাম।
ওই,এ তো তেমনটা না।
তাই নাকি?
বড় বাচ্চা বুঝি?
বাচ্চার বয়স কত?
দাঁড়া...
এই,এইমাত্র...
এটা কী শুনলাম?
- এ তো বয়স্ক লোকের গলা মনে হচ্ছে... --রাখি তাহলে!
তাই তো, ওকে বাঁচাতে হবে।
তুমি করছটা কী এখন?
তোমার জ্বর কমানোর এটাই সহজ রাস্তা।
না হলে, তোমার জামাকাপড় খুলে ফেল।
এসব কর না।
চলে যাও।
নিজেকে ভাগ্যবান ভেবে নাও। আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল হেলেন কেলার হওয়া।
তাকে চেন তো? সাদা গাউনের দেবী।
উনি নাইটিংগেল ছিলেন।
এতসব বিস্তারিত নিয়ে ভেব না।
নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখা একজন তোমার সেবা করছে- এটাই এখন আসল ব্যাপার।
তোমার সারা শরীর আমার হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে ম্যাসেজ করে দেয়ার কথা ছিল।
তুমি এতে অস্বস্তি বোধ করলে,
সেলফ- ম্যাসেজ করে নিতে পারবে তো?
বললামই তো, চলে যাও, প্লিজ।
সম্ভবত... তুমি গত রাতের ঘটনার জন্য বিব্রত বোধ করছ বলে?
এতে তোমার কোন দোষ নেই। আমি তোমাকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম।
আমি কেমি-তে পরিপূর্ণ। আকর্ষণের ডিব্বা।
আমি বুঝতে পেরেছি।
দো মিন জুনও তো একটা ছেলে, তাই নিজেকে সংযত করতে পারে নি।
তারপরও, কি...
ক-কি... (কিস)
যাই হোক, তুমি ওটা করার পরই এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে,
নিজেকে আমার অপরাধী মনে হচ্ছে।
সম্ভবত...
তুমি এই প্রথমবার করলে?
প্রথমবার?
তা নয়।
না মানে, এই বয়সেও করছটা কী?
হলটা কী? আমি তো কিছুই করলাম না। কিন্তু সে এমন করতে থাকলে তো আমারই খারাপ লাগে।
যাই হোক, জ্বর তো কমাতে হবে। তাই ঠাণ্ডা লাগলেও একটু সহ্য কর।
হঠাৎ করে হলটা কী? একদম সুস্থই তো ছিলে।
আ, কী শীত পড়েছে!
এই, হতাশ মেয়ে! আমাকে ফোন দিয়েছিস কেন? ওই হারামজাদাকে ফোন দে।
বললামই তো, তোর পছন্দের হারামজাদাটাকে ফোন কর।
ঘুমিয়ে পড়েছিস?
না হলে আমাকে কল দিস।
কী ব্যাপার?
ভাইয়া, একটা ব্যাপারে আমার জানার ছিল।
কী ব্যাপারে?
গতবার... সিসিটিভির ছবিতে যে লোকটা ছিল,
দো মিন জুন নামের লোকটা...
তার বয়স কত?
সে এখন ভার্সিটিতে পড়ায় শুনলাম। সে আগে কী করত?
সম্ভবত তার বড় ভাই বা এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে?
যেমন তার যমজ বা একই রকম দেখতে বড় ভাই থাকতে পারে...
তোর এ ব্যাপারে এত কৌতূহল কেন?
এই লোকটির সাথে চেওন সং ঈ-র কী ধরনের সম্পর্ক?
এ ব্যাপারে কিছু বের করতে পেরেছ?
তুই না চেওন সং ঈ-র বেস্ট ফ্রেন্ড?
তাই এসব ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন না করে তোর বান্ধবীকে জিজ্ঞাসা করলেই তো পারিস।
আমি ওর বান্ধবী না।
তুই ওর বান্ধবী না হলে তো আরও অদ্ভুত ব্যাপার। তুই ওর বান্ধবী না হয়ে থাকলে,
সেই লোকটির সাথে চেওন সং ঈ-র সম্পর্ক নিয়ে তোর এত কৌতূহল কেন?
আমাকে এমনিতেই বলতে পারো না?
সেই লোকটা... একটু অদ্ভুত প্রকৃতিরই।
কী রকম অদ্ভুত?
- তুমি এখানে করছটা কী? -- আ...
আ, উঠে গেছ? ভালো আছ তো?
না মানে, তোমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল বলেই তোমার পাশে থাকলাম।
কিন্তু জানালা খোলা ছিল দেখে খুব ঠাণ্ডা লাগছিল। আ, এটা...
এটা খুলছে না তো। খুলছে না কেন?
আমি এখন ভালো আছি, তাই বিদায় হও।
এ-এক্সকিউজ মি। তুমি এইমাত্র কী বললে?
"আমি এখন ভালো আছি, তাই বিদায় হও। "? আমি কী ভুল শুনলাম?
না কি অসুস্থ হয়ে দো মিন জুনের মাথাই বিগড়ে গেছে? এমন কথা বললে কীভাবে?
তোমার সেবা করে আমি সারা রাত পার করে দিলাম। সেই তুমি এত নির্মম হলে কী করে?
আবারও দুর্ব্যবহার করছ। কারণ ভালো হয়ে গেছ, তাই না?
আ, খুলছে না কেন?
তোমার মুখটা বন্ধ রাখতে পার না?
স্লিপিং ব্যাগের জিপার ভেঙে গেছে মনে হয়। খুলতে পারছি না। বাইরে থেকে খোলার চেষ্টা কর তো।
যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। আমাকে আর বিরক্ত কর না।
কী? আমার সাথে মজা নাও?
তাড়াতাড়ি খোল। খোল তো! এই দো মিন জুন!
দো মিন জুন! এই!
আমি তোমার উপকার করলাম আর তুমি এভাবেই তার প্রতিদান দিলে, হাহ?
এটা ঠিক হচ্ছে না বলে দিচ্ছি।
কোন মানুষেরই এমন অকৃতজ্ঞ হওয়া উচিত না।
অসুস্থ থাকার সময় তোমার সেবা করায় আমাকে প্রথমে ধন্যবাদ দেয়া উচিত ছিল না? তোমার এভাবে জীবনযাপন করা উচিত না!
আমার চমৎকার উপদেশের কথা মাথায় রেখ। বুঝলা?
তাড়াতাড়ি খুলে দাও। আমি তিন পর্যন্ত গুনব। এরপর আমি যে কী করব তা নিজেও জানি না!
এক, দুই, আড়াই
পৌনে তিন ! তারও অর্ধেক! আধার আধার আধা!
আধা, আধা, আধা, আধা! আ-আ!
চুপ থাক। আমার মাথা ধরেছে।
আমাকে বের করে দাও।
এই! তুই করছিসটা কী? এটার থেকে বের করতে বললাম তো!
এই! আমাকে ছেড়ে দিচ্ছিস না কেন? আআআ! একবার বের হয়ে নেই, তুই সত্যিই মারা খাবি,আআ!
এই! আমি একবার বের হয়ে নিই, তুই পুরা মারা খাবি। আমি রেগে গেলে সত্যিই ভয়ংকর হয়ে উঠি!
No comments yet. Be the first to leave one.