نخستین 200 خط.
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ মো:রানা সরকার ۞ ইমরুল হাসান নাসিম
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ মো:সাজ্জাত হোসেন ۞ কবির হোসেন আহমেদ জয়নুদ্দিন
সম্পাদনায় মো: রানা সরকার
ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর সাবটাইটেল ভালো লাগলে ফিডব্যাক দিবেন।
প্রতিটা মানুষের ভিতরে ভয় থাকে, বাকিটা আবেগ।
কিন্তু হায়দ্রাবাদের বালাজি নগরের কলোনির গুন্ডু গোপালম...
একটু বেশি ভীতু।
যদিও এর পেছনে অন্য লোকদের হাত আছে,
তেমনি দুইটা বোকাচোত তার জীবনকে নরকে পরিণত করার উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে ভয় দেখায়৷
এই গল্পটা ঘরে উঠেছে তার জীবনের শান্তি কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে।
আরে বাছা!
হুম।
মনে হচ্ছে কিছু একটা লিখছিস।
এমন কিছু লিখ যাতে মানুষের উপকারে আসে , বিশেষ করে আমার মতো লোকেদের।
হুম।
কুটি, দেখ তাকে!
আজ সকালে রাজি করিয়ে তাকে দিয়ে এক কোটি টাকার পলিসি করিয়েছি।
সে মারা যাবার পরই এটা প্রকাশে আনা হবে৷
হাহ!
তুইও একটা পলিসি করছিস না কেন?
কর, কুটি।
থাম, ভায়া।
এটাই সকালের প্রথম কাজ।
উহু…
মারা গেলে পলিসির মূল্য বুঝতে পারবি৷
তুই সব স্বাক্ষর করেছিস?
-ঠিক আছে… -আরে মিস্টার গোপালম!
হাই, স্যার৷
কেউ আগুনের মতো জ্বলছে।
তোমাকে সবসময় প্রাণবন্ত আর আনন্দিত লাগে।
আমাদের তোমার গোপনীয়তা শেয়ার করো, যাতে আমরাও হাসি খুসি থাকতে পারি।
কোনো রহস্য নেই।
আমার মেয়ের মতো মেয়ে থাকলে যেকেউ খুশি থাকবে৷
যদিও সে ব্যাঙ্গালোরে কাজ করে...
তাকে সন্দেহ করতে হয় না কারণ সে একটা চরিত্রবান মেয়ে।
আর দুনিয়াতে বাবারা এটার চেয়ে বেশি কিছু চায় না৷
গেলাম।
ওহ, দেবীর কথা বলতেই দেবী হাজির৷
আমাকে ভিডিয়ো কল না দিয়ে সে কাজে যায় না।
মূর্তি, আমি বাড়িটা ছেড়ে দিতে চাই।
মাত্রই এক সপ্তাহ হল।
গোপালমের এত খুশি হজম করতে পারি না।
যতবারই দেখি, আমার ঈর্ষা হয়, যে তার মেয়ের মতো আমার মেয়ে নেই।
কষ্ট লাগে রে ভাই।
তাকে এই ভাবে সুখে দেখতে ভালো লাগে না।
তাহলে চল তার সুখ কেরে নেই।
হাহ?
তুই খুশি না থাকলে সে খুশি থাকার যোগ্য নয়।
তাকে দুনিয়াতেই নরক দেখিয়ে দিয়ে আসি।
কি মনে হয়ে এতোটা সহজ হবে?
১০০%!
মনে আছে ছোট বেলা ছবি আঁকতে পারতাম না,
তখন অন্যদের আঁকা ছবি ছিনিয়ে নিতাম।
হা৷
একবার গর্তে পরে যাওয়া সুরেশকে কাঁদা খাইয়ে ছেরেছিলাম।
জানি!
সেটাই তার উপর প্রয়োগ করবো।
তার জীবনের বারোটা বাজিয়ে দিব, যে জীবন আমরা অর্জন করতে পারিনি।
তাহলে আর দেরি কেন!
হ্যাঁ ঠিক, চেক করতে হবে...
পাদ্দু, মেইল চেক করেছ?
না।
কি জন্য?
জানো না?
- ভারতে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে । - ওহ মাই গড!
এখন থেকে বাড়িতে থেকে কাজ করতে হবে।
কে বলছে ? আমাদের OCD বস?
হা।
সে এখানে আসার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা তুলে ধরেছে।
তাই আমাদের বিভ্রান্তিকর থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন।
এতে তুমি মন খারাপ করছো কেন?
এতো খুশির সংবাদ।
কেমন করে?
এখানে থাকলে তোমাকে যখন ইচ্ছা দেখতে পারব৷
বাড়িতে চলে গেলে তুমি পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরবে।
তবুও, তোমাকে সময় দিব, ঠিক আছে ?
ঠিক আছে?
তাড়াতাড়ি করো। না হলে ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে।
যদি কোন মতে তার মেয়ে প্রেমে পড়ে থাকে।
তাকে জাহান্নাম দেখিয়ে ছাড়ব।
এত জরুরী কি হয়েছে?
ওহ, তুই এখানে। বস। বলছি।
ইয়েস, স্যার?
তোর মতো তারও স্ত্রী আর দুই মেয়ে।
তার বড় মেয়ে ব্যাঙ্গালোরে সফটওয়্যারের কাজ করে।
ঠিক তোর মেয়ের মতো।
এ…
তাতে কী?
তাতে কী না?
সে তাকে কাজের জন্য অন্য শহরে পাঠায়েছে।
হুমম।
সে তখন বাজে ছেলেদের সাথে ঘুরে বেড়ায়।
ছেলেদের নিয়ে রাতে খাট কাপায়।
সে প্রতি রাতে বারে গিয়ে মদ গিলে।
এখন সেই এই সব ভুলার জন্য স্যানিটাইজার গিলছে।
কি একটা অবস্থা! স্যানিটাইজার গিলবে কেন?
যদি সে সত্যিই তাকে পছন্দ করে, তাদের বিয়ে দিচ্ছিস না কেন?
গোপালম, ছেলেদের এতো সহজে বিশ্বাস করা বোকামি।
তুই জানিস না তারা কতটা বন্য পশুর মতো আচরণ করতে পারে।
আর এই ধরনের পশুরাই সুন্দরী মেয়েদের ফাঁসানোর জন্য,
পিছন পিছন ঘুরে!
যখনি সেই বদমাইশ গুলা অবলা মেয়েদের বস করে নেয়।
তখনি কুটির মতো প্রতিটা বাবার করুণ অবস্থা হয়ে পরে।
আমার মেয়ের সাথে যেনো এটা না হয় সেই দোয়াই করি।
এমনিতেই আমার হার্ট দুর্বল।
এমনটা হলে যে কোনো সময় হার্ট স্ট্রোক হয়ে যেতে পারে।
তোকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে।
তুই কি জানিস তোর মেয়ে কারো প্রেমে পড়ছে কিনা?
আহ...তা হতে পারে না।
আমার মেয়েকে নিয়ে কথা বলছো।
এটাই ধরে নিয়েছি।
এখন আমার দিকে তাকিয়ে দেখ।
জানি না তুই সর্তক করছিস না ভয় দেখাচ্ছিস।
গোপালম !
সে চায় যাতে তার মতো তোর শেষ পরিণতি এমন না হয়।
কি টাইমিং! আমার মেয়ে কল করছে ।
জানিস কেন?
সে কুটির মেয়ের মতো নয় সেটা জানাতে...
আর সে আমায় মানসিক ভাবে টর্চার করবে না।
হ্যালো, মা!
হা, বাবা। মাত্র নামলাম।
গাড়ি নিয়ে সাবধানে চলে আয়।
গাড়িতে উঠার আগে গাড়ির নাম্বারসহ বিস্তারিত আমাকে পাঠিয়ে দিছ।
কারণ এই যুগের ছোকরাদের একদম বিশ্বাস নেই।
এসব নিয়ে চিন্তা করো না, বাবা।
আমি একা আসছি না৷
সাথে আমার বন্ধু আছে।
ঠিক আছে, দেখা হবে।
ভালো…
সে বাড়িতে আসছে?
হা৷
তার বন্ধুর সঙ্গে আসছে।
মেয়ে নাকি?
হতে পারে।
তোকে চেহারা দেখে সন্দেহ লাগছে?
আর তোর কন্ঠও সেটার জানান দিচ্ছে।
হা বলো৷
বলো৷
হা৷
এখন বল তোর মেয়ে কি বলেছে।
বলল সাথে তার বন্ধুও আসছে।
- সুতরাং সে ছেলে বা মেয়ে, হতে পারে। - হুম।
সে ছেলে না মেয়ে সেটা না বলে এড়িয়ে গেছে।
ঠিক বলছিস, কুটি?
একেবারে ঠিক।
অহ?
আমার মেয়েও এইভাবে মিথ্যা বলতো যখন ছোকরাটা তার সাথে থাকতো।
হা, বাবা?
আর কতক্ষণ লাগবে, সোনা?
উম…গাছিবোলি। আমরা প্রায় চলে এসেছি।
তোর বান্ধবীকে ডিনারে আমন্ত্রণ দিচ্ছিস না কেন?
ঠিক আছে, বাবা৷
ওর খুদা নেই।
ফ্লাইটে খেয়েছে।
এমন কি খেল তার পেট ভরে গেল?
কিছু মনে করো না, বাবা৷
এখনই তাকে বাড়িতে আনতে চাই না।
এটার জন্য উপযুক্ত সময় হয় নি ।
অন্যথায়, সে খাবার খেয়ে বিরক্ত হয়ে যাবে।
আমি জানি না,মা।
তুই যা বলিছ সেটা কখনো পুরোপুরি বুঝতে পারি না৷
ঠিক আছে. দেখা হবে।
স্যার, সমস্ত সন্দেহ দূর হয়েছে?
না। আসলে,তারা
তার বান্ধবী।
এটাই তুই বিশ্বাস করিস। আমরা না।
যদি 'বান্ধবী ' হতো তাহলে তাকে ফোনে কথা বলিয়ে দিত।
এত অজুহাত দেখাতো না।
তোর মেয়ে রোমান্টিক কিছু করার ইঙ্গিত করছে।
যাইহোক সে একদম কচি৷
সফটওয়্যার!
তাই নাকি?
ইয়েস স্যার৷
আমার মেয়েও পরোক্ষভাবে কথা বলত। আমি কখনই তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারতাম না।
তোর মতো আমিও তেলেগু মিডিয়া স্কুলে পড়েছি।
সবকিছু আমার সাথে তুলনা করিস না।
তোর ঘষা-মাঝা বন্ধ কর।
আরেকটা কথা।
তোর মেয়ের মতো, আমার মেয়ে মিথ্যা বলে না।
কোনোভাবেই না৷
ধরা পড়েছে।
গোপালম, মেয়েরা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের সাথে মিথ্যা বলে না।
আমাদের চাপ না দেওয়ার জন্য তাদের প্রচেষ্টা মাত্র।
আমরা এখানে প্রেমের কথা বলছি।
তোকেই কিছু করতে হবে।
যখন তার সাথে থাকবে, সেই তার দুনিয়া।
সে যা বলে তাই করে।
সেটাই করে৷
থামেন, স্যার৷
আমি এমন কিছু করিনি।
আমার মেয়ে সত্যিই বাড়িতে ছেলেকে নিয়ে আসছে?
আমরা সেটাই মনে করি।
আমাদের কথা যদি সঠিক হয়,
সে তাকে সময়মতো বাড়ি ছাড়বে না।
তোর মেয়েকে বুঝিয়ে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে বলে অজুহাত দেখিয়ে ফোন করাবে।
ফোন বাজছে, উঠা।
মা!
বাবা, গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে।
আসতে দেরি হবে।
এখন বিশ্বাস হলো?
No comments yet. Be the first to leave one.