نخستین 200 خط.
মুভির নামঃ 24 (তামিল) অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ
'মেঘামালাই'
ধুরো, দুইটা বাড়ির মধ্যে কারেন্টের কানেকশন লাগানো অনেক গ্যাঞ্জামের কাজ!
যা ভেবেছি তাই, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তবে এটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার!
জাদুকরী ক্ষমতা থাকবে এই ঘড়িটার!
ঘড়িটা দিয়ে টাইম ট্রাভেল (সময় পরিভ্রমণ) করা যাবে!
মানে যা বোঝা গেল...
এর ক্ষমতা হবে সুদূরপ্রসারী!
এত অভাবনীয় বিশাল ক্ষমতা যা কেউ কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেনি!
আরো কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যাক।
আমার গুল্টু সোনা, আব্বুকে "হ্যালো" বলো।
সে আমাদের দুজনকেই ভুলে বসে আছে, তাই না?
এই গবেষনাগারটাই তার দুনিয়া, তাই না বাবু?
তোমার আব্বু একদম পচা!
প্রিয়া!
এই জায়গাটাকে কি খেলার মাঠ পেয়েছো?
তোমাকে আর কতবার বলবো আমার বাবু সোনাটাকে এখানে আনবে না?
জায়গাটা হরেক রকমের কেমিক্যালে ভর্তি।
যদি কোন কেমিক্যালের এক ফোঁটাও বাবুর শরীরে পড়ে ভেবে দেখেছো কি দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে তাহলে?
আমার কোন দোষ নেই!
সব দোষ তোমার বাবু সোনার...!
তোমার বাবু সোনার আবদারেই তো এখানে আসলাম তোমাকে একটা গিফট দেবো বলে।
আর তুমি কিনা আমাকে বকছো!
প্রিয়া সাবধান, দেখে চলো!
'তোমার আব্বুকে কোন গিফট দেওয়ার দরকার নেই, সোনামণি।'
আমরাই সব গুলো গিফট রেখে দেই, কি বলো?
প্রিয়া...?
তুমি কোন গিফটের কথা বলছিলে...?
তারপরই এখানে চলে এলে যে?
গিফট টা কি বলা যাবে?
শুভ জন্মদিন।
তুমি হচ্ছো একটা গর্ধব প্রকৃতির বৈজ্ঞানিক!
গিফটের বদলে যে গিফট দিতে হয় সেটাও তোমার মাথায় নেই!
গিফট?!
ফেরত গিফট...?
যার মানে দাঁড়াচ্ছে...
তোমার মনে কিছু না কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে এখন!
বলে ফেলো জানু কি চাই তোমার?
তুমি দেবে আমাকে সেটা?
তোমাকে কি আমি কখনো না বলেছি বলো?
বলে ফেলো।
এই গবেষণাটা আর চালিও না।
বাদ দাও এসব।
এই গবেষনার জন্য তুমি নাওয়া খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছো...
খুব ভয় লাগে চিন্তা করলে, এটা না আবার কোন বড় বিপদ ডেকে আনে!
প্রিয়া...!
আমি যেটা আবিষ্কারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছি সেটা অন্য সব কিছু থেকে ব্যতিক্রম!
যদি...
যেভাবে চাচ্ছি...
সেভাবে এটা কাজ করে-
যে বিপদের ভয় করছো সেরকম ঘটনা যদি ঘটেই যায়...
আমি সব কিছু তখন আবার আগের মত ঠিক করে ফেলতে পারবো এটার সাহায্যে।
এত কিছু আমি কার জন্য করছি বলো?
তোমার জন্য...
আমাদের সন্তানের জন্য।
তো, আমার ছোট্ট রাজপুত্রটা নতুন করে এখন কি আবদার করছে?
ওর ক্ষুধা পেয়েছে, দুধ খাওয়াতে হবে।
- ৫ মিনিটের জন্য ওকে ধরো। - কোথায় যাচ্ছো তুমি?
আমি এখনই আসছি।
- প্রিয়া...হেই! - এখনই ফিরে আসবো।
আমার অনেক কাজ আছে!
আমাকে পাচটা মিনিট সময় দাও।
আমার গুলুগুলু বাবুটা!
তুই একদম তোর মায়ের ন্যাওটা হয়েছিস।
যখন আমি তোকে স্কুলে ভর্তি করতে যাবো...
তুই কিন্তু সেখানে তোর বাবার ডাকনাম বলবি না , কেমন?
এমন ব্যবস্থা করবো যাতে তুই সেখানে তোর মার নাম বলিস।
ঠিক আছে, বাবু সোনা?
তুই এখানে কিছুক্ষন শুয়ে থাক।
আরাম করে শুয়ে থাক এখানে।
একটু বিশ্রাম নে।
ও...ও...ও কাদে না, কাদে না?
কাদিস না।
আম্মু এখনই এসে পড়বে।
আমি তোর আম্মুকে বলবো তোর জন্য গান গাইতে।
তোর প্রিয় গানটা, ঠিক আছে?
১ টা মিনিট ধৈর্য্য ধর, সোনা!
এই তো গান শুরু হয়ে গেল!
আম্মুর গলা শুনলেই কেমন আনন্দে লাফিয়ে উঠে দুষ্টুটা!
আম্মুর ন্যাওটা একটা!
"আমার ছোট্ট ভালোবাসার বাহার জন্মেছো রাজ্য জয় করতে, ঘুমিয়ে পড়ো। "
"ঘুমাও বাবু সোনা, ঘুমিয়ে পড়ো।"
"আমার ফুলের বাগানের ফুলের সুবাস শুধু তোমার জন্য, ঘুমিয়ে পড়ো।"
"আমার সবটুকু ভালোবাসা তোমার জন্য, আমার বুকের ধন।"
"তোমার স্বচ্ছ চোখের দৃষ্টিতে ঘুচে যাবে সব জরা, মুছে যাবে সব দুঃখ।"
"তোমার নরম পেলব ছোট্ট হাত দুটো দোলাবে আমার দুনিয়াটাকে, আমার বুকের ধন।"
"তোমার হৃদয়ের সবটুকু স্পন্দন আমার পৃথিবীকে করবে আলোড়িত।"
"ঘুমাও বাবু সোনা, ঘুমিয়ে পড়ো।"
"আমার ছোট্ট ভালোবাসার বাহার জন্মেছো রাজ্য জয় করতে, ঘুমিয়ে পড়ো। "
"তোমার হাসিতে বাজে খুশির বীণ ।"
"তুমি আমার আশা, তুমি আমার ভালোবাসা।"
"আমার উধর ভরে গেছে পুষ্পে যখন এসেছো আমার গর্ভে, আমার বুকের ধন।"
"ঘুমিয়ে পড়ো আমার চাদের কণা স্বপ্ন দেখো সুন্দর, আমার মিষ্টি বাবু সোনা।"
"ঘুমিয়ে পড়ো আমার চাদের কণা স্বপ্ন দেখো সুন্দর, আমার মিষ্টি বাবু সোনা।"
"ঘুমাও বাবু সোনা, ঘুমিয়ে পড়ো।"
"আমার ছোট্ট ভালোবাসার বাহার জন্মেছো রাজ্য জয় করতে, ঘুমিয়ে পড়ো। "
"আমার ছোট্ট ভালোবাসার বাহার জন্মেছো রাজ্য জয় করতে, ঘুমিয়ে পড়ো। "
সালাম, স্যার।
সে কি তার কাজ শুরু করেছে?
সারা সকাল আমি তার সাথেই ছিলাম, স্যার।
এতোক্ষনে তার কাজ শেষ হয়ে যাওয়া উচিত।
তার আসল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ৪.০০ টা থেকে।
আমি তার ল্যাব থেকে সারাক্ষন খুটখুট শব্দ শুনেছি।
সে তার কাজ এতোক্ষনে নিশ্চয়ই শুরু করে দিয়েছে।
স্যার, এত বছর ধরে আপনার হুকুমের গোলাম হয়ে আছি আমি...
আপনি বলেছেন এর জন্য আমাকে উপযুক্ত ইনাম দেবেন আপনি।
প্রিয়া...!
এটা কাজ করছে, প্রিয়া!!
পেরেছি...!
আমি পেরেছি!
আমার ঘড়ি কাজ করছে!
প্রিয়া।
প্রিয়া?
প্রিয়া?
প্রিয়া।
একই মায়ের গর্ভে ৩৬ টা সপ্তাহ এক সাথে ছিলাম আমরা।
কিছু সময় পরেই আমরা মায়ের গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসি।
আমরা জন্মালাম জমজ হয়ে, তুই আর আমি।
তোর আর আমার জন্মের মাঝখানে সময়ের পার্থক্য ছিল কত জানিস?
৩ মিনিট।
মাত্র
১৮০ সেকেন্ড।
অই ১৮০ সেকেন্ড তোর আমার জীবনের অনেক কিছুর পরিবর্তন করে ফেলেছে।
আমাদেরকে পরস্পরকে মুখোমুখি বিপরীত অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সেই সময়টা...!
দেখ কিভাবে ওটা আমাদের জীবন নিয়ে নিষ্ঠুরভাবে খেলেছে।
তোর চেয়ে ভালো আর কেউ তো সময়কে বিশ্লেষন করতে পারে না, তাই না?
ডক্টর
সেথুরামান।
তুই!
তুই হচ্ছিস সবদিক থেকে নিখুঁত একজন মানুষ।
একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক।
বিখ্যাত ফিনিক্স ওয়াচ কোম্পানির গর্বিত প্রতিষ্ঠাতা।
ভারতের সবচেয়ে সেরা উদ্যোক্তা।
একজন আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা।
ইত্যাদি...ইত্যাদি।
ইত্যাদি!
আর আমি?
আমি হলাম
একজন সর্বশ্রেষ্ঠ ভিলেন।
আজকে আমাদের দুজনেরই জন্মদিন, আমার আদরের জমজ ভাই।
তা আমার জন্মদিনের গিফট টা কোথায় যেটা তোর আমাকে দেওয়ার কথা?
আমি এসেছি
আমার ঘড়িটা নিতে।
আথ্রেয়া, আমার প্রিয়াকে কিছু করিস না।
শুভ জন্মদিন
আমাকে!
সেথু।
তাকাও আমার দিকে
প্রিয়া
ঘরের প্রতিটা ইঞ্চি তন্ন তন্ন করে খোঁজ।
তাড়াতাড়ি কর।
আমার বদ্ধমূল ধারণা ঘড়িটা এখানেই কোথাও ও লুকিয়ে রেখেছে।
আমাদের বাবু সোনা কোথায়?
ও...
গোপন একটা ঘরে রয়েছে।
হায় হায়! প্রিয়া!
কি হলো?
ঘড়িটা!
ঘড়িটা বাবু যে ঘরে সেই ঘরেই রয়েছে!
- মিত্রা। - স্যার?
মনে হয় কোন ঘড়ির বাক্সে আছে ঘড়িটা।
দয়া করে ঘড়িটা কোথায় ওকে বলো না!
যদি সে কোনভাবে ঘড়ির অবস্থান জেনে যায়, আমার বাবুকে পেলে মেরে ফেলবে সে!
থাম সব!
স্যার।
আমরা সব জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি, স্যার।
ঘড়িটা কোথাও পাওয়া যায়নি।
এটা এখানেই কোথাও রয়েছে।
আমি বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনেছি!
বাচ্চাটাকে আমার চাই।
- যাও, খোঁজো। - ঠিক আছে, স্যার।
ঘড়ি কোথায় রেখেছিস?
না...না...!
ওকে কিছু করিস না!
প্রিয়া!
আথ্রেয়া!
ও কষ্ট পাচ্ছে!
নিঃশ্বাস নিতে পারছে না ও!
আথ্রেয়া, ছেড়ে দে ওকে!
তুই অনেক বড় ভুল করছিস!
আমার গবেষণা এখনো শেষ হয়নি!
আমাকে ৫ টা মিনিট সময় দে।
আমি ঘড়িটার কাজ শেষ করে তোকে দিয়ে দিচ্ছি ওটা।
কসম খোদার, বিশ্বাস কর আমাকে!
'প্রিয়া...!'
"এটা কাজ করছে, প্রিয়া!!"
"আমি পেরেছি"
"আমার ঘড়ি কাজ করছে!"
আমাকে কি বয়রা মনে করিস?
তুই কি মনে করিস আমি কিচ্ছু শুনতে পাই না?
ও কষ্ট পাচ্ছে, ওকে ছেড়ে দে আথ্রেয়া!
ছেড়ে দেব?
ছেড়ে দে ওকে!
দয়া কর...মারিস না ওকে!
আমি তোর কাছে ওর জীবন ভিক্ষে চাইছি!
প্রিয়া।
কাদিস না।
কাদিস না খোকা।
থাম!
No comments yet. Be the first to leave one.