نخستین 189 خط.
উৎসর্গ Band Of Botanist
ষাট হাজার বছর আগে,
প্রথমবার মানুষ আফ্রিকা ছেড়ে বেরিয়েছিল।
তখন থেকে, পৃথিবীর প্রতিটা কোনায় ভ্রমণ করা,
আমরা থামাইনি।
কিন্তু আমাদের যাত্রাটা ছিল, অনেকগুলো যাত্রার একটা।
প্রতিটা মুহুর্তে,
কোটি কোট প্রাণী জায়গা পরিবর্তন করছে।
আর আমাদের গ্রহের স্বাস্থ্য সেটার উপরে নির্ভরশীল।
:.:.: Our Planet II :.:.: :.:.: Episode 01:.:.:
অনুবাদ ও সম্পাদনায় কে এন হাসান
টিকে থাকার সব থেকে বড় পন্থা হচ্ছে মাইগ্রেশন।
খাবার খুঁজতে...
সন্তান জন্মদিতে...
অথবা নতুন বাড়ি খুঁজতে।
তবে সেটা ঝুঁকি ছাড়া নয়।
অসাধারণ কিছু যাত্রাকে এই সিরিজ অনুসরণ করবে।
এমন পৃথিবীতে যেটা আগের থেকে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।
আর এখন আমরা বুঝতে শুরু করেছি,
পৃথিবীতে সবস্ত জীবন
মুক্তভাবে চরে বেড়ানোর উপরে নির্ভর করে।
প্রতিবছর, বোটসোয়ানার এসব জমি পরিবর্তিত হয়।
এই দাগগুলোই একমাত্র চিহ্ন, যে জায়গাটা মাত্র তিন মাস আগে
পানির নিচে ছিল।
তখন সবুজে সমৃদ্ধ ছিল।
এখন শুকিয়ে কাঠ।
এই পরিবর্তন প্রাণীদের জায়গা পরিবর্তন করতে বাধ্য করে।
শেষ পানিটুকু পান করতে কেপ মহিষ কালাহরি মরুভূমি পাড়ি দিয়ে
সামনে এগোতে থাকে।
ছোট গ্রুপগুলো একত্রে বিশাল বড় আকার ধারণ করে।
আফ্রিকার সব থেকে বড় গ্রুপ।
প্রতিবছরই তারা এই তীর্থ যাত্রা করে
একটা শুকিয়ে আসা জলাভূমির উদ্দেশ্যে।
আর অন্যরাও এটারই অপেক্ষাতে থাকে।
সিংহেরা মহিষ প্রিয়।
বছরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ্য আয়োজন হচ্ছে
বড় গ্রুপটার পৌছানো।
সপ্তাহ ধরে, তারা মহিষের দলের অপেক্ষায় রয়েছে।
দিগন্তের কাছ দিয়ে যাওয়া প্রতিটা আকৃতির উপরে চোখ রয়েছে।
অবশেষে।
বড় দলটার সামনের দেওয়ালে শিং আর পেশিওয়ালারা থাকে।
কিন্তু সিংহদের অবশ্যই দূর্বলতা খুঁজে বের করতে হবে।
এবং পেয়েও গেছে।
একটা একাকী ষাড়।
সম্ভবত দল থেকে আলাদা সে,
কিন্তু সিংহের তুলনায় চারগুণ বেশী ভারী।
সেই সাথে আফ্রিকার সবথেকে বেশি বিপদজক প্রাণীদের একটা।
সবাইকে সাবধানতার সাথে এগোতে হবে।
এক এক করে, সাধারণত যেভাবে হেটে যায়।
যেন শিকার করার ইচ্ছা নেই।
ইতমধ্যে তারা জায়গামত দাড়িয়েও গেছে।
সিংহীরা আক্রমণ করে,
ষাড়টাকে ক্লান্ত করে দেয়
এখন, ভারী সিংহরা লড়াইতে যোগ দিয়েছে।
দলটা মাত্র তিন মিনিটের ভেতরে
তাদের কায়দা-কানুন দেখিয়ে
সবথেকে লড়াকু বিপক্ষকে হারিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
যে মাইগ্রেশনের উপরে সিংহরা নির্ভর করে
সেটা ওই ঋতুর কোটি কোটির একটা।
আর এটাও
অন্য একটা যাত্রার প্রভাব।
সূর্যের চারিদিকে একবার প্রদক্ষিন করতে আমাদের গ্রহ এক বছর সময় নেয়।
ঘোরার সময়,
সাড়ে তেইশ ডিগ্রি কাত হয়ে ঘোরে।
সেটার প্রেক্ষিতেই এই ঋতুগুলোর সৃষ্টি হয়।
ব্যাপারটা বুঝতে, উত্তর মেরুর উপরে চোখ রাখুন।
বছরের অর্ধেক সময়, জায়গাটা সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকে।
যে কারণে তখন অন্ধকার আর ঠান্ডা থাকে।
বাকি অর্ধেকে, সূর্যের সামনে থাকে
যে কারণে দিন বড় হয়ে যায়।
এটাই সেই বাৎসরিক চক্র,
যেটার কারণে পৃথিবীতে বড় বড় যাত্রাগুলো চলতে থাকে।
উত্তর গোলার্ধে, এটা বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে।
বসন্ত।
মার্চের শেষের দিকে, অন্য সময়ের থেকে দিন বড় থাকে।
সূর্যালোক বেড়ে যায়, দ্রুত মাটি গরম করে।
বৃষ্টিপাত ঘটায়।
উত্তর গোলার্ধ হঠাৎই উষ্ণ
আর ভেজা হয়ে যায়।
গাছপালার জন্য মোক্ষম সময়।
জমি সবুজ আকার ধারণ করে।
আর একটা প্রাণীও গাছপালার সাথে তরতর করে বেড়ে ওঠে।
এক সপ্তাহ আগে,
ইথোপিয়াতে এই পঙ্গপাল
ছিল নীরব, শান্ত আর খুব কম নড়াচড়া করত।
এখন আর তা নয়।
খাদ্যের মজুত যখন বাড়ে,
পঙ্গপাল তখন ঝাঁক বেঁধে যায়।
তারা চলতে শুরু করে,
আর দশ গুন বেশি বংশ বিস্তার করে।
জনসংখ্যা বিরাট আকার ধারণ করলে,
জমির উপরের সবকিছু খালি করে দেয়।
বেশি বেশি খাবারের জন্য,
তাদের অবশ্যই যাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।
ঝাঁক বড় হয়।
আরও বড় হয়।
যাত্রাপথের সব গাছপালা এরা গ্রাস করে।
কিন্তু এটা তো কেবল শুরু মাত্র।
পায়ে ভর দিয়ে, তারা এতটুকুই যেতে পারে।
আরও দূরে যেতে,
তাদের রুপ বদলাতে হবে।
তার পাখা গজায়।
এখন, আরও বেশি ক্ষুদা নিয়ে
পুরো দল আকাশে উড়ে।
খায়...
আর উড়ে।
খায়...
আর উড়ে।
একত্রে মিলে গিয়ে বিশাল বড় ঝাঁকে পরিণত হয়।
সত্তর বছরের ভেতরে এটাই সবথেকে বড়।
প্রতিদিন,
২০০ বিলিয়ন শক্তি সঞ্চয় করে।
তো পুরো ঝাঁককে খাবার খেতে হলে,
অবশ্যই দ্রুত সামনে এগোতে হবে।
প্রতিদিন প্রায় একশ কিলোমিটার ভ্রমণ করে এরা।
একটার পরে একটা দেশে দ্রুত যেতে থাক।
বেশি বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে,
এরা লোহিত সাগরও পাড়ি দেয়।
প্রথমবারের মত হিমালয় সাবাড় করে ঝাঁকটা তিব্বতে এসেছে।
যেখানেই যাবে,
বিশৃঙ্খলা ঘটাবে।
ঋতু পরিবর্তন হয়ে শুষ্ক না হওয়া পর্যন্ত এরা চলতেই থাকবে।
যখন তাদের খাবার ফুরিয়ে যাবে,
তারাও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
এপ্রিলে, উত্তরে দিনের পরিধি বাড়তেই থাকে।
সূর্যের তাপ সুমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়িয়ে,
বিশাল শৈবালের ব্লুম সৃষ্টি করে।
আর হঠাৎই খাবারে যোগান বেড়ে যায়।
একটা প্রাণীর জন্য, এটাই হচ্ছে ভ্রমণ করার সময়।
ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটা রিমোট দ্বীপের মধ্যরাত।
মাটির নিচে...
কিছু একটা নড়ছে।
এই প্রাচীন মারলেটের বাচ্চাটা মাত্র ডিম ফুটে বেরিয়েছে।
তার জীবনের সব থেকে কষ্টকর ভ্রমণের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সে।
প্রথম খাবারটা এখনো খায় নি,
এজন্য জরুরীভাবে তার খাবার প্রয়োজন।
মা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে।
পুরো দ্বীপে, ক্ষুদার্থ বাচ্চারা বাসার গর্ত থেকে বেরিয়ে
বাবা-মায়ের ডাক অনুসরণ করছে।
তবে এখন যদি তারা খাবার খেতে ব্যার্থ হয়,
তাহলে মারা যাবে।
একমাত্র এই সামুদ্রিক পাখিগুলোই
একবারে সুমুদ্রে নিয়ে খাওয়ায়।
বাচ্চাদের শুধুমাত্র সেখানে যেতে হবে।
উড়তে পারে না,
তাই বাচ্চাগুলোর সুমুদ্রে পৌছানোর একমাত্র অবল্বন হচ্ছে
তাদের পা।
শিকারীদের হাত থেকে বাঁচতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে।
রাতে কোথায় যাচ্ছে, সেটা ঠাওর করা একটু কষ্টকর।
যেখানে উচ্চতা একটা গল্ফ বলের সমান,
সেখানে যেকোন কিছু বাধা হতে পারে।
পথের বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, গাছের ছোট ডাল
এবং ছোট্ট জলধারা।
কারো কারো জন, সফর শুরু হতেই শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু এই বাচ্চাটার কপাল ভাল।
অবশেষে, সৈকত।
আর এটাই দুই বছরের ভেতরে শেষবার মাটি ছোঁয়া
মা কে খুঁজে পেতে,
অন্ধকারে ডাকতে থাকে।
আবার মিল হল।
কিন্তু বাচ্চাটা এখনো অভুক্ত।
কাছাকাছি খাবারের কাছে পৌছাতে,
৭০ কিলোমিটার
লাগাতার পা চালাতে থাকে।
এখানে, বাচ্চার জন্য প্রথম খাবার
ক্রিল শিকার করতে, মা ডুব দিতে পারে।
কিন্তু এটা সাময়িক বিরতি।
এই জোড়া আরও হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেবে।
উত্তরের সুমুদ্রে পৌছাতে এক মাসেরও বেশি মাইগ্রেশন করবে।
যেখানে তারা পেট পুরে খেতে পারবে।
ডিম ফুটে বের হওয়া পাখির বাচ্চাদের ভেতরে এদের যাত্রাই সম্ভবত সব থেকে বড়।
কারণ গরমে সুমুদ্র খাবারে পরিপূর্ন্য থাকে।
এই মারলেটসরা পুরো জীবন সুমুদ্রে কাটাবে।
হাওয়াই থেকে ষোল হাজার কিলোমিটার উত্তরে
একটা ছোট্ট দ্বীপ রয়েছে।
লেসান।
বিশ্বের সব থেকে বড় সামুদ্রিক পাখির বাড়ি।
লেসান অ্যালবাটোর্স।
এই বাচ্চাটার বয়স ছয় সপ্তাহ।
সে অনেক দূরত্বে ভ্রমণকারী হবে।
ষাট বছরের জীবনে লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার উড়বে।
চার মাস বয়সে
এখনো সে উড়তে পারে না।
আর কোথাও যায় ও না।
মারলেটের মত নয়।
বাবা-মায়ের আনা খাবারের উপরেই
এরা নির্ভরশীল।
হতে পারে তার বাবা-মা তিন হাজার কিলোমিটার দূরে গেছে মাছ ধরতে।
এজন্য তাকে একটু অপেক্ষা করতে হবে।
No comments yet. Be the first to leave one.