نخستین 200 خط.
এখন আবার কি?
এখন কি ট্রাক এর জিনিসপত্র ও রেখে দিবেন?
এরকম কিছু না।
সামনের ওই কারখানাতে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে।
এটা শুধু একটু নিরাপত্তা চেকের অংশ।
তেমন কিছু না।
কিন্তু আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে।
একটা জরুরি পারসেল আছে।
সময়মত এটা পৌঁছানো না গেলে
কার দোষ হবে বলেন।
ব্যাপার না,
আপনি যেতে পারেন।
এগিয়ে যান।
যত্তোসব ফালতু আলাপ
বেজন্মার দল।
ধুরও
আরে ধুর
আজকে কপালটাই খারাপ।
“ট্রেইন টু বুসান”
পরিচালক সাহেব,
এই মুহূর্তে আমাদের কোম্পানি বর্জনের কারণে অন্য কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজার পড়ে যাচ্ছে।
আমরা এখনো জানি না অবস্থা এভাবেই চলবে কিনা।
তাহলে আমরা এভাবেই চলতে দেই কি বলেন?
জি।
আপনি যেভাবে বললেন ওইভাবেই করা হবে।
একদমই না, আমি এখনো এটার ওপর কাজ করছি।
জি।
ততক্ষণ দেখা যাক কি হয়
জি, জি।
ভালো থাকবেন।
কিম সাহেব, আমার অফিস এ একটু আসুন।
কি করতে হবে?
শেয়ার মার্কেটে আমাদের যা কিছু আছে, সবগুলো আটকে দিন।
সবগুলো?
হ্যাঁ।
এটা একটু বেশি ঝুঁকি হয়ে যায় না?
আমাদের প্রথম দিকের মূলধন
বহাল রাখা যায়।
কিম সাহেব,
জি স্যার?
আমি আপনাকে যেটা করতে বললাম, আপনি সেটাই করবেন।
আমাদের আগে থেকেই সাবধান থাকতে হবে।
জি, স্যার।
একটু দাঁড়ান কিম সাহেব।
এখনকার বাচ্চারা কি ধরণের উপহার পছন্দ করে?
বাদ দাও, আমি সু য়ান এর অভিভাবকত্ব হস্তান্তরের জন্য আইনের সাহায্য নেব।
মামলা করো, যা খুশি করো।
আমিই সু য়ান এর দেখাশোনা করবো।
আচ্ছা, কিভাবে তুমি ওর দেখাশোনা করবে শুনি।
সু য়ান তোমাকে বলে নি?
সু য়ানের কালকে এখানে আসার কথা, তুমি ওকে কথা দিয়েছো।
মনে আছে সেটা?
কিসের ব্যাপারে কথা বলছো?
আশ্চর্য!!
আমি ওকে একা ছাড়বো কিভাবে?
তাহলে তুমি ওকে নিয়ে আসো।
ও বলেছে ও আমাকে মিস করে।
কালকে তো পারবো না।
কালকে যে ওর জন্মদিন, সেটা জানো তো না কি?
হ্যাঁ, জানি।
রাতে খেয়েছো?
আমি ঠিক আছি।
সু য়ান খেয়েছে?
ও খেয়ে নিয়েছে।
ও ওর ঘরে আছে।
আমি একাই ট্রেনে যেতে পারবো।
না কেন? আমি পৌঁছালে তুমি শুধু এসে আমাকে নিয়ে যেও।
মা, আমার রাখতে হবে।
না না, ঠিক আছে। কথা বলো।
মা রেখে দিয়েছে।
শুনলাম তুমি নাকি বুসানে তোমার মায়ের সাথে দেখা করতে চাও?
সোনা, এখন বাবা কাজের জন্য একটু ব্যাস্ত আছে।
পরের বার গেলেই মনে হয় ভালো হবে।
বুঝতে পারছ সু য়ান?
এই নাও।
তুমি ভেবেছিলে আমি ভুলে গেছি? শুভ জন্মদিন।
নাও নাও, খোলো।
কি হল? পছন্দ হয় নি?
আমি এটার বদলে অন্য কিছু পেতে পারি?
ওখানে আরো অনেক আছে।
বলো কোনটা চাও।
বুসান।
আমি মায়ের সাথে দেখা করতে চাই।
কালকে।
আমি তো বললাম
পরের বার বাবা ছুটি পেলে আমরা যাব।
না।
কালকেই।
তুমি প্রতিদিনই পরের বার পরের বার বলো।
আবার মিথ্যা বলছো?
বাবা, তুমি যদি ছুটি না পাও তাহলে কি
আমি একাই যেতে পারি?
তুমি কি আসলেই ইদানিং ব্যাস্ত?
এরকম তো সবসময়ই।
কালকে সু-আনের সাথে বুসান যাচ্ছ?
হ্যাঁ।
যাক, এইবার ওর সাথেও একটু দেখা কোরো।
দেখা হলে একসাথে খাওয়াদাওয়া কোরো।
ব্যাপারটা নিয়ে আরেকটু ভালভাবে কথা বোলো।
ডিভোর্স কোনো সহজ ব্যাপার না, বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য।
অন্তত সু য়ানের কথা চিন্তা করো…
মা...
আমি এই ব্যাপারে কথা বলতে চাচ্ছি না।
অতীতকে অতীতের জায়গাতেই থাকতে দাও।
আচ্ছা।
তোমার মেয়ে হয়তো একটা সময়ে বুঝবে…
কিন্তু তুমি বুঝতে পারছো না যে
য়ানের এখন তোমাকে ভীষণ দরকার।
বিশেষ করে সু য়ানের জন্য এখন কঠিন একটা সময়।
সু য়ান ভয় পেয়ো না।
খুব ভালো হচ্ছে সু য়ান, গাইতে থাকো।
সবাই সু য়ানের জন্য জোর করতালি দিন।
হ্যাঁ।
হ্যাঁ মা।
হ্যাঁ।
না
বাবার সাথে আছি।
আমি রাখছি। ওখানে দেখা হবে।
তোমার গান শুনলাম কালকে।
তুমি কিভাবে জানলে? তুমি তো ছিলেই না ওখানে।
বাবা সবসময় খেয়াল রাখে তুমি কখন কি করো।
তুমি তো গানটা শেষ করো নি। কি ঠিক বললাম তো?
তাই না?
হ্যাঁ।
তোমার গানটা শেষ করা উচিৎ ছিল।
যখন কিছু শুরু করবে, হাল ছাড়বে না, আর শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবে।
এটা সবসময় মনে রাখবে।
উফ… ভয় পেয়ে গেছিলাম।
এত সকালে কি হচ্ছে?
সু য়ান তুমি ঠিক আছো? ভয় পেয়েছো বেশি?
কি ভয়টাই না পাইয়ে দিলো।
সু য়ান, ওদিকে নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে।
সকল যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দয়া করে ট্রেনে উঠে পড়ুন। ট্রেনটি অতি শীঘ্রই বুসানের পথে চলতে আরম্ভ করবে।
মাফ করবেন, চার নাম্বার বগি কোনদিকে?
চার নাম্বার বগি ওই দিকে।
ধন্যবাদ।
মিস হে-ইয়াং, আপনার স্কার্ফ।
নিচে নেমে গেছে।
সবাই চুপচাপ যার যার সীটে বসে পড়ো, বোঝা গেছে?
হ্যাঁ!
আরে জি-আ আসছে।
আরে তুমি হঠাৎ এখানে?
আরে ছাড়ো, আমি তোমাদের চিয়ারলিডার।
দেখতে পাচ্ছো না?
তোমরা অনেক ভালো খেলেছো।
একদম!
হাই জি-আ...
অবশেষে!
আর কোথাও বসতে পারলে না?
তুমি সবকিছুতেই বেশি বেশি করো।
আরে যদি আমাকে পছন্দ করে থাকো তাহলে বলে দাও।
আমি তোমার প্রস্তাব গ্রহণ করে নেব।
ওই তোমার জন্য একদম ঠিক আছে।
রাজি হয়ে যাও! রাজি হয়ে যাও! রাজি হয়ে যাও!
খাবে?
এত ভালোমানুষি… কোন যুগে আছো তুমি?
এত ডিম খেয়ো না, পরে গ্যাস মারবে শুধু
সামনে থেকে সরাও।
-আরে খেয়ে নাও। -খাবো না।
- স্যার, আপনি কি ট্রেনে উঠেছেন? -হ্যাঁ, কিম সাহেব বলুন কি ব্যাপার।
সকাল থেকেই লাইন ব্যাস্ত ছিলো।
কালকে রাতে আন্সান প্লান্ট লিক এর ঘটনার কারণে সবাই দুশ্চিন্তায় আছে।
তাই নাকি?
আচ্ছা আমরা পরে এই ব্যাপার নিয়ে কথা বলবো।
এখন আপনি একটু দেখুন ব্যাপারটা।
- আর আমি আপনাকে পরে ফোন করবো। -জি স্যার।
আমাকে ক্ষমা করুন। আমাকে ক্ষমা করুন।
আমার কোন উপায় ছিল না।
- শুনছেন? -জি।
-আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। -জি, বলুন।
- টয়লেট এ অদ্ভুত একজনকে দেখলাম। -কোন দিকে?
উনি অনেক্ষন ধরেই ভেতরে।
মনে হচ্ছে কিছু হয়েছে ভেতরে।
হ্যাঁ, উনি অনেক্ষন ধরেই ভেতরে আছেন।
আমি ওনার হয়ে ক্ষমা চাচ্ছি, স্যার। এখনই দেখছি।
স্যার?
স্যার?
স্যার?
স্যার?
স্যার?
মাফ করবেন, আপনার টিকেট দেখতে পারি?
স্যার, আপনার কাছে যদি টিকেট না থাকে
তাহলে পরের ষ্টেশনে আপনাকে নেমে যেতে হবে।
সবাই মারা গেছে।
- সবাই মারা গেছে। -জি?
এইযে বাচ্চা মেয়ে।
তুমি যদি ভালোমতো পড়াশোনা না করো, তাহলে ওর মতো হয়ে যাবে।
আমার মা বলে, যারা অন্যকে খারাপ বলে, তারা নিজেরাই খারাপ হয়।
তাহলে আমার মনে হয় তোমার মা পড়াশোনা করে সফল হতে পারে নি।
স্যার, দয়া করে সহযোগিতা করুন।
দয়া করে বাইরে আসুন। আমি আপনাকে পেছনে নিয়ে যাচ্ছি।
জরুরী?
আচ্ছা একটু সময় লাগবে।
সামনের বাথরুম এ যেতে পারো। যাও।
ওর আরো একটু সময় লাগবে।
সোনা, সব ঠিক আছে?
ঠিক আছে, বুঝে গেছি। সরি!
তুমি আস্তে ধীরেই বের হও।
সামনেরটাতে যাও।
অসুবিধা নেই, ও চলে গেছে।
No comments yet. Be the first to leave one.