نخستین 200 خط.
»সাব রচনা ও সম্পাদনাঃ« »সিয়াম সিদ্দিকী ফাহিম«
সাত্যিয়া, তুই কি ব্লাডি মেরির নাম শুনেছিস?
হুম, সেটা তো একটা তেল কোম্পানি..
ইশ দারুণ হত যদি ট্যাঙ্ক ভর্তি তেল থাকতো!!
আমি তেলের কথা বলছি না.
আমি একটা মেয়ের কথা বলছি.
এটা একটা হরর গল্প.
সেই মুভিটিতে একজন মহিলা জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে মারা যায়.
তুই যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তিনবার তার নাম উচ্চারণ করিস ..
..তাহলে সে তোকে সরাসরি স্বর্গবাসী দিবে.
তবে আমরা মারা যেতে পারি যদি আয়নায় আমরা নিজেদের দিকে তাকাই.
কারও নাম নেয়াতে মৃত্যু কেন হবে?
তুই এসব আলতু ফালতু জিনিস বিশ্বাস করিস কিভাবে?
আমি তোকে একটা সত্যি উদাহরণ দিচ্ছি
আমার বস আমাকে গতকাল একটা গল্প দিয়েছে .
পরবর্তী সেশনেই একটা নতুন সিরিজের গল্প প্রকাশিত হবে আমাদের ওয়েবসাইটে.
সাংঘাতিক ভয়ের হবে
তখন মধ্যরাত!
হঠাৎ আমি বিদ্ঘুটে গন্ধ পাই আমার স্টুডিও থেকে
খালি পেটে ছিলি তাই হয়তো গ্যাস হয়েছিল পেটে
সেটারই গন্ধ হবে হয়তো
এই গন্ধ তুই কেবল হসপিটালেই পাবি!!
এই গন্ধ কেবল তুই হসপিটালেই পাবো?
কি ছিল ঐটা?
হসপিটালের নার্স?
নাহ! আমি পুরো স্টুডিও তন্যতন্য করে খুঁজেছি
..কোথা থেকে এই গন্ধটা আসছিল! ।
কিছুটা আজব লাগছিল আমার কাছে
শিভা, এই গল্পে তো কোন বাচ্চাও ভয় পাবে না!
হারামি! এখন তো হাঁসি আসতেছে!!
তুই যদি এই গল্পটা শুনো তাহলে ভয়ে মুতে দিবি!
মুতে দিব? আমি হরর মুভি অনেক পছন্দ করি
ফাঁপর মারা কেউ তোর থেকে শিখুক..
যাই হোক গল্পটা বলি শুন..
কিন্তু আমাকে অবশ্যই জানাবি গল্প শুনার পর তোর কেমন ফিলিংস হচ্ছে!
ঘন গভীর জঙ্গল
পাগলের মত কেউ একজন দৌড়ে আসছিল
শরীরের কাপড় পুরোই ছেঁড়া
তার হাতে কোন টর্চও ছিল না
সে ঐ জঙ্গলের ধ্বংসপ্রাপ্ত এক বাড়ির গেটের সামনে যেয়ে থামলো!
ভৌতিক ওক নীরবতা তখন
সে সাহস করে গেটের ভিতর ঢুকে পড়লো
সে বুঝতে পারলো কেউ তাকে ফলো করছে
যখন সে পিছনে ঘুরলো...
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই. একবারই বললো সে.
সে দ্বিতীয়বার, এমনকি তৃতীয়বার বললো একথা
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই.
সে আকস্মিক সেই গন্ধটিই পেল যা তুই হসপিটালে পেয়েছিলি
সে টের পেল কেউ একজন তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে
সে দৌড়াতে শুরু করলো
চার কদম, মাত্র ৪ কদম আগালো
এবং কেউ একজন তাকে উপরে ছুঁড়ে মারলো
সে চিৎকার করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু গলা দিয়ে কোন আওয়াজই বের হচ্ছিল না.
সে একটা বাচ্চার কান্না শুনতে পেল
এরপর কি হলো?
আমি জানি না, লেখক এখনো তার লেখা শেষ করেনি.
সে শেষ করলেই আমি তোমাকে পরের সপ্তাহে বলবো.
প্রথমে আমাদের ওয়েবসাইটের এটি প্রকাশের অনুমোদন নিতে হবে.
কি? ধূমপান ও মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক!
নাহ. রাতে ৩ বার মায়া শব্দটা উচ্চারণ করিস না
এহ!! ৩ বার চিৎকার করো না, মারা যাবে!!
৪ বার করবো, ৫ বার করবো
ভুত এসে তোকে চকলেট দিয়ে যাবে!
প্রথমে আমিও একে মজা হিসেবেই নিয়েছিলাম
কিন্তু গতরাতে যখন আমি আমার হাতের কিছু টুকটাক কাজ করছিলাম..
..লাইট অফ করে দিলাম..
..আর শুতে যাওয়ার আগে তিনবার মায়ার নাম ধরে চিৎকার করলাম
আমি আমার ঠিক পিছনেই কিছু একটা অনুভব করলাম
আমার কানে বাজতে শুরু করলো
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই!
এর মানে তুই গত রাতে মারা গিয়েছিস?
আর এখন আমি এক ভুতের সাথে বসে মদ খাচ্ছি!!
অনেক হয়েছে, এবার তোর ভীমরতি ছাড়. থাম এবার!
তাহলে তুই কেন ৩ বার বলছিস না?
তুই আমাকে কার্ড খেলতে ডেকেছিস, তাই করছি আমি!
আমি এসব বাচ্চাদের খেলা খেলি না.
তাহলে তুই স্বীকার করে নে তুই একটা ভীতুর ডিম?
ভীতু আমি? মজা লস?
কুন্দাপুরে রাতে আমি ভুতের সাথে ডুয়েট গাইতাম.
আর তুই আমাকে ভীতু বলতেছিস?
তাহলে তো তুই ৩ বার মায়ার নাম নিতেই পারিস ঠিক?
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই!
কেন? এখানে এক বার বলার মানে কি কুন্দাপুরে ৩ বার বলার সমান?
শালা পাগল. কি হচ্ছে এসব?
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই!
সম্ভবত সব ভুতেরা মূত্র বিসর্জনে গিয়েছে.
সবাই এখন বাথরুমেই ব্যস্ত.
তাইনা শিভা?
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই!
শুভ জন্মদিন, বেবি!
আমার তো কলিজায় পানি শুঁখায় গেছিল!
আমি তোমাকে এখান থেকে আমাদের বাড়ি ম্যাঙ্গালুরে নিয়ে যাব..
..আর মাছ ধরাবো তোমাকে দিয়ে, দেখে নিও!
এটা শিভার আইডিয়া ছিল.
তুই তো বেশী ফটর ফটর করিস, তাই একটু খোঁচা মেরে তোকে বোঁচা করলাম আরকি!
মর শালা
- ধন্যবাদ দোস্ত. -এটা তোর অফিসের জন্য জমায় রাখ.
আচ্ছা? বাই.
-হাই পল. কেমন আছো? - হাই শিভা. কি খবর?
এইতো বন্ধু ভালোই.
হ্যালো. কেন রাতে তুমি ঘুমাওনি?
নাহ, স্যার. যদি আমার বস আমাকে একটু ঘুমাতে দেয় আর কি!
এমনকি লন্ডনেও সে আমাকে ব্যাঙ্গালুরের মত গাধার খাটানি খাটিয়ে যাচ্ছে.
কান্নাডার যুবক.
শিভা.
- অবশ্যই. - শুনোনা, শিভা.
হাই, শিভা
হাই .
এখন তুমি আমাকে কি বলতে চাচ্ছ?
আমার কিছু পরামর্শ আছে
- স্কেচগুলো রেডি. - হুম
- শিভা - হুম
- উনি মদন - হাই, স্যার.
তুমি যেই স্কেচগুলো তৈরি করেছো তা উনার গল্পের জন্যেই.
অহ.
মনে হচ্ছে গত রাতে ভালোই মোজ মাস্তি করেছ.
আমার বন্ধুর জন্মদিন ছিল গতকাল.
ভোরে শেষ হয়েছে পার্টি.
- স্কেচগুলো দেখি. - হুম
আমি দেখে বুঝতে পেরেছি যে বাধ্য হয়েই পার্টি শেষ করতে হয়েছে তোমার.
জন্মদিন বছরে একবারই আসে, তাই এতো আনন্দ মজা করে করা আর কি.
কেন? কি হয়েছিল?
পার্টিতে কি ভুতের গল্পটি বলেছিলে নাকি?
আপনি কিভাবে জানলেন স্যার?
কোন ধরণের অনুমুতি ছাড়া মায়ার নাম তিনবার নেয়া যাবে না..
..তুমি তার গল্প বলেছো.
আমি তো দুষ্টুমিরচ্ছলে বলেছি.
গতকালের পার্টিতে তোমরা কয়জন ছিলে?
আমি, আমার বন্ধু সাতিয়া আর তার স্ত্রী লুসি. এই কয়জনই.
- তুমি সিউর? - ১০০%
আবার ভেবে বলো. তোমরা কি ৩ জনই ছিলে?
হ্যাঁ স্যার.
তাহলে এ কে?
বিকালের সব এপয়েন্টমেন্ট ফিক্সড.
রেডি?
- নাম? - শর্মিলা দেশাই
-দেশাই - আর্জুন স্যারের স্ত্রী.
অহ. আমাদের অর্জুন?
সে তো ভবিষ্যতের তারকা.
স্যার, তারা এখন আলাদা থাকে.
কেন? আলাদা কেন? যদি কিছু মনে না কর?
আমি তোমাকে জোর করবো না. বস.
তোমার কি লাইন মনে আছে, শর্মিলা দেশাই?
জ্বী.
স্ক্রিপ্ট ভুলে যাও.
আমি তোমাকে একটা পরিস্থিতি দিচ্ছি
তোমার চরিত্রের নাম মায়া.
১ বছর হয়েছে তোমার বিয়ের.
তোমার প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে ২টা জিনিস জানতে পারলে.
প্রথমটি হলো তুমি প্রেগন্যান্ট.
কিন্তু এরপরই তুমি জানতে পারলে তোমার স্বামী...
..তোমাকে ছেড়ে অন্য এক মহিলার সাথে থাকার চিন্তা করছে.
সেদিন তোমরা দুজনই চমৎকার একটি রেস্টুরেন্টে তোমাদের বিবাহ বার্ষিকী পালন করতে গেলে
সেখানে একটি টেবিল বুক করলে ডিনারের জন্য এবং বসলে.
তোমার স্বামী ওয়াশরুমে গেল.
তুমি তোমার পার্স থেকে বিষ বের করে স্বামীর গ্লাসে ঢাললে.
সেখানে তুমি ড্রিঙ্ক ঢাললে.
তোমার স্বামী ফিরে আসলো.
এখন মনে করো আমি তোমার স্বামী.
তাকে বলা তোমার শেষ কথা কি হবে?
শুভ বিবাহ বার্ষিকী
সে দুর্দান্ত.
দারুণ হয়েছে অভিনয়
বি.কে তো পুরাই পাগল হয়ে গিয়েছে.
- হেই - দুঃখিত. তুই কি কিছু বলতেছিলি?
গত রাতে ঘুমাসনি তাই না?
এটা কোন কথা হলো?
শেষ কবে তুই ঠিক ভাবে ঘুমিয়েছিলি?
অন্তত আর্জুনের সাথে কথা তো বল.
এটা বাদে অন্য কিছু থাকলে বল, আমি কথা বলবো.
ওকে ওকে. বুঝতে পেরেছি.
আমি অন্য কোথাও তোর জন্য এপয়েন্টমেন্ট ফিক্স করেছি.
যখন আমি খুব খারাপ সময় পার করছিলাম তখন আমি প্রায়ই সেখানে যেতাম.
সব ঠিক হয়ে যাবে.
কাউন্সিলিং. একবার ভেবে দেখতে পারিস.
ঐখানে একটু থামা তো.
আমার কিছু টাকা তুলতে হবে.
চেক নেয়নি আবারও?
কি সমস্যা ওদের বুঝিনা?
ঐ হারামিদের ছেড়ে কথা বলিস না!
ফোন বন্ধ
ঐ শালাদের অভিশাপ দিচ্ছি, জোচ্চোর শালা.
আমি অবাক হই কিভাবে তারা কাউকে টাকা না দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়!
এডটা টিভিতে দেখাচ্ছেও
আমি কাল আবার চেষ্টা করবো নে.
আমার এটা পাওয়াই লাগবে.
দেখ, এখন থেকে আর কোন চেক বিজনেস করবি না.
তাদের বলবি টাকায় পারিশ্রমিক দিতে.
আমার বাসা ভাঁড়া কখন দেয়া লাগবে?
আমি দিয়ে দিয়েছি.
আমি যত দ্রুত সম্ভব তোকে ফেরত দিয়ে দিব.
- সরি - প্রথমে ঐ জোচ্চর প্রডিওসার থেকে টাকা নেয়ার ব্যবস্থা কর.
কোন সমস্যা নেই যদি তুই পরেও আমাকে ফেরত দিস.
আগামি ৪ প্রজন্ম খাওয়ার জন্য আমার বাবার একাউন্টে প্রচুর টাকা আছে.
আর এভাবেই আমি বেশ ভালোই চলে যাচ্ছি
চিন্তা করিস না
আমি কারোর ঋণের বোঝা নিয়ে থাকতে চাই না.
Swati?
Swati?
তুই তো আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি.
No comments yet. Be the first to leave one.