نخستین 200 خط.
- কত বস্তা ভরা হয়েছে? - প্রায় ৩০০।
তোরা সবসময় ইচ্ছে করে দেরি করিস!
কাবিলা!
- ম্যাচের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে। - তোরা যা!
কাজের সময় ওকে ডাকবি না। যা,ভাগ এখান থেকে!
- তোরা চলে যা। - খেলা থাকলেই প্রতিবার কাজ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করিস।
'কাজে মন দে, কাবিলা। নাহলে তারা তোকে পথে বসাবে!'
এই,তোরা যা।
কাজ কর!
মাপ দে।
অনুবাদ ও সম্পাদনায়: ⌛ জয়ানন্দ ঘোষ ⏳
সহযোগীতায়ঃ ♦️ শিহাব সানজার ♦️ মোঃ সাজ্জাত হোসেন ♦️ আহমেদ জয়নুদ্দিন ♦️ কবির হোসেন তইবুর
উৎসর্গঃ নূরুল্লাহ মাশহুর এবং তানভীর হোসেন - সাব কমিউনিটির অন্যতম দুইজন প্রিয় ব্যাক্তিত্ব!
ওই! কাবিলা,থাম!
অন্তত নিজের কাজ শেষ করে যা!
কিন্তু শিফট শেষ হয়ে গেছে,মালিক! এতো চিন্তিত হবেন না!
থাম!
কাবিলা,দাঁড়া! আমাকেও তোর সাথে আসতে দে।
এখন অব্ধি আমার দেখা কোনো ম্যাচ সারপাত্তা দল হারে নাই।
আমি অনেক ভাগ্যবান! আমাকে সাথে নিয়ে চল।
আসেন,তাড়াতাড়ি করেন।
সরেন সবাই! সড়ে যান দ্রুত!
দেখা যাবে আজ কী হয়!
এক সপ্তাহের মাঝে এই জায়গা তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
কেউ তাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না।
তোদের কাছে টাকা আছে? ভাগ! যদি না ভাগিস...
কীসের এতো তাড়া ছিলো,গর্দভ?
আমি প্রায় মরতে বসেছিলাম! পাগল হয়ে গেছিস?
তুই আমাকে মরণের কথা মনে দিয়েছিলি!
আমি শপথ করে বললাম, তোর কিছুই ভালো হবে না!
সারপাত্তা দল যেন না হারে!
তাড়াতাড়ি নিশ্চিত করো,বুড়ো!
আপনার টিকেট দেখান।
- আমি সারপাত্তা দলের লোক। - আগে আপনার টিকেট দেখান।
আমি এই দলেরই বক্সার, কোচ রঙ্গন স্যারের স্টুডেন্ট!
সবাই এমনটাই বলে।
দেখতে তো তোকে জোকারের মতো লাগতেছে!
আমাকে বিরক্ত না করে এখান থেকে কেটে পড়েন!
- তোর কতবড় সাহস? - এই কাবিলা,শান্ত হ!
হারামি কোথাকার! তোর নাকমুখ ফাটায়ে দিবো!
আমাকে মারার আগে উনার কাছ থেকে টিকেট জোগাড় করেন!
এইযে,ধর!
এতো উত্তেজিত হয়ে যাস না। আয়,ভেতরে যাই চল।
আমাকে ধাক্কা দিয়েন না! বাইরে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম না?
আমি এই দলেরই বক্সার, সে বিশ্বাস করতে চাচ্ছিল না!
এই,শান্ত হ! বাথরুম বক্সারকে কে বিশ্বাস করবে?
মাঠে এসে লড়াই কর, আমি তোকে বিশ্বাস করবো।
আয়,এখন খেলা দেখতে যাই।
আজকের ইংরেজ পেশাদারী টুর্নামেন্ট...
উত্তর মাদ্রাজ ব্যায়ামাগারের খাতিরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
দেশের জরুরী অবস্থা জারি থাকার পরেও...
নির্মাতা কনি চন্দ্রন সুন্দর এই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করেছেন।
এই টুর্নামেন্টের প্রধাণ স্পন্সর হলো 'ওকাসা কর্মদক্ষতা প্রেষবর্ধক!'
জনগণের ভীড় দেখেছিস,কাবিলা? সবাই এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনায় আছে!
সমর্থক এবং শ্রোতাবৃন্দগণ আপনি কি কম সময়ে হাঁপিয়ে পড়েন?
'ওকাসা কর্মদক্ষতা প্রেষবর্ধক' আপনার যৌনজীবনকে আরো মধুময় করবে!
যৌনজীবন মধুময় করে কী লাভ, যদি আমি মহিলাই না পাই?
এই মাতাল! আমি তোর মুখ ফাটিয়ে দিবো কিন্তু!
ওকে বের করে দিন।
- এতো দেরি করলি কেন? - সুপারভাইজার আসতে দিচ্ছিল না!
- আয়,চল ভেতরে যাই। - যা,ভেতরে সবাই আছে।
- বাহ! দারুণ জমেছে তো! - হাই!
এই অনুষ্ঠানের সহকারী পৃষ্ঠপোষক...
- কোচ ভেতরে আছেন? - হ্যা,ভেতরে আছেন
এই...আয়! চল যাই ভেতরে।
খেলার জন্য খেলায়াড় প্রস্তুত!
- দর্শক যেনো ঘাবড়ে না যায়! - হ্যা।
- একটা ঘুষিও মিস করা যাবে না। - আচ্ছা, কোচ।
ভালোমতো খেলবে।
যাও!
- তুমি কার প্রতিনিধিত্ব করছো? - সারপাত্তা দলের,কোচ।
সুযোগ মতো নক আউট করে দিবে! বুঝেছো?
এই,অপেক্ষা কর।
মাদ্রাজের বিখ্যাত দলগুলো হলো...
সারপাত্তা দল ইদিয়াপ্পা দল, সুন্নাম্বু কুলাম দল...
এলাপ্পা দল,মিলিটারি বক্সিং দল, কালীকলন ভাইয়ের দল।
এখন প্রতিটি দল মুখোমুখি হবে। আপনারা সবাই প্রস্তুত তো?
প্রথম ম্যাচে সারপাত্তা এবং এলাপ্পা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে!
রেড,ব্লু! বক্স!
সবাই ম্যাচটি উপভোগ করুন!
অন্য দলের বিপক্ষে সারপাত্তা সবসময়ই প্রথম আঘাত হানে!
তার ঘুষি কত শক্তিশালী!
কার শিষ্য সে? অবশ্যই রঙ্গন স্যারের!
কোচ রঙ্গনের শিষ্যরা সবসময়ই নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
'দারুণ দক্ষতা!'
এখন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সারপাত্তা এবং কালীকলন ভাইয়ের দল।
'তাঁকে দেখতে অক্ষম মনে হলেও তাঁর ঘুষি কিন্তু মজার নয়!'
'সারপাত্তা দল সবার মনোযোগ নিজেদের দিকে আকর্ষণ করেছে!'
'এখন মাঠে আছে শক্তিশালী দল সারপাত্তা এবং ইদিয়াপ্পা...'
'আর এটাই ছিল শেষ ঘুষি!'
- সারপাত্তা এই ম্যাচও জিতে গেল! - দুর্দান্ত, ভাই!
সারপাত্তা দল সর্বশেষ জয়ী!
- সারপাত্তা! - সবাই আবার বলুন।
সারপাত্তা!
পরবর্তী ম্যাচের জন্য সবাই প্রস্তুত হন।
এখন শুরু হতে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর সাইড-বোর্ড ম্যাচ।
আমাদের পরবর্তী অতিথি হলে মাঞ্জা কান্নান।
যখন তার হিরো বুলেটের আঘাতে বাক হারিয়েছিল, তিনি নিজেও একই কষ্ট সহ্য করতে চেয়েছিলেন।
'এখন সারপাত্তা দল...'
'ইদিয়াপ্পা'র কোচ দুরাইকান্নুনের শিষ্যের সাথে পরবর্তী ম্যাচ লড়বে।'
'খেলা শুরু হতে যাচ্ছে... '
সে কেমন ভয়ঙ্কর বক্সার, তা আমরা সকলেই জানি।
তার ঘুষি কতটুকু শক্তিশালী, বিপক্ষ দল কখনোই ভাবতে পারবে না!
বাহ! ইদিয়াপ্পা দলের বক্সার ভেট্রিসেলভানের মুখে ঘুষি মেরেছে!
ভেট্রিসেলভান রাগে জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে, ঘুষিটা আসলেই অনেক ব্যাথা দিয়েছে!
কি দারুণ লেফট হুক!
বিপক্ষ দলের উপর একের পর এক ঘুষি দিয়েই চলেছে ভেট্রিসেলভান!
সেই গতি,সেই রাগ... ভেট্রি আসলেই ঝগড়াটে!
রেফারি, তাকে সড়িয়ে নিন!
সে বিপক্ষ বক্সারকে নকআউট করেছে?
- তুই! - আরো জোরে!
দড়ির উপর থেকে নাম! এক্ষুণি নাম বলছি!
সে কোচ রঙ্গনের মানসম্মান নষ্ট করে ছাড়বে।
সারপাত্তা দলের প্রাণভোমরা... কোচ রঙ্গনের যোগ্য উত্তরসূরী...
দলের সবচেয়ে বিখ্যাত মেইন বোর্ড বক্সার...
ব্যাসরপদী'র লৌহ মানব মীরা মাত্রই এখানে এসেছে!
ভাই,আজ আপনার দিন!
আজ আমাদের বিজয়ের দিন। ভেম্বুলিকে আমরা নিশ্চিত হারাবো!
কাবিলা,তোর মা এসেছে!
হায় ইশ্বর, সড় সামনে থেকে!
আরে উনি আসেন নাই, শুধু শুধু ভয় পাস না!
তোরা পাগল হয়ে গেছিস? ভেবেছিলাম সত্যিই মা এসেছেন।
- দেখ কীভাবে ভয়ে কাঁপতেছে! - তোর মা'কে এতো ভয় পাস?
ভয় পাবেই না কেন? একদিন কোচ রঙ্গন যখন লড়তেছিল...
ও স্কুল পালিয়ে এখানে আসে।
ও খেলা দেখতে এসেছিল।
এই একই জায়গায়!
এই বাচ্চাটা তখন খেলা দেখতেছিল।
বাক্কিয়াম এসে ওকে তুমুল মাইর দেওয়া শুরু করে।
ও তখন পালানোর চেষ্টা করছিল...
ওকে মারতে দেখে কোচ রঙ্গন তার খেলা বন্ধ করে দেয়।
- কী সমস্যা? - চুপ থাকেন!
সবকিছুর মূলে শুধু তুই আছিস!
চুপ থাকতে বলেছি!
তখন তোরা কোচ রঙ্গনের চেহারা দেখলে আপনাআপনি সমবেদনা এসে পড়তো!
আমি বক্সিং দেখতে কিংবা অনুশীলন করতে আসি নাই।
- আমাকে মারা ঠিক হয় নাই। - খুবই খারাপভাবে মেরেছিল!
কিন্তু আপনিই তো আমার সব আশার প্রদীপ!
এই,ধর!
রাখ তোর কাছে!
দুর্দান্ত!
আপনি নিশ্চয় অনেক ম্যাচ জিতেছেন।
- তুই এখনো বাচ্চা রে! - তোর মাথা নষ্ট হয়ে গেছে?
আমার জীবনের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঘটনা ছিলো সেটা।
- এই, কী করছিস তুই? - তোকে কতবার সতর্ক করেছি!
আসলে তোর সমস্যা কী?
ছোট বাচ্চার সপ্নকে নষ্ট করে দিচ্ছো তুমি!
বাক্কিয়াম,থামো! বের হও! বের হয়ে যাও এক্ষুনি!
- এই... - বের হয়ে যাও!
আমি আপনার বাড়িতে কাজ করি, কিন্তু আপনার চাকর নই।
আমার ছেলেকে কীভাবে যত্ন নিতে হয়, তা আমি ভালো করেই জানি।
ওকে কীভাবে বড় করতে হয় আমি জানি।
সে কি নিজে ইচ্ছেতে বক্সিং করবে?
পরেরবার যদি আপনি এমন করেন, আমি খাবারে বিষ মিশিয়ে দিবো!
মাসিয়াম্মা,খাবার প্রস্তুত করা আছে।
বাড়ি আয়,তোর একদিন কি আমার একদিন!
কী হয়েছে, কেভিন?
আমার ঘটনা ওর থেকে অনেক অংশে ভালো!
মাকে না জানিয়ে ও রঙ্গন স্যারের ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল।
- জানি তুই এখানেই আছিস! - মা!
- তোর কতবড় সাহস! - তাঁকে কেন মারছেন? থামুন!
আপনার কোনো বুদ্ধিশুদ্ধি নেই?
এই বক্সিংয়ের কারণেই আমার স্বামী গুন্ডা হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছে।
আমি চাই না আমার ছেলেও একই কারণে মারা যাক!
দাঁড়ান!
সব বক্সার গুন্ডা হয়না।
আপনি সমাজের সম্মানীয় ব্যাক্তি বলে আপনার সাথে ভালোমতো কথা বলতেছি।
বাচ্চাদের এখানে জোগাড় করে তাদের গুন্ডা হওয়ার প্রশিক্ষণ দেন?
আপনার কোনো বিবেক নেই? - আর একটা কথাও বলবেন না!
তোকে আর আশেপাশে দেখলে, তোর হাড্ডি-গুড্ডি ভেঙে ফেলবো।
তখন থেকে কোচ আমাকে ঘৃণা করেন।
তাকে এক ঘুষিতে নকআউট করবি,ঠিকাছে?
রমণ এবং সক্রেটিসের মাঝে পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
- উনি এসে গেছেন! - এসেছেন?
আদর্শবাদের প্রতীক... উদারহৃদয়ের মানুষ...
ডিএমকে পার্টির আঞ্চলিক সংগঠক...
- ভাই,শুরু করবো? - হ্যা,শুরু করেন।
পরবর্তী ম্যাচ শুরু হয়ে গেল।
মাঠে আছে রমণ এবং সক্রেটিস।
রমণ দুই ঘুষি পাওয়া রইলো!
সক্রেটিস প্রতিশোধ নেওয়ার অপেক্ষায়...
সক্রেটিস যেকোনো মুহুর্তে আঘাত হানতে পারে!
রমণ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু সক্রেটিস তার সেরাটা দিয়েছে।
দুর্দান্ত ম্যাচ!
রাউন্ড ৩!
নকআউট!
নিজের অভাবনীয় দক্ষতা দিয়ে সবার মন জয় করে নিয়েছেন!
ছবি তুলেন!
ভেম্বুলি এখানেই আছে!
ইদিয়াপ্পা দলকে সবসময় সর্বোচ্চ পজিশনে রাখা বক্সার...
সারপাত্তা দলকে সবসময় হারানো বক্সার!
তরুণ এবং ভয়ানক ভেম্বুলি এখন আপনাদের মাঝে আছে!
সে এখন তার দুরাইকান্নু'র সাথে মঞ্চের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে।
- সাবধানে! - তাঁর প্রতিটি ঘুষি ইউনিক!
সড়ে যান, সবাই সড়ে যান!
সবাই প্রস্তুত হন,পরবর্তী ম্যাচ কিছুক্ষণের মাঝে শুরু হতে যাচ্ছে!
কী অবস্থা, রাঙ্গা?
বিসর্জন দেওয়ার জন্য ষাঁড় রেডি করেছিস?
বেঁধে রাখার চেষ্টা করিস, ভয়ে যেনো আবার পালিয়ে না যায়!
সড়ে যান,সবাই সড়ে যান!
No comments yet. Be the first to leave one.