198 ensimmäistä riviä.
ফ্লেমস - সিজন: ০৩ - এপিসোড: ০১ ভাবানুবাদে: আকতার হোসেন
'বাচ্চারা, গত বছর একাদশ শ্রেণিতে থাকাকালীন...
'ইশিতা বলেছিল,'
'ভালোবাসার মানুষেরা, আমাদের থেকে দূরে চলে যায়,'
'এতটাই দূরে যে, চাইলেও তাদেরকে জড়িয়ে ধরা যায় না।'
'এই বছর, দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড পরীক্ষা।'
'বেশ কঠিন একটা বছর।'
'আর তোমরা তো আমার নিয়ম জানোই,'
'কঠিন অধ্যায়ে যাবার আগে, প্রথমের সহজটাতে আসি।'
'তো বাচ্চারা, নতুন খাতা বের করে আজকের তারিখটা দাও,'
'আর লিখো,'
'অধ্যায়-১, বাহুতে চলে এসো।'
"বাহুতে চলে এসো... "
"বাহুতে চলে এসো... "
"আমার সামনে আবার কীসের পর্দা"
"আমার সামনে আবার কীসের পর্দা"
"এই মিলন শুধু নয় আজকের,"
"এই সঙ্গ সারাজীবনের।"
"বাহুতে চলে এসো... "
"আমার সামনে আবার কীসের পর্দা"
"আমার সামনে আবার কীসের পর্দা"
"আমায় কখনো কখনো কিছু বলো,"
"অন্তত আজ, আমার সাথে খোলাখুলি দেখা করো,"
"তুমি আমার হলে, রাতটাও হবে আমার,"
"কারো থেকে তাহলে আর কীসের ভয়।"
"বাহুতে চলে এসো... "
"আমার সামনে আবার কীসের পর্দা।"
- এই নিন, মেয়ো। - ও ভাই আরেকটু মেয়ো দাও।
কী করছো?
- অনেক দিয়েছি। - আরেকটু দাও।
চাপ তো দাও ঠিকভাবে।
আরে পান্ডু...
- এই নিন, অনেক হয়েছে। - দাও, দাও, দাও।
আর ভাইয়া তোমার মোমো দিনদিন পাতলা হচ্ছে। আরেকটু মোটা করো।
আর টিস্যুও দাও।
এই নিন।
আর মাঝেমধ্যে সিজুয়ানও দিও।
হেই, বন্ধুরা!
মে-য়ো নারে, মেয়ো বলে এটাকে।
নাও সবাই। ভাইয়ের জন্যে কিছু টিস্যু।
বেশি খ্যাক-খ্যাক করিস না।
ইংরেজিতেই সবচেয়ে বেশি পেয়েছি আমি।
৪৩ পেয়েছিস।
হ্যাঁ, তো?
বেটা, সিরিয়াস হয়ে যাও। এটা দ্বাদশ শ্রেণি।
ভালো নম্বর না পেলে, কোনো কলেজই নিবে না।
ওহ, হ্যালো। কলেজ না আমার বাবা-র।
এক মিনিট, বড়ো আব্বার। দুঃখিত!
কলেজ নাহয় পৌঁছে গেলি, কিন্তু করবিটা কী?
মুখপাত্র, প্লিজ বুঝা।
আমার তো ঠিক করাই আছে, সাংবাদিকতা করবো।
তাহলে আমারও ঠিক করা, ওর সাথেই লেগে পড়বো।
দুইজন একসাথে সব রহস্য সমাধান করবো।
তুই শুধু এটুকু বলবি,
ক্যামেরা ম্যান গৌরভ পান্ডের সাথে, পশ্চিম বিহার থেকে অনুশা কুমারী।
না, আমি তো পান্ডু বলবো।
ক্যামেরা ম্যান পান্ডুর সাথে।
না, ভায়া।
রাজ্জো, তুই?
আমিতো...
- আর্টস করবো। - আর্টস করবো।
শুধু বাবা রাজি হলেই।
রাণী দীর্ঘজীবী হোক।
আর তুমি?
এখনো জানি না। কিছুটা বিভ্রান্ত।
তো দুই মাস নানির বাড়িতে থেকে এসে কী লাভ হলো তোর?
ভেতরে ভেতরে তো আমরাও বিভ্রান্ত।
কিন্তু বাহির থেকে, অ্যাটিটিউড বাঞ্চোত!
ওই, জয়-ভীরু।
বুদ্ধিমান বাচ্চারাই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত হয়।
কারণ ওরা সব করতে পারলেও,
যা করে ভেবেচিন্তেই করে।
তুই বুঝবি না ভীরু।
কী বলছে?
আর জয় তো আমি, ভীরু ও।
ও ভাই, জয় আমি।
আরো রাজ্জো, ভুলে গেলি কৌশল স্যার আমায় জয় ডাকে।
তো কী হয়েছে? আমি জয় তুই ভীরু।
- রাজ্জো, আমি জয়। - আমি জয়।
- আমি জয়। - হাত সরা, আমি জয়।
তবে বসন্তি যেহেতু আমার সাথে,
প্রেমিকার হিসেবে তো আমি-ই ভীরু।
আর তোরটা জয়া ভাদুরি।
মাসুম, চুপচাপ, আনমনা।
প্রেমিকার হিসেবে তো তুই-ই জয়।
ঠিক আছে, আমি উঠি। আমিশা, পরে দেখা হবে।
আরে দাঁড়া, আমিও যাচ্ছি।
আসলে বাসা হযবরল হয়ে আছে, ওদিকে বাবাও একা।
আরে মোমো-সোমো তো খেয়ে যা।
- ধন্যবাদ। - বাই।
- আমিও আসছি। - আরে তুই কোথায় চললি?
তোমার জন্যে কিছু মোমো, সোনাপাখি।
খাও।
ইশিতা।
ইশিতা, শোনো না।
কোনো সমস্যা হয়েছে? এত তাড়াতাড়ি যাচ্ছো কেন?
না, কিছু হয়নি। আসলে এমনি সময় নষ্ট করতে ভালো লাগে না।
তোমরা মজা করো।
পান্ডু'র কথায় খারাপ লেগেছে তোমার?
জানোই তো ও এমনি মজা করে।
জানি।
খারাপ কিছু লাগেনি, পান্ডু তো আমারও বন্ধু।
লাগলে, আমি ওকে সরাসরি বলে দেবো।
তোমায় বুঝাতে হবে না।
ইশিতা, ভেবেছিলাম আমাদের ভিতরে সব ঠিক হয়ে গেছে।
তুমি তো আমায় তোমার সমস্যাও বলো না।
এসে ঠিকভাবে দেখাও করোনি।
দেখা তো করেছি। এখনি তো সবার সাথেই বসে ছিলাম।
আর আমি নিজের সমস্যা সমাধান করতে পারবো, রজত।
হ্যাঁ ইশিতা, আমরা আগের মতো না হতে পারলেও,
বন্ধু তো।
তোমার সমস্যা বলতে পারো আমায় আমি তো বরং সাহায্যই করবো।
চেষ্টা করছি, রজত।
পরে দেখা হবে। বাই।
আরে!
বদ্রি, কেমন আছিস?
দিল্লি কবে এলি?
আমি তো তুই যাবার আগেই এসেছি।
- বল, তুই কখন এসেছিস? - কাল রাতেই।
তুই এখানে কী করছিস?
এখানে... বাবা বললো দিল্লি চলে আয়, তাই চলে এলাম।
যখন বাবা বলেছিল বোর্ডিংয়ে যা, চলে গিয়েছিলাম।
আবার যখন বললো চলে আয়, চলে এলাম-
তোর বাবা অনেক বলে।
বদ্রি, ও রজত।
রজত, ও বদ্রি। আমার অনেক পুরনো বন্ধু।
ছেলেবেলার বন্ধু।
ছেলেবেলার।
- কী অবস্থা ভাই? - ভালোই ভাই।
তুই বাড়িতেই যাচ্ছিস না? চল, নামিয়ে দিচ্ছি।
না, ধন্যবাদ। অটো বা রিকশা পেয়ে যাবো আমি।
আরে চলে যাও না, কোথায় আবার অটো খুঁজবে?
আরে ও খুব বাজেভাবে চালায়। এখানেই রিকশা পেয়ে যাবো আমি।
- যা পরে দেখা হবে তাহলে। - আচ্ছা বাই, দেখা হবে।
বাই।
তোমায় কোথাও নামিয়ে দেবো?
না ভাই, আমি আছি কিছুক্ষণ।
- পান্ডুর সাথে চলে যাবো। - আচ্ছা, ভাই।
- তো এখানেই আছো না? - হ্যাঁ।
একদিন দেখা করে পার্টি করি।
- একদম। - আসি তাহলে।
- ভাইয়া, ডি ব্লকে যাবেন? - হ্যাঁ, বসুন।
ধন্যবাদ।
'বাচ্চারা, আমরা বলে তো দিই যে বন্ধু হয়ে থাকবো,'
'তবে পরে মিস করি সেই স্পর্শ, জড়িয়ে ধরা,'
'আর ভালোবাসার মুহুর্তগুলো।'
'তারপর আমরা ভাবি, এসব বন্ধুত্বে কেন হতে পারে না?'
'এরকম পরিস্থিতিতে, আমরা উচ্চ শক্তির নিউট্রন হয়ে,'
'একটি ভারী ধাতু যেমন ইশিতার উপর বারবার বোমাবর্ষণ করি।'
'আর ভুলে যাই যে এখানে একটা পারমাণবিক বিক্রিয়া হতে পারে।'
'হয় বিদ্যুৎ তৈরি করবে,'
'নাহয় সবকিছু ধ্বংস করে দেবে।'
আচ্ছা, খাবার খেয়েছো?
হ্যাঁ।
আইসক্রিম খেতে যাবে? একটা অনেক কিউট জায়গা চিনি।
ঘুরাঘুরি বন্ধ, রজত।
দ্বাদশের বোর্ড পরীক্ষা এবার, ফেল করতে চাই না আমি। ঠিক আছে, বাই।
আচ্ছা বাই, গুড নাইট।
রাজ্জো।
রাজ্জো!
হ্যাঁ, বল।
কলিজার ভাই।
আজকাল এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে।
মুভি দেখতে দেখতে কেঁদে দিই, ভাই।
তুই আগে এটা ঠিক কর, একদম ট্রাক্টর হয়ে আছে তোর বাইক।
আরে, আজ পর্যন্ত আমি টাইটানিক দেখেও কাঁদিনি।
যখন জ্যাক ডুবছিল।
জানিস আজকাল কী হচ্ছে?
বড্ড বেশি অনুভব করছি আমি।
জানিস? এখনো অনুভব হচ্ছে।
আমার অনুভূতিটা তুই অনুভব করতে পারছিস?
আরে পান্ডু, মাথা খারাপ করাস না।
এমনিতেই গলায় আঁটকে রয়েছে।
- মানে তুইও আমার মতো অনুভব করছিস- - না, ভায়া!
ভাই, আমার মনে হচ্ছে ইশিতা আমায় এড়িয়ে চলছে।
ভেবেছিলাম ও আমায় মাফ করে দিয়েছে। সব ঠিক হয়ে গেছে।
কিছুই ঠিক হয়নি।
দূরে থাকতেই ঠিক ছিল।
এখন সামনা-সামনি দেখা করে বুঝতে পারছি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
অদ্ভুত লাগছে, বন্ধু। ফাঁকা ফাঁকা।
কিছুই আর আগের মতো নেই।
অনুভব করতে পারছি, বন্ধু।
ভাই তুই আমার অনুভূতিতে পাশে থাকিস আর না থাকিস,
আমি সর্বদাই তোরটার পাশে।
ইলেক্ট্রিক স্কুটার ঠিক হবে তো?
আরে, ওটাই ভবিষ্যত। চোখ বন্ধ করে নিয়ে নে।
আচ্ছা, শোন না?
তুই আমার গণিতে সাহায্য করবি?
আমার সত্যিই ভালো নম্বর চাই।
চল ঠিক আছে।
তুই আমায় যত বেশি ছাড় নিয়ে দিবি, আমি তোকে তত ভালো নম্বর পাইয়ে দেবো।
আরে, সমস্যা নেই। ইতোমধ্যেই মামার সাথে কথা বলেছি।
কাল শোরুমে চলে যা, ভালো ছাড় পাবি।
পাগল হয়ে গেছিস?
বাই।
- আরে বলেছি তো মামাজি'কে... - হেই! হেই!
লেডি লাভ, আজ বাদরের সাথে পরী যে!
বাঞ্চোত, কত নোংরা করে রেখেছে।
No comments yet. Be the first to leave one.