181 ensimmäistä riviä.
মধ্যরাতের আগমনীতে,
যখন গোটা বিশ্ব ঘুমে মত্ত থাকবে,
তখন ভারতবর্ষ জাগরিত হবে ভোরের আলো ও স্বাধীনতায়।
সে-সবের সাথেই, ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্টর সন্ধ্যায়,
নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু...
নতুন ভারতের সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রায় ২০০ বছর স্বৈরাচারী ব্রিটিশ শাসনের পর, ভারতবর্ষ এখন স্বাধীন।
পাকিস্তানের ভূখণ্ড মুসলিমদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে,
অন্যদিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতার সহিত ভারত হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ।
প্রারম্ভ ঘটে এক অভূতপূর্ব গণ-অভিপ্রায়ণের,
লক্ষ-লক্ষ মানুষ সীমান্ত পার করছে,
এটি এক শতাব্দিরও বেশি সময় ধরে চলে আসা ব্রিটিশদের "ডিভাইড অ্যান্ড রুল" রণনীতির ফল।
দেশজুড়ে দাঙ্গা ও সহিংসতা শুরু হয়ে গেছে।
মানুষেরা জীবন হাতে নিয়ে পালাচ্ছে।
ট্রেন পীড়িতদের নিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে, দেশজুড়ে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
এর সূত্রপাত বুঝে ওঠার জন্য, আমাদের ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের...
খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়ে ফিরে যেতে হবে।
১৯৪২ সালে।
দাঁড়াও নয়তো গুলি চালিয়ে দেবো।
ভারতবর্ষের হিন্দু, মুসলিম ও শিখেরা...
শুধুমাত্র স্বাধীনতা লাভের জন্যই ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটাতে চায়।
দাঙ্গা ব্যতীত একেবারে শান্তিপূ্র্ণভাবে।
কিন্তু এমন মনোভাবকে আমাদের দূর্বলতা ভেবে বসবেন না।
মহত্মা গান্ধী বলেছেন যে, কিছু-একটা পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসে গেছে।
লড়তে হলে, আমরা লড়বো...
তাতে আমাদের মৃত্যুও সই।
এই জমিন আমাদের।
এই জমিনকে বছরের পর বছর ধরে নিজের রক্ত দিয়ে আসছি।
- আমরা নিয়েই ছাড়বো! - স্বাধীনতা!
- জোরসে বলো! - স্বাধীনতা!
ওরা এখানে রয়েছে, স্যার।
এখনই যাও এখান থেকে!
যাও!
চলে যাও!
নেমে এসো!
বাড়ি যাও!
যাও!
বাড়ি যাও! বাড়ি যাও!
বাড়ি যাও! বাড়ি যাও সবাই!
ছোঁয়ার চেষ্টা করলে, পা ভেঙে দেবো।
কী? এটার কথা বলছো?
ব্যাপার নয়। এমনিতেও এটা খুব-একটা ব্যবহার করি না।
কী চাই তোমার?
আসলে, আমার বেচারি গোলাপগুলোকে পদদলিত করা থেকে তোমায় বিরত থাকতে বলতাম।
কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে, ওদের থেকে তোমারই বেশি সাহায্য প্রয়োজন।
- তোমায় কোনো সাহায্য করতে পারি? - না।
না, ধন্যবাদ।
আমার কুটিরের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলে, সেখানে খাবার আর বিশ্রামের জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে।
এখন, বুঝতে পারছি তুমি খিদে না পাওয়ার ভান করছো।
গরমা-গরম পরোটার গন্ধকে কেউই নজরান্দাজ করে থাকতে পারে না।
তো, তোমার কোনো নাম আছে?
নাকি স্রেফ "ক্ষুধার্ত" বলেই ডাকবো?
সম্ভবত কোথায় থাকো, সেটা তো আমায় বলতেই পারো!
আচ্ছা।
স্পষ্টতই তুমি ইংরেজ নও।
আর তুমি এই গ্রামেরও নও। তো, আমার দুয়ারে কী মনে করে?
তোমার গোলাপগুলো ভালো লেগেছে।
আহ, মামণি কথা বলে।
তুমি বেশ উদার মনের মানুষ। কোনটা প্রিয় তোমার?
ওখানে তোমায় দেখার পর, আমার প্রিয় কবিতার কথা মনে পড়ে গেল।
"যখন কেউ সেই ঘাসে বিশ্রাম নেয়..."
""দুনিয়াটা এমন সব অর্থে পরিপূর্ণ, যা বর্ণনা করা কঠিন"
"তোমার লক্ষ্যই তোমায় খুঁজছে..."
আয়েশা।
আমার নাম আয়েশা।
আয়েশা।
"যে আশায় বাঁচে" নামটা সুন্দর।
হাসান।
জানি ঐ পঁচা গাছের ডালটার প্রতি একটু বেশিই মায়া রয়েছে,
তবে ভাবলাম হয়তো একটা হাঁটার ছরি তোমায় হাঁটতে সাহায্য করলে, বিষয়টা বেশ ভালোই হবে।
আর ভেবে দেখলে,
আমাদের প্রথম সাক্ষাতে, তুমি আমার ছরিটাকে ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছিলে।
এখন সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছি।
ধন্যবাদ।
এখানে আমায় আপন করে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
তোমার দিকে এমনভাবে দেখে যেন, তোমার কোনো ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে।
অবশ্য এতে ওর কোনো দোষ নেই।
দেশজুড়ে ধর্মীয় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার সাথেই,
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন...
ভালোবাসি রে তোকে।
এটা বলে যে, "অভ্যন্তরীণ কলহ ও সহিংসতাকে নির্মূল করাই আমাদের সর্বপ্রথম লক্ষ্য...
যা আমাদের স্বাধীনতার উদ্দেশ্যকে কালিমালিপ্ত, মর্যাদাহানী ও ক্ষতিগ্রস্ত করে।"
তবুও অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক...
রক্তপাতের পর্যায়ে চলে গেছে...
শান্তিপূর্ণ?
এসব রক্তপাতকে শান্তিপূর্ণ বলে অভিহিত করা যেতে পারে?
এই দুঃসময় আমরা কাটিয়ে উঠবো।
দুধ আর সবজিতে চলবে?
ধন্যবাদ, ভাইয়া। বাজারে তো--
এতে ধন্যবাদের কী আছে?
ওর দান-খয়রাত ওর কাছেই রাখতে বলো।
পাগল হয়ে গেছো না-কি?
আরে, তুমিই তো আমাদের একতার বুলি আওড়াতে--
আর এখন নিজেই ইংরেজদের ইশারায় চলছো।
রোহন, কথাগুলো তোমার কাছে বলা সহজ।
কেউ তোমাদের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করেনি।
ফেঁসে তো আমি গেছি।
না কেউ আমার থেকে ফুল কিনতে চায়...
আর না কেউ আমার স্ত্রী'কে দুধ বিক্রি করে।
কেন?
হাসান...
আমি একজন মুসলমান বলে?
মাফ কোরো, ভাইয়া। কিছু মনে করো না। ও পেরেশানির মধ্যে রয়েছে।
ব্যাপার নয়। সবাই'ই ভয় পেয়ে গেছে।
এই সময়টাও পার হয়ে যাবে।
নাজমা।
তো, এখানে গা ঢাকা দিয়েছো।
ভেবেছিলাম সবাই মারা গেছো।
বছরের পর বছর ধরে তন্ন-তন্ন করে খুঁজেছি।
তবে এখন যেহেতু তোমায় পেয়েছি,
আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
তুমি কি বাড়ি ফিরতে চাও না, আয়েশা?
অবশ্যই।
অবশ্যই চাই।
কিন্তু বালাটা নিরাপদ রাখতে আমি লুকিয়ে দিয়েছি।
সেটাকে পুনরুদ্ধার করতে একটু সময় লাগবে।
কাল সূর্যাস্ত অব্ধি তোমায় সময় দিচ্ছি।
আর তারপর, আমরা সবাই বাড়ি ফিরবো। একসাথে।
দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ছে।
সুযোগ থাকতেই সবাই দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছে।
আমার কাছে এই ভিটেমাটিই সব।
আব্বু এই বাড়িটা আমাদের জন্য বানিয়ে গেছে।
আমার মেয়ের জন্য কী রেখে যাবো?
কোনো মুসলমানই এখানে নিরাপদ নয়।
সবকিছু নিজের চোখেই দেখেছো।
গ্রামাঞ্চল জুড়ে ওরা ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে।
মানুষ মারা যাচ্ছে।
এই জায়গাটা সারা'র জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়।
স্মৃতিগুলোকে আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবো।
একসাথে যতক্ষণ আছি, যেকোনো জায়গাতেই আমাদের সংসার পাততে পারবো, হাসান।
"তোমার লক্ষ্যই তোমার সন্ধানে রয়েছে।"
তোমার থেকেই শিখেছি এটা।
জানি রে, মা।
নতুন অভিজ্ঞতা ভীতিকর হয়ে উঠতে পারে।
সেজন্যই আমি চাই এটা তোর সাথে রাখ।
যেখানেই যাস না কেন, এটা তোকে নিরাপদ রাখবে, কেমন?
আয়েশা, শোনো।
আয়েশা।
- আয়েশা, প্লিজ, আমি এত জোরে হাঁটতে পারছি না। - এটাই শেষ ট্রেন। আমাদের জলদি করতে হবে।
কিন্তু আসলে কীসের থেকে পালাচ্ছি?
কাল যার সাথে কথা বলছিলে, সে কে ছিল?
আমায় সত্যিটা বলো।
তোমায় কিছু দেখানোর আছে।
সর্বদা বলতে আমার মধ্যে অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে...
কিন্তু এখন কেন এসব আমায় বলছো?
তুমি জানতে আমি কিছু একটা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম।
কিন্তু জানার জন্য কখনো জোর করোনি।
কারণ আমার কোনো যায় আসেনি।
তুমি আমাদের বেছে নিয়েছো, আর সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আর এখনো তোমাকেই বেছে নিচ্ছি।
আর যেভাবেই হোক,
আজ রাতে সানা'কে ট্রেনে তুলতেই হবে।
কথা দাও, হাসান।
কিচ্ছু হবে না।
প্ল্যাটফর্ম নম্বর এক থেকে, ট্রেন ছাড়ার জন্য প্রস্তুত।
সানা নিরাপদ নেই। ওকে তোমার সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।
কী?
- আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে তোমায়, হাসান। - আয়েশা।
- ওর খাতিরে! তুমি কথা দিয়েছিলে। - আয়েশা! আয়েশা!
- যাও! - আয়েশা!
সানা, সানা, সানা।
ভয় পাস না।
তুমি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছো।
তোমার পরিবার। তোমার লোকেদের থেকে। বালাটা কোথায় আছে, আয়েশা?
নাজমা...
সব ঠিক হয়ে যাবে। সে এসে পড়বে। সে বলেছে এসে পড়বে।
এটা আমার সর্বশেষ কাজ হলেও, আমি খুঁজে বের করবোই।
এতে কোনো লাভ হবে না!
নাজমা, না!
প্ল্যাটফর্ম নম্বর এক থেকে, ট্রেন ছাড়ার জন্য প্রস্তুত।
সানা?
- সানা! - আম্মি?
- সানা? - আম্মি?
আম্মি! আম্মি! আম্মি!
সানা!
আম্মি! আম্মি!
সানা?
সানা?
সানা!
ট্রেনের কামড়াগুলোতে আর জায়গা নেই।
যেতে থাকো!
No comments yet. Be the first to leave one.