Ang unang 200 linya.
Edited By FUAD ANAS AHMED
ঘুরে দাঁড়াও।
ওকে, যাও।
এদিকে ফিরো।
জর্জিয়া থাকবে, বাকী দুজন চলে যাও।
খোলো।
ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াও।
ওকে দিয়ে কাজ হবে।
গ্রাৎসি, এখন আসতে পারো।
একদম খালি আর সাজানো-গোছানো আছে।
কয়দিন আগেই নতুন বানানো হয়েছে...
...কিন্তু ভাড়াটা একটু বেশি, আর দুই মাসের অগ্রিম দিতে হবে।
আর কন্ডোমিনিয়ামের খরচ তো তিনগুণ।.
আগেই বলে দেই, পাশ দিয়ে ট্রাক গেলে, ঘর কাঁপবে।
চাইলে অন্য ফ্ল্যাটও নিতে পারেন।
এটাই নেবো।
কিছু দরকার?
- গুড মর্নিং। - হাই, মাত্তেও।
হ্যালো। কাজের লোক লাগবে নাকি?
- কোথা থেকে এসেছ? - ইউক্রেন।
- আমাদের লাগবে না। - আহ।
- যদি কারো লাগে... - মাঝেমাঝে দেখা করে যেও, পেলে জানাবো।
অশেষ গ্রাৎসি।
গ্রাৎসি।
কী কী কাজ করতে পারবে?
সবকিছু। ঘর পরিষ্কার, রান্না-বান্না, আয়..
- আয়রন করা - অসুস্থ নাকি তুমি? খাবার লাগবে?
না, শুধু একটা কাজ দরকার।
- যোগাড় করে দিলে, আপনাকে ২০% দিবো। - কী ভেবেছ আমাকে?
৩০ এ হবে? ৩০% দিবো আপনাকে।
আজকালকার মানুষজন!
সেনোরা?
আরেকবার আসুন তো এদিকে।
- সরি। - নিন।
স্ট্রবেরি খুব পছন্দ আপনার!
- আইডি দেখান তো, প্লিজ। - হ্যা।
- আপনার ব্যাগটা দিন। - এই নিন।
- ইরিনা ইয়ারু... - ইয়ারোশেনকো, ইরিনা ইয়ারোশেনকো।
- ঠিক আছে। - সরি, কিন্তু আমাদের তো...
এটা কী?
আমার জমানো টাকা।
- এটা বন্ধ হয়ে গেল, কী করবো। মনে হয়, নষ্টই হয়ে গেছে।
মাফ করবেন, ম্যাডাম। একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে আরকি।
নেলো, যাচ্ছো কোথায়?
গলা শুকিয়ে গেছে?
জানি তোমার চাকরি লাগবে, চাইলে আমার জায়গায় ঢুকতে পারো।
- থ্যাংকস, পেয়েছি একটা। - দারুণ!
- আমার এক বন্ধুর জন্য দেখা যায় অবশ্য! - চাইলে দেখো।
- মাত্রই ডিগ্রি পেলাম। একটা ল'ইয়ার অফিসে কাজ করবো এখন। - অভিনন্দন!
তোমার ভাগ্য ভালো। ভিলারচির জুয়েলাররা কিন্তু
সহজে নিজেদের ঘরে বিদেশি কাউকে ঢুকতে দেয় না।
জিনা, এই সামান্য বেতনের কাজ করবে?
কক্ষনো না! তার ওপর আবার ওই সিঁড়ি ...
বেশ!
অসাধারণ!
- কবে কবে আসতে হবে? - মঙ্গলবার আর শনিবার।
দিনে ৩০ ইউরো, সপ্তাহে ৬০।
- তো আমি তোমাকে সপ্তাহে ৪০ ইউরো দিবো। - আচ্ছা।
- অ্যাকাউন্ট ওপেনিংয়ে কত রাখতে চান? - ৮ হাজার।
শুনলাম আপনি নাকি কাজ খুঁজছেন?
আমার মায়ের জন্য একটা মানুষ লাগবে, করবেন?
আপাতত কাজ পেয়েছি।
- আমার এক বন্ধুর জন্য দেখা যায় অবশ্য! - গ্রাৎসি।
চার তলার নেমপ্লেটটা কি তুমি পরিষ্কার করেছ?
করা ঠিক হয়নি?
ওটা তোমার কাজ না।
কিন্তু, এত সুন্দর কাজ করলে তো ক্ষমা করাই যায়।
গ্রাৎসি, যদি কখনো কোনো কারণে প্রয়োজন হয়...
- জিনা, তিয়ার ভিটামিন শেষ। - জানি জানি, আসার সময় নিয়ে আসবো।
- ভালো থেকো। - বাই, ম্যাডাম।
সিঁড়ি, সিঁড়ি আর সিঁড়ি...
- লিফট তো চলছে। - নাহ, আমার মাথা ঘুরায়।
শ্বাস নিতে পারি না, তাই সিঁড়িতেই ভরসা...
সিঁড়িতেই আমার সব!
আরও একটা ছোট্ট কাজ আছে।
একটা অ্যাপার্টমেন্ট রং করা হয়েছে, এখন ধোয়া-মোছার কাজ করতে হবে!
- কোথায়? - চার তলার ছয় নম্বর অ্যাপার্টমেন্ট।
- কত চাইবো? - যত বেশী চাইবে, দুজনের জন্য ততই ভালো।
ঠিক আছে, তাহলে সোমবার আসতে হবে।
শোনো...
- ভালোমতো খেয়ে নিও। - গ্রাৎসি।
উনার নীরবতা সহ্য হয় না আমার!
শুধু মেয়ের সাথেই ভালোমতো কথা বলে। আর বাকি সবার সাথে খিটখিটে আচরণ করে।
কথা না বলে থাকে কীভাবে?
- নিশ্চয়ই সমস্যা আছে। - মানসিক সমস্যা নেই।
- মি. ডোনাটো কি করেন? - উনাদের জুয়েলারির ল্যাবরেটরি আছে।
তিনি পরিচালনা করেন আর স্ত্রী ডিজাইনিং। তেমন কোনো কোম্পানি নেই যদিও!
আপনি চাইলে, আমরা একসাথে বের হতে পারি।
আমি শুধু বৃহস্পতিবার বিকেলে ও রবিবার ফ্রি থাকি।
বের হওয়াই যায়! যদিও আমি তোমার ব্যাপারে বেশী কিছু জানি না...
এত শব্দ কীসের?
ভ্যালেরিয়ার শব্দ।
- সে ল্যাবের বাহিরে কাজ করছে না কেন? - ডিভোর্স হয়ে গেছে।
সবার ঘরে তো আর আলাদা ল্যাব নেই!
তার আগেও, যখন ঝগড়া হতো!
গ্রামে যখন গেল, তখনই শুধু শান্তি ছিল ওদের মধ্যে!
বাচ্চা জন্ম দেয়ার পুরোটা সময় তো ওখানেই কাটিয়ে এসেছে!
হ্যালো?
হ্যাঁ... আমিও...
এখন একটু ব্যস্ত। পরে কথা বলি?
পরে কথা হবে।
থামো, চোর!
থামো, চোর!
থামো, চোর!
আমি একটু আসছি।
৩৭!
৩৯!
আপনার কী লাগবে?
৪০!
৪১!
- আসলে আমি ৮ মি.মি. বলেছিলাম। - ৪২!
- ৪২! ৪২ নাম্বার কোথায়? - আমি!
- সবগুলোর একটা করে ডুপ্লিকেট করে দিন তো। - ঠিক আছে।
সবগুলোর একটা করে কপি বানাও।
- কোন সমস্যা? - না।
দামটা দিয়ে দেই ততক্ষণে?
- ৬০ ইউরো... - উনি আগে এসেছেন। - সরি।
এই নিন।
- আমারদের কাছে একটু শর্ট পড়েছে। এটার কপি হচ্ছে না। - আপনি নিশ্চিত?
অর্ডার দেয়া হয়েছে।
আপনি তো আমার চাকরিটা খাবেন।
দাঁড়ান, ম্যা'ম, একটা উপায় আছে।
- খারাপ লাগছে? - এখন ঠিক আছি।
আমার একা মুভি দেখতে ভালো লাগে না।
- মেয়েটাকে সাথে নিয়ে আসলেই পারেন? - ও তো শুধু কার্টুন পছন্দ করে!
বাচ্চা মানুষ তো।
আগামী রবিবারে ৪ বছর পূর্ণ হবে।
ওকে একটা ব্যাংক একাউন্ট খুলে দিলে কেমন হয়?
- একাউন্ট দিয়ে তো আর টাকা আসবে না। - না, সেজন্যে না।
প্রতি মাসে যদি কিছু জমিয়ে রাখতে পারি...
...তাহলে ওর বয়স ১৮ হতে হতে তো বেশ বড় অঙ্কের টাকা পাবে ও!
- তাই নাকি? - হ্যাঁ
তখন যা ইচ্ছে নিজেই করতে পারবে।
আরে, কী করলাম! আমি সত্যিই দুঃখিত!
না, না, সমস্যা নেই...
ভবিষ্যতের চিন্তা করছি আমি।
বেশ ভালো অঙ্কের টাকাই পাবে ও!
ওর জন্য তো দারুণ উপহার হবে। পছন্দ করবে খুব।
একটা শব্দও করবো না, কথা দিচ্ছি!
এর জন্য পস্তাতে হবে, দেখে নিও!
তিনটা বছর ধরে খুঁজেই চলেছ... কীসের জন্য?
নিজেকে প্রশ্ন করেছ একবারও...? মাথা খারাপ তোমার!
দেখো কী অবস্থা!
ম্যাডাম, মাত্তেও বলছি। তেমন সিরিয়াস কিছু না...
...আপনি অ্যালার্ম সেট করতে ভুলে গিয়েছিলেন।
হ্যাঁ, সব ঠিক আছে। একদম ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম!
হ্যাঁ, আমি ঠিক করে দিচ্ছি।
শত দুঃস্বপ্নের মাঝেও কি বেঁচে থাকে সত্যিকারের স্বপ্ন?
আমি তো কল্পনা নই! ছুঁয়ে দেখো?
এই যে আমি, নেলো। আমার চোখ নাক মুখ সব!
দুঃস্বপ্ন চাইলেই ভুলে থাকা যায়।
বিশ্বাস করো, একদিন এসব কষ্ট থেকে তোমায় বহুদূরে নিয়ে যাবো।
রাসানিযা।
কী?
- ক্রা-সা-ভি-সা! - ক্রাসাভিসা।
হয়তো একদিন সত্যিই সব দুঃস্বপ্ন ভুলে যাবো।
আমারই তো স্বপ্ন, পারবো ভুলতে। কিন্তু তোমাকে?
মানে? সোজাসুজি বলো।
ইনকামটা বাড়াতে হবে।
৬ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টের কাজ করে দিয়েছি। এখন আমার একটা উপকার করে দাও।
ধৈর্য ধরো!
- হ্যালো - হাই, মাত্তেও।
কতজন জুয়েলার থাকে এখানে?
তিন তলা বাদে সবাই।
তাদের কী কাজ করানোর কোন দরকার হয় না...
কেউ কাজের লোক পাল্টাতে চাইছে এমন নেই?
এত সোজা না ব্যাপারটা! বিদেশীদের জন্য তো আরও কঠিন।
সবার ঘরেই নির্ভরযোগ্য লোক আছে।
- মর্নিং! - মর্নিং!
তোমার বান্ধবী জিনাও সারাজীবন এখানেই কাটাবে। ওকে তো আর উনারা বিদায় করবে না।
সিঁড়ি, সিঁড়ি, সিঁড়ি, সিঁড়ি...
হ্যালো, জিনা! পাতিয়া কেমন ছিল?
বাচ্চাদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যা হয় আরকি
বাচ্চারা যতই মজা করে, বুড়োরা ততই বিরক্ত হয়।
গিফট পছন্দ করেছে?
- তার মা তো পুরো অবাক! - আর মেয়েটা?
সে তো এত কিছু বুঝে না।
নতুন খেলনা নিয়েই ব্যস্ত...
যাইহোক, একদিন তো বুঝবে।
- এরমধ্যে আরেক বিপত্তি বেঁধেছে - কী?
বিরল একটা রোগ হয়েছে ওর! দিন কে দিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
সবসময় ব্যথা পায়।
ওর ওপর কিছু পড়লে, নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টাও করে না।
পড়ে গেলে, হাত দিয়ে ধরারও চেষ্টা করে না।
- এর কোনো চিকিৎসা তো নিশ্চয়ই আছে! - ডাক্তার বলেছেন, নেই।
তাই একটু সাবধানে থাকতে হবে। আরও খারাপ হতে পারে।
-আমার এখন যেতে হবে। -পরে দেখা হবে। বাই।
- বাই। - বাই।
হ্যাঁ, ও চলবে।
তুমি ইরিনা?
জি।
- সোজার্নার পারমিট? - দেওয়া আছে সব।
- ৩২... তুমি বিবাহিত? বাচ্চাকাচ্চা আছে? - বিবাহিত, তবে বাচ্চা নেই।
- তোমার স্বামী? - ইউক্রেনে কাজ করেন।
- রান্না করতে পারো? - হ্যাঁ।
যেমন, নাম বলো তো?
কাটলেট, পস্তো দিয়ে পাস্তা, স্প্যাগেট্টি...
...সবধরনের ফলের পাই। - কী আজব!
- পাই পছন্দ করেন না? - না, খুবই পছন্দ করি।
- বাচ্চাদের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আছে? - হ্যাঁ।
No comments yet. Be the first to leave one.