Les 200 premières lignes.
ভবিষ্যতে, অমরত্বের প্রতিযোগিতা চলে তিনটি রূপে:
সাইবর্গ - (প্রযুক্তি-মানব) সিন্থ - (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)
এবং হাইব্রিড - (কৃত্রিম দেহে মানুষের চেতনা)।
কোন প্রযুক্তি জিতবে, তার ওপরই নির্ভর করবে মহাবিশ্বের শাসক হবে কোন কোম্পানি।
"সাল: ২১২০"
"মিশনের মেয়াদ: ৬৫ বছর"
পৃথিবী থেকে দূরত্ব: "১২৯৫ মিলিয়ন কিলোমিটার"
এটা কী তুমি খাবে?
হ্যাঁ, খেতে চাচ্ছিলাম আরকি।
ক্রায়ো স্লিপের আগে ভারী খাবার খেতে নেই।
-অনেক ধন্যবাদ। -তোমার ডাক্তার হিসেবেই বলছি।
-কিন্তু তুমি তো ডাক্তার না। -হ্যাঁ, ঠিক বলেছো।
কি গো সুন্দরী, সব ঠিক আছে তো?
সত্যি বলতে, ক্রায়ো স্লিপ আমার কাছে খুব ভয়ের একটা বিষয়।
হুমম, কেন জানো?
কারণ ওই টেং, তার পিটপিটে চোখ নিয়ে,
ঘুমের মধ্যে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে।
আরে! মেয়েটার তো জানা দরকার।
- ও আর এমন করে না এখন। - অবশ্যই করে!
একদমই না।
মরো ওর সাথে কথা বলেছে।
মিস্টার টেং ঝামেলা করবে না, যদি না ৬৫ বছর বিনা বেতনে কাজ করতে চায়।
ওহ, টেং।
কিপটে।
টেং, আমরা তোমাকে ভালোবাসি।
ও ভালো মানুষ। ওর সাথে এমন করছ কেন?
-ঘুম কেমন হলো? -ভালো।
সরি, আবার বলো তো।
এটা আবার কোনটা?
এটা কোম্পানির নিয়ম।
-ওয়েল্যান্ড ইউটানির-- -মানে আমাদের?
হ্যাঁ, আমরা ওদের জন্যই কাজ করি।
-ও আচ্ছা। -ঠিক আছে?
আর ওরা উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করে।
-আর চাঁদও, তাই না? -না, ওটা ডাইনামিকের।
ইউটানির দখলে আছে মঙ্গল আর শনি।
হ্যাঁ, তবে আমরা পৃথিবীর কথা বলছি! যে কে কোন এলাকা শাসন করে।
এই ছেলেটা তো দেখছি কিছুই জানে না।
চারটা কোম্পানি আছে। ওরাই পুরো পৃথিবী শাসন করে।
নতুনটার কথা ভুলো না। প্রডিজি।
ওটা আবার কোনটা?
ওটা... সিন্থ আর এআই এর। বছর দশেক আগে কোনো এক বাচ্চা ছেলে শুরু করেছিল, তাই না?
হ্যাঁ। বয় ক্যাভালিয়ের।
- হ্যাঁ, ওই ছেলেই। - এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম বয়সী ট্রিলিওনিয়ার।
আচ্ছা। তাহলে মোট পাঁচটা কোম্পানি, তাই তো?
-আমি এখনো বুঝিনি। -আহারে বেচারা।
মিস্টার টেং।
ন্যাভ কম্পিউটার চেক করেছেন, মিস্টার টেং?
আপনি কী জানতে চাইছেন আমি আমার কাজ করেছি কিনা?
পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাতে আর কতক্ষণ লাগবে?
এক কোটি পাঁচ লক্ষ পঁচিশ হাজার সেকেন্ড।
অনেক... সময়।
মাসে বলো, টেং। আমাকে মাসের হিসাব দাও।
-চার মাস। -বজ্জাত একটা!
কয়েকদিন কম-বেশি হতে পারে।
সব ঠিক আছে তো, ক্যাপ্টেন?
হেই।
কমিউনিকেশন সিস্টেম বন্ধ। মনে হচ্ছে লগ ফাইলগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।
সম্ভবত কোনো ছোটোখাটো সমস্যা। আমি গিয়ে দেখে আসি!
না। সিকিউরিটি বিভাগ তদন্ত করবে।
তাছাড়া আমাদের জ্বালানিও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে।
আমি চাই তুমি আর টেং মিলে দেখো কোন সিস্টেমটা বন্ধ করা যায়।
আমরা নমুনাগুলোকে মহাকাশে ফেলে দিচ্ছি না কেন? ছোটোখাটো একটা চিড়িয়াখানা হয়ে গেছে একেবারে।
সম্ভবত উনি আসল সাজেশন চাইছেন।
এটা আসল সাজেশনই। ওই জিনিসগুলো দেখলেই আমার গা শিরশির করে।
- হ্যাঁ, আমারও। - নমুনাগুলোই আমাদের এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য।
তোমার জন্য এটা বলাটা খুব সহজ, সাইবর্গ।
এগুলো আনতে গিয়ে আমরা অনেক ভালো লোক হারিয়েছি।
আর সেটা কিসের জন্য?
যাতে কোম্পানি আমাদের সকালের নাস্তায় আবর্জনা মিশিয়ে আমাদের মন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?
-আচ্ছা, এটা সত্যি নয়। -না।
তোমার কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না।
নমুনাগুলোই আমাদের মিশন। ব্যস।
আমাকে কী বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে? নাকি তোমাকে তোমার ঘরে আটকে রাখব?
সালিভান, পেট্রোভিচ।
বুঝেছি।
যানটি নামার ঠিক আগ মুহূর্তে আমাকে জাগিয়ে দিও।
আচ্ছা।
পরে দেখা হবে।
ও কি মাইনফিল্ডের কথা বললো?
আমার তো আবারও ঘুমাতে যেতে ইচ্ছে করছে, বুঝলে!
ঘুম আসার জন্য একটা গল্প বলো তো!
: : : অনুবাদ ও সম্পাদনায় : : : . . . ওমর ফারুক . . .
এটা কী?
এটা একটা বিছে।
এটা কোথা থেকে এসেছে?
খাবার ঘরে ছিল।
এটা দিয়ে তুমি কী করবে?
তোমার কী মনে হয় এটা দিয়ে কী করা উচিত?
মেরে ফেলো এটাকে।
যাতে তোমাকে কামড়াতে না পারে।
আমি যখন এটাকে মারতে যাবো, তখন যদি আরেকটা বিছে তার বন্ধুকে বাঁচাতে এসে আমাকে কামড়ে দেয়?
ঠিক যেমনভাবে তুমি আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছো।
এটা দেখে আমার ভয় করছে।
একবার ভাবো তো বিছেটার কেমন লাগছে।
কাঁচের নিচে আটকা পড়ে,
দানবদের ভয়ে ভীত হয়ে আছে।
ঠিক আছে, সোনা।
সময় হয়ে গেছে।
এটা কী করতেই হবে?
হ্যাঁ।
যাও। ঘুম থেকে উঠে আমাকে এখানেই পাবে।
তুমি কী ওটাকে মেরে ফেলবে?
তুমি কী চাও আমি মেরে ফেলি?
না।
ব্যথা লাগবে?
না।
বলেছিলাম তো, এটা ঠিক... ঘুমিয়ে পড়ার মতো।
আমি কী স্বপ্ন দেখব?
জানি না। ঘুম থেকে উঠে তুমিই সেটা আমাকে বলবে।
আহ, এই তো এসে গেছে।
হাই।
এখানে কিছু একটা... বুপ।
আচ্ছা।
একটা লম্বা শ্বাস নাও।
এই তো, হয়েছে।
জানো, কাল রাতে আমি একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি।
আমাদের একটা বাচ্চা হয়েছে, আর সেটা ছিল একটা শূকরছানা।
ওহ, ওয়াও। ছোটবেলায় আমার একটা শূকরছানা ছিল।
খুব সুন্দর ছিল। তারপর ওটার ওজন ৩০০ পাউন্ড হয়ে গেলো।
হুম। তাহলে আমরা মানুষের বাচ্চাই চাই, তাই তো?
এ নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে।
এরাই আমাদের সন্তান।
এবার মনোযোগ দাও।
আমি দেখতে কী ওরকম হবো?
হ্যাঁ। ওটা তুমিই।
ও খুবই সুন্দর।
আচ্ছা। স্বাগতম।
হ্যালো।
কী খবর মেয়েটার?
ও প্রস্তুত।
তুমি কী জানো নিল আর্মস্ট্রং কে ছিলেন?
তিনি একজন নভোচারী ছিলেন।
শুধু নভোচারী নন।
তিনিই প্রথম মানুষ যিনি চাঁদে পা রেখেছিলেন।
তুমিও প্রথম হবে।
আমি চাঁদে যাচ্ছি?
না... বোকা মেয়ে।
তুমি হবে প্রথম ব্যক্তি যে মানবদেহ থেকে,
একটি কৃত্রিম দেহে স্থানান্তরিত হবে।
কারণ আমি স্পেশাল।
ঠিক তাই।
তুমি খুব, খুবই... স্পেশাল।
একটা ম্যাজিক দেখবে? হাহ?
মজার, তাই না?
আচ্ছা, এখন টেবিলের উপর ওঠো।
আমি আমার ভাইকে দেখতে চাই।
আমি তো বলেছি, তুমি ওর সাথে দেখা করতে পারবে...
যখন তুমি ঘুম থেকে উঠবে।
কিন্তু ও আমাকে দেখতে পাবে না।
না।
কারণ আমরা যা করছি, তা একটা সিক্রেট ব্যাপার।
হ্যাঁ।
এসো।
ঘুমানোর সময় হয়ে গেছে?
হ্যা, মার্সি।
ওয়েন্ডি।
কী বললে?
ওকে দেখতে ওয়েন্ডির মতো লাগছে।
ওয়েন্ডি।
ওয়েন্ডি!
আমরা তোমার জন্য প্রস্তুত!
চলো দৌড়াই।
ওয়েন্ডি, সোনা...
আজ তোমার কেমন লাগছে?
এগুলো অদ্ভুত।
তোমার স্তন?
এগুলো অদ্ভুত।
যখন দৌড়াই, তখন এগুলো নড়াচড়া করে।
আসলে, তুমি এখন একজন প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে।
কেন?
কারণ কৃত্রিম শরীর বড়ো হয় না।
তো?
তোমার ইমোশনের কী খবর? খুশি আছো? নাকি দুঃখী?
আমি জানি না। ওগুলো এখন শান্ত।
মানুষের শরীর হরমোন তৈরি করে,
ডোপামিন, সেরোটোনিন, ইস্ট্রোজেন, যেগুলো মেজাজ তৈরি করে।
তোমার শরীরে এখন আর সেগুলো নেই।
আমরা সেগুলো অনুকরণ করার চেষ্টা করেছি।
বয়ঃসন্ধিকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছি, যাতে তুমি তোমার প্রাপ্তবয়স্ক শরীরেই বেড়ে উঠতে পারো।
তো, ব্যাপারটা সুইচ অন-অফ করার মতো সহজ না। বুজলে?
সম্ভবত আমাদের তীব্রতা আরও বাড়াতে হবে!
এ নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। ও আর মানুষ নেই।
আমরা কেন ভান করছি যে ও মানুষ?
"সে" তো এখানেই বসে আছে,
আর এটাই সিইও-র দেওয়া প্রোটোকল।
শরীর আসলে মনের বাহন।
একটি মানব মন, যা অনন্ত জীবনের পথে চলেছে।
মানুষের অভিজ্ঞতাকে অনুকরণ করাটা অত্যন্ত জরুরি।
তাহলে, আমি কী?
যদি মানুষ না হই,
তাহলে আমি কী?
তুমি যা হতে চাও, তাই।
তোমার জন্য কিছু এনেছি, তোমার সংগ্রহের জন্য।
ওহ, আর একটা সুখবর আছে।
বাকি বাচ্চারাও এসে গেছে।
আমি আর একা নই?
সোনা, তুমি কখনোই একা নও। আমরা তো আছি।
তবে হ্যাঁ, এখন থেকে আরও অনেকে থাকবে।
আমার মতো?
No comments yet. Be the first to leave one.