पहली 200 पंक्तियाँ।
অনুবাদে ❝ শান্ত কুমার দাস ❞ ❝ ওমর ফারুক ❞
সম্পাদনায় ❝ শান্ত কুমার দাস ❞
⭐ ⭐ এটি আমার ❝২১৬তম❞ পূর্ণাঙ্গ বাংলা সাবটাইটেল ⭐ ⭐
সোনা খুঁজতে গেলে...
...সেই ভূমির আদিবাসীরা কারও প্রতি দয়া দেখাবে না।
ওখানে এক টুকরো সোনাও নেই।
ওখানে শুধু প্রাণহরণকারী পিশাচরাই আছে।
এমনকি সম্প্রতি, ৫ জন বেঘোরে মরেছে।
মিথ্যা আশায় প্রলুব্ধ হয়ে মানুষ সেখানে যায়।
তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই ওই ভূখণ্ডটি নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ওই মূর্খ ফ্র্যাঙ্ক কিছু ভিত্তিহীন লেখা লিখেছে।
পুরোটাই মিথ্যা।
দয়া করে এ নিয়ে আর বিরক্ত করবেন না।
মধ্যাহ্নভোজ চমৎকার ছিলো।
যাওয়ার আজ্ঞা দিন।
- হেই, ভরত! - সাবধানে!
চোখের মাথা খেয়েছিস?
বিয়ের খুশিতে কি এখনও মজে আছিস?
এখনো বিয়ের গন্ধ যায়নি।
বউয়ের সাথে কাজে কেন ফিরেছিস?
শুনতেই চায় না।
তুই বলতে পারিস। তোর তো সমস্যা নেই।
মোরগ ডাকলেও তুই শান্তিতে ঘুমাস,
...সূর্য্যি ওঠার পরে উঠিস,...
কাজে বের হওয়ার আগে রান্না ও খেতে সময় নিস।
ওই সিকি-একর জমি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি।
তোর অন্তত সিকি-একর জমি আছে। আমাদের তো তাও নেই।
তাপ বাড়ার আগে যদি ধান না লাগানো হয়,...
...অনেক ভোগান্তি হবে।
এই জমিদার আমার আনন্দে জল ঢেলে দেবে।
- চুপ! কী বলছিস? - সত্যিই বলছি।
- জমিদার আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। -দিদি, গেলাম!
ঠিক আছে যা, আরাসানি!
চুপ কর! সকাল সকাল শুরু করিস না।
গেলো কোথায় পোলাটা?
অশোক!
এই অশোক!
হ্যাঁ রে মা? আমি অশ্বত্থ গাছে।
এত সকালে কী এখানে?
সবাই সকাল সকাল কাজে যাচ্ছে,...
আর আমার পতিদেব পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে।
হেই!
ওঠ বলছি!
হেই!
ওঠ!
হুঁশে আয়!
ওভাবে চিল্লালি কেন? ছানারা তো ভয় পেয়েছে!
সবসময় এমন করিস। কিছু হয়নি, মা।
মা রে! তামাশা করছিলাম।
কতবার বলেছি ঘুমে বাগড়া দিবি না?
যদি তোর কিছু হয়...
ছানাপোনাদের কী বলবো?
তোর এত মাথাব্যাথা কনে? ওদের তো আমাকে লাগবে না।
শুধু এটুকুই অভাব, তুই দুধ খাওয়াতে পারিস না, নির্লজ্জ ব্যাটা।
ভাবছি তোর মাথায় কী চলছে।
দেখ ওরা হাসছে। ওঠ!
মায়েরা, চল।
- হেই, দাদা! -হ্যাঁ, দাদা?
জমিদারের বউয়ের পরনের সোনালী পাড়ের থান...
...দেখেছিস কখনো?
গুণবতীর জন্য অমন একটা থান লাগবে।
আচ্ছা! ওর জন্য একটা বুনবো।
যেন ওই সিকি একর জমি থেকে বড় দাও মারবি।
ছানাদের আদর্শ বাপ।
বউ কী চায় জানতে চেয়েছিস?
হেই মহিলা, তোর তো এই থাঙ্গালান আছে।
ফাঁকা বাহানা দিবি না।
শোন, ফসল তোলার মৌসুমে,...
...বড়লোকের বেটিদের মতো কাপড় পরতে চাই।
নইলে, তোর নাকখানায় চিমটি মারবো!
শোন! তোর মায়ের যৌবনে যাওয়ার শখ উঠেছে।
আমি এখনো যুবতী।
তোকে ফ্রি দিতে হবে না।
প্রত্যেকটা কাপড়ের জন্য একটা করে বাচ্চা দেবো।
এটাকে সওদা ভেবেছিস?
তুই আমার পাওনা মেটাতে পারবি না, দেনাদার!
তোকে শ'খানা থান কিনে দেবো।
আমাকে শ'খানা ছানা দিবি?
দেবো! আগে কিনে তো দে!
- কীভাবে? - ওভাবেই!
- ওহ গোবিন্দ! - ওহ, গোবিন্দ!
ওম নমোঃ নারায়ণ!
ওম নমোঃ নারায়ণ!
কী? হাত উঠা!
- কৃষ্ণায় নমোঃ! - কৃষ্ণায় নমোঃ!
- গোবিন্দায় নমোঃ! - গোবিন্দায় নমোঃ!
আসলে,....
তোর সব বাচ্চারা ভগবান পেরুমলের সন্তান।
ভগবান পেরুমলের সন্তান।
এখন থেকে গোমাংস খাবি না...
...আর নিচু জাতের লোকেদের থেকে দুরে থাকবি। বুঝেছিস?
আমরা ভিন্ন জাতের এবং আমাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
মৃত্যুর পরে, আমাদের আত্মা যেন বৈকুণ্ঠধামে পৌঁছায়।
বুঝেছিস? হেই, অশোক!
ওখান থেকে দেখে লাভ নেই কোনো।
এখানে এসে পৈতা নে। আমাদের সাথে যুক্ত হ্।
- অশোক! - তোর মা...
- আয়! - আসছি, পুরুতমশাই।
- অশোক! - পুরুতমশাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম।
- বামুন হওয়ার শখ জাগলো কখন? - হ্যাঁ, ঠিক।
গেঙ্গু এই গায়ের সবাইকে পৈতা পরাতে চায়।
বলেছি না ওর কাছে যাবি না। শুনবি না কথা?
দেবী মা!
বাবা, জমিদারের এতো বিশাল জমি,...
কিন্তু আমাদের কেন এতটুকু জমি?
এই জমিগুলো ওর বাপ-দাদার সম্পত্তি।
জানিস না?
মানছিস না কেন? দেখ, এই পুরো জমি আমাদের।
উচু জাঁতের জমিদারদের...
...গোরা সাহেবরা কর আদায় লাগিয়ে দিয়েছে।
তারা আমাদের ঠকিয়ে সব সম্পদ কেড়ে নিয়েছে।
জমির মালিকানা শুধুমাত্র তাদেরই,
...যারা নিজের ঘাম দিয়ে তাকে উর্বর করে।
- এসে খেয়ে যা! - আমি ঠিক আছি। তোরা খা।
গঙ্গাম্মা, ঘুমিয়েছিস?
না।
বাপ!
- তোরা ঘুমাসনি, ছানারা? - ঘুম আসেনি, মা।
ঘুমাবি কখন তোরা, হুতুম পেঁচার দল?
যদি গপ্পো বলিস, আমরা ঘুমাবো।
দুম করে একটা কষে লাগালেই ঘুম চলে আসবে।
মা, তোর গপ্পো শুনবো না। বাপ, তুই বল।
- কী গপ্পো? - ভূতে গপ্পো শোনা।
বাপ, আরতির গপ্পো বল।
বাপ, তোর সোনার খোঁজে ধোঁকায় পড়ার সেই গপ্পো শুনতে চাই।
- বল, বাপ! - না, না!
সেই গপ্পোটা শুনলে তোদের গা ছমছম করবে।
করবে না, বাপ! বল বাপ!
- তোর ছানারা সব রাক্ষস। - বল বাপ।
- বাপ, বাপ.... - আচ্ছা, বলছি।
গপ্পো শোনাবো, কিন্তু মাথা নাড়তে হবে, ঠিক আছে?
এক সময়ে,....
দুরে ওই বিশাল পাহাড়ের সারি দেখছিস?
ওই চূড়া, বন আর নদীর ওপারে ছিলো ...
...এক পাহাড়, যার নাম ছিলো আনামালাই।
হাতি?
হাতি না। হাতির মতো দেখতে পাহাড়।
পাহাড়ের চারপাশে ...
...প্রতিধ্বনিত হতো হাতি, বাঘ ও জংলি শূয়োরের ডাক।
নানান জন্তুর আস্তানা ছিলো ওই জঙ্গল।
পোন্নার নামে একটা বিশাল নদী পাশ দিয়ে বইতো।
যখন ভিনদেশী শত্রুকে পরাস্ত করে ...
রাজামশাই তাঁর বাহিনী নিয়ে নদী পার হচ্ছিলেন...
কারা তারা?
ওই পোন্নার নদীতে,
আমাদের বড়দাদু...
...কাদাইয়ান সোনা খুঁজছিলো।
এরা সোনা সংগ্রহের দল।
ওহ!
সবাই, বসে থাক!
সেঙ্গুলান তোদের আটক করার আদেশ দিয়েছে!
সেঙ্গুলান?
খাঁটি স্বর্ণ। আমার চাই। আরো! আরো সোনা চাই!
সেঙ্গুলান!
শুধু যাদের প্রয়োজন, তারাই এটা পাবে।
অন্যরা খুঁজলে, কিছুই মিলবে না।
নদীতে নেমে যাও!
সেঙ্গুলান! সোনা জলেতে প্রবাহিত হয়...
ছোট মাছের মতো। আমাদের হাত ফসকে বেরিয়ে যায়।
মাটিতে থাকা সোনা?
ধরিত্রী মাতা মানুষকে শুধু নদীতে থাকা সোনা উপহার দিয়েছে।
ভূমিতে থাকা সোনা আমাদের জন্য নয়!
ওই দীপ্যমান প্রস্তরটা আমার চাই।
চকচক করিলেই সোনা হয় না, সেঙ্গুলান!
হয় বিনাশ!
যাও!
সর্প!
সর্পের বিষে তোর কোনো ক্ষতি হলো না?
না, সেঙ্গুলান।
এ মায়াবী সাপ।
আমার ক্ষতি করবে না।
ক্ষতি করবে না।
সাপের দল সোনা পাহারা দেয়।
ওরা সোনার ঝলকানি দেখিয়ে ফাঁদে ফেলবে,
...এবং যারা এটা নিতে যাবে, তাদের আক্রমণ করে মারবে।
এই মায়ায় পারদর্শী জাদুকরটা কেন?!
জাদুকর না, সেঙ্গুলান।
ডাইনী।
আরতি!
ও এই বনের সর্দারনী, নাগর গোষ্ঠীর সদস্য।
ও এখানে সব সোনার রক্ষাকর্ত্রী!
এই ভূমির রানী।
প্রত্যেক জমি সেঙ্গুলানের।
তা কি জানিস না?
এটা তোমাদের ভূমি নয়!
এই ভূমিতে তার মায়াজাল বিস্তার করা।
কিছু করতে পারবে না।
গাঁয়ে চলো।
সাপগুলো আমাদের আর ক্ষতি করতে পারবে না।
সামনে বাড়ো!
পিছিয়ে যাও! পিছিয়ে যাও!
পালাও! পালাও!
সতর্ক থাকো!
ওই ডাইনীকে কি কেউ আটকাতে পারবে না?
কেন থাকবে না?
আমি আটকাতে পারবো।
তাহলে আটকা। যা!
কী পাবো আমি?
হেই, এ কেমন মুর্খামি?
No comments yet. Be the first to leave one.