200 baris pertama.
থেমেছে মনে হয়, তাই না?
তুই যাবি?
যাবি একবার?
স্যার, ওরা ঝামেলা বাধিয়ে করেছে।
কেন? কী হয়েছে?
ওই যে, স্যার...
আসলে লোকটা যে এখনও সেলে ফেরেনি।
আরে, কী হয়েছে বলবেন তো।
ওরা ভাবছে, আমরা বোধহয় লোকটা কে কিছু করেছি।
তাই সবাই খেপে গেছে।
এক কাজ করো। ওকে সেলে নিয়ে--
তোমরা সবাই এখানে? তাহলে ওখানে কে আছে?
যাও!
চল।
-ওর বিষয়টা সকলে জানে? -হুম।
-আপনি আবার কোথায় যাচ্ছেন? -মাহা, দাঁড়ান না।
আপনি চলে যাচ্ছেন কেন? কথা তো শেষ হয়নি।
-লোকটা কে? -কে মানে?
কী হয়েছে? আপনার সঙ্গে কিছু করেছে?
লোকটা এত কিছু জানে কীভাবে?
মানে? কী জানে?
-সব জানে। -সব মানে?
আপনাকে কী বলেছে?
-মাহা-- -আরে, ও কী বলেছে?
উফ!
কিছু বুঝছিস, মোস্তাক?
আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।
খালি মনে হচ্ছে
ভারতবর্ষের ইতিহাসের ট্যুর দিলাম।
উনি এভাবে চলে গেলেন কেন?
লোকটা ওনাকে কী বলেছে?
বলেছে, ও সব জানে।
"সব" মানেটা কী?
সেটা জানলে কি এখানে বসে থাকতাম?
"কেউ মরতে আসে।
কেউ মারতে আসে।"
এর মানে কী?
-পান্না। -এই, আমি নেই।
হ্যাঁ, বলো।
না, না।
না, লোকটা বেটিং বা ফিক্সিংয়ের কেউ নয়।
আরে, ওসব আধ্যাত্মিক ক্ষমতা-টমতা সব বাজে কথা।
শোনো।
আমি বাড়ি ফিরে সবটা বুঝিয়ে বলছি।
হ্যাঁ, আমি দেখা করে আসব।
চিন্তা কোরোনা।
রাখলাম।
সজীবের ভিসা হতে আর কতদিন?
সময় লাগবে।
কাগজপত্র তো পাঠিয়েছি।
এবার বিশ্ববিদ্যালয় কাগজপত্র দেবে।
তারপর দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
তখন কোন এক কয়েদীর কথা বলল না ও?
-কয়েদী নম্বর ৩০২। -একবার আনতে পারবি ওকে?
-কেন? -একটা ঘাপলা আছে।
নিশ্চয়ই ঘাপলা আছে।
এত কয়েদী থাকতে ওই লোকটার কথাই কেন বলল?
একটু আনা না। বাজিয়ে দেখি।
এই!
এই!
ওঠ!
-তোকে ডাকছে। -কে?
জেলার সাহেব।
তোর জেলার সাহেব কে বলে দিস।
গাজী বাবার কিছু হলে...
তোদের জেলের সর্বনাশ করে দেব।
অনেকদিন পর বাবা ফিরে এসছে।
তাঁকে শান্তিতে থাকতে দে।
এই! চল।
চল!
নাম কী?
ওমর শরীফ।
-কেস কী? -খুন।
কাকে খুন করেছ?
আমি করিনি।
একটাও বাড়তি কথা নয়।
শুধু আমার প্রশ্নের উত্তর দেবে।
কাকে খুন করেছ?
আল আমীন শিকদার।
বেশ দাগী আসামী দেখছি।
-কদিনের সাজা? -জানি না।
এখনও রায় ঘোষণা হয়নি।
রায় হয়নি?
বুঝেছি।
এখনও ঝুলে আছে।
খুন করেছিলে কেন?
বারবার এক কথা জিগ্যেস করছেন কেন?
বললাম তো, আমি খুন করিনি।
রাত কটা বাজে এখন?
জেলখানা কি জিজ্ঞাসাবাদ করার জায়গা?
কিছু না করলে পুলিশ ধরল কেন?
কারণ খুনের জায়গায় উপস্থিত ছিলাম।
গত তিন বছর ধরে আমি শিকদার স্যারের সহকারি ছিলাম।
সে রাতে একসঙ্গে এক জায়গায় যাচ্ছিলাম।
আমি সাধারণত গাড়িতে ঘুমোই না।
কিন্তু সেদিন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
ঘুম ভেঙে দেখলাম গাড়িটা রাস্তার পাশে দাঁড় করানো।
চালক নেই।
নির্জন রাস্তা।
আশেপাশে কেউ নেই।
আর স্যার মরে পড়ে আছেন।
তার মানে চালকই খুন করেছে বলছ?
এখন বুঝেছি।
খুন করবে বলেই ও হাসপাতালে চালকের চাকরি নিয়েছিল।
আমরা জানতাম, লোকটার নাম রাজু আহমেদ।
কিন্তু সেটা ওর আসল নাম না।
ডিবি পুলিশ তদন্ত করে জেনেছে
ওর নাম রাজু নয়, রাজ্যেশ্বর পল।
তাছাড়া...
সিভিতেও সব ভুয়ো তথ্য দিয়েছিল।
খুন করে ও পালিয়ে গেল।
এটা একটা হাই-প্রোফাইল কেস তাই আমি ফেঁসে গেলাম।
খুনি কে না পেয়ে পুলিশ আমাকে...
যাই হোক।
আপনাদের হঠাৎ মাঝরাতে আমার গল্প শোনার ইচ্ছে হল কেন?
বেশ। তুমি এখন যেতে পারো।
-এই, ওকে নিয়ে যাও! -হুম।
রাজ্যেশ্বর পল।
লোকটা জেলে বসে
ওমারের গল্প জানল কীভাবে?
হুম?
কী একটা বলছিল না?
একজন কারাগারে, আর অন্যজন?
-পাগলাগারদে। -পাগলাগারদ।
-ওকে ডাকুন। -কাকে?
আবার ডাক তিনশো দুই কে।
কেন? কী হল?
বাবা নাকি চোখ দেখে সব বলতে পারে।
-ওর সঙ্গে আমি কথা বলব। -আরে, কীভাবে বলবি?
ওকে ডাক না এখানে।
-আরে-- -এই, ৩০২!
হুঁঃ।
অবস্থা দেখেছিস?
ধূপকাঠি দিয়ে গেছে।
হুঁঃ।
এই!
এই!
এই!
এই যে। এদিকে আসুন।
হুম...
ওকে আনুন তো-- এই, এদিকে আয়।
আয়। দাঁড়া এখানে!
দাঁড়া!
এ হল প্রথমজন।
অন্যজন খুন করেছে।
যে খুন করেছে সে এখন কোথায় আছে?
-এহসান। -হ্যাঁ?
হচ্ছে?
আমার তো বাঁধ ভেঙে গেছে।
এই নিয়ে পাঁচবার হল।
হ্যাঁ।
তোমার থামে না আর আমার আসেই না।
-ডাক্তার দেখিয়েছ? -দেখাব।
ভয়ে তো বেরোতেই পারছি না। বেরোলেই যদি...
কোন ডাক্তার দেখাবে?
-আবু হাসনাত। -আবু হাসনাত।
-উনি ইবন বতুতা হাসপাতালে বসেন না? -হ্যাঁ।
ওই হাসপাতালের চেয়ারম্যান আল আমীন শিকদার না?
হ্যাঁ। ওইযে ওনাকে...
-মেরে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছিল। -হুম।
-কেসটা কে দেখছে? -কে আর দেখবে?
-সব ভিআইপি কেসই তো আমার ঘাড়ে। -হুম।
তা, কতদূর এগলো?
কেসের তো সুরাহা হয়ে গেছে। আসামী হাজতে।
কিন্তু আসামী তো দুইজন।
ধরেছ তো একজন কে। আরেকজন কই?
আপনি জানলেন কীভাবে?
-কাগজ পড়ে। -হতেই পারে না।
এই খবর তো কাগজে বেরোয়নি।
সত্যি বলুন। কী করে জানলেন?
এহসান।
আমি জানি তুমি বুদ্ধিমান।
কিন্তু অভিজ্ঞতাটা কার বেশি?
এতদিন তো ঘোড়ার ঘাস কেটে এখানে আসিনি।
বেশ। তার মানে...
কেসটা এখনও ঝুলে রয়েছে।
একটা কেস নিয়ে বসে থাকলে কি সংসার চলবে?
একটাকে ধরে চার্জশিট দিয়ে দিয়েছি। এখন সব ঠাণ্ডা।
হুম।
শা* যে কোন গর্তে গিয়ে ঢুকেছে।
ওকে ওর মায়ের পেট ছাড়া সব জায়গায় খুঁজেছি।
কিন্তু কোথাও পাইনি।
তুমি তো জবাব নেই, এহসান!
আমি তো দুটো কেস নিয়ে পড়েই আছি।
কূল কিনারা আর পাচ্ছি না।
চারিদিকে কেমন প্রমোশনের গন্ধ পাচ্ছি।
তাই নাকি? বাঃ!
-দোয়া করবেন। -আরে!
-আজ চলি। -হ্যাঁ।
এদিকে দে!
এই, বোকাচো*রা!
ঘোষণা আছে।
-এদিকে এসো! -এই, খেলা বন্ধ! সামনে এসো!
সবাই এসো!
উপস্থিত আসামী ভাইয়েরা।
আপনি।
আপনি।
আমি।
আমরা সবাই খারাপ।
তাই আমাদের এখানে আটকে রেখেছে।
No comments yet. Be the first to leave one.