Le prime 200 righe.
ব্রেস্ট দুর্গ নির্মিত হয়েছিল ১৯ দশকের মধ্যবর্তী সময়ে,
রুশ সম্রাজ্যের পশ্চিমা সীমান্তে।
শক্তিশালী নির্মাণে দুর্গের সিস্টেম-প্রণালি দুর্ভেদ্য করে তুলেছে।
আধুনিক অস্ত্রের কমতিতে দুর্গের প্রতিরক্ষামূলক গুণ হ্রাস পেলেও...
যারা রক্ষা করে আসছে তারা এখনো দৃঢ় প্রতিশ্রুতিশীল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশ বছর পর সার্জি মির্নব একটা বই লিখেন
যার মধ্যে দুর্গের রক্ষাকর্মীদের সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে।
১৯৬৫ সালে মে'র ১৪ তারিখ ব্রেস্ট দুর্গের রক্ষাকারীরা বীর উপাধিতে সম্মানিত হয়।
দুর্গের বীরপুরুষদের স্বরণে,
মাতৃভূমি রক্ষাকারীদের স্বরণে।
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
THE BREST FORTRESS
একুশে জুন ১৯৪১, ব্রেস্ট সিটি পার্ক।
আমরা আইসক্রিম খাবো।
মুভি কেমন লাগলো বলো।
চল আইসক্রিম খেয়ে আসি!
আমার সব মনে আছে।
প্রতি শনিবারের মতো সিটি পার্কে সবাই নাচেগানে মত্ত ছিল।
এটা আমি।
আকিমভ আলেক্সান্ডার।
৩৩৩তম রেজিমেন্টের মিউজিকাল প্লাটুনের লালিত একজন ছাত্র।
আমার বাবা মা ১৯৩৭ সালে স্পেনে খুন হয়।
পরিবার বলতে শুধু ভাই আছে।
আর এ হচ্ছে আনয়া।
কেবল আনয়া।
কিন্তু সে আমার জন্য "কেবল" আনয়ার চাইতে বেশিকিছু ছিল।
দাঁড়াও, এক্ষুণি আসছি।
সাশা, তুমি ইউনিটের সাথে নেই কেন?
মস্কা সাহায্য করতে বলেছে।
ওদের সব সংগীতশিল্পীরা চলে গেছে। গত বুধবারে ভেঁপুবাদক গেছে।
- মিউজিকাল প্লাটুনের লালিত আকিমভ! - জি, স্যার।
তোমাকে অবিলম্বে দুর্গে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি!
চিল্লাচিল্লি করছেন কী জন্য? আপনি আমার বাবাও না সেনাপতিও না!
জনসাধারণের মাঝে চিল্লান কেন?
স্টারশিনা কভালেংকুকে বলবে তোমাকে শাস্তি দিতে।
আমি এসে চেক করবো।
আর অত বেসুরা বাজাবে না।
উল্টো ঘুরো!
আগে বাড়ো!
সে নাকি আবার আমার ভাই।
মিলিটারি অফিসারের পরিবার, দয়াকরে একত্রিত হোন!
- আনয়া, এখানে এসো। - এসে গেছি।
নড়বে না!
তোমাদের থেকে সেনাদল সামলানো আরো সহজ।
এটা আমার বাড়ি।
আমার দুর্গ।
জায়গাটা বেশ বড়।
সবখানে বিচরণ করা অনেক কঠিন।
কিন্তু আমি এখানের এমন কিছু জায়গা চিনি যেখানে লুকিয়ে পড়লে,
কেউ আমায় খুঁজে পাবে না।
ধন্যবাদ।
ব্রেস্ট সিটি, রেলওয়ে ষ্টেশন।
আজকে কোনো টিকিট নেই!
সবার জ্ঞাতার্থে বলছি, আজকে কোনো টিকিট নেই!
আজকে কোনো টিকিট নেই।
সেনাদের জন্যেও সংরক্ষণে নেই, একটাও নেই।
আমার হাতে তিনদিন সময় আছে সেখানে গিয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত।
যারা আপনাকে টিকিট দিতে বলছে তাদের কাছে খুঁজুন গিয়ে।
আমাদের কাছে একটাও নেই।
এখানে আমি কিছু করতে পারবো না।
শুনুন, আমার স্ত্রী আর বাচ্চা ডগাবপিলে আছে।
ওদেরকে আমার কর্মস্থানে নিয়ে আসতে হবে।
২০শে জুলাই, এটাই আমি করতে পারবো।
রেজার্ভেশন ভঙ্গ করুন।
কমরেড কমিসার, আমি আপনাকে সেটাই বলছি যেটা আত্মীয়স্বজনকেও বলতাম।
রেজার্ভেশন ধরা আমার জন্য নিষিদ্ধ।
এটা শুধু নির্দিষ্ট আদেশ সাপেক্ষে হবে।
তারমানে না?
এটা হয়তো ভালোর জন্য, ওদেরকে এখানে কেন আনবেন যেখানে সবাই চলে যাচ্ছে?
ঠিক কী বুঝাতে চাচ্ছেন?
বেশ গরম, মরুভূমিতে আছি মনে হচ্ছে।
কি দিন রে বাবা!
হ্যালো, কমরেড কমিসার।
হাই, নিকোলা।
- সিনেমা আনছো? - হ্যাঁ।
জোরে, জোরে, আরো জোরে!
তুগুশেভ।
কলয়া দ্রুত, কিন্তু তুগুশেভ দূরান্ত।
প্রিয়তমা, আমি আজও আসতে পারবো না। দুর্গতে সব শান্ত আছে, যুদ্ধের কোনো আবহ নেই।
ভাগ্যের চাকা ঘুরছে না। চল আবার খেলি।
আপনি যাননি, কমরেড কমিসার?
তোমাদের ছেড়ে কীভাবে যাই?
সিনেমা এনেছ?
হ্যাঁ, এনেছি।
- ...আর কয়েকটা বিয়ার। - বিয়ার ছাড়া চলবে না?
আগামীকাল রবিবার।
রবিবারে মানুষ বিশ্রাম নেয়।
তাই আমিও বিশ্রাম নিব।
তিনটা বিয়ার।
আর বাচ্চাদের জন্য পানি।
বাচ্চাদের কথা দেখি মনে আছে!
আমরা কিছুই ভুলি না, ভুলি কি?
চলো।
ওটা এনেছ?
হ্যাঁ, এনেছি।
সম্ভবত আবারও ভালোবাসা সম্পর্কিত?
ভালোবাসা সম্পর্কিত।
আমি ঝামেলায় পড়েছি, কমরেড স্টারশিনা।
আমার মনেহয় শাস্তি দিতে হবে? কোথায় দেখেছে তোমাকে?
আমি বেসুরো বাজাচ্ছিলাম, আর আমার ভাই শুনে ফেলে।
- কী বাজাচ্ছিলে? - "অন দ্য হিল।"
সকালের আগে সেটা শিখে নিবে।
আগামীকাল বাজাবে।
মিউজিক বন্ধ করো!
হ্রুশ, কী করছো তুমি?
কমরেড লেফটেনেন্ট, এটা এক ধরণের সোয়ান লেক।
জার্মানির সাথে যুদ্ধ কখন শুরু হবে বলে মনে করেন?
মিত্রের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারের আতঙ্কটা তদন্ত করতে আমাকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
আমার বিশ্বাস আপনি একজন কমিউনিস্ট এবং সত্যবাদী।
তাহলে এরকমটা হলো কেন? পায়েত মিহালবিক!
যে আপনাকে আতঙ্ক রটানোকারী বলা হচ্ছে?
যারা বলেছে তাদের জিজ্ঞেস করো।
আমাকে সাহায্য করুন, পায়েত মিহালবিক।
আমি তেমন উচ্চপদের না।
কিন্তু আমার সামনে অনেক দায়িত্ব পড়ে আছে।
আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি আপনি নির্দোষ।
আতঙ্কটা কে ছড়াচ্ছে?
আপনাকে এখানে আসতে বলেছি যেন আমরা অসংকোচে কথা বলতে পারি।
- কে ছড়াচ্ছে, কমরেড মেজর? - আমি।
আমি কোনো চিন্তা ব্যতিরেকে ইতোমধ্যে অনেকবার বলেছি যে জার্মানরা শীঘ্রই হামলা করবে।
এটার ব্যাপারে তো আর কারো কাছ থেকে কিছু শুনিনি।
ভয়ের কিছু নেই।
আরামসে ঘুমাও।
দেখো লেফটেনেন্ট, ওরা যদি হামলা করে তাহলে আমাদের অবস্থা হবে বয়লারের মধ্যে আটকে পড়ার মতো।
দুর্গে আট হাজার সৈনিক আছে।
এত মানুষ একসাথে উত্তরের গেইট দিয়ে বের হওয়ার সময় পাবে না।
সবার মা, বাচ্চা, স্ত্রী সহ...
সাথে সব জিনিসপাতি নিয়ে।
বেশ সংখ্যক সৈনিককে দুর্গের বাহিরে পাঠানো উচিত
যেখানে মেইন আর্মি ইউনিট অবস্থান করেছে।
এটাই আমি বিগত দুই বছর ধরে বলে আসছি!
এবং বলেই যাবো!
আর ফোর্থ আর্মিদের ব্যাপারে কী?
ওরা আমাদের এখানে ছেড়ে যাবে না? ঠিক?
না যাবে না, যদি যার যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকে!
এখানে সৈনিকরা এক জায়গায়, কমান্ডাররা অন্য জায়গায়।
যেখানে কমান্ডার ছাড়া সৈনিকরা থাকে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এটাতো জানা বিষয়, কমরেড লেফটেন্যান্ট।
আপনার কথা বুঝেছি।
এবং আমাদের আলোচনাটা খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে দেখছি।
তবে দয়াকরে এটা গোপন রাখবেন।
আপনার কেসের শুনানি ২৭ তারিখ হবে।
আমাকে যেতে দাও, কমরেড লেফটেন্যান্ট।
- ক্লাবে একটা সিনেমা শুরু হচ্ছে। - হ্যাঁ, অবশ্যই।
- জলদি করো। - আমরা ঠিক সময়েই যাবো।
সনয়া।
আমাকে ছেড়ে যাবে না তো?
ওরা কীভাবে বাস করে দেখো।
ধন্যবাদ, কমরেড মেজর।
পাতে।
চা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।
শুতে যাও, কাতে।
আমাদের ইউনিফর্ম পরে এভাবে জার্মান জালেমরা দুর্গে আবির্ভূত হয়েছিল।
বিদ্যুৎ তার কাটা এবং পানি সংকট ওরাই তৈরি করেছিল
কী হলো?
আজ খুঁটি থেকে আরেকজন স্বদলদ্রোহী আমাদের ঘাঁটিতে এসেছিল।
সে বলেছে আজ ৪টা থেকে যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে।
- সেটা তুমি বিশ্বাস করো? - অবশ্যই না।
এই সপ্তাহ জুড়েই ওদের ১০ জনকে ধরেছি
এবং সবাই বলে যাচ্ছে যে আজ বা কাল থেকে যুদ্ধ শুরু হবে।
আসলে আমার আনয়ার জন্য খারাপ লাগছে।
আমাদের মেয়ে বড় হয়ে গেছে, ছোট থাকতে সে আমাকে সব বলতো।
কিন্তু এখন আমি তাকে যা জিজ্ঞেস করি শুধু ইশারাতে বুঝ দিয়ে দেয়।
হয়তো সে অসুস্থ?
হ্যাঁ, আর রোগটা হচ্ছে সাশা আকিমভ।
আমাদের আনয়া প্রেমে পড়েছে।
এটাই হচ্ছে, বাবা।
মাছ ধরতে যাবো বলেছিলে মনে আছে?
না, তোমার বাবা-মা তোমাকে যেতে দিবে না।
সবাই যখন ঘুমোবে আমি চুপিচুপি চলে আসবো।
ঠিকাছে আনয়া, তুমি কিছুক্ষণ বাজাও। আমি একটা বিড়ি খাই।
চলো বিয়ে করে ফেলি!
আমি রাজি হয়ে গেলে করবে?
আমাকে বিশ্বাস করো না?
এখনি আসছি।
এখনি আসছি।
হ্যালো।
- ডাকনাম? - কলয়া।
আমিই সিনেমাটা এনেছি।
২২জুন ১৯৪১ ০৩ঃ৫৮
প্রশিক্ষণ চলছে?
আমরা একটু ঘুমোতেও পারবো না।
দেখে আসি কী চলছে।
শুয়ে পড়ো!
কী হচ্ছে?
প্রশিক্ষণ চলছে।
ভাগো!
- কোথায়? - বাসায়। আমি তোমাকে খুঁজে নিবো।
আর তুমি?
- আনয়া কোথায়? - চিন্তা কোরো না, আমরা তাকে খুঁজে নিবো।
আনয়া কোথায়?
পেতা, এটা যুদ্ধ নাকি?
- কেতা! এসো! - সবকিছু নিয়েছ তো?
শক্ত করে ধরো।
চলো!
কেতা, আমি যেভাবে বলেছিলাম সব সেভাবে করবে।
বেইজমেন্টে গিয়ে লুকিয়ে পড়ো।
- পেতা! - শান্ত থাকো।
এসো, সনি।
- তোমার টুপি। - পরিস্থিতি শান্ত হলে তোমাদের নিতে আসবো।
No comments yet. Be the first to leave one.