最初の200行です。
• • • অনুবাদে • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম রাজু তালুকদার রফিকুল রনি
• • • সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
দেখো ভালো করে!
এমন মুজিজাই (অলৌকিক ঘটনা) কি তোমরা চেয়েছিলে?
প্রতিরোধ করা অর্থহীন ছিল।
এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ আমি ঠিক ছিলাম।
না!
খেল এখনও খতম হয়নি!
শেষে জয় আমাদেরই হবে!
ও কি জানে না কখন হার মেনে নিতে হয়?
ঠিক আছে।
আমি ওকে শিখাবো...
আত্মসমর্পণের অর্থটা।
ওকে দিয়ে শুরু করো।
এক এক করে, সবাইকে চ্যাপ্টা করে দাও।
আমার মনে আস্থা আছে।
যদি আমরা আল্লাহ পাকের উপর বিশ্বাস রাখি আর শেষ অবধি সংগ্রাম করে যাই...
তবে আল্লাহ পাক অবশ্যই কোনো মুজিজা দেখাবেন।
এজন্য আমি কখনোই হাল ছাড়ব না।
যতক্ষণ না আমার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে,
আমি আমার পরিবার ও আল্লাহ পাকের ঘর, পবিত্র মক্কার রক্ষা করব।
আমার নাম আউস।
আমি জুবাইরের ছেলে।
THE JOURNEY
১২ ঘন্টা আগে,
আব্রাহামের আসন্ন সেনা থেকে মক্কাকে রক্ষার জন্য আমাদের স্বেচ্ছাসৈনিকেরা
অন্তিম প্রতিরক্ষা অবস্থানে একত্রিত হয়েছিলো।
আব্রাহার সেনাবাহিনী
আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ থেকে এগোচ্ছিল।
উত্তরে তাদের পথে আসা বড় শহরগুলোয় তারা আক্রমণ করে।
তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল
মক্কায় আক্রমণ করা, যা ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু।
বল প্রয়োগ করে, আব্রাহা মক্কাকে আত্মসমর্পণ করতে বলে।
আব্রাহার সেনাশক্তি ছিল অবদমনীয়।
কোনো লড়াই ছাড়া শহরকে রক্ষা করতে,
মক্কাবাসীরা আল হাদা পর্বতে আশ্রয় নেয়।
কিন্তু আব্রাহার চাওয়া মক্কাবাসীর সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যায়।
সে ছিল অনেক নিষ্ঠুর।
মক্কার আত্মসমর্পণই তার একমাত্র চাওয়া ছিল না।
সে কাবা শরিফ এবং তাতে সন্নিবেশিত
পবিত্র পাথরকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।
পাশাপাশি সে দাবি জানায় যেন মক্কাবাসীরা ঈমান ভেঙে
তার সেনাবাহিনীর ক্রীতদাস হয়।
তার এই জঘন্য দাবী শুনে মক্কাবাসী রাগে গরগর করতে থাকে,
লড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনো, সাহসী স্বেচ্ছাসৈনিকেরা।
এই মূহুর্তে আব্রাহার সেনা মক্কার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আমরা এখানে একত্র হয়েছি আমাদের ঘরকে আক্রমণ ও ধ্বংস হওয়া থেকে রুখতে।
আমরা এই উপত্যকা থেকে এক ধাপও পিছনে সরব না।
আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আব্রাহার সেনাকে এই শহরে ঢুকতে না দেওয়া।
যার মানে মক্কা এবং এর প্রতীক, কাবা...
ওহ... মাফ করবেন।
সত্যিই পারো...
আবার ফেলেছ।
মাফ করবেন। আমি একটু ভয়ে ছিলাম।
এই নাও।
ধন্যবাদ, আউস।
এতগুলো হাতিয়ার সাথে নিয়ে কী করছ?
সেনাপতি মুসাব মক্কার স্বেচ্ছাসৈনিকদের দায়িত্বে আছেন।
ওনার যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ওনার জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা সৈনিকদের মনোবল বাড়িয়ে তুলে।
বললেন চটপটে হতে হবে, কিন্তু আমার অবস্থাটা একবার দেখুন…
ওহ, তুমি পারোও বটে।
আর এই নাদুসনুদুস, মিষ্টি লোকটা হচ্ছে হিশাম।
যেকোনো সময় শত্রু এসে পড়তে পারে এমন মূহুর্তেও,
ওর কথার জাদু পরিবেশটা হালকা করে দেয়।
মাফ করবেন। আর হবে না!
দুঃখিত, মুসাব। আমি ভারটা ভাগ করে দিব।
হিশামই আমাকে বলেছিল যে মুসাব সৈনিক নিচ্ছেন।
সবাই শুনো!
লড়তে চাইলে, হাতিয়ারগুলো হাতে তুলে নাও। ওগুলো তোমাদের!
দেখলে? আমি বলেছিলাম।
হ্যাঁ।
তো সত্যিই যুদ্ধ লাগছে।
আমাদের শত্রু, আব্রাহা ঘোষণা দিয়েছে, সে পবিত্র কাবাকে ধ্বংস করবে।
আমরা সেটা হতে দিব না।
মুসাব, অনেক হয়েছে।
তোমাকে লড়তে মানা করেছিলাম।
মাফ করবেন, সর্দার মোতালেব, কিন্তু...
আমি সেনানায়ক আব্রাহার সাথে দেখা করেছি আর তার দৃঢ় সংকল্পের ব্যাপারেও নিশ্চিত হয়েছি।
হয়তো সে তার পুরো সেনা ব্যবহার করবে...
সর্দার আব্দুল মোতালেব মক্কার সবচেয়ে সম্মানিত নেতাদের একদম।
মক্কা জয় করতে আব্রাহা অনেক গোয়েন্দা পাঠিয়েছিল।
কিন্তু প্রতিবারই, সর্দার তাদের প্রতিহত করেন।
আমরা কখনোই পারব না...
আব্রাহার সেনাবাহিনী আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক শক্তিশালী।
এখন, আমাদের কাছে মাত্র দুইটা পথ খুলা আছে।
হয় দ্রুত মক্কা ছেড়ে দিতে হবে নাহলে আব্রাহার ক্রীতদাস হতে হবে।
ক্রীতদাস?
আমরা এর কোনটাই বেছে নিতে পারব না।
মক্কাবাসীর রক্ষার্থে, আমার সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই শহর ছেড়ে দেওয়া।
আমি মিনতি করছি! এই বিধ্বংসী সেনাবাহিনী আসার আগেই সবাই আমার সাথে মক্কা ছেড়ে চলো।
পালানো মানে হেরে যাওয়া না। এটা বাঁচার একটা পন্থা...
উনি ঠিক বলেছেন। আমরা টিকে থাকলেই আমাদের ইতিহাস টিকে থাকবে।
কিন্তু…
আমাদের শহরকে কখনোই ছেড়ে যেতে পারি না।
তাই আমরা তৃতীয় পথটা বেছে নিই, শত্রুপক্ষের সাথে লড়ার।
নিজার।
কী?
তোমার জ্ঞানও আমাদের সাথে ভাগ করো।
তুমি সেই অল্প কিছু লোকদের একজন যে যুদ্ধের আসল রূপ দেখেছে।
জানোই তো, আমি বক্তৃতা তেমন ভালো দিতে পারি না।
অল্প কিছু বলো৷ আসো।
চিন্তা কোরো না, বন্ধু। একদম দ্বিধাহীনভাবে বোলো, সবসময়ের মতো।
ওহ, ঠিক আছে তাহলে।
এই বিষণ্ণ, নীরস মানুষটা হচ্ছে কপ্তান নিজার,
মক্কার মহান এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত যোদ্ধা।
আমি তার পল্টনে যোগ দিয়েছিলাম।
বেশ, সবাইকে ব্যস আমার একটাই কথা বলার আছে।
ওরা ধরে ফেলুক তার আগেই তোমরা ওদের ধরে ফেলো!
বেঁচে থাকতে ব্যস এই একটা কথাই মনে রাখা লাগবে।
কেউ, মরবে না!
ব্যস এটুকুই।
হাসির কী হলো?
তোমার বক্তৃতাও একদম তোমার... মতো।
তাই না?
ধন্যবাদ, নিজার।
অবশ্যই, বেঁচে থাকা জয় লাভের প্রধান শর্ত।
ওরা ধরে ফেলুক তার আগেই তোমরা ওদের ধরে ফেলো? ভালো উপদেশ। ধুর!
হুম, হয়তো।
আমি এত হতাশ হয়েছি।
আমি লোকসমাগমে কখনোই ভালো বলতে পারি না।
বক্তৃতা ভালো ছিল, জনাব।
খুব সহজ আর পরিষ্কার ছিল।
সবকিছু এত সহজ হলে ভালোই হতো।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, তেমনটা আসলে হয় না।
লড়ার পথ বেছে নিলে কেন?
তোমার পরিবারকে বুঝানো নিশ্চয়ই অনেক কঠিন ছিল।
হ্যাঁ, ছিল।
যুদ্ধ আমার মতো একাকী মানুষের জন্য।
আমার তেমনটা মনে হয় না।
পরিবার আছে বলে সেটাকে না লড়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
এখন বুঝতে পারছি জুবায়ের কেন তোমাকে নিজের ছেলে বানিয়েছে।
ভবিষ্যতে তোমার মতো ভালো মানুষের দরকার পড়বে।
তোমাকে সেই অবধি বেঁচে থাকতে হবে।
আমি ভালো মানুষ নই।
তোমার মতো নিষ্পাপ আর কেউ হতে পারে না।
অতীতকে তোমার উপর ভর করতে দিও না।
তার বদলে, অতীতে যা শিখেছ তা কাজে লাগাতে পারো।
তুমি হয়তো সেসব ভুলে যেতে চাও, কিন্তু সেরকম মেধাই ময়দানে কাজে লাগবে।
আমার বিশ্বাস করো।
আমি তোমার উপর ভরসা করছি, আউস।
জি জনাব।
উনি ঠিক বলেছেন। আমি নিজের অতীতকে ভুলে যেতে চাই।
কিন্তু লড়বার পথ বেছে নেওয়ার সময় আমি একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।
প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমার অতীতকে মাটি চাপা দেওয়ার বদলে মেনে নেওয়ার,
যাতে আমাদের লক্ষ্য সফল করতে পারি।
আমি তখন বাসায় দৌড়ে সর্দার মোতালেবের সিদ্ধান্ত জানাতে গেছিলাম...
গুজবটা সত্যি!
আউস...
তায়েফ থেকে আব্রাহার সেনা এখানে আসছে।
আমরা জানি।
যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
কী?
আমাদের পরিবারের রক্ষা করার দায়িত্ব তোমার।
বাবা...
আপনি লড়তে যাচ্ছেন?
সর্দার মোতালেব আমাদের মক্কা ছেড়ে যেতে বলেছেন।
আমি বসে বসে আল্লাহ পাকের অপমান হতে দেখতে পারি না।
ঠিক আছে। কিন্তু ময়দানে আমাকে যেতে দিন।
আউস...
আমার দেহ এখনও জানে তলোয়ার কীভাবে চালাতে হয়।
আমি আল্লাহ পাকের ক্ষমা পাবার যোগ্য না।
তাই...
সেটা অনেক আগের কথা।
আল্লাহ জানেন তোমার গুনাহের জন্য তুমি কতটা অনুতপ্ত।
নিজেকে এত ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই।
না, মা।
যতদিন এই দাগ বইব, অতীতের গুনাহ থেকে আমি পালাতে পারব না।
আমি অনেক গুনাহ করেছি।
এটা সত্যি না!
আল্লাহ তোমাকে নিশ্চয়ই ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আমাদের একসাথে কাটানো সুখী জীবন কি এর প্রমাণ বলে তোমার মনে হয় না?
ধন্যবাদ, হিন্দ।
তোমার কথা সবসময় আমাকে মনোবল আর সাহস জুগিয়েছে।
আমি মক্কা এবং আমাদের প্রিয় পরিবারকে রক্ষা করতে চাই।
কিন্তু...
যদি নিয়তি আমাদের একজনকে লড়াইয়ের জন্য চেয়েই থাকে,
তবে সেটা আমি হবো।
অনেক বছর আগে, যখন আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে ঢুকেছিলাম,
তখন আমাকে কোনো শাস্তি ছাড়া মাফ করে দিয়েছিলেন।
নিজের পরিবারে জায়গা দেন।
আমি শুধু পাপ কাজই করতে জানতাম।
আপনারা আমাকে দেখিয়েছেন শান্তিপূর্ণ জীবন, আর ঈমানের বিস্ময়করতা।
সবকিছুর জন্য আমি আপনাদের কাছে ঋণী।
এখন সময় হয়েছে আপনাদের জন্য আমার কিছু করার।
আউস...
আমরা খুবই ভাগ্যবান, তাই না?
হ্যাঁ, তাই।
আমারও যাওয়ার জন্য তৈরি হওয়া দরকার।
অবশ্যই।
তোমাকে একটা জিনিস দেওয়ার আছে।
কী, হিন্দ?
এটা সঙ্গে নিয়ে যাও।
ময়দানে এই সুরমা চোখে লাগাবে।
ঠিক আছে।
শত্রুদের সম্মুখীন হতে এটা আমায় শক্তি জোগাবে।
আমরা আলাদা হলেও সবসময় একসাথে থাকব।
তুমি আমার চোখ, আমার হৃদয়।
হ্যাঁ।
No comments yet. Be the first to leave one.