最初の200行です。
'মিডল ইস্ট ২০০৯'
কুরুবিলা ম্যাথিউ, স্ত্রী রীণু কুরুবিলা।
২৮ বৎসর আগে কুরুবিলা মিডল ইস্টে এসেছিলেন।
প্রথম দিকে হোটেল বয় হিসেবে কাজ করলেও, তার অধীনে -
৩ তারকা ১টা হোটেল ও ২টা ড্যান্স বার ছিল।
স্ত্রী রীণু ইউ.এ.ইর জনপ্রিয় বিউটিশিয়ান ছিলেন।
এমনকি তিনি নিজস্ব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিও খুলেছিলেন -
সাথে ১টা বিউটি শপও।
ব্যবসায় আয় করা সব টাকাই তারা ইউ.এ.ইতে খরচ করতেন।
বাড়ি, গাড়ি আর অন্যান্য গৃহস্থালিতে।
অর্থনৈতিক অস্থায়িত্ব সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে।
বর্তমানে নিজের হোটেলের স্টোর রুমে বসবাস করছে তারা -
'আরবাব' তার সম্পত্তি নিজের করে নিয়েছে।
কুরুবিলা, এখন ট্যাক্সি চালান 'আরবাব'-এর ঋণ পরিশোধের জন্য।
রীণু, আজ তিনি তার দেহ বিক্রি করে দিয়েছেন।
রেঘুয়েট্টান ওরফে রেঘু চন্দ্রন।
স্ত্রী জলযা, মেয়ে অনামিকা।
গত ৩২ বছর যাবৎ রঘুট্টান ইউ.এ. ইতে আছেন।
তার ১টা অ্যালুমিনিয়াম ফেব্রিকেশন ইউনিট আছে যেখানে কাজ করে ২০০ জন শ্রমিক।
জৌলুসে পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতেন তারা কিন্তু অর্থনৈতিক অস্থায়িত্ব সব কেড়ে নিয়েছে।
বর্তমানে অন্যান্য ১০০ পরিবারের মতো তারাও অ্যাম্বাসিতে বসে থাকেন -
কোন সুরক্ষিত স্থানের টিকেট পাওয়ার জন্য।
এখনও অপেক্ষাকারী হিসেবেই রয়ে গিয়েছে তারা।
আমরা তাদেরই কাহিনী বর্ণনা করতে চলেছি।
'কানাল - জ্বলন্ত কয়লা'
'কোচি - কয়েক বছর পর'
রিং হচ্ছে।
হ্যাঁ, হ্যাঁ, এখনই দিচ্ছি, ১ মিনিট।
মদয়ী স্বামী আছেন?
স্বামী বলছি, বলুন।
জলদি বলুন - আমি তোমাকে হাজার বার বলেছি আমার সামনে নাক সিটকাবে না।
বলুন, আমি শুনতে পাচ্ছি।
স্বামী, আমি নদরজন। কোথায় আছেন এখন?
বর্তমানে মঙ্গলপুরমে আছি।
এখন পর্যন্ত, কোন বাধাবিপত্তি আসেনি, তাই না? একদমই না।
তাহলে এখন আপনি ৯ থেকে ৮০-এর মধ্যে ১টা সংখ্যা বলুন।
৯ থেকে ৮০-এর মধ্যে ১টি সংখ্যা, তাই না?
আরে ১০, ১০ বলে ফেলুন।
৭৯
৭ আর ৯ অর্থাৎ বৃষরাশি কাজে নিশ্চয় সফলতা লাভ করবেন।
কিন্তু এখন পুরোপুরিভাবে বাধাবিপত্তি যায়নি।
একই লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণের আরেকজন মানুষ এগোচ্ছে।
কি? কে সে?
এমন একজন মানুষ যার রাশি মীন।
ফোনই কেটে গেল।
আবার নাট সিটকাচ্ছ, আমি তোমাকে মেরে তক্তা বানাবো। তুমি এই প্রস্তাবে ইচ্ছুক?
যা!
ঐ শালা, তুই এটাকে 'ভাদা' বলছিস?
তাহলে, আমি তোকে অমিতাভ বচ্চন বলে ডাকবো।
আমির খান বলেও ডাকবো।
দুলকার সালমানও ডাকতে পারি।
শোন ভাই, আমার শরীর আর তোর শরীর ঈশ্বরের মন্দির।
সেইন্ট পৌলস এই কথা ২,০০০ বছর আগে বলে গিয়েছেন।
তাই যদি হয়, আমাদের উচিত দায়িত্বের সঙ্গে মন্দিরের দেখভাল করা উচিত।
কিন্তু সবাই যদি রেলওয়ে স্টেশনে এই 'ভাদা' খাওয়া শুরু করে
তাহলে মন্দির টয়লেটে পরিণত হতো।
ঈশ্বর নাক ঢেকে পালিয়ে যাবেন।
বর্তমানে, মানুষের দেহে ঈশ্বরের কোন অস্তিত্বই নেই।
এই ধরণের খাবারই তার কারণ, বুঝলি ভাই?
ভাদা, ভাদা, ভাদা এটা ভাদা না অন্যকিছু!
একটা খেয়েই দেখুন না স্যার আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়?
থিরুবনন্তপুরন, কোড়াপানা কুন্নু।
ভাইজান, একটু সরুন।
১ মিনিট, আপনার চার্জার ফেরৎ দিচ্ছি।
যতক্ষণ ইচ্ছা রাখুন ফেরৎ না দিলেও সমস্যা নেই।
ফাদার, ট্রেনে চড়ার আগে আমি ৩ পেগ সাবাড় করেছিলাম।
ফাদার, আপনার কি মনে হয় এরপর আমি কোন ঝামেলা পাকিয়েছি?
একদমই না। আমি যা বলি সবই সত্য কথা - হ্যাঁ একদম সত্য।
এতটুকুই জানার ছিল।
তুমি 'মসলা রিপাবলিক' মুভির নায়ক না?
ভালো লেগেছে?
সুদূর আসাম থেকে কেরালায় চাকরির খোঁজে এসেছিল
এখানকার ১টা মুভিতে অভিনয়ও করেছে, দারুণ ছেলে
এটা ছোটখাটো ব্যাপার নাকি? সবাই হাততালি দিন।
কেরালার মানুষ তোমাকে সুপারস্টার বানিয়ে দেবে।
কিন্তু কখনো গান গাওয়ার চেষ্টা করবে না।
জীবনে কোন কিছুকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, ডলি আন্টি।
এরকম, ছোট, ছোট বিষয়কে
আমাদের উপভোগ করা উচিত
আমাদের প্রাণ খুলে তাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত।
তখনই জীবন আনন্দময় হয়ে উঠবে।
ভাই - কি দরকার? ১টা কলা নিতে পারি?
নিন স্যার তাহলে ১টা খেয়েই দেখি
আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করো, আরেকজনকে।
এই শালা আমার কথা বুঝে না কেন? একদম বোকাচণ্ডী।
খাবার, খাবার!
বুঝে ফেলেছে মনে হয় আসো
ঈশ্বর, নম্বর নেও।
নাম হরিহর রেড্ডি চন্দ্রগিরি থেকে এসেছে তিনিও আমাদের সাথেই যাবেন।
শুধুমাত্র তিনিই আসল জায়গা চিনেন। তবে তিনি আসলে ভালোই হবে।
কল্লামের কুট্টুড় বার কেরালার সেরা বার।
কুট্টুড় নটরজন, যে কিনা ফ্লাইটে শুধুমাত্র বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করেন।
স্লিপার ক্লাসের টয়লেটের পাশে তিনি কেন ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আমি কি জিজ্ঞাসা করেছি?
কোথায় যাচ্ছেন? কেন যাচ্ছেন? আমি কিছুই জিজ্ঞাসা করিনি।
আমি সবই জানি, এটা ধরুন।
ঈশ্বর!
আমরা কেন সরাসরি কাউকে কিছু বলতে পারিনা?
আমি এখন তোমাকে লাথি মারবো ঠিক আছে?
এখন অন্তত আমি আরামে নাক সিটকাইতে পারবো।
আবার নাক সিটকাচ্ছ? এদিকে আসো।
এটা তার ব্যাগ।
উনি গেলেন কোথায়? - একটু আগে কলা খেলো, তাই না? বাথরুমে গিয়েছে মনে হয়।
কেউ কি এদিকে আসছে?
না!
স্বামী, আমি বলছি।
স্বামী আপনার ভবিষ্যৎবাণী একদম যথাযথ।
কি ব্যাপার? এক লোক এই ঘটনার মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
ভয় পাবেন না, ৪০ থেকে ৭০-এর মধ্যে ১টি সংখ্যা বলুন।
৪০ থেকে ৭০-এর মধ্যে, তাই না?
৫০, ৫০ বলে ফেলুন।
৬৯ কুম্ভ রাশি।
বাধাবিপত্তি জলপ্রপাতের মতো আসবে, সাবধানে থাকতে হবে।
নাহলে নাহলে?
মানুষজন দেখছে।
কেটে গিয়েছে মনে হয়।
১ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
আমরা কোথায় যাচ্ছি? শুধুমাত্র এটা বলুন।
আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন?
আপনি কেন ঐখানে যাচ্ছেন? শুধু এটা বলুন।
বলবো? তাহলে এদিকে আসুন।
যেখানে আপনারা যাচ্ছেন আমিও সেখানে যাচ্ছি।
ঐখানে আমাদের আবার দেখা হবে।
১৬টা বার একইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কি?
একইসঙ্গে ১৬টা বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
১৬টার অর্ধেক আবার খুলতেই অনেক টাকা লাগবে।
মদয়ী ম্যাডম এরকম সময়ে আমাকে 'সাপের মণি'-কে -
- পূজা করতে বলেছেন, তাহলেই কার্যসিদ্ধি হবে।
তিনি যা বলেন সবই ঠিক কথা।
আমাদেরকে যেকোন মতেই ঐটা খুঁজে পেতে হবে, তাই না?
হঠাৎ আমি খবর পেলাম যে ঐটা রত্নগিরিতে আছে।
আমরা এজন্যই এই যাত্রা করছি।
স্যার, তাই আমাদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন।
তার পরিবর্তে আপনি যা চাইবেন তাই পাবেন।
সব ভুলে যান যা চাইবেন তাই দেব
আরে ভাই,
এখানে কুট্টুড় বার দেখে, মজা করার ইচ্ছা জাগলো মনে।
রিজার্ভেশন চার্টে, নামটাও পেয়ে গেলাম।
ব্যস, আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, আমি আপনার পথের কাঁটা হতে চাই না।
তবুও আমি আপনাকে ১টা উপদেশ দিই।
ডাকাতি, খুন যেটাই করুন না কেন, রাস্তায়
এরকম জিনিস নিয়ে ঘুরবেন না।
তোমাকে আমি কতবার কল করেছি? কেন, ফোন ধরোনি?
রান্নাঘরে ছিলাম আর কিছু না।
আমি নম্বর বদলিয়েছি, নতুন নম্বর নিয়েছি।
এভাবে তুমি আর কতদিন সিম আর বাসা বদলাবে?
তাহলে আমার কি করা উচিত?
আমরা আগে কোথাও দেখা করেছি?
সকাল থেকে তো ট্রেনেই আছি, তাই না? কোন সময় দেখেছেন হয়তো।
তাই তো, আমি...
সবার জীবন একইরকম না ভাই।
কেউ কি জানে আপনি কি ভাবছেন, কাকে ভাবছেন?
ট্রেনে যাত্রীদের কথাই ভেবে দেখুন না।
কথাবার্তা, ঠাট্টাতামাশা করে দিন পার করে দিল।
কিন্তু কেউ জানে না তাদের ভেতর কি চলছে।
এন্ড্রুস, ডলি আন্টি, দুই সন্তান।
বড় ছেলে হার্টের রোগী, তার চিকিৎসার জন্য এই যাত্রায় সামিল হয়েছেন।
এমনকি এখনও সুজান পরিবারের সাথে ঝগড়া করে যাচ্ছেন ফোন ঠিক সময় না ধরার জন্য।
সে মুম্বাইয়ের একজন নার্স। ক্যান্সারের রোগী।
যেভাবেই হোক বর্তমানে তার দুই সন্তান আছে।
অচেনা হয়ে সত্ত্বেও, সিটে বসে
গোপনে হোয়াটস অ্যাপে, প্রেমালাপ করছে।
'সাপের মণি' খুঁজতে সুদূর রত্নগিরি থেকে এসেছে।
নটরজন ও চন্দ্র আনন্দন।
তার ১ম মুভি, মাকে দেখানোর জন্য
মঙ্গল আসামে যাচ্ছে।
এখন আসি আমার প্রতিবেশীর কথায়
চারিত্রিক এক বিষয়ে, মুম্বাই যাচ্ছেন।
তিনি ইরিন্দিকারায় অবস্থিত মাদার লর্ড চার্চের উপাচার্য
ফাদার যীশুরজন।
এদের সবার মধ্যে, আমরা দুইজন, এসব কোন বিষয়ের সঙ্গেই জড়িত না।
আসামে গিয়েছেন কখনো?
আমার পুরো ছেলেবেলা আসামে কেটেছে, আমার স্ত্রীরও।
বিয়ের পর, আমরা একবার ঐখানে গিয়েছিলাম।
২ মাস ছিলাম।
ঐখানে গিয়ে আমি ভূপেন হজরিকার প্রেমে পড়ে যায়।
আমি ভূপেন ভাইকে ২টা গান তৈরি করিয়ে দিয়েছিলাম।
আমি নিশ্চিত আমি ঐ লোককে কোথাও না কোথাও দেখেছি।
কোথাও না কোথাও!
পুনরায় ট্রেন ছাড়তে, ২৪ ঘণ্টা লাগবে।
এটা জমি দিয়ে পরিপূর্ণ এলাকা।
আনন্দরমন, সিইএন চিফ এডিটর প্রবাসী চ্যানেল।
আমি দীর্ঘদিন ইউ.এ.ইতে ছিলাম।
এখন সবই অতীত। আগামীকাল আমার জরুরি -
ব্যবসা সংক্রান্ত মিটিং আছে কারওয়ারে।
কি আর করার, কোচিতে ফ্লাইট ধরতে না পেরে ট্রেনে চেপে বসলাম।
ভারতীয় রেলওয়েতে ১টা ভ্রমণও হয়ে গেল।
মদনা স্বামী বলছেন?
হ্যাঁ। আমি নটরজন বলছি।
দেখুন ঐখানে ১টা দোকান আছে চলুন ২টা লেবুর শরবত খেয়ে আসি?
এখানে বসে শুধু শুধু ঘাম ঝরানোর কোন মানে হয় না।
কোথায় যাবে?
কারওয়ার পর্যন্ত টিকেট।
আগামীকাল ট্রেন যদি চালুও হয় তাও কারওয়ারে যাবে না।
মেঙ্গালোরে ফিরে যাবে আর ঐটা তো একদম আলাদা পথ।
আমি কেবলই রেলওয়ের সাহায্যকেন্দ্রে কল করেছিলাম।
তাহলে কি আমাদের এখানে বসে থাকা উচিত?
লরিতে গেলে কেমন হয়?
বিবাহিত?
আমারও।
No comments yet. Be the first to leave one.