처음 200줄입니다.
ধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে যদি তোমার মৃত্যু হয়, তবে তুমি স্বর্গলাভ করবে। আর যদি বিজয়ী হও, তবে এই ধরিত্রী হবে তোমার। তাই হে অর্জুন, উঠে দাঁড়াও এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। — ভগবদ্গীতা: দ্বিতীয় অধ্যায়, শ্লোক ৩৭
: : : অনুবাদ ও সম্পাদনায় : : : . . . ওমর ফারুক . . .
আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছেন।
আইএসআই আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে বুঝিয়েছে,
যে আমাদের আলোচনা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
আর সন্ত্রাসীরা যেকোনো মুহূর্তে,
প্লেনের যাত্রীদের মেরে ফেলতে পারে।
স্যার, আপনি জানেন এটা সত্যি না।
এই জারজরা হার মানবেই।
শুরুতে ৩৬ জনকে ছাড়াতে চেয়েছিল,
এখন মাত্র তিনে নেমে এসেছে।
স্যার, আমাকে আরেকটু সময় দিন,
কথা দিচ্ছি, একটা সন্ত্রাসীকেও ছাড়তে হবে না...
আর সব যাত্রীকেও আমরা সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে আনব।
এটা শুধু সময়ের ব্যাপার।
গত তিনদিন ধরে যাত্রীদের পরিবাররা,
প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করছে।
দুর্ভাগ্যবশত, আর কোনো উপায় নেই।
সামনে আয়...
বের হ এখান থেকে!
- ধর ওকে! - ধর জারজটাকে।
মার শালাকে!
গলা কেটে ফেল।
ওঠ!
ওর গলা কেটে ফেল।
চেপে ধর।
জহুর, বন্দুকের নলের সামনে আমরা কোনো আলোচনা করব না।
তো, কী সিদ্ধান্ত নিলেন আপনারা?
প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে।
আগামীকাল ওই তিনজন... মুশতাক আহমেদ জারগার,
আহমেদ ওমর সাইদ শেখ,
আর তোমার ভাই, মাওলানা মাসুদ আজহার,
সবাইকে জেল থেকে ছেড়ে দিয়ে কান্দাহারে তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
আর টাকার কী হবে?
আজ রাতের মধ্যেই দশ মিলিয়ন ডলার পৌঁছে যাবে...
দুবাইতে তোমাদের লোকের কাছে।
এবার আমি যাত্রীদের সাথে একা কথা বলব।
শুনুন সবাই!
আপনারা এখন চোখের বাঁধন খুলতে পারেন।
জানালার শেডগুলোও তুলে দিন।
ভয় পাবেন না।
আমি অজয় সান্যাল, ইন্ডিয়ান ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর চিফ।
আপনাদের একটা সুখবর দিচ্ছি!
আমাদের আলোচনা সফল হয়েছে।
কাল বিকেলের মধ্যে আপনারা সবাই,
সুস্থভাবে ভারতে ফিরে যাবেন।
এই কঠিন সময়ে আপনারা যে সাহস দেখিয়েছেন,
দেশ তার জন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।
জয় হিন্দ...
জয় হিন্দ...
"জয়" তাই না?
তোমরা হিন্দুরা আসলে এক একটা ভিতুর ডিম, তাই না?
মিস্টার ইন্টেলিজেন্স, রাতারাতি যেন টাকাটা পেয়ে যাই।
তোমাদের দেশকে একসময় "সোনার পাখি" বলা হতো না?
আজ রাতে সেই পাখির ডানা ছাঁটব,
আর কালকের মধ্যে পাখিই উধাও হয়ে যাবে।
মিস্টার সান্যাল...
বর্ডারের ওপারেই কিন্তু থাকি আমরা।
বুকের পাটা থাকলে,
আমাদের বালটা ছিড়ে দেখাইয়েন।
স্যার, ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না!
কিন্তু আপনি ছাড়া আমাদের বাকি টিমের,
কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।
কমান্ডোরা প্লেনে হামলা চালালে কিছু লোক মারা গেলেও,
ভারতের ইজ্জতটা অন্তত বাঁচত।
তার মানে আপনি বলতে চাইছেন,
দেশের ইজ্জত বাঁচাতে ১৬০ জন যাত্রীর জীবন,
ঝুঁকিতে ফেলাটা "ভালো কৌশল" হতো?
আমি আগেও এমন পরিস্থিতি সামলেছি।
আর সোজা কথা হলো স্যার,
আমাদের দেশ এই ধরণের বিপদ সামলানোর জন্য প্রস্তুতই না।
তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করুন।
এমনিতেও আমাদের সব রাস্তা বন্ধ।
আমরা জাতিসংঘের কাছে ভিখ মেগেছি।
আমেরিকার পায়ে ধরেছি।
যতবার কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলেছি, ওরা তা হেসে উড়িয়ে দিয়েছে।
স্যার, ক্ষমা করবেন, আমি একটু কড়া কথা বলছি, কিন্তু এছাড়া উপায় নেই।
ওরা কাশ্মীর, কার্গিল পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে।
এরপর হায়দ্রাবাদেও ঢুকে যাবে,
আর আমরা শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেশাত্মবোধক গান গাইব।
স্যার, কাউকে ঘুষি মারতে হলে আগে হাতটা মুষ্টিবদ্ধ করতে হয়।
পাকিস্তানের সন্ত্রাসের একেবারে মূলে আমাদের আঘাত করতে হবে।
যাতে ওরা ভারতের ক্ষতি করার স্বপ্ন দেখলেও...
আমরা দুঃস্বপ্ন হয়ে ওদের জন্য সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি।
আর স্যার, এটা করার জন্য আমার কাছে একটা দুর্দান্ত প্ল্যান আছে।
আরে সান্যাল, কী সব উল্টাপাল্টা বকছো?
পুরো দুনিয়া দেখেছে কান্দাহারে তোমার প্ল্যান কীভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
তুমি দেশের ভেতরটা সামলাও।
আন্তর্জাতিক ব্যাপারটা আমাকে দেখতে দাও।
স্যার, আপনি আমার "কাশ্মীর ডকট্রিন" টি দেখেছিলেন?
আমার মতে ওটাই একমাত্র "শান্তির আশা"।
ম্যাডাম, কোনো সুখবর আছে নাকি?
আমার স্বামী এসবিআই ব্যাংকে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি পেয়েছে।
- অভিনন্দন ম্যাডাম। - এই নাও, মিষ্টি খাও।
বলেছিলাম না আগে?
- অভিনন্দন ম্যাডাম। - এদিকে এসো। ধন্যবাদ।
- কবে পেয়েছে চাকরি? - আজকেই।
- আজ রাতে কিন্তু পার্টি হবে। - আস্তে চালাও।
স্যার, স্যার, দাঁড়ান!
স্যার, গাড়ি থামান।
- এটা একটু ধরো তো। - দাও।
- থামো! থামো! - গাড়ি থামাও!
থামাও বলছি!
যাদব, গাড়িটা খুব দ্রুত যাচ্ছে... থামাও ওটাকে!
পার্লামেন্টের সব দরজা এখনই বন্ধ করো! জলদি!
- ওটা ভিভিআইপি গেটের দিকে যাচ্ছে! - আটকাও ওটাকে!
গাড়িটা ১১ নম্বর গেটের কাছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছে!
পার্লামেন্টে ঢোকার সব রাস্তা এক্ষুনি বন্ধ করো!
কুইক!
আনুমানিক সকাল ১১:৪০ মিনিটে,
একদল আত্মঘাতী সন্ত্রাসী পার্লামেন্টে হামলা চালায়।
তাদের গাড়িতে লাল বাতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ছিল।
অপারেশন! অপারেশন! কমান্ডার!
আমরা ১ নম্বর গেটের কাছে গুলির শব্দ পাচ্ছি।
তারা এসেই নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে, নিরাপত্তারক্ষীদের মেরে ফেলে।
এখনও ভেতর থেকে গুলির আওয়াজ আসছে।
১ নম্বর গেটের আশেপাশের এলাকায়,
চলমান হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সন্ত্রাসীরা সাথে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক নিয়ে এসেছিল।
ওদের মধ্যে একজন মানব বোমা ছিল,
সে ভেতরে ঢুকে নিজেকে উড়িয়ে দেয়।
বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে...
তার শরীরের অংশ এখন ছাদের সাথে আটকে আছে।
তার দেহাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
পরিস্থিতি কী?
পাঁচজন সন্ত্রাসীকে খতম করা হয়েছে।
- ভেতরে নাকি বাইরে? - ভাগ্যিস বাইরে।
পার্লামেন্টের অধিবেশন ৪০ মিনিট আগেই শেষ হয়েছিল।
যেসব এমপিরা এখনো ভেতরে আছে,
তাদের নিরাপদে পার্লামেন্ট ফ্লোরে আটকে রাখা হয়েছে।
তাজা খবর পাওয়া গেছে...
আইসি-৮১৪ হাইজ্যাকারদের একজন সানি কাজি,
যে এই হামলার নেতৃত্বে ছিল।
বাকি তিনজনের সাথে তাকেও মেরে ফেলা হয়েছে।
আমাদের প্রতিবারই জিততে হয়!
কিন্তু এই কুত্তার বাচ্চাদের জেতার জন্য মাত্র একবার সফল হওয়াই যথেষ্ট।
ডাক্তার, পালস পাওয়া যাচ্ছে না।
বাচানো যাবে না মনে হচ্ছে!
পার্লামেন্ট হামলায় সরকারের গদি পুরো নড়ে উঠেছে।
কেউ ভাবতেই পারেনি যে ওরা সোজা আমাদের ঘরে ঢুকে হামলা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বেশ চিন্তিত।
ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে।
মাঝে মাঝে ধৈর্য হারালে দেশের ভালোই হয়।
তুমি যে ফাইলটা দিয়েছিলে সেটা অবশেষে পড়ে দেখলাম।
দুই বছর দেরি করে ফেললেন।
আইডিয়াগুলো বেশ কড়া।
তবে মধ্যপ্রাচ্যকে আমাদের পক্ষে আনতে অনেক সময় লাগবে।
আর পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করা এখন বেশ কঠিন।
কারণ আমেরিকা ওদের মাথার ওপর হাত রেখেছে।
তবে...
একটা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হয়েছে।
ধুরন্ধর।
ধুরন্ধর।
তবে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা একটাই...
এত দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যান কি আদৌ কাজ করবে?
আমাদের হাতে কোনো বিকল্প নেই।
কখনো না কখনো তো শুরু করতেই হবে।
আজ ওরা আমাদের উঠোন পার হয়েছে,
কাল গলা চেপে ধরবে।
তখন আমাদের হারানোর মতো কিছুই থাকবে না,
না ধৈর্য, না সাহস।
আমি এই প্রকল্পটা সফল করব।
চিয়ার্স টু ধুরন্ধর।
চিয়ার্স টু ধুরন্ধর।
: : : অনুবাদ ও সম্পাদনায় : : : . . . ওমর ফারুক . . .
- এই বাস কোথায় যাবে ভাই? - লাহোরে।
লাহোর?
- এটা কোথায় যাবে ভাই? - করাচি।
- করাচি। - পেশোয়ার হয়ে যাবে।
"ডারলিং, ডারলিং দিল কিউ তোড়া? খাও আলমের মিল্ক সোডা।"
মিল্ক সোডা... এক গ্লাস মাত্র বিশ টাকা!
- খাও আলমের মিল্ক সোডা! - ধন্যবাদ।
মিল্ক সোডা... এক গ্লাস মাত্র বিশ টাকা!
আসসালামু আলাইকুম।
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম।
এখানে কোনো কাজ মিলবে?
না ভাই, এখানে শুধু জুস মিলবে।
আমি হিন্দুকুশ থেকে এসেছি।
ফুটো তো এখান থেকে। ঈদের পরে এসো।
লবণ টা কোথায়?
মাত্র বিশ টাকা গ্লাস! মিল্ক সোডা... মিল্ক সোডা...
কিরে, পাঠান নাকি বালুচ?
দেখে তো বালুচই মনে হচ্ছে।
দারুণ।
এ তো অমৃত, মাম্মা!
চেপে ধর ওকে!
চেপে ধর!
জামা খোল। কাপড় খোল শালার।
পুলিশ! পুলিশ! পালা!
- চল চল। - দ্রুত যা!
ওই...
ছোকরা, ওঠ!
নে, উঠে বস।
ওঠ।
আস্তে, ধীরে সুস্থে।
নে।
নাম কী তোর?
হামজা।
হামজা আলী মাজারি।
No comments yet. Be the first to leave one.