처음 200줄입니다.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় ❝ শান্ত কুমার দাস ❞
উঠাও!
এইতো উঠাচ্ছে!
এইতো... এইতো...
সাবাশ!
বেটা... সবটুকু দিয়ে চেষ্টা কর!
পাথরটাকে তোল আর মেয়েটাকে নিয়ে যা...
নয়তো তোর হাতে মেয়েকে দিব না।
আমাদের রেওয়াজ এটা... যে পাথরটা তুলতে পারবে তার হাতেই মেয়েকে তুলে দেয়া হবে।
এইবারও না তুলতে পারলে আমাদের মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিব না।
পারবে কীভাবে? দেখো ওর পা কীভাবে কাঁপছে।
ও ইনশাআল্লাহ পারবে।
সাবাশ!
এইতো প্রায় তুলে ফেলেছে!
সাবাশ!
সাবাশ... অভিনন্দন!
⛰️ ⭐ ⭐ এটি আমার ❝১৭৬তম❞ পূর্ণাঙ্গ বাংলা সাবটাইটেল ⭐ ⭐ ⛰️
কী হয়েছে? আমাকে কেন ডেকেছিস?
আর কত গভীরে নিয়ে যাবি জঙ্গলটার?
- কিছু বলবি? - আরে বলবো, বলবো।
কিন্তু জঙ্গলকে কবে থেকে ভয় পেতে শুরু করলি?
আমি জঙ্গলে ভয় পাই না।
আমার মা-ও নিজেকে এখানে উপলব্ধি করেছে।
খোদার সন্ধানে সে সবকিছু ছেড়েছে।
আমি চাই তুই অন্তত ঘর-সংসার কর।
লায়লা....
আমার ডেরা শীঘ্রই অভিপ্রয়াণ করবে।
এটা আমাদের একমাত্র সুযোগ... চল পালিয়ে যাই।
তোকে পছন্দ হলে তবে তো তোর সাথে যাব।
ঢং করিস না।
ফাতেমা আমাকে সবকিছু বলেছে।
এমনি তোর একটু প্রশংসা করেছি।
এর মানে এই নয় যে তোকে আমি পছন্দ করি।
- এবার তোমাদের ব্যাপার তোমরা বোঝো... আমি গেলাম। - শয়তান!
আমাকে ঝামেলায় ফেলে কোথায় যাচ্ছিস?
মজা দেখাচ্ছি তোকে।
আমি আমাদের রেওয়াজ পালন করছি।
তোর ডেরা থেকেও রাজি হবে... চল।
লায়লা.... সর্বশক্তিমানের নামে শুরু করছি।
শাফির পুত্র তানভীরের সাথে বিয়েতে তুমি সম্মত?
কবুল? কবুল?
লায়লা... কবুল?
খোদাকে সাক্ষী রেখে ...
তুমি কি তোমার বোন লায়লা ও শাফির পুত্র তানভীরের বিয়েতে সম্মত?
খোদাকে এবং এখানে উপস্থিত সবাইকে সাক্ষী রেখে
আমি সম্মতি জানাচ্ছি এবং হাসান সর্দারের কন্যা লায়লার হাত...
শাফির পুত্র তানভীরের হাতে এই নিকাহর মাধ্যমে তুলে দিলাম।
- তুমি কবুল করলে? - কবুল করলাম।
খোদাকে সাক্ষী রেখে কবুল করলে?
খোদাকে সাক্ষী রেখে কবুল করলাম।
- কবুল করলাম। - আমিন।
কবুল করলাম ...
কবুল করলাম ...
কবুল করলাম ...
এই যে খাসি।
জবাই করে দাও।
আমার কাছে ছুরি নেই।
আমাদের খাসি বিক্রি নিয়ে কথা হয়েছিল। জবাই নিয়ে কথা হয়নি।
যুদ্ধ তো আমরাও একটা কারণে করছি।
আমরাও অনেক কোরবানি দিচ্ছি।
তোমার অনুষ্ঠানে শরীক হতে চাই। তাতে সমস্যা কী আছে?
চাচী...
ঘোড়ায় চড়ে যাবে না-কি পিক-আপে চড়ে?
ও আমাদের সাথে পিক-আপে করে যাবে।
সেটাই বরং ভালো হবে।
আমি আর তর্ক করতে পারবো না, রেঞ্জার সাহেবের কঠোর নির্দেশ আছে।
যাদের কাছে অনুমতিপত্র আছে কেবল তারাই যেতে পারবে।
আমরা গরীব। মেহেরবানি করে আমাদের যেতে দিন। আমরা অনুমতিপত্র কোথায় পাবো?
তোমার কাছে অনুমতিপত্র নেই?
সবার কাছে অনুমতিপত্র আছে ... তুমি কোথাকার কোন লাটসাহেব হে?
ওর উপর মেহেরবানী করুন।
স্যার, আমাদের উপর মেহেরবানী করুন ...
দেখুন কাকা...সময় বদলেছে।
গতবার ওই গোরক্ষকরা গুজ্জারের মহিষ আটক করেছিলো...
...এরপর ওকে মারধর করে ওর উপরে কেস করে দিয়েছিলো।
দায়ভার কে নিবে এর? এভাবে হয় না সবকিছু।
আমরা সারারাত ধরে হেঁটেছি। দয়া করে জ্বালিয়েন না।
- তোমার অনুমতিপত্র চেক করা শেষ না? - তা শেষ।
তাহলে তুমি এত বকছো কেন? তোমাকে তো কেউ ধরে রাখেনি।
ওনার কাছে অনুমতিপত্র পত্র নেই। আমাদের কাছে অর্ডার
আছে। এখন কী করবো? চাকরি তো আর বাজি লাগাতে পারি না।
একে নিয়ে যাও।
- তোমার চেক হয়ে গেছে? - গেছে ... কিন্তু আমার জিনিসপত্র তার কাছে ...
তাহলে আর কী, বসে অপেক্ষা করো।
গার্ড সাহেব... এদিকে আসুন...
এক সেকেন্ড।
বসুন...
দয়া করে এটা রেখে আমাদের যেতে দিন।
স্যার, বাচ্চাগুলো সব ক্লান্ত... এই ঠান্ডায় আমরা কোথায় যাব?
আমরা তো আপনাদের জন্যই কাজ করছি...
তা করছেন ঠিকই, কিন্তু একটু মেহেরবানীও করুন...
আমি ওর অনুমতিপত্র তৈরি করিয়ে দিব, আর এমনটা হবে না।
লাগবে না এটা...তাহলে চলে যান আপনারা।
এক্ষুনি পথ খালি করুন। সবাই চলে যান।
অনেক ধন্যবাদ স্যার!
- ও তানভীর... তানভীর বাবা... - হ্যাঁ?
লায়লাকে জলদি বাড়ি নিয়ে আসো...
গাঁয়ের মেয়ে-বউরা এসেছে।
আসছি... ভেড়াগুলোকে খোঁয়াড়ে রেখে নিই।
ওকে সাজাতে হবে ... জলদি করো!
আসছি... চল লায়লা।
বউ অনেক সুন্দর।
কারো নজর যেন না লাগে, তানভীর সত্যিই খুব ভাগ্যবান।
গাঁয়ে একজন নতুন বউ এসেছে।
শুনলাম সব পুরুষ মানুষদের তার উপর নজর পড়েছে।
গাঁয়ে বসন্ত এসেছে যখন উৎসব তো হবেই।
তুমিও উৎসব করছো?
করবো না কেন?
বসন্তের আগমন ঘটলে আমিও উৎসব করবো।
মৌমাছি কি তবে অন্য ফুলের মধু খাবে?
কেন নয়? একটা ফুলের মধু শেষ হলে তো অন্য ফুলে যাবেই।
আমাকে উত্ত্যক্ত করছো... বলবো আমার স্বামীকে?
কীভাবে বলবি? চিঠি লিখে না-কি ফোন করে?
ভেবে নে...এতে ক্ষতি তো হবে তোরই!
কার ক্ষতি? দাঁড়া...
কী হলো? আগুন লেগেছে?
আগুন জ্বলছে...
কচুর আগুন!
হ্যাঁ, আমরা খবর পেয়েছি যে একটা বাখরওয়াল কুকুর কয়েকজনকে কামড়ে দিয়েছে।
এজন্য আমাদের টিম বেরিয়ে পরেছে, ওই পাগল কুকুরটাকে ঘেরাও করে ওকে মেরে ফেলবে...
তো আপনি চিন্তা করবেন না। আমরা কাজ করছি।
জি, বাচ্চাদের উপর আক্রমণেরও খবর পেয়েছি এবং
এজন্য সকল স্কুলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি যে...
স্কুলের বাচ্চাদের বাইরে যেন না বের হতে দেয়া
হয় যতক্ষণ না কুকুরটাকে আমরা মেরে ফেলছি।
আর এটা জলদিই হয়ে যাবে। আমরা কাজে লেগে আছি।
ডাক্তার সাহেব, এসব কী বলছেন?
আমাদের পরিবারের লোকেদের কামড়ানোর পরই আমরা কাজ শুরু করবো এ কেমন
কথা! আমরা কি ঠিকমতো কাজ করতে
পারি না? আমাদের যতটুকু করার তো করছিই।
আমরা আমাদের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে ভালো করে অবগত আছি।
আমরা জলদি করে ফেলবো। আপনি আপনার কাজে মন
দিন এবং আমাদেরকে আমাদের কাজে মন দিতে দিন।
একটা বাখরওয়াল কুকুর পাগল হয়ে গেছে তো সব লোক পাগল হয়ে গেছে।
একটা পদ্য মাথায় আসছে।
জি, বলুন...
"মস্তিষ্ক অলস যার, কুবুদ্ধি ঘিরে ধরে তার।"
মাশাআল্লাহ! দারুণ পদ্য!
আপনার মতো পদ্য তো রচনা করতে পারবো না ...
...তবে এই চোখে একটা সুন্দর কবিতা দেখেছি।
যতটা পাগল বাখরওয়াল কুকুর,
ততটাই সুন্দর বাখরওয়াল মেষ।
তাই নাকি?
মনে হচ্ছে আমাদের খোচররা আজকাল সঠিক তথ্য দিচ্ছে না।
আপনারা ফরেস্ট অফিসাররা তো জঙ্গলের প্রতিটা নতুন ফুলের খবর রাখেন।
এখন কি একটা পাগল কুকুরকে মারতে আর্মি ডাকবো?
আমাদের ডিপার্টমেন্টও দক্ষ, এসব কাজ আমরা করতে পারি।
ভরসা তো রাখুন আমাদের উপর!
এবার আর্মি মারবে কুকুরকে? এটা তো বাড়াবাড়িই হয়ে গেলো!
স্যার, আপনারও কিছু দায়িত্ববোধ আছে।
এই বাখরওয়াল কুকুরটা উপত্যকা থেকে অভিপ্রয়াণ করে এখানে এসেছে।
ওই উপত্যকারই হাওয়া বাতাস লেগেছে।
স্যার, উপত্যকা থেকে অভিপ্রয়ান করে তো পুরো প্রশাসনও এসেছে....
সরকারি গোলামের মুখে কূটনীতির কথা যায় না।
আচ্ছা এটা বলো...
তোমার কাব্য যে সবার কাছে পৌঁছানোর মতো এটা কীভাবে বুঝবো?
আমি তো সবসময়ই বলি, আপনার খোচরগুলো একটাও কাজের না।
আপনি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা উচিত।
আম্মা... ভালোভাবে জিজ্ঞেস করছি।
- উপরে গিয়েছিলে না? - হ্যাঁ।
ওখানে ৬ মাস ছিলে এবং ওখানকার মেয়েকে বউ করে নিয়ে এসেছো।
তো এই মেয়ের পরিচয় আমাদের এখানে জানা নেই। তো ওই
মেয়ে আর তোমাদের কি উচিত ছিলনা থানায় সেটা জানানো?
জানাইনি কারণ মেয়ে তো আমাদের ঘরেরই।
দেখো আম্মা, পুলিশ এসেছে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য।
পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়ে গেছে... খারাপ থেকে তীব্র খারাপ হয়ে গেছে।
এখানকার লোকেরা বর্ডার পেরিয়ে ওপারে যায় এবং বউ নিয়ে আসে।
আর সেই বউগুলো মাঝে মাঝে এখানকার খবর ওখানে পাচার করে।
এরপর জবাবদিহি কাদের করতে হয়? আমাদের।
তাই আমি ওনার সাথে এসেছি।
পুলিশ জানতে চায় কে এসেছে, কোথা থেকে এসেছে।
- তার নাম নিতে হবে ... - আপনি জানাননি কেন?
এসব তো আমাদের কেউ আগে জানায়নি।
কিন্তু এটা করতে হবে। বোঝার চেষ্টা করো।
তাহলে সেটা আমাদের ঘরের পুরুষদের কাছ থেকে জেনে নিন।
- তারা কোথায়? - ভেড়া চরাতে মাঠে গেছে।
মেয়েটা কোথায়?
সে এসেছে কোত্থেকে? তার কাছে কোনো কাগজপত্র আছে?
- নাম কী তোর? - লায়লা।
- কীভাবে মানবো যে তোর নাম লায়লা? - ও মিথ্যে কেন বলবে?
রেশন কার্ডে একজন পুরুষের ছবি দেয়া।
এই মেয়ের ছবি তো দেয়া নেই।
তাহলে কীভাবে বুঝা যাবে যে ও লায়লা না-কি অন্য কেউ?
ওর সাথে বিয়ে দেয়ার আগে ওর কাগজপত্র চেক করেছিলেন?
তোর ঘরে বিয়ে দেয়ার আগে তোর কাগজপত্র চেক করা হয়েছিল?
কানে বর্ণনা শুনে সৌন্দর্যের মহিমা উপলব্ধি করা যায় না...
যা আপন চোখে দেখে করা যায়।
তুমি যে সৌন্দর্যের কথা বর্ণন করেছিলে, ও তার থেকেও বেশি সুন্দর।
আর যতটা সুন্দর, ততটাই ভয়ংকর।
হুজুর... এমন আগুন নিভানোর মধ্যেই তো আসল মজা।
তুফানের পরের নিস্তব্ধতার মজা পাওয়া যায় যে।
বাহ!
- ভিন্ন ধরনের মেয়ে ও। - ওর থেকেও মারাত্মক ধরনের মেয়ে দেখেছি।
ব্যস একটু সময় লাগে... কিন্তু কোনো কিছুই কঠিন না।
আপনি ভরসা রাখুন... আমার উপর সবকিছু ছেড়ে দিন।
যদি ওকে আপনার সামনে পেশ না করতে পারি, তাহলে আপনার অনুগ্রহ পাওয়ার যোগ্য নই আমি।
আপনারা গতকাল আমাদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, আমাদের মেয়ে-বউদের অপমান হয়েছে।
গাঁয়ে কি আমাদের কোনো সম্মান নেই?
আমাদের এখানে ডাকতে পারতেন। আমাদের বাড়িতে যাওয়ার কারণ কী ছিল?
- থানায় কি আমাদের ডাকা যেত না? - ডাকা যেত!
No comments yet. Be the first to leave one.