200 baris pertama.
মুভির নামঃ Kara Bela (2017) অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ
কুদরত? কী করছো তুমি?
এইতো, একটু পান করছি!
ছি! কী নির্লজ্জের মত সেটা আবার বলছো!
এভাবে মদ খেয়ে টাকার শ্রাদ্ধ করছো?
না! এক গ্লাসই তো পান করছি শুধু!
সাড়ে সর্বনাশ করেছ! মদ খেয়ে তারপর আমাকে আর বাচ্চাদের পেটাবে, তাই না?
কী বলছো এসব, হানিম?
তোমাকে কখনো একটা ফুলের টোকাও দিয়েছি বলো?
কিন্তু একবার ভাবো? তোমার প্রতিবেশীরা শুনলে কী বলবে?
সে শুক্রবারের মতো পবিত্র একটা দিনে মদ পান করছে! কী জঘন্য লোক!
- সকালে তোমাকে কাজে যেতে হবে না? - হ্যাঁ, কিন্তু...
- একটা গ্লাসই তো। - উঠো! উঠো বলছি!
উঠো, উঠো!
উঠতে বলেছি!
বিড়বিড় করবে না। উঠো।
যাও।
তাকিয়ে কী দেখছো? ঘুমাতে যাও!
ওর আবার মদ খাওয়ার নেশা উঠেছে আগের মতো!!
কাজ শেষে বাসায় এসে মোষের মতো ঘুমায়!
সংসারের একটা কাজেও সাহায্য করে না!
দায়িত্বজ্ঞানহীন লোক!
আহ, গাজরের হালুয়া!
লে বাবা, পুরো বোতলটাই খালি করে দিয়েছে!
বাচ্চারা!
তোমাদের স্কুলের দেরি হয়ে যাবে! তাড়াতাড়ি রেডি হও!
নিশি... পুলি... উজগি!
- এই নাও, মা। - কী এটা?
দুধ। মধু মেশানো।
দুধ? আমাকে কি এখনো বাচ্চা মনে করো?
পুলি... এসেছ সোনা? এই নাও, দুধ।
- দুধ? চা নেই? - লিকার শেষ।
আহ, এই যে আমার গুণধর পুত্র। আসো।
দুধটা খেয়ে নাও, বাবা।
খুবই মজা খেতে! মধু মিশিয়ে দিয়েছি!
এখন এসব খায় না, বাবা! এগুলো তোমার পেটে আলসার বানিয়ে ছাড়বে!
তোমাদের আজ কী হয়েছে বলোতো?
হে আল্লাহ!
এই যে, মিষ্টি মেয়ে! এদিকে আসো!
এই নাও, দুধ!
কী? দুধ? ইয়াক!
"ইয়াক" বলবে না।
আহারে, মিররভিউয়ের দিকে কাপড়টা কে খুলে রেখেছে?
কত ধুলো ময়লা লেগেছে!
আহারে!
বাবা, আমাদেরকে গাড়িতে করে স্কুলে নিয়ে চলো।
না বাবা!
ও কোন স্কুল বাস না।
একটা দিন গাড়িতে করে আমাদের স্কুলে নিয়ে গেলে কি নষ্ট হয়ে যাবে গাড়িটা?
গাড়িতেই বা যেতে হবে কেন? স্কুল তো ১০ মিনিটের হাঁটা পথ!
পায়ে হেটে চলে যাও!
সবসময় সব জায়গায় গাড়িতে যাওয়ার অভ্যাস করো না।
চলরে সব, বাবা কোন কাজেই আসবে না আমাদের।
এই যে, অফিসে কিন্তু আমিও বাসে করেই যাই।
বেশী দূরে তো না। হেঁটে যেতে সমস্যা কী?
নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।
আচ্ছা, আমি কুদরত জিয়ানুলু।
১৯৬৫ সালে ইস্তাম্বুলে আমার জন্ম।
আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান।
আপনার সর্বশেষ কর্মস্থল সম্পর্কে কিছু বলবেন?
খুব সুন্দর একটা অফিস ছিল।
আপনি খেলাধুলা করেন?
না, তবে যে কোন খেলায় জাতীয় দলকে সাপোর্ট করি। .
আচ্ছা, আপনার সৃজনশীলতা কেমন?
দারুন!
কাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য কী করেন আপনি?
চা খাই।
কুদরত, আপনার সম্বন্ধে আপনার সাবেক কলিগদের কেমন ধারনা?
একজন ভালো মানুষ।
আপনার বন্ধুরা আপনার কী পছন্দ এবং অপছন্দ করে?
আমার আসলে সেভাবে কোন বন্ধু নেই।
ওকে, কুদরত, এখন বলুন কেন আপনাকে আমরা চাকরিটা দেবো?
আমার আসলে চারটা বাচ্চা এবং একজন বুড়ো বাবা আছে যাদের দেখাশোনা করতে হয় আমাকে।
আমার পেনশনের টাকা ফুরিয়ে এসেছে।
আমার একজন স্ত্রীও আছে যে কথা বলা শুরু করলে আর থামতে চায় না।
প্রতিদিন কাজে যাবার ভান করে বের হই, ঢুকি মধ্যরাতে।
যদি আমাকে চাকরিটা দেন...
তাহলে আপনারা মহান একটা কাজ করবেন।
আমি আরও একটা বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই যে...
আর্মিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে আমার।
বাসের অনেকগুলো সিট তো খালি। বসুন?
না, সমস্যা নেই। ঠিক আছে...
আমার আসলে পিঠে ব্যাথা।
- স্যুপটা তো বরফের মতো ঠাণ্ডা! - আরও আগে আসলে গরমাগরম পেতে।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা টাড্ডা দাও নাকি? এত দেরি হয় কেন বাসায় আসতে?
আড্ডা? আমি ওভারটাইম করি!
তোমার সংসারে দাসীর মত খাটছি গত ২৫ বছর ধরে, ৪ টা বাচ্চাও দিয়েছি তোমাকে।
দেখো, আমার শরীর কেমন হাড় জিড়জিড়ে হয়ে গেছে!
আর তোমার দিনদিন শুধু ভুড়ি বাড়ছে তো বাড়ছেই!
দেরি করে আসো, কে মানা করেছে?
একটা ফোনও নেই, যাতে কল করে তোমার খবর নিতে পারি।
এই মরার সংসারে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।
হে আল্লাহ, আমাকে তুলে নাও!
আল্লাহ উনার আত্মাকে শান্তি দান করুক।
আমিন।
হঠাত করে উনি মারা গেলেন?
ও আল্লাহর কাছে মিনতি করেছিল, যেন উনি ওকে উঠিয়ে নেন।
আর আল্লাহও উনাকে উঠিয়ে নিলেন। বড্ড বিদুষী নারী ছিলেন তিনি!
হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন।
আচ্ছা, এসব কী রেঁধেছ?
মরা বাড়িতে কি কেউ চিকেন ফ্রাই রান্না করে?
আমার বোনটা খেতে খুব পছন্দ করতো এটা।
- দারুন খেতে হয়েছে! - দুপুরে মাংস পোলাও রান্না করবো!
বাবা, এই নিয়ে তুমি তিন প্লেট চিকেন ফ্রাই খেলে?
হাঁদারাম, তোর জন্য কি একটু ভালমন্দ খেতেও পারবো না?
দুঃখিত বাবা, তোমার শরীরের ভালোর জন্যই বলেছিলাম।
নিজের চরকায় তেল দে, সেটাই ভালো হবে।
বউটা তো মরে গেল? এখন কি আবার বিয়ে করবি?
বাবা, সবার সামনে আমাকে এভাবে কেন লজ্জা দিচ্ছো?
আমি জানি, বেঁচে থাকতে তোর বউ ছিল তোর গায়ের খুঁজলির মত।
বাবা, আল্লাহর দোহাই লাগে!
- ঘরের মুরুব্বিদের এই ধরনের কথা বলা ঠিক না। - আমি বলবো, কোন সমস্যা?
তোর মায়ের কথা মনে পড়ে?
তোর মা আমাকে বাসায় কাজের বুয়ার মতো রেখেছিল।
মাঝে মাঝে রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতাম।
জুয়া খেলার বদ অভ্যাস ছিল। অনেক টাকা ঋন হয়েছিল।
তুই দেবদূতের মত আমার সব ঋন পরিশোধ করে দিলি!
এখন মাঝেমধ্যে ভাবি...
যদি তখন একটু পুরুষ মানুষের মত আচরন করতাম!
আমার সেই অসহায় মুখের ছায়া তোর মুখে দেখেছি!
আর মুরগির বাচ্চা হয়ে থাকিস না!
আচ্ছা বাবা, আরও চিকেন ফ্রাই লাগলে বলো।
- এনে দেবো। - আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোন।
সামনে তোর বাকি জীবনটা পরে আছে।
জীবনটাকে নিজের মতো করে উপভোগ কর।
তোর জায়গায় আমি হলে কোন পিছুটানের ধার ধারতাম না।
শিরায় শিরায় আবার জাগিয়ে তোল উত্তপ্ত আদিম রক্ত!
আল্লাহ এখন আমাকে উঠিয়ে নিলেও কোন আফসোস থাকবে না।
- আল্লাহ উনার আত্মাকে শান্তি দান করুক। - আমিন।
হঠাত করে উনি মারা গেলেন?
উনি বলেছিলেন যে আল্লাহ উনাকে উঠিয়ে নিলেও কোন আফসোস থাকবে না তার।
আর আল্লাহও উনাকে উঠিয়ে নিলেন! বড্ড ভালো মানুষ ছিলেন!
হ্যাঁ।
- দুলাভাই। - বলো।
বাচ্চারা কিছুদিন না হয় আমার সাথেই থাকুক?
চার চারটা বাচ্চা সামলানো আপনার জন্য কঠিন হবে এই মুহূর্তে।
তোমাকে আর কষ্ট দিতে চাই না আসলে।
কিসের কষ্ট, ওসব ছাইপাশ বলবেন নাতো!
তারা এমনিতেও কোথাও যাবে না, গুল।
তারা আমাকে ছাড়া থাকতেই পারবে না।
বাবা, তুই?
মা।
এখানেই গ্রিল বানাতে হবে তোদের? অন্য কোথাও যা।
- কেমন আছিস, বাবা? - ভালো আছি, মা।
এত তাড়াতারি এখানে আসলি কেন?
আমার আর কেউ নেই, মা!
আমাকে কেউ ভালোবাসে না।
বউ না, বাবাও না, বাচ্চারাও না।
মা, আমি খুব একা। আমাকে কারোরই দরকার নেই।
বুঝলাম বাবা, কিন্তু কিছু ভিটামিনের ট্যাবলেট আর কাশির সিরাপ খেয়ে তো তুই মরবি না।
- মরবো না? - অবশ্যই না।
আর তাছাড়া, তোকে অনেক মানুষের দরকার।
- আমাকে? - হ্যাঁ, তোকেই।
চেয়ে দেখ।
মেয়েটার নাম লেলিফার।
তোকে ওর বড্ড প্রয়োজন।
সেজন্য তোকে অবশ্যই তিন দিনের মধ্যে গাজিন্টপ ক্যাসলে যেতে হবে।
অন্যথায়, অনেক দেরি হয়ে যাবে।
কিসের দেরি হয়ে যাবে, মা?
বলদের মতো প্রশ্ন করা বন্ধ করে ওখানে রওনা দে।
তুই পিচ্চি থাকতে সবসময় কী বলতাম মনে আছে তোর?
'তোর বদলে যদি একটা পাথর পয়দা করতাম তাও ভালো ছিল!"
- না, এটা না। - 'একটা গাধাও তোর চেয়ে বুদ্ধিমান।'
আরে ধুর, এইটা না!
'বাচ্চাদের মত রাতে বিছানায় মুতবি না।' 'পড়তে বস'
'সবাই তোর চেয়ে বেশি মার্ক্স পায়, তুই প্রতিবার আন্ডা পাস কেন?'
এছাড়াও তুমি আমাকে জাম্বু, গোপাল ভাড়- আরও অনেক কিছু বলতে।
বাবারে, থাম এবার! তোকে কি কোনদিন ভালো কিছু বলিনি আমি?
বাবা, তোর নামের অর্থ জানিস? "শক্তি"
'কখনো কোন অবস্থাতেই নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবি না।'
'তোর সাথে থাকা মানুষগুলোকে কখনই ছেড়ে যাবি না।'
'মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করিস।' এরকম কি কিছুই বলিনি তোকে?
আমার আসলে এসব কিছুই মনে নেই, মা।
হাতির বাচ্চা, তোর কেন মনে থাকবো না?
তোর কাজিন একবার এসেছিল বাসায়।
তুই ওকে তোর পুতুলগুলো ছুঁতে দিসনি!
- তখন বলেছিলাম, মনে পরেছে? - না, তুমি বলোনি মা।
বলিনি মানে?
তখন তুমি রান্নাঘরের কড়াইটা দিয়ে আমার মাথায় একটা বাড়ি দিয়েছিলে!
এখনো সেই চিহ্ন আছে মাথায়!
যদি তখন এটা না বলে থাকি তো এখন বলছি! মাথায় ঢুকেছে।
৩ দিনের ভেতরে অই ক্যাসলে থাকবি তুই! লেলিফারের দরকার তোকে।
মা?
মা?
মা।
লেলিফার, আমি আসছি!
ভাই, কিছু লাগবে?
মরার ইস্তাম্বুলের জ্যাম!
ঢাকার জ্যামও এতক্ষন থাকে না।
চার্জার লাগবে মোবাইলের?
অথবা একটা সেলফি স্টিক? আপনি আরও বেশি লাইক পাবেন!
ওটা আবার কী?
এটা কেমন আচরণ?
আমার কোন ফোন নেই।
বলুন, যে আপনার লাগবে না। এই বুড়ো বয়সে মিথ্যা কথা বলার দরকার কী?
চার্জার!
চার্জার! ১০ মিনিটে ১০০% চার্জ হয়!
এটা কেমন লাগে, দেখুন তো?
এদিকে আয়!
শালা, কোথায় যাচ্ছিস? এদিকে আয়!
No comments yet. Be the first to leave one.