200 baris pertama.
অনেক অনেক আগে, কোন এক দূর দেশে,
ঝকঝকে এক প্রাসাদে বাস করত এক রাজকুমার।
যদিও সে তার চাওয়া সব কিছুই পেত,
রাজকুমার ছিল স্বার্থপর আর নিষ্ঠুর।
একদিন এক শীতের রাতে,
এক বৃদ্ধ ভিখারিনী প্রাসাদে এলো,
আর তাঁকে একটি গোলাপ দিতে চাইল
আর তার পরিবর্তে সে চাইল শীত থেকে বাঁচার জন্য একটু আশ্রয়।
বৃদ্ধার জীর্ণশীর্ণ অবস্থা দেখে,
রাজকুমার তার উপহার নিতে অস্বীকৃতি জানালো, আর তাঁকে তাড়িয়ে দিল।
কিন্ত সেই মহিলা রাজকুমারকে সাবধান করে দিল কারো চেহারা দেখে কাউকে বিচার না করতে।
সৌন্দর্য মানুষের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
কিন্ত রাজকুমার যখন আবার তাঁকে তাড়িয়ে দিতে গেল, সেই বৃদ্ধার কদর্যতা অদৃশ্য হয়ে গেল
আর সে পরিণত হল এক সুন্দরী যাদুকরীতে।
রাজকুমার ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্ত অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে,
কারণ যাদুকরী জেনে ফেলেছে যে, রাজকুমারের মনে একটুও ভালোবাসা নেই।
আর তাই শাস্তিস্বরূপ,
সে তাঁকে একটি বীভৎস জন্তু বানিয়ে দিল।
আর তার প্রাসাদের ওপর এবং সেখানে যারা বাস করত তাদের সবার ওপর শক্তিশালী যাদু করল।
নিজের পাশবিক মূর্তি দেখে,
রাজকুমার নিজেকে প্রাসাদের অন্তরালে বন্দী রাখল,
বাইরের জগত দেখার জন্য তার কাছে কেবল রইল একটি যাদুর আয়না।
যে গোলাপটি সেই যাদুকরী দিতে চেয়েছিল
সেটি আসলে ছিল একটি মন্ত্রপূত গোলাপ,
যা রাজকুমারের বয়স ২১ হওয়া পর্যন্ত ফুটতে থাকবে।
যদি ফুলটির শেষ পাপড়ি ঝরে পড়ার আগেই সে অন্যকে ভালবাসতে শেখে
আর তার বদলে অন্যের ভালোবাসা অর্জন করতে পারে,
কেবল তখনই যাদুর প্রভাব কেটে যাবে।
আর যদি তা না হয়,
সে চিরদিনের জন্য পশু হয়েই বেঁচে থাকবে।
যত দিন যেতে লাগল,
হতাশা রাজকুমারকে ঘিরে ধরল আর সে সব আশা ছেড়ে দিতে লাগল,
কারণ একজন পশুকে কে ই বা ভালবাসতে আসবে?
ছোট শহর, শান্ত শহর।
যার সব দিনই একই রকম।
ছোট শহর, অনেক মানুষ।
যারা জেগে উঠেই বলে... হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো।
ওইতো রুটিওয়ালা যাচ্ছে সবসময়ের মত তার ট্রে নিয়ে।
সেই একই রুটি আর রোল নিয়ে।
প্রতিটা সকালই একই রকম
যতদিন ধরে আমরা এই
গ্রাম্য শহরে এসেছি।
- শুভ সকাল, বেল। - শুভ সকাল জনাব।
- কোথায় যাচ্ছ? - বইয়ের দোকানে।
আমি চমৎকার একটি গল্পের বই পড়া শেষ করেছি।
- এতে ছিল শিমগাছ আর রাক্ষসের কথা, আর... - অনেক সুন্দর।
ম্যারি, রুটিগুলো দাও! জলদি!
দেখ, ও যাচ্ছে। মেয়েটি অবশ্যই আজব।
যদিও সে সে সবাইকে বিভ্রান্ত ও হতবুদ্ধি করে রাখে।
সে কোন মানুষের ভিড়ে যায়না।
কারণ সে তার নিজের ভাবনা নিয়েই ব্যাস্ত।
কেউ না বলবেনা যে বেল একটি আজব মেয়ে।
- হ্যালো। - শুভদিন।
আপনার বাড়ীর সবাই কেমন আছে।
- হ্যালো। - শুভদিন।
আপনার স্ত্রীর কি খবর?
আমার ৬টি ডিম দরকার।
এটা অনেক দামি।
অবশ্যই এই শহুরে জীবনের চেয়ে ভালো কিছু আছে।
- বেল। - শুভ সকাল।
আমি আমার নেয়া বই ফেরত দিতে এসেছি।
পড়া শেষ?
আমি এটা থেকে চোখ সরাতে পারিনি। আপনার কাছে নতুন কিছু আছে?
গতকাল থেকে নতুন কিছুই আসেনি।
সমস্যা নেই, আমি এটা নেব।
এটা? কিন্ত তুমি এটা আগেও দুবার পড়েছ।
ঠিক, কিন্ত এটা আমার অনেক প্রিয়।
দূর-দূরান্তের জায়গা, তুমুল তলোয়ার যুদ্ধ, যাদু-টোনা, ছদ্মবেশী রাজপুত্র।
তোমার যদি এতই পছন্দ হয়, তাহলে এটা তোমারই।
- কিন্ত, স্যার... - আমি দেবই।
আচ্ছা, ধন্যবাদ। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
দেখ, সে যাচ্ছে। মেয়েটি খুব অদ্ভুত।
আমার কাছে আজব লাগে যে,
সে তার স্বপ্নের জগত ,কল্পনা
বইয়ের মধ্যে নাক ডুবিয়ে কিভাবে বসে থাকে।
সবার কাছেই বেল একটি ধাঁধাঁর মত।
কি আশ্চর্যজনক এটা, তাইনা?
এটা আমার প্রিয় অংশ।
কারণ এখানে
তার প্রিন্স চার্মিং এর সাথে দেখা হয়।
কিন্ত তৃতীয় অধ্যায়ের আগে সে বুঝতে পারেনা যে,
এটা সে।
হেই, হেই! হেই, হেই, হেই!
তাঁর নামের মানে সৌন্দর্য, আর এতে অবাক হবার কিছুই নেই।
তাঁর সৌন্দর্যের তুলনাই হয়না
কিন্ত তাঁকে সামনাসামনি এত ভালো লাগলেও
আমার মনে হয়না সে অতটা সুন্দরী।
সে আমাদের থেকে অনেক আলাদা।
সে আমাদের কারো মতই নয়।
হ্যাঁ, বেল আমাদের সবার থেকে আলাদা।
ওয়াও! তোমার কোন নিশানাই ভুল হয়না, গ্যাস্টন।
তুমি পৃথিবীর সেরা শিকারি।
- আমি জানি। - কোন জীবন্ত জন্তুই
তোমার সামনে দাঁড়ানোর সাহস পায়না।
- আর কোন মেয়েও তোমার পাত্তা পায়না। - ঠিক বলেছ, লে-ফৌ।
আর আমি ওই মেয়ের ওপর আমার মনস্থির করেছি।
- ওই আবিষ্কারকের মেয়ে? - ও ই হচ্ছে সেই ভাগ্যবতী
- যাকে আমি বিয়ে করতে চলেছি। - কিন্ত সে...
- শহরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে। - আমি জানি, কিন্ত...
এজন্যই সে সবার থেকে সেরা।
- আমি কি সবার থেকে সেরাটা আশা করতে পারিনা? - হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি বলতে চাইছি, করো।
যখন তাঁর সাথে আমার প্রথম দেখা হয়, তাঁকে দেখে
যখন তাঁর সাথে আমার প্রথম দেখা হয়, তাঁকে দেখে
আমি বললাম , সে চমৎকার আর আমি তাঁর প্রেমে পড়ে গেলাম।
এই শহরে সেই একমাত্র মেয়ে
যে কিনা আমার মত সুন্দর
তাই আমি বেল'কে বিয়ের প্রস্তাব দেবার আর বিয়ে করার পরিকল্পনা করছি।
দেখ, সে যাচ্ছে।
সে কি স্বপ্নময়, তাইনা?
জনাব গ্যাস্টন।
ওহ, সে কি মিষ্টি।
হে হৃদয়, শান্ত হও।
আমার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সে কত লম্বা, শক্তিশালী আর সুদর্শন কঠিন হৃদয়ের মানুষ।
- হ্যালো। - শুভ দিন।
- আপনি একে বেকন বলছেন? - আঙুরগুলো কি সুন্দর।
- একটু পনির। - দশ গজ।
- দুঃখিত। - আমি ছুরি আনছি।
- আমাকে যেতে দিন, প্লিজ। - এই রুটিগুলো, শক্ত হয়ে গেছে।
- ওই মাছগুলো, দুর্গন্ধ বেরুচ্ছে। - ম্যাডামের নিশ্চয়ই ভুল হচ্ছে।
অবশ্যই এই শহুরে জীবনের বাইরে আরো অনেক কিছুই করার আছে।
শুধু দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখ আমি বেলকে আমার স্ত্রী বানাবোই।
দেখ, সে যাচ্ছে। একটি মেয়ে, যে অদ্ভুত অথচ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে আজব মেয়ে।
এটা খুবই দুঃখের কথা যে,
সে আমাদের সাথে খাপ খাইয়ে চলে না।
কারণ সে আসলেই একটি মজাদার মেয়ে।
একটি সুন্দরী কিন্ত মজার মেয়ে,
সে আসলেই খুব মজার মেয়ে
যার নাম বেল।
- হ্যালো, বেল। - হ্যালো, গ্যাস্টন।
গ্যাস্টন, আমি কি আমার বই ফেরত পেতে পারি, প্লিজ?
এটা তুমি কিভাবে পড়ো? এতে তো কোন ছবি নেই।
হ্যাঁ, কিছু মানুষ তাদের কল্পনাশক্তি ব্যাবহার করতে জানে।
বেল, এখনই সময় বইয়ের চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে
আরো গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ের ওপর নজর দেয়া।
যেমন আমি।
সারা শহর এ নিয়ে কথা বলছে।
মেয়েদের পড়াশোনা করা ঠিক না।
কারণ এতে সে নানা পরিকল্পনা আর চিন্তাভাবনা করতে শেখে।
গ্যাস্টন, তুমি আসলেই আদিম যুগের মানুষ।
কি যে বলোনা, ধন্যবাদ, বেল।
চলোনা, তুমি আর আমি হেঁটে সরাইখানার দিকে যাই
- আর তুমি আমার সংগ্রহগুলো দেখবে, কি বলো? - অন্য কোন সময়ে।
- ওর সমস্যা কি? - ও পাগল।
সে খুব জমকালো।
প্লিজ, গ্যাস্টন, আমি পারবোনা। বাড়ি গিয়ে আমার বাবাকে সাহায্য করতে হবে।
বিদায়।
ওই পাগলা বুড়ো। তাঁর তো সবকিছুতেই সাহায্যের দরকার হবে।
আমার বাবা সম্পর্কে এভাবে বলবে না।
হ্যাঁ! ওর বাবাকে নিয়ে এভাবে বলবেনা।
আমার বাবা পাগল নয়। সে একজন প্রতিভাবান।
- পাপা? - এসব কিভাবে হল?
- বাদ দাও! - তুমি কি ঠিক আছ, পাপা?
আমি... আমি এই লক্কর-ঝক্করের আশা ছেড়ে দিচ্ছি।
- তুমি সবসময়ই এসব বলো। - এবার সত্যি সত্যি বলছি!
আমি কখনোই এই মাথামোটা বিদঘুটে যন্ত্র দিয়ে কাজ করাতে পারবোনা!
হ্যাঁ, তুমি পারবে। আর আগামীকালের মেলায় তুমি প্রথম পুরষ্কার জিতবে।
আর তুমি হবে বিশ্বের সেরা আবিষ্কারক।
তোমার তাই বিশ্বাস?
আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।
তাহলে আমরা অপেক্ষা করছি কেন? আমি অল্পক্ষণের মধ্যেই এটা সারিয়ে তুলছি।
আমাকে ওই... কুকুরের পায়ের মত দেখতে যন্ত্রটা দাও।
তাহলে, আজ শহরে তোমার দিন নিশ্চয়ই ভালো কেটেছে?
আমি একটি নতুন বই পেয়েছি।
পাপা, আমাকে কি তোমার উদ্ভট মনে হয়?
আমার মেয়ে? উদ্ভট?
তোমার মাথায় এমন চিন্তা কোত্থেকে এলো?
আমি জানিনা। আমি আসলে এখানকার মানুষদের সাথে মানিয়ে নিতে পারছিনা।
আমার সাথে কথা বলার মত কেউই নেই।
কেন গ্যাস্টন আছেনা? সে একটি সুদর্শন ছেলে।
সে সুদর্শন, ঠিক আছে, কিন্ত সে রূঢ়, অহংকারী আর...
পাপা, সে আমার মত নয়।
আহা, চিন্তা করোনা তো।
কারণ এই আবিষ্কার আমাদের নতুন জীবনের সূচনা করতে চলেছে।
আমার ধারণা, হয়ে গেছে। এখন, একে চালিয়ে দেখি।
- এটা কাজ করছে! - সত্যি?
- আসলেই তো! - তুমি করে ফেলেছ।
তুমি আসলেই করে ফেলেছ!
তৈরি হয়ে নাও ফিলিপ। আমি মেলায় যাচ্ছি!
বিদায়, পাপা। সৌভাগ্য তোমার সহায় হোক।
বিদায়, বেল। আমার অনুপস্থিতিতে নিজের খেয়াল রেখ।
আমাদের এতক্ষণে পৌঁছে যাবার কথা।
মনে হয় আমরা কোন মোড় ভুলে পেছনে ফেলে এসেছি।
আমার মনে হয় আমাদের... একটু দাঁড়াও।
না। চলো এদিকে যাই।
এসো, ফিলিপ, এটা একটা শর্টকাট। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যাবো।
এটা ঠিক পথ না। তুমি আমাদের কোথায় নিয়ে এলে, ফিলিপ?
আমাদের ফিরে যাওয়া উচিৎ।
ওঃ , ওঃ, বাবা। ওঃ, না। ওঃ, ফিলিপ।
সাবধান! না!
ওঃ!
ওঃ, বাপরে!
পেছনে যাও, পেছনে যাও, পেছনে যাও!
ভালো ছেলে, ভালো ছেলে। খুব ভালো, খুব... পেছনে যাও!
শান্ত, এখন শান্ত হও। শান্ত।
শান্ত। না, ফিলিপ!
ফিলিপ?
বাঁচাও! কেউ... কেউ কি আছেন?
বাঁচাও!
No comments yet. Be the first to leave one.