200 baris pertama.
"মি-সুং-লি" গ্রাম ধান আর আপেলের জন্য সুপরিচিত।
কিছু কিনতে হলে, শহরে যেতে হয়।
যেতে আর আসতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগে।
৩ মাস আগে শীতকালে সউল থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছি।
LITTLE FOREST ___ক্ষুদ্র অরণ্য___
শীতের মৌসুমে মালকড়ি স্যুপ চাই-ই-চাই।
মালকড়িটা ২ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তুষার পরিষ্কার করতে যাওয়ার ঠিক আগে।
জে-হা?
ঠান্ডায় জমে যাওয়ার সময়, এক চুমুক মালকড়ি স্যুপ...
ঘরে থাকা চাল, আটা শেষ।
শহরে যেতে হবে নয়তো ফুফুকে জানাতে হবে।
আর নয়তো অনাহারে থাকতে পারি।
কাউকে জানাতে চাই না যে আমি এখানে এসেছি।
সং হে-উন!
কখন এসেছিস? আমাকে কল দিসনি কেন!
কাঠগুলো কাটার পরই দিতে যাচ্ছিলাম।
মিথ্যা বলবি না।
এসেই কল দেওয়া উচিত ছিল।
পড়ে যাবো তো!
ওয়েলকাম।
তোকে মিস করেছি।
তা কেন এসেছিস? পরীক্ষায় পাশ করেছিস?
এসে একবার কলও দিলি না!
তোর বয়ফ্রেন্ড পাশ করেছে?
আহ...
কিছু বন্ধু বেছে বেছে দুর্বল জায়গায় আঘাত করে।
উন-সুক সেরকমই একজন।
বুঝেছি।
তুই ফেল করেছিস, আর সে পাশ।
সেটা আত্মমর্যাদায় লেগেছে তাই লুকোতে এসেছিস?
আগেও তো এরকম করেছিস!
- পরীক্ষায় যখন খারাপ করেছিলি। - চুপ কর!
আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলি।
সেজন্যই এসেছিস, তাই না?
না রে ভাই। ক্ষুধার জ্বালায় এসেছি।
বয়ফ্রেন্ডের উপর হিংসা হচ্ছে বলে নয়?
আমি সত্যিই ক্ষুধার্ত।
কী?
জে-হা কে ডাকবো?
জে-হা?
ও কতদিন হলো ফিরে এসেছে?
জে-হা কাছেরই একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো আর একটা চাকরিও পেয়েছিল।
যেহেতু আমি সউলে পড়তে গিয়েছিলাম, তাই স্বাভাবিকভাবেই আর যোগাযোগ হয়নি।
ও বাবা-মাকে চাষাবাদের কাজে সাহায্য করতে করতে একটা ছোট ফলের বাগান করা শুরু করেছে।
১২ নম্বর, প্লিজ!
উন-সুক কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট করে শহরের একটা ব্যাংকে চাকরি পেয়েছে।
কোনোদিন বাইরে কোথাও থাকতে না পারায়, এই এলাকাকে বিরক্তিকর বলে বেড়ায়।
ও এখান থেকে পালিয়ে গিয়ে শহরে বসবাস করার স্বপ্ন দেখে।
আমি কাজ করতাম আর শিক্ষিকা হবার জন্য লেখা-পড়া করতাম।
সউলের জীবনও শ্বাসরুদ্ধকর ছিল।
ইনস্ট্যান্ট খাবার-দাবারে তৃপ্তি পেতাম না।
তখন "ক্ষুধার জ্বালায় এসেছি" বলতে এটাই বুঝিয়েছিলাম।
খাবারের জন্য ধন্যবাদ!
হে-উন, আমি পাশ করেছি।
জানি না তুমি কেমন করেছো, তাই সত্যিই খুশি হতে পারছি না।
কল দিয়ো। অপেক্ষায় থাকবো।
কে ওখানে?
বছরের এই সময়ে বুনো শূকররা এখানে আসে।
হরিণের কান্না কি মানুষের মতো নয়?
ঠিক যেন একটা পাগল মহিলা কাঁদছে।
থামো না, আম্মু! প্লিজ, আম্মু!
তুমি এখানে কী করছো?
ফুফু?
তুমি কীভাবে জানলে?
চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে দেখে।
ভাবলাম তোমার মা ফিরে এসেছে।
কেমন আছো?
আম্মু কি এখানে এসেছিল?
আমার জানা নেই। প্রতিদিন তো আর এখানে আসি না।
তোমার মা ফিরে এসে 'এসেছি' বলার মহিলা নয়।
তার সাথে যোগাযোগ আছে?
খোদা।
তুমিও ঠিক মায়ের মতো।
কী?
ভেবেছিলাম তোমার মা-ই কেবল অন্যরকম। তুমিও কম যাও না।
একদম তার মতো হয়েছো।
হ্যাঁ, ইনিই বাবার বোন।
নাস্তা করতে আসো আর কিছু খাবার নিয়ে যাও।
সমস্যা নেই। বেশিদিন থাকবো না।
কবে যাবে?
৩/৪ দিনের মধ্যে।
আম্মু কখনও ফিরে আসলে, আমার আসার কথা তাকে বলবে না।
- হুম? - আচ্ছা...
কী হলো? চলো!
আস্তে খাও। গলায় আটকে যাবে।
তোমাকে এমন রোগাপটকা লাগছে কেন?
আস্তে খাও না!
- খুব মজা হয়েছে! - খোদা...
আচারটাও খেয়ে দেখো।
- অনেকদিন পর দেখা। - অনেকদিন...
কুকুর কেন?
এইতো।
একা ঘুমোতে ভয় লাগতে পারে।
ও কীভাবে আমায় স্বস্তি দেবে? তাছাড়া শীঘ্রই ফিরে যাবো।
উষ্ণ আর জীবন্ত জিনিস খুব স্বস্তিদায়ক।
শীঘ্রই যখন চলে যাচ্ছো, এত খাবার আনলে কেন?
যাই।
ওর নাম ফিভো! পাঁচ নাম্বারে জন্মেছে।
দাঁড়াও! একে নিয়ে যাও!
"স্যরি, হুন। শীঘ্রই ফিরে এসে..."
এই!
কলেজ ভর্তি পরীক্ষার কয়েকদিন পর...
আম্মু! খুব খিদে পেয়েছে!
আম্মু?
আম্মু!
আম্মু?
আম্মু?
- ফুফু, এসেছো? - হ্যাঁ।
তোমার মা কোথায় গেছে? কিছু বলে যায়নি?
সকালে এসে আমায় বললো তোমাকে দেখে রাখতে।
কেন তা বলেনি। সেটা বলেই চলে গেল।
কিছু খেয়েছো?
খিদে পায়নি।
তুমি এখনও লেখাপড়াও শেষ করোনি। পাগল, পাগল একটা!
চিন্তা করো না। শীঘ্রই ফিরে আসবে।
মনে হয় না।
লুকানো চিঠিতে, আম্মু তার চলে যাওয়ার কারণ লিখে যায়।
কিন্তু সেটার মাথা-মুণ্ডু কিচ্ছু বুঝিনি।
ভালোভাবেই জানতাম যে আম্মু অতো তাড়াতাড়ি ফিরবে না।
আমার ৪ বছর বয়সে আমরা বাবার বাড়িতে চলে আসি।
কারণ আব্বু অসুস্থ ছিল, কিন্তু আব্বু মারা যাওয়ার পরও আমরা এখানে থেকে যাই।
হঠাতকরে আম্মুর চলে যাওয়াটা আমার মধ্যে রাগ আর কৌতূহলের সঞ্চার ঘটায়।
তাই সুখে জীবনযাপন করে প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম, আম্মুকে আমার প্রয়োজন নেই।
এইতো, হে-উন!
ভালো খবর মনে হচ্ছে।
কিন্তু কোনো উত্তর না খুঁজেই ফিরে এসেছি।
আম্মু কি নিজেরটা খুঁজে পেয়েছে?
ফিভো, এখানে আসো।
আরে, কোথায় যাচ্ছো?
উন-সুক, মটরশুঁটি বাটতে পারবি?
এই, আমি তোর অতিথি না।
ওই, কীভাবে একজন অতিথিকে কাজ করতে বলছিস?
এগুলো কী?
ঠিকঠাক হচ্ছে তো?
হ্যাঁ।
দারুণ করছেন!
জি, জি।
সব বাটা শেষ!
এখন কী করবো?
কী রঙিন!
ফিভো! ফিভো!
বসো, ফিভো!
বসে যাও!
পা দাও!
লক্ষ্মী কুকুর।
হয়েছে?
প্রায়।
- খারাপ না, তাই না? - কী?
জে-হা। তোর কী মনে হয়?
পুরুষ হিসেবে কেমন?
ওকে না আমরা 'ক্যাবলা' বলে ডাকতাম?
আজকাল কি তোর চোখে বীরপুরুষ লাগে?
নামটা তুই দিয়েছিলি!
না মানে, এই গ্রামে আর কোনো ছেলে নেই তো।
ও কিউট।
আমি আগ্রহী নই।
শুধু ডেটিং আর ডেটিং... শহরে, এখানে, সবখানে একই জিনিস।
তাহলে, ওর দিকে কুনজর দিবি না। ও কেবল আমার।
বুঝেছিস?
- ওই! - কী?
হয়ে গেছে।
তুই রাইস কেক কীভাবে বানাস?
একদম তোমার মায়ের রাইস কেকের মতো হয়েছে।
আমার তো মনে হয় আমারটাই বেশি মজা।
তবে সামান্য পার্থক্য আছে।
কীরকম?
তোমার মায়েরটা একটু মিষ্টি হতো।
তোমারটা খেতে সামান্য নোনতা।
কীভাবে মনে রেখেছো? এটাই বেশি মজা হয়েছে।
ও কীভাবে জানলো?
আম্মু গন্ধরাজ ফুলের পরিবর্তে মিষ্টি কুমড়া দিতো বলে মিষ্টি হতো।
আর আমি মটরশুঁটি সিদ্ধ করার সময় লবণটা একটু বেশি দিয়ে থাকি।
খুব ঠান্ডা! চুল্লির দিকে খেয়াল রেখো।
- বললি এখানে ঘুমাবি। - কখন বললাম?
আমায় পৌঁছে দিবে?
তোমার বাড়ি তো কাছেই।
রাস্তায় কোনো লাইট নেই! অন্ধকারে দেখতেই পাই না।
গরমকাল শুরু হলে ফিভোকে বাইরে ঘুমোতে পাঠাবে।
শীঘ্রই ফিরে যাচ্ছি বললাম না।
সউলে গিয়ে কী করবি?
ফেল করেছিস, চাকরি ছেড়েছিস, আর প্রেমিকের সাথেও তো কথা বলিস না।
কোথাও যাবি না!
চলো!
আবার কালকে আসবো।
৭টার সময় যেন একটা সিট থাকে।
- খুব ঠান্ডা। চলো। - ধুর!
- এরকম করো কেন! - এই!
অদ্ভুত ব্যাপার।
- কী? - বুঝতে পারছি না।
হে-উন।
ওর মায়ের সন্ধান করছে না। তারা তো খুব ঘনিষ্ঠ ছিল।
আত্মমর্যাদা।
ও নিশ্চয় মাকে নিয়ে উৎসুক আর ক্ষিপ্ত।
কিন্তু সেটা প্রকাশ করলে, ভাবছে হেরে যাবে।
ও মাধ্যমিক পাশ করেই সব ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিল।
কিন্তু ওর মা আগে চলে গেছে কিনা!
যা ওর আত্মমর্যাদায় লেগেছে।
মা-মেয়ের মাঝে এমন হয়?
মা-মেয়ে বলেই তো হয়েছে।
হে-উন খুবই অহংকারী মেয়ে।
No comments yet. Be the first to leave one.