De eerste 200 regels.
Rᴀᴊᴅᴇᴇᴘ Dᴀꜱ ᴘʀᴇꜱᴇɴᴛꜱ
আর্টিকেল ১৫
ভগবান রামচন্দ্র যখন অযোধ্যা আসছিলেন।
ওই রাস্তার প্রতিটা গ্রামেই প্রদীপ জ্বালিয়ে ছিল উনার স্বাগতমের জন্য।
কিন্তু একটা গ্রামে অন্ধকার ছিল।
মা বলেছিলেন প্রভু রামচন্দ্র এই ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছিলেন।
গাড়ি থামালেন, নামলেন এবং গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসা করলেন..
যে "ভাইয়া অন্ধকার কেন?"
গ্রামবাসীরা বললেন যে আমারো প্রদীপ জ্বালিয়েছিলাম আপনার স্বাগতমের জন্য।
হঠাৎ ঝড় এলো আর সব প্রদীপ নিভে গেলো।
তারপর আমরা দেখলাম আমাদের অন্ধকারে আপনার মহল আরো বেশি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।
তাই নিজেদের গ্রামে অন্ধকারই রেখে দিলাম।
ভারতের গ্রামাঞ্চল বেশ সুন্দর, অদিতি।
দিল্লির সম্পূর্ণ অক্সিজেন এখানেই এসে গেছে সম্ভবত।
ওই চন্দ্রভান দাঁড়াও ১ মিনিট।
ওখান থেকে একটা জলের বোতল আনো।
স্যার, এটা পাশিদের গ্রাম।
- মানে? - নিচু জাত, স্যার।
শুয়োর পোষে।
আমরা এদের হাতের জল খাই না।
স্পর্শও এবং ছায়া মারানোরো অনুমতি নেই, স্যার।
নেহাল সিং নিয়ে আসো।
মজার জায়গা, আমার ড্রাইভার বলছে ছায়া মারানোরো অনুমতি নেই।
নিচু জাতিদের গ্রাম।
মজার কি আছে?
বাসুন তো আমাদের মাও আলাদা রাখতো চাকরদের, কিছু বছরে আগে পর্যন্ত।
ওরা আমার দিকে তাকাচ্ছে যেন ব্রিটিশ ফিরে এসেছে।
এটাই তো হবে, Pege - 7 ভারতে স্বাগতম মি. লড মাউন্ট ব্যাটেন।
হ্যাঁ, হ্যাঁ, page 7 ভারতও হবে কিন্তু তুমি যতটা ভাবছো ততটা নয়।
নাও আবার শুরু হয়ে গেলো!
এখান থেকে ডানদিকে গেলে স্যার, অযোধ্যা।
সিধে গেলে লখনৌ।
আর যদি বাঁয়ে মুড়ে যান তাহলে হাইওয়ে থেকে সিধা কলকাতা।
বেশ উন্নয়ন চলছে এখানে। মলটল হচ্ছে নাকি?
না, স্যার, মহান জ্বীর আশ্রম। একদম মাল্টিপ্লেক্স আশ্রম আছে!
সার্কেল অফিসার ব্রহ্মদত্ত। আসলে, ব্রহ্মদত্ত সিং, স্যার।
আসুন। স্যার, এদিকে।
জয় হিন্দ, স্যার।
এস.আই কিসান জাতভ, স্যার।
অজয় সিং, স্যার।
রাজেশ মিশ্র।
প্রমোদ যাদব।
ও নিহাল সিংয়ের ছোট বোন।
রান্না খুব ভালো বানায়।
যদি কিছু মনে না করেন, আপনার সেবার নিযুক্ত করে দিলাম।
ও স্যার...যাদব...আর ও..
নমস্কার, স্যার।
লালগাঁয়ে স্বাগতম।
ও অংশু নাহারিয়া, স্যার। সম্মানিত ঠিকাদার।
আপনার টয়লেটে কিছু মেরামতের কাজ ছিল।
আমি নতুন লাগানোরই প্রস্তাব দিলাম।
আসলে এখানের অর্ধেক সরকারি চুক্তি উনিই সামলান, রেলপথ, রাস্তাঘাট
অনেক বড়ো বড়ো শৌচাগার বানিয়েছেন অংশু ভাই আগের বছরে।
স্যার SP সাহেব আপনার স্বাগতমের জন্য অনুষ্ঠান রেখেছেন রাতে।
ফ্রেস হয়ে নিন, স্যার?
বলছিলেন উনি যাওয়ার আগে বাকি সবার সাথে সাক্ষাৎ সেরেও নেবেন।
কথায় আছে যে..
এই নিমের গাছ চন্দনের চেয়ে কম নয়।
আর আমাদের এই লালগাঁও লন্ডনের চেয়ে কম নয়!
- নিহাল সিং, এটা আমাদের অনুষ্ঠান? - জ্বি, স্যার।
স্বাগতম, মি. আয়ান রঞ্জন।
স্যার, মায়াঙ্ক।
আপনাকে সিঙ্গেল মল্টের বুদ্ধি ইনিই দিয়েছিলেনা আপনার ফেসবুক দেখে।
- ইনস্টাগ্রাম দেখেছিলাম। - ওই হলো।
এদিকে আসুন।
ভাই ও বোনেরা,
আমাদের মাঝে এসে পড়েছেন আমাদের নতুন
বড়ো, বড়ো, বড়ো পুলিশ অফিসার।
শ্রী আয়ান রঞ্জন, রঞ্জন, রঞ্জন, রঞ্জন।
হাততালি!
বলা হয় যে...
চাঁদ উঠেছে বহু বছর পর।
মজাও এসে গেলো আপনার আসার পর।
ঠিকভাবে চাপা দে।
আমি উনার বইয়ের ভক্ত।
আপনার বাবা লেখক, স্যার?
একজন প্রবীণ IFS অফিসার।
অবসরের পর উনি বই লিখেছিলেন।
আয়ান, আপনার পড়ালেখা বিদেশেই হয়েছে নিশ্চই?
না, স্যার। গ্রাডুয়েশন করেছি দিল্লিতে। সেন্ট স্টিফেন্স।
ইউরোপ গেছিলাম তারপর বাবা বললো অনেক হয়েছে, তাই চলে এলাম।
আর প্রথম পোস্টিং? লালগাঁওতে!
- স্যার, শাস্তি পেয়েছি। - শাস্তি?
- ঝগড়া হয়েছিলো নাকি? - না, না, স্যার। ভালোবাসায় হয়েছিলো।
আসলে শাস্ত্রীজিকে "কুল স্যার" বলে ফেলেছিলাম।
মদনলাল শাস্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রসচিব, দিল্লির।
শাস্ত্রীজিকে "কুল স্যার" বলে দিলেন?
আসলে পাশের অনুষ্ঠান ছিল, উনি কিছু বললেন।
আমি বললাম "কুল স্যার।"
তারপর উনি কী বললেন?
২ সেকেন্ড দাঁড়ালেন তারপর বললেন..
"কুল!"
এই ২০ টাকা বাচ্চু রাইয়ের তরফ থেকে আমাদের গায়ক অমিতজিয়ের জন্য।
ধন্যবাদ স্বরূপ একটা কবিতা বলি।
নিচে শুক্লাজির ক্যান্টিন আছে, দারুণ খাওয়ার বানান।
সুবোধজির ঘর থেকে কোনোদিন তো খাওয়ার আসেইনি।
ওই সামনে আপনার অফিস, স্যার।
ও সত্যেন্দ্র না?
সত্যেন্দ্র রাই? আপনি চেনেন?
অবশ্যই, ও দিল্লিতে বন্ধু ছিল। একসাথে পড়াশোনা করেছিলাম।
IAS দিয়েছে, এখানকার অফিসার উনি দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের।
- ডাকবো নাকি? - চলুন।
সত্যেন্দ্র।
চিনতে পারছো তো নাকি?
উনার অনুষ্ঠানেই মদ খাচ্ছো।
চিনেছি তো, স্যার।
অভিনন্দন, এডিশনাল সাহেব।
কেমন আছিস তুই?
তোমাকেই জিজ্ঞেস করছে ভাই।
আমি আসছি, স্যার।
- মদ বেশি খেয়ে ফেলেছে মনে হয়। - ভালো বন্ধু ছিল আমার।
আরে, এরা আবার এসে গেছে। একটু আসছি, স্যার।
- কী? - যদি চেষ্টা করেন ওদের পেয়ে যাবেন।
- এখন? - অন্তত অভিযোগটা লিখুন।
কী ব্যাপার?
শাস্ত্রীজির থেকে সুযোগ নিতে হবে। এই জায়গা তো বলিউডের ৮০ দশকের মুভি।
কিছুদিন অপেক্ষা করুন।
সাহেব CBI এর সাথে যদি কথা বলতেন...
চুপ করো! তুমি এখানে মানানসই নও!
আচ্ছা, আয়ান।
আমি চললাম। ভোর ৫টায় ফ্লাইট আছে। এখন সব আপনার দায়িত্ব।
নিজের সেরাটা করবো, স্যার।
ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।
শুভ কামনা।
সাহেবকে দেখবেন। ওহ, ব্রহ্মাদত্তজি!
- ওরা করা? - পাশের গ্রামের লোক, স্যার।
জানোয়ারের চামড়া বের করে ভাইয়ের ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করে।
সমস্যা কী?
কিছু সমস্যা না, এদের রোজকার একই।
আসলে দুদিন থেকে বলছে ৩জন মেয়ে নিখোঁজ গ্রাম থেকে।
- রিপোর্ট লিখেছেন? - অনুসন্ধান চলছে, স্যার।
এখানে এমনই হয়, স্যার।
মেয়েরা পালিয়ে যায় আবার ফিরে আসে।
- ওদের পুলিশ স্টেশন কোনটা? - আমাদেরটাই, স্যার।
না, না, স্যার নিয়েন না আমরা আপনার জন্য অন্য প্লেট এনে দিচ্ছি।
স্যারের জন্য "মাঙ্গুরি" আনো টাটকা।
যাও! - সরি স্যার।
আরে, এই সত্যেন্দ্রটা না।
ঠিক আছিস? - না, আমি ঠিক আছি।
তোকে ছেড়ে আসছি।
বাইকও চালাইনি কত বছর।
জাতভ, দেখো!
- আপনি থাকুন! - চন্দ্রাভানজিকে বলুন না।
চন্দ্রাভানজি! - জ্বি।
স্যার কি করছে, মোটর সাইকেল নিয়ে যাচ্ছে!
যান, যান! - সাথে যান।
পরিশ্রম তো আমিও করেছিলাম ভাই।
তোমার ভালো হয়ে গেলো ব্যাটা।
জানতাম তুমি শালা পাস করে যাবে।
ওই থাম!
পালাচ্ছিস কোথায়?
হেই!
- বেশি হয়ে গেছে। - দাঁড়া!
দাঁড়া বলছি!
শালা, এদিকে আয়।
বুলানের ছেলে না তুই?
এটা কি?
চল, উঠবস কর! কর!
কিছু না, স্যার। ময়রার ছেলে।
সবজি কাঁটার চাকু ছিল।
- চলুন, স্যার। - চলো, ভাইয়া।
ভাবছিলাম তুমি আমাকে চিনবে কি চিনবে না।
আরে কেন চিনবো না?
এসে গেছি ভাইয়া।
অদিতি কেমন আছে?
এখনো বিদেশী বলে ডাকে?
বলে না কিন্তু মানে অবশ্যই।
ভালো কাজ করছে। লিঙ্গ সমতা, মানবাধিকারের ওপর।
প্রবন্ধ ছাপতে থাকে ওর। কথা হয় প্রায়ই।
প্রায়ই কথা হয়? এর কি মানে ভাই?
আজকাল আমরা কথা কম, তর্কটা বেশি করি।
ও এখনো আমায় কলেজের প্রেমিক ভাবে।
শোনো, তুমি অদিতিকে যেতে দিও না।
এমন মেয়ে জীবনে একবারই পাওয়া যায় ভাইয়া।
এই নাও!
নমস্কার, ভাবি।
- আমি আয়ান। - নমস্কার ভাইয়া।
আরে ও চেনে তোমাকে।
অর্চনা, আওয়াজ পেয়েও গেছো?
- ভাইয়া ভেতরে আসুন। - না, পরেরবার।
তখন আলাপ হবে।
শোনো, ব্যাটা!
কোলাকুলি তো করলামই না!
আরে, ভাই!
দুঃখিত স্যার, আপনাকে ভোরে উঠিয়ে দিলাম।
কালও হয়তো দেরীতেই শুয়েছেন।
ফটো তুলে নিয়েছি, স্যার।
এরা ওই মেয়েরাই যাদের লোক এসেছিলো?
জ্বি, স্যার, দুদিন আগের কথা, ১২ তারিখের।
কাজিন ছিল দুটো মেয়েই।
তৃতীয় জন বন্ধুই ছিল। এই গ্রামেরই।
আসলে গ্রামের লোকেরা বলছিলো দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল, অন্তরঙ্গ।
সমকামীদের।
- দুজনের বাবাই ঝুলিয়ে দিয়েছে। - বাবারা কোই?
গ্রামেই আছে তদন্ত চলছে।
- বয়ান দিয়েছে কেউ? - না, স্যার কিন্তু দিয়ে দেবে।
- তৃতীয় বাচ্চাটা? - হ্যাঁ, স্যার ওর কোনো খোঁজ নেই।
অ্যাম্বুলেন্স ডাকিয়েছি, স্যার।
দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছি তারপর রিপোর্ট বানাচ্ছি।
No comments yet. Be the first to leave one.