Pierwsze 200 wierszy.
অনুবাদ আয়োজনে :.:.: মোহাম্মদ ইউসুফ :.:.:
বউমা!
বউমা!
ও ওকে নিয়ে যাচ্ছে!
বাবা!
ছেড়ে দে আমাকে!
প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত আমি কোথাও যাবো না!
আমি যাবো না!
ঋত!
চলো, মা।
- এটা আবার কার ব্যাগ? - কার?
কেউ ভুলে রেখে গেছে নাকি?
এটা বোমা!
এটা আমাদের কারো ব্যাগ না!
আমি বলছি, ব্যাগটাতে বোমা আছে!
বোমা!
হে ভগবান!
আমরা তো এখান থেকে পালাতেও পারবো না!
ঘাবড়াবেন না, দাদী!
- আমি আপনার সাথেই আছি! - আরে ছাড়!
- সরুন। - হেই!
ব্যাগটাতে কোনো বোমা নেই!
- তবে, ব্যাগটা এক আইটেম বোমের! - কী?
কী বলছে এসব?
ভীতুর ডিম!
- ওর কি মরার শখ হয়েছে? - দেখুন ব্যাগটাকে কীভাবে জড়িয়ে ধরছি!
- হাই! - তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
ধুর, এতে ধন্যবাদ জানানোর কোনো দরকার নেই, ঋত!
তুমি আমার নাম কীভাবে জানলে?
ঋত রাঠোর।
চণ্ডীগড় যাচ্ছ।
সেটা কীভাবে জানলে?
জানি, এমনিতেই জেনে যাই।
এটাকে চাইলে আমার ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের কারিশমা বলতে পারো।
না, ওটা দেখে বলিনি।
- শিউর! - আমার আসলেই ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয় আছে।
যাক, আমার নাম রোহান রান্ধাওয়া।
আমি চণ্ডীগড় হয়ে দিল্লী যাচ্ছি।
ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ।
আরে, আন্টি দেখে চলুন!
ঋত!
তুমি দেখছি আমার পিছু তাড়া করছ?
না, আমি তো তোমার ফোন...
ওহ, এখন আমার ফোন নাম্বার চাচ্ছো?
- তুমি ভুল বুঝছ। - না, আমি ঠিকই বুঝতে পারছি।
কী ভেবেছ? ওখানে আমায় সাহায্য করেছ বলে এখন ডেটের সুযোগ খুজবে?
ঋত, আমি তো ফোন--
নিকুচি করি তোমার ফোনের!
মাথার তাড় ছিড়ে গেছে নাকি?
আমার মাথার তাড় ছেড়েনি।
তবে, তোমার ফোনের বারোটা বেজে গেছে।
ভুলে রেখে এসেছিলে।
কী?
ওহ, শিট!
টেনশনের কোনো কারণ নেই। ভাবীর সাথে কথা বলো।
তাঁর ব্যাপারে তুমি কীভাবে জানলে?
নাও, কথা বলো উনার সাথে।
কিরে ঋত, পৌঁছেছিস ঠিকমত?
মাত্রই বাসে উঠে বসলাম।
কিছু তো এক্সাইটমেন্ট দেখা। কাল তোর বিয়ে হতে যাচ্ছে।
কি যে বলো, ভাবী!
আমাকে এই জন্যই ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়েছিলে...
যাতে পরে ডেকে এনে কারো ঘাড়ে গছিয়ে দিতে পারো?
ঋত, সাগর বেশ ভালো একজন ছেলে।
হ্যাঁ, অনেক ভাগ্যবতী মেয়ে তুমি।
আচ্ছা? এট ভাল হলে তুই ওকে বিয়ে করে ফেল না?
ওকে, তুমি না আসলে ওকে আমিই বিয়ে করে ফেলব।
আয় না?
সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করেছে।
বাই।
সাগরের চেয়েও ভালো ছেলে পেতে তুমি।
তোমার কি এখনও আমার ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের প্রতি সন্দেহ আছে?
আচ্ছা, দাঁড়াও।
তুমি রাজস্থানের মেয়ে।
তোমার বাবার নাম ঠাকুর ভিজেন্দ্রর সিং।
গত চার বছর ধরে তুমি...
মেডিক্যাল কলেজে এম.বি.বি.এস পড়ছ।
- দারুণ! - ঠিক বলেছি, না?
তোমার দেখি সত্যিই ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয় বেশ প্রখর।
অসাধারণ।
আমিও একটু চেষ্টা করি?
তোমার নাম রোহান রান্ধাওয়া।
মরহুম বিজনেস টাইকুন রতন রান্ধাওয়ার একমাত্র ছেলে।
দিল্লীতে জন্মেছ।
ডুন স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছ।
বর্তমানে বেকার।
ঠিক বলেছি?
তোমারও ফেসবুক একাউন্ট আছে, তাই না?
সেখান থেকেই সমস্ত তথ্য পেয়েছি।
নাও।
ফেসবুকে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সিঙ্গেলও উল্লেখ করা আছে।
বাস ২০ মিনিট পর থামবে।
মা বাবার মৃত্যুর পর এভাবেই চলছে।
গত মাসে গুজরাটে গিয়েছিলাম ঘুড়ি উড়াতে।
এর আগে বানারস গিয়েছিলাম পান খেতে।
তুমি কি পাগল?
এটাই তো জীবন যাপনের তরিকা, ঋত।
মানে, ব্যাগপ্যাক গুছিয়ে দুনিয়া ঘুরো।
বর্তমান সময়টা উপভোগ করো।
আচ্ছা তুমিই বলো, তোমার প্রিয় জায়গা কোনটা?
গত চার বছর আমার পদচারণা শুধু কলেজ আর হোস্টেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
কেন?
আমার বাবা জানো অনেক কঠোর প্রকৃতির।
উনি তো আমাকে এখানে পাঠাতেই চাইছিলেন না।
স্রেফ পড়াশোনা করব এই শর্তে শুধু রাজি হয়েছে।
সেজন্য কলেজ আর হোস্টেলের মধ্যকার রাস্তাতেই...
আমি ঘোরাঘুরি করেছি।
রাগ না করলে একটা কথা বলব?
বলো।
হয় তুমি অনেক ব্যক্তিত্ববান...
নয়ত তুমি আমাকে যেটা ভাবো সেটাই।
কী?
অই যে, ওসব যেগুলো মুখে বলা যায় না।
"চ" শব্দ দিয়ে শুরু হয়।
চোর?
নাহ, তুমি আসলেই ভদ্র পরিবারের মেয়ে।
ঋত, আবার বলে বসো না যে...
এখানকার মিউজিক ফেস্টিভ্যালে তুমি যাবে না।
যাবে না?
আমি পাগল না, তুমি পাগল।
চলো।
আমার সাথে ওই ফেস্টিভ্যালে চলো।
সবাই বাসে উঠুন!
বাস রওনা দেবে! উঠুন!
- চলো। - কাম অন!
ঋত...
চণ্ডীগড় যাওয়ার এটাই একমাত্র বাস না।
সন্ধ্যার বাসে নাহয় রওনা দেব?
আর, এমনিতেই তো তোমাকে এয়ারপোর্টে কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করা লাগবে।
সময়টা নাহয় এখানে কাজ লাগাই?
চার বছর নষ্ট করেছ।
কয়েক ঘন্টা তো এবার এঞ্জয় করতেই পারো!
কী বলো?
গীত!
ঋত!
ও ফোন ধরছে না!
প্লিজ কিছু বলুন, স্যার!
আমরা এখন পর্যন্ত যা জানি সবই বলেছি।
বাকিটা উনাদের সাথে কথা বলে জেনে নিন।
কী হয়েছে, স্যার?
চণ্ডীগড়ের পথে আড়াইটার দিকে যে বাসটা রওনা দিয়েছিল সেটা এক্সিডেন্ট করেছে।
বাস খাদে পড়ে গেছে।
ওই বাসটাতেই তো আমাদের যাওয়ার কথা ছিল!
ভগবানকে ধন্যবাদ যে বাসটাতে উঠেননি!
বাসের একটা যাত্রীও প্রাণে বাঁচেনি।
ভাল করে খোঁজো।
হ্যালো?
হ্যালো?
কিছু শুনতে পাচ্ছি না, হ্যালো?
হ্যালো, তৃশা!
তৃশা? আমি তোর কথা শুনতে পারছি!
এ কী হয়ে গেল, সাগর?
রোজ ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতাম যেন তোমার সাথে ঋতের বিয়ে ভেঙে যায়।
যাতে, আমরা একসাথে থাকতে পারি।
ভাবিনি যে ভগবান এভাবে আমার প্রার্থনা কবুল করবেন!
ঋত আমার কারণে মারা গেছে, সাগর।
এতে তোমার কোনো দোষ নেই।
ঋত...
কমসেকম, তোমার বোনের সাথে তোমার বাগদত্তার...
বিয়ে তো হবে।
- হবে না। - কেন?
বাড়িতে গেলে বাবা ঠিকই ঘাড়ে ধরে বিয়ে করিয়ে দেবে।
আচ্ছা?
সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।
শহরের সকল লোক আমার আর সাগরের বিয়ের ব্যাপারে জানে।
শেষ মুহূর্তে বধূ বদলালে কী যে বদনাম হবে!
আমার বাবা যে কোনো কিছু সহ্য করতে পারে কিন্তু বদনাম নয়!
সাগরের সাথে আমার বিয়ে করিয়েই ছাড়বে উনি।
তো, এখন কী করবে তুমি?
আমার বেঁচে থাকার ব্যাপারটা বাসার মানুষের কাছে গোপন করতে হবে, রোহান।
শুধুমাত্র তাহলেই ওরা বিয়ে করতে পারবে।
মানে, তোমার পরিবারের কাছে সবসময়ের জন্য তুমি মৃতই থাকবে?
না।
একবার ওদের বিয়েটা হয়ে গেলে পরে পুরো সত্যটা বলে দেব।
আর, তোমার ওই হিটলার...
মানে, তোমার বাবা?
উনি জানতে পারলে কি তোমাকে মাফ করে দেবে?
হয়ত দেবে না।
সম্পর্ক হয়ত ছিন্ন করে ফেলবে।
কমসে কম, আমার বোনের স্বপ্নটা তো সত্যি হবে।
তুমি এতো ভালো একটা মেয়ে।
ভাবতেও পারছি না যে আমার মৃত্যুর কথা শুনে পরিবারের সবার কী হাল হবে।
উনাদের সামনেও আর যেতে পারবো না।
কিন্তু তুমি...
রোহান, আমার সাথে যাবে তুমি?
মৃত্যু, শেষকৃত্য, কান্নাকাটি?
এ কোথায় আমাকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছ?
দেখো রোহান, তুমি তো সহসা নিজের বাড়িতে ফিরছ না।
তোমার প্ল্যান হচ্ছে দুনিয়া ঘোরা।
এর চেয়ে তুমি আমার সাথে ভবানীঘর চলো না?
ভ-ভবানীঘর?
তুমি ঘুড়ি উড়ানোর জন্য রাজস্থানে যেতে পারো, বানারসে যেতে পারো একটা পান খাওয়ার জন্য...
কিন্তু, একটা মেয়েকে সাহায্য করার জন্য রাজস্থানে যেতে পারবে না?
তুমি জানো, আমাদের ওখানকার "ডাল বাটি চুর্মা" অনেক নামকরা।
তাই?
ওটা তো খাওয়া হয়নি।
বাপরে বাপ, কী রোমান্টিক জায়গা!
এটা তোমার বাড়ি?
কোথায় যাচ্ছ?
No comments yet. Be the first to leave one.