Pierwsze 200 wierszy.
- চলে গেল, এবারও দেখা করালেনা? - এগুলো কিন্তু ঠিক নয়, সোনাদা।
- জানো কতটা হন্তদন্ত হয়ে এসেছি? - ও, হ্যাঁ...
তোমাদের তো আজই ফেরার কথা ছিল।
আমি জানতাম তোরা বন্ধুরা মিলে ট্রেকিংয়ে গেছিস, তাই আর--
সকালে ফিরেই শুনলাম, তুমি নাকি "ছাত্রী"র বাড়ি গেছ।
তাই ব্যাগ ফেলেই দৌড়লাম।
একবার ট্রেকিংয়ে গেছি বলে এভাবে ধোঁকা দেবে?
- ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিন্তু। - কীসের?
কীসের নয়, কার। সেমন্তী সরকারের।
জানোই তো, ও আমার ছাত্রী ছিল।
- বটেই তো। ছাত্রী! - ও!
আমি তো শুধু দেখা করাতে বলেছিলাম।
যাক গে, ছাড়ো।
এমনিতেও, আমাদের মধ্যে আর কেউ এলে হয়ত জটিলতা বাড়বে।
- ঠিকই। - কি?
- জটিলতা? - জানি না।
- কী বলছিস এসব? - ঠিকই বলছি।
এসব আমার একদম পছন্দ না।
- আমরা তিনজনই ঠিক আছি। - হ্যাঁ।
ও।
কিন্তু দেখতে তো হবে, কে সেই অসামান্যা ছাত্রী
যিনি ভাগ্য করে এমন অধ্যাপক পেয়েছেন।
উনি চলে যাচ্ছেন বলে নাকি অধ্যাপক বাড়ি এসে বিদায় জানিয়ে যাচ্ছেন।
হ্যাঁ গো, সোনাদা, এয়ারপোর্টে গেলেনা?
- না-- - ছাড় তো!
এত বছর ধরে সোনাদার নাকি বানান ভুল আর হাতের লেখা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না।
- আজকের দিনে গবেষণা পত্র হাতে কে লেখে? - ঠিকই তো।
সোনাদা, কম্প্যুটারে "স্পেল চেক" নামক একটা বিষয় হয় না?
আপাতত তোদের আচরণে আমি স্তম্ভিত।
সেই, সোনাদা তো এখন অন্য মার্গে, তাই না?
ওনার লন্ডন প্রবাসিনীর সব কথাই এখন ওনার কাছে বীজমন্ত্রের মতো।
ছাড়, আবির, আমাদের কথা তো ওনার ভাল লাগবে না।
- ছেড়ে দে-- - আমি তোদের খাওয়াব।
মানে, ট্রিট।
না, ক্ষতিপূরণ নয়।
এমনিই। সিজলার চলবে?
- তোর পছন্দ। - সিজলার...
সিজলার।
দেখো, সোনাদা।
- মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে নেই। - কখনওই করতে নেই।
আমি...সিজলার খাব না।
শরীর তো ঠিকই আছে।
আরে...
আস্তে। জিভ পুড়ে যাবে তো।
দেখেছ, সোনাদা। ও নাকি খাবেনা।
সামনের সপ্তাহে ভালমন্দ কিছু খাওয়ার একটা সম্ভবনা তৈরি হচ্ছিল।
কিন্তু এই পোড়া জিভে কি আর সে স্বাদ পাবি?
হনুমান পোড়া লেজ নিয়ে পুরো লঙ্কা জ্বালিয়ে দিল।
- তুমি শুধু বলো। আগুন লাগিয়ে দেব! - আগে যেটা খাচ্ছিস সেটা খা।
- আমি ভবিষ্যৎবাদী। - হুম!
তুমি বলো, সোনাদা। পুরো মুডে আছি।
ডিএমকে, একেপি।
- ডিএমকে? - হুম।
- সে তো তামিলনাডুর রাজনৈতিক দল। - হুম।
আর কেপি যদি কর্ণাটক পুলিশ হয়...
ডি'টা কী?
- আমরা কি এবার দক্ষিণ ভারত যাচ্ছি? - হ্যাঁ?
উঁহু।
রোহিতাশ্বগড়।
- রোহিতাশ্ব... - ছৌ নাচ, পলাশ ফুল, টুসু।
তার উপর, গ্রামের মেলা।
গ্রামের মেলা!
- সেখানেই ডিএমকে আর ডিকেপি পাব? - হুম।
ডিএমকে হল দেশি মুরগি কষা। ডিকেপি হল দুধক্ষীর পুলি।
- কবে যাব? - তোমার বাবা ফোন করেছিলেন।
ওঁর রোহিতাশ্বগড়ের এক বন্ধু নাকি আমাদের খেলাই চণ্ডীর মেলায় ডেকেছেন।
এই!
- পুড়ে গেল? - তা নয় তো কী? বাপরে!
- আস্তে... - অদ্ভুত লোক তো!
কী যে করিস!
আরে, সুবর্ণ।
শীর্ষেন্দুদা যে। কেমন আছেন?
তোমার কথাই হচ্ছিল।
আমার কন্যা মিতুল, আমার পুত্র শৌর্য।
- হ্যালো! - তোমার বিরাট ভক্ত।
তাই?
তুমি কি আবার গুপ্তধন খুঁজতে যাচ্ছ?
না, না। তোমরা বেড়াতে যাও তো?
পুজো ছুটিতে, গরমের ছুটিতে বা শীতের ছুটিতে?
আমিও তেমন মাঝেমধ্যে বেরিয়ে পড়ি।
কখনও-সখনও গুপ্তধনের সন্ধান পেয়ে যাই।
কী করে?
ভাল করে দেখতে হবে, শুনতে হবে আর পড়তে হবে।
- তাহলেই গুপ্তধন পাব? - হুম।
তার থেকে বেশি কিছুও পেয়ে যেতে পার।
এবার পত্রিকায় মণিকান্তপুরের রহস্যটা ওদের খুব পছন্দ।
আমার বন্ধুদেরও তোমায় পছন্দ।
- তাই? - হ্যাঁ।
সবাই কে আমার শুভেচ্ছা জানিও, কেমন?
একদিন এসো না।
সভাকবি বাণভট্টর কিছু অমূল্য লিপি পাওয়া গেছে।
- মানে, থানেশ্বর রাজ হর্ষবর্ধন? - হুম ।
থানেশ্বর রাজ হর্ষবর্ধন আর গৌড়াধিপতির কলহ নিয়ে
দেখি না বাণভট্ট কী লিখেছেন। এসো একদিন।
- এ তো দারুণ ব্যাপার। - হুম।
- আমি বরং ফোন করে চলে আসব। - এসো কিন্তু।
- টাটা। - টাটা।
বসুন।
কে গো, সোনাদা?
শীর্ষেন্দু সমাদ্দার। প্রাচীন লিপির বিরাট গবেষক।
- বাজে লোক একটা? - উনি?
উনি কেন হবেন? যিনি ধাক্কা দিল, তিনি।
যাক গে, আমি কিন্তু তৈরি। কবে যাচ্ছি আমরা?
রোহিতাশ্বগড়!
ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ লগ্ন...
আত্মপ্রকাশ করলেন এক বলীয়ান যোদ্ধা। নাম শশাঙ্ক।
গুপ্তসম্রাট মহাসেনগুপ্তের এক সামন্ত থেকে...
শশাঙ্ক নিজেকে প্রতিষ্ঠা করলেন গৌড়ের প্রথম স্বাধীন সম্রাট রুপে।
তাঁর রাজধানীর নাম কর্ণসুবর্ণ।
প্রায় ২৫ বছরের শাসনে
সামরিক আধিপত্যে, সম্পদে
শশাঙ্কের গৌড় হয়ে উঠল ভারতের এক অন্যতম শক্তিশালী রাজত্ব।
গৌড় কে ঘিরে তখন তিন প্রধান শক্তি।
থানেশ্বর রাজ হর্ষবর্ধন...
চলুক্যের দ্বিতীয় পুলকেশী...
আর কামরুপের ভাস্কর বর্মণ।
এই ঐতিহাসিক বৈরিতা সাহিত্যের রুপ পেল হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্টের লেখনীতে।
সম্রাট প্রজাবৎসল, সুশাসক, যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য
অথচ বৌদ্ধধর্ম বিরোধী।
এমনই বর্ণময় চরিত্রের শশাঙ্ককে বাণভট্ট "গৌড়ভুজঙ্গ" আখ্যা দিলেন।
গৌড় দখলের লড়াই শুরু হল শশাঙ্ক আর হর্ষবর্ধনের মধ্যে।
ক্রমাগত যুদ্ধবিগ্রহের অনিশ্চয়তাকে মাথায় রেখে...
শশাঙ্ক নিজের বিশাল ধনসম্পদের একাংশ লুকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন।
ভবিষ্যতের সামরিক প্রয়োজনে।
নিজের বিশ্বস্ত মন্ত্রীকে তিনি সেই ধনভাণ্ডার লুকিয়ে রাখার দায়িত্ব দিলেন।
রোহিতাশ্বগড় নামে এক পাহাড়ি জনপদে ঘাঁটি গাড়ল শশাঙ্কের সেনা।
সেখানেই মন্ত্রীমশাই সন্ধান পেলেন এক অসামান্য কারিগরের।
নাম তাঁর জনক।
চিনের বৌদ্ধ পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সে সময় ভারত পরিভ্রমণ করছিলেন।
তিনিও এসে পৌঁছন কর্ণসুবর্ণতে।
তাঁর সংস্পর্শে এসে কারিগর জনক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
অথচ তা শিবভক্ত শশাঙ্কের অপছন্দ।
কিন্তু জনকের মতো দক্ষ কারিগরও সে যুগে বিরল।
তাই মন্ত্রীমশাই তাঁর বৌদ্ধ হওয়ার কথা শশাঙ্কের কাছে গোপন রাখলেন।
জনককে মন্ত্রীমশাই নিয়োগ করলেন শশাঙ্কের ধনভাণ্ডার রক্ষা করতে।
নিজের অসামান্য স্থাপত্য শৈলীতে জনক তৈরি করলেন একের পর এক গুপ্তসংকেত।
লুকিয়ে রাখলেন মূল গুপ্তকক্ষের দুই চাবির সন্ধান।
এদিকে হর্ষবর্ধন আর শশাঙ্কের বৈরিতার সুযোগ নিয়ে
অতর্কিতে গৌড় আক্রমণ করলেন কামরূপরাজ ভাস্কর বর্মণ।
এক ভয়াবহ যুদ্ধে শশাঙ্ক পরাজিত হলেন।
ভগ্নহৃদয়ের পরাজিত শশাঙ্ক অচিরেই মৃত্যু বরণ করলেন।
সাময়িকভাবে সিংহাসনে বসলেও মাত্র আটমাসেই তাঁর পুত্র মানবেরও মৃত্যু হয়।
বৌদ্ধ স্থপতি জনকও গৌড় ত্যাগ করে পরিব্রাজক হন চিরকালের মতো।
তার সঙ্গে সময়ের আড়ালে হারিয়ে যায় গৌড়সম্রাট শশাঙ্কের
সেই বিপুল ধনরাশি।
পলাশ!
- আচ্ছ, বাবা... - হ্যাঁ?
রোহিতাশ্বগড়ের নেমন্তন্নের কথা তুমি সোনাদাকে বললে আর আমাদের বললে না?
নেমন্তন্ন তো ছিল সুবর্ণর আর আমার।
সুবর্ণই তোমাদের দুজনকে সঙ্গে আনতে বলল।
হুম।
- তার মানে , আমরা অনাহুত? - কী হুত?
- না, না, তা নয়। - অনাহুত।
মানে, আমি আর তুই নেমন্তন্ন ছাড়া যাচ্ছি।
কী বলছিস? বিশ্বম্ভরদা কত ছোট থেকে তোকে দেখছে।
তুই গেলে ভীষণ খুশি হবে।
যাক, আমার তো ম্যানেজ হয়ে গেছে। আবির, তোর নেমন্তন্ন নেই।
এই, কে বলল?
বিশ্বম্ভরদা আবিরকেও খুব ভাল করে চেনে।
- অমনি, না? - একদম।
- বাবা যাই বলুক, নেমন্তন্ন কিন্তু নেই। - সোনাদা!
ছেলেটা তো অনাহুত থেকে অহতর দিকে যাচ্ছে।
তুই চল।
প্রথম কথাটা বলেই আমি মুশকিলে পড়ে গেছি।
হ্যাঁ, ভাল করে খেয়েটেয়ে নে।
অনাহুত তো। খাওয়ার ব্যাপারটা--
- মামা। - হ্যাঁ?
- কী যেন বলছিলেন? - হ্যাঁ, যা বলছিলাম।
বিশ্বম্ভরদা আসলে মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন।
বছর দশেক আগে অবসর নিয়েছেন।
খুব আমুদে মানুষ।
শাহ সুজার গুপ্তধন পাওয়ার গল্পটা লিখেছিলাম?
সেটা পড়ার পর থেকে ওঁর একান্ত অনুরোধ
তোমায় নিয়ে একবার রোহিতাশ্বগড় আসতেই হবে।
এক যুগ বাদে যোগাযোগ।
- তাও তোমার হাতযশে। - আরে, না, না।
- অখিলেশ মামা। - হ্যাঁ?
- আপনার গল্পে আমি আছি? - থাকবেনা?
মণিকান্তপুরের অভিযানটাই তো তোমাকে ছাড়া হত না।
অনাহুত?
- আমি বিখ্যাত! - এই!
- পড়ে যাবে। - সরি।
বাড়ির নামটা দেখেছিস?
- গৌড়মল্লার। - বাব্বা!
স্বাগতম, বন্ধু।
- কেমন আছ, বিশুদা? - কত যুগ পর বলো তো?
এখানকার রাস্তাঘাটের তো ভোল পাল্টে গেছে।
তবে? অজপাড়াগাঁ বলে ফেলনা ভেবোনা ।
- আলাপ করিয়ে দিই। এই হচ্ছে-- - দাঁড়াও, তার প্রয়োজন হবেনা।
এরকম চোখ তো বাঙালিদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায়না।
আপনিই নিশ্চয়ই বুদ্ধিশ্রেষ্ঠ সুবর্ণ সেন?
ও বাবা! না, না, অত ভারি কিছু না।
আমায় দয়া করে তুমি বলুন। অনেকটা ছোট আমি।
সে তো বয়সের বিচারে।
কিন্তু বুদ্ধি আর বীরত্বের বিচারে তুমি তো আমাদের ঠাকুরদা হে!
এ বাবা!
- অনুদি! - স্বাগত!
- তুমি এখানে? - এটা আমার শ্বশুরবাড়ি তো।
এ আমার ছেলের বউ।
- আর এ আমার ছেলে... - পীতাম্বর।
No comments yet. Be the first to leave one.