Pierwsze 200 wierszy.
অনুবাদ আরমান আল মাহমুদ
সম্পাদনা 〄 AsadujJaman 〄
দুই বছর পর। হিয়েজং, রাজত্বকালের ২য় বৎসর।
দুই ঘন্টা পর ঔষধি থলিটা বদলে দিবে।
মেয়েরা, হে দেবী আসছেন।
দেবী।
আমাকে দেবী ডাকতে না করেছি।
অভ্যাস হয়ে গেছে, তাই ঠিক করতে পারছি না।
তাছাড়া, আপনাকে পরিচারিকা হে ডাকাতেও তো অভ্যস্ত না।
এগুলোও কি শব্দ?
হ্যাঁ।
তোমারও লিখতে-পড়তে শেখা উচিত।
এই বয়সে কীভাবে শিখি বলুন?
ভাঁড়ারঘরের সব চা আর ভেষজ ঔষধের নাম মুখস্থ করে নিয়েছি, সমস্যা হবে না।
শুভ জন্মদিন।
আজকে আপনার জন্মদিন, দেবী।
এটা দিচ্ছি কারণ আপনার হাঁটু এখনো সারেনি।
খুব সুন্দর।
ধন্যবাদ।
হাঁটুতে ব্যথা হলে এটা পরবো।
তবে, সেরা উপহারটা হচ্ছে তোমাকে দামিউনে পাওয়া।
কারণ রাজকুমার উক আপনার জন্য আমাকে মুক্তি দিয়েছেন।
শুভ জন্মদিন।
বিউকরান্দোতে এটা দেখেই বুঝেছিলাম তোমার জন্য একদম জুতসই।
এক ফারসি বণিক এনেছিল এটা।
বুলগেরিয়া থেকে।
গোলাপের সৌরভ।
পাতিত গোলাপ পাপড়ি থেকে তৈরি মূল্যবান তেল এটা।
সুগন্ধি থলির জন্য এটা চমৎকার হবে।
পছন্দ হয়েছে।
ভাই কি নিবে বুঝতে পারছিল না, তাই ঘুরে বেড়িয়েছে শুধু।
শেষপর্যন্ত খালি হাতেই ফিরে এসেছে।
স্রেফ একটা পরিচারিকার জন্মদিন। রাজকুমারকে সামনে পাওয়াও একটা উপহার।
- আর কী চাও? - হ্যাঁ, সেটাই।
আমি সামান্য এক পরিচারিকা, জন্মানোর জন্যও খুশি হওয়া উচিত আমার।
আপনিই কি এইমাত্র ওই পশুর শব্দগুলো করেছেন?
হ্যাঁ।
এতটাই পশুর মতো করেছি যে ভাবলাম হয়তো বুঝতে পারবে না।
আপনি তো আর কুকুর বা নেকড়ে না।
শুনে মনে হলো গলায় চালের পিঠা আটকেছে আপনার।
তাতে কী? বেরিয়ে তো এলে, না-কি?
- চলো। - হ্যাঁ?
জন্মদিনের উপহার হিসেবে তোমাকে সুন্দর কিছু দেখাবো।
আসতে বললাম তো।
আরে আমি বলছি, ওটাকে স্থিরতারা বলে।
ওহ, একটা নোঙর তারা।
ধ্রুবতারার কথা বলছেন আপনি।
ওটা নোঙর তারা না। ওটা ক্যাসিওপিয়া।
জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়ে আমার জানাশোনা কেমন ভুলে গেলে?
বলছি আপনি শুরু থেকেই ভুল শিখেছেন।
ক্যাসিওপিয়া দেখছেন?
ইথিওপিয়ার রাণী ক্যাসিওপিয়া আস্ফালন করতেন যে তার মেয়ে সমুদ্রপরীর চেয়েও সুন্দরী।
তাই সে নাকি সমুদ্র দেবতাদের দেওয়া শাস্তি ভোগ করছে।
দেখুন।
ওটাকে একটা উল্টানো চেয়ারের মতো লাগছে না?
তোমার দর্প চূর্ণ হোক।
তাকে নাকি আধ-বেলা আকাশে উলটো করে ঝুলিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়।
অনেক আগে, যখন খুব ছোটো ছিলাম...
বহুদিন পর মাকে দেখতে গিয়েছিলাম।
মা জুং'কে কোলে নিয়ে ছিল।
ওকে গল্প বলছিল।
তখন চেয়েছিলাম জুং দূর হয়ে যাক।
চেয়েছিলাম কোলটা আমার হোক।
মা আমার মুখে সেই অভিব্যক্তি দেখে দ্রুত জুংকে লুকিয়ে ফেলে।
হয়তো, মা তখনই জেনে গিয়েছিল আমি একদিন নিজ ভাইকে হত্যা করবো।
যাদের ছোটো ভাইবোন আছে সবাই ওরকম বলে।
আমিও ওরকম ছিলাম।
"আমার ছোটো ভাইবোন দূর হয়ে যাক।"
"তাকে কেন আমার আশেপাশে থেকে আমার মন খারাপ করে দিতে হবে?"
চাচ্ছো তোমার উপর থেকে হাল ছেড়ে দিই...
না-কি শুধু তোমাকেই দেখি?
কী?
তোমার কাছে এলেই, আমার সব সমস্যা যেন হালকা হয়ে যায়।
তাহলে, তোমাকে না দেখে কীভাবে বাঁচি বলো?
আমার কাছে না এলে, আমার মনে আশা সঞ্চারও কোরো না।
আমার জন্য সেটা... যন্ত্রণা।
অনুমতি নিবেন বলেছিলেন না?
- করতে পারি? - না, পারেন না।
করবেন না বলেও করতে যাচ্ছিলেন, তাই না?
করবো না, হয়েছে?
একদিন দেখবে মহারাজ তোমাকে কোনো ক্ষমতাশালী বুড়ো লোকের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।
কক্ষণোই হবে না সেটা।
মহারাজ আমাকে খুব পছন্দ করেন।
দেমাগ কী দেখো।
কয়েকদিনের মধ্যে তো একদিন ছুটি পাবে, তাই না?
সেদিন প্রার্থনা মন্দিরে চলো আমার সাথে।
প্রার্থনা মন্দির?
একটা কথা বলতে চাই তোমাকে।
সেখানে বললেই বোধহয় ভালো হয়।
যাবে তো?
প্রাসাদের রক্ষীবাহিনীর পুনর্গঠন চান মহারাজ।
কাজেই, ক্ষমতাশালী পরিবারের সকল সৈন্য প্রাসাদের রক্ষীবাহিনীতে যোগ দিবে।
তারা পালাক্রমে সেই দায়িত্ব পালন করবে।
মহারাজের অসুস্থতা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে।
আপনারা সবাই জানেন সকালের সভায় আসাটা ওনার জন্য কষ্টকর।
এই জরুরি বিষয়টি অনতিবিলম্বে পালন করার রাজ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
উক।
ইদানীং বেশিই সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছো।
যেন মহারাজের অসুস্থতার ওজর দেখিয়ে শাসক হিসেবে শাসন করছো।
বাজে কথা। তোমার আপত্তির কারণেই এটা পাশ হয়নি।
আরো সাবধানে থাকবো যাতে কেউ ভুল না বোঝে।
তোমার উর্ধ্বতন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন-ই ইতোমধ্যে গোত্রগুলোর মাঝে অনেক উদ্বেগ তৈরি করছে।
মহারাজের ওজর খাটিয়ে গোত্রগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখলে,
তাদের ঘৃণা আরো বাড়তে থাকবে।
হাসছো?
ভেবেছিলাম তুমি কেবল লড়াইয়েই ভালো,
কিন্তু এখন দেখছি রাজনীতিতেও ভালো।
তোমার উপর নজর রাখতে শিখতে হয়েছে।
এখনো বিশ্বাস করি না তোমাকে।
মহারাজের শূন্যতা পূরণ করতে গিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি মাত্র।
তোমার উপদেশ মনে থাকবে।
সামান্য একজন ঊর্ধ্বতন মন্ত্রীর এমন করা সাজে না।
ইদানীং, আমি গোসল করলে...
খুব ক্লান্তি বোধ হয়।
ঘুম থেকে জাগলে...
বুঝতে পারি না দিনটা গতকাল না আজ।
স্মৃতিগুলো খুবই অস্পষ্ট হয়ে পড়ছে।
চিকিৎসক বলেছে আপনার ঘুমের অভাব।
ঘুম ভালো হওয়ার জন্য চা আর বালিশের ব্যবস্থা করছি।
ছে রিউংকে রেখে যাচ্ছি, তাই আরেকটু গা ভেজান।
আরও ভেষজ ঔষধ দিচ্ছো?
গন্ধ তো আরো তীব্র হবে।
জি, মহারাজ।
ঔষধগুলো বোধহয় উবে গেছে।
আহ...
শুনেছি দামিউনে আয়নার প্রচুর চাহিদা।
তাই আয়না বানাতে আরও পারদ চেয়েছিলাম।
দিয়েছে নিশ্চয়ই?
জি, রাজকুমার।
সেগুলো বুঝে নিতে দেখেছি।
উক, ইদানীং আমার যেন কী হয়েছে।
একটুও ঘুমাতে পারছি না।
ঘুমালেও, দুঃস্বপ্ন দেখি।
গ্রীষ্মের সূর্য প্রখর তাপ ছড়াচ্ছে।
তাহলে, এত ঠাণ্ডা লাগছে কেন?
মহারাজ।
আমার বিশ্বাস... সময় ঘনিয়ে এসেছে।
এবার সিংহাসনটা আমাকে দিয়ে দিচ্ছেন না কেন?
কী?
জানি ছই জি-মংকে দিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়ান যে আপনি ড্রাগন-পুত্র।
ত্বকে মারাত্মক ফুসকড়ি হওয়ায়, ক্ষতগুলো আঁশের মতো হয়ে গেছে।
উক... উক, তুমি...
আমাকে দিয়ে দিলে...
বাকি জীবন আরাম-আয়েশে কাটাতে সাহায্য করবো আপনাকে।
সিংহাসন একটা বোঝা।
সবার স্বার্থে, সেই বোঝাটা দূর করছেন না কেন?
ভাই।
আসুন, রাজকন্যা। ভয় পাবেন না।
যাও! যাও!
আমাদের ও এই রাজ্যের টিকে থাকার স্বার্থে তোমাকে যেতে হবে।
মহারাজ, আমি বিয়ে করতে চাই না।
বোকা মেয়ে! এসব করছি তোমার জীবন বাঁচাতেই।
যাও! যাও, যাও!
যাও! চলে যাও!
মহারাজ, উনি এখনো খুব ছোটো। ওনাকে কীভাবে খিতানে পাঠান?
এটা ঠিক হচ্ছে না।
খিতানে ওর বিয়ে হলে, আমি বিপদে পড়লে ওরা সৈন্য পাঠাবে।
শুনেছো কেউ?
নিশ্চিত ঘোড়ার পদধ্বনি শুনলাম।
যাও! বলা যায় না কখন এখানে মারা পড়ো। এখনই যেতে হবে তোমার!
মহারাজ! বাবা!
মা, মা!
বাবা!
মা!
মা!
মা...
মা!
জলদি যেতে হবে!
- যাও জলদি! যাও! - বাবা!
- বাবা! - জলদি যাও!
দয়া করে থামুন!
খিতান?
ওকে সেখানে পাঠালে জিম্মি বৈ আর কিছুই হবে না।
আপনার বিষয়টা বোঝা উচিত!
তুমি কী জানো?
প্রতি রাতে ভয় পাই গুপ্তহত্যার শিকার হবো
আর ভালোভাবে ঘুমাতে পারি না।
যাদের একসময় বিশ্বাস করতাম তারা এখন সিংহাসন দিয়ে দিতে বলছে!
আমাকে সিংহাসন ছাড়তে বলছে।
এভাবে চললে আমি মারা পড়বো।
আমরা সবাই মরবো। কে আমাদের বাঁচাবে?
মহারাজ।
তুমি বাঁচাবে?
তুমি রাজকুমারীকে বিয়ে করে আমাদের বাঁচাবে?
এসেছেন?
ওহ হো ধুর।
ভাবিনি সত্যিই আসবে, তাই আসতে সময় নিয়েছি।
অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছো?
বলেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলতে চান আমাকে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু?
ও, হ্যাঁ। বলেছিলাম তো।
কী যেন বলবো?
জি?
মনে করতে পারছি না।
কী যেন? কী কথা?
আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন?
এখানে দেখা করতে চেয়েছিলেন, বলেছিলেন আসতে হবে কারণ কথাটা গুরুত্বপূর্ণ।
কী? চমৎকার কিছু ভেবে খুব আশায় ছিলে?
এখন তো খারাপ লাগছে।
ছিলাম না।
No comments yet. Be the first to leave one.