Pierwsze 200 wierszy.
সাবটাইটেলটা উৎসর্গ করলাম সাবটাইটেল জগতের অন্যতম প্রিয় মুখ 'হাসান শুভ' ভাইকে।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় - "রুদ্রাক্ষ স্যানথিল"
তার মানে কি এই যে,পৃথিবীর সবার জীবনই একেকটা নাটক?
কিছু নাটক কানে শুনে বুঝতে পারা যায়!
আবার কিছু নাটক দেখলেও কিচ্ছু বুঝতে পারা যায় না
কিছু প্রশ্নের উত্তর নেই।
তবুও এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হবেই যার উত্তর আমরা দিয়ে দিয়েছি
আমাদের অজান্তেই আমরা একটা চরিত্র হয়ে অন্যের নাটকে ঢুকে যাই।
নাটক শেষ না হওয়া পর্যন্ত বুঝতে পারিনা যে আমরা কোন চরিত্রে ছিলাম!
আমরা যা দেখি বা শুনি তা নিশ্চিন্তে বিশ্বাস করা যায় না।
প্রত্যেক নাটকেরই শুরু আছে আর তা শেষ থেকেই শুরু হয়।
আমিও এই নাটকেরই একটা চরিত্র
এ এখনো ঘুমোচ্ছে কেন?
এ কখন উঠে কাজে যাবে?
উপার্জনের জন্য অটোর আবদার করেছিল
কিন্তু এখনও সে ঘুমোচ্ছে
ক্যারিয়ারও গড়তে পারলো না, আবার জমানো সব টাকাই নিয়ে নিলো।
এটা নিয়ে সবসময়ই কথা শোনাতে হবে নাকি? ও কিছুক্ষণ পরেই কাজে যাবে।
ভাল বলেছো মা
তুমি কি মনে করো আমার ভাল কাজ নেই?
তাকে উঠে কাজে যেতে বলো
আমি একা কিভাবে উপার্জন করব? যদি আরেকজন থাকতো হাল ধরার!
একজন উপার্জন করে পরিবারের পাশে থাকতো।
আমি সামাজিক কল্যাণে কাজ করতে পারতাম
যে ছেলেটা ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারেনি, সে আবার সামাজিক কল্যাণের কথা বলছে।
একদিন না একদিন আমি নেতা হবই। আমার আশেপাশে জনগণ থাকবে
পুলিশ নিয়োগ করা হবে আমার নিরাপত্তার জন্য
আমার নিরাপত্তা দেবে পুলিশ!
কে?
পুলিশ
তোর নিরাপত্তার জন্য এসে গেছেন
পুলিশ?
তারা কি কারণে আসলো?
আমি দেখছি, তুমি নীরব থাকো।
তুই কি কৃষ্ণা? -হ্যা স্যার
থানায় এসো, ইন্সপেক্টর ডেকেছেন।
কি?
ইন্সপেক্টর রে গাধা!
কেন স্যার? আমি কি করেছি?
সেখানে গেলেই বুঝতে পারবি
কি হয়েছে কৃষ্ণা? - কিছু হয়নি মা। আমি যাব আর আসবো।
পুলিশ তাদের জিপে করে আমাকে রেখে যাবে।
আমরা জিপে যাচ্ছি না। তোর অটো নে
লোকেশন থেকে সমস্ত তথ্য নিন। -স্যার।
কৃষ্ণা নামের অটো ড্রাইভারটা এসেছে। - ওকে বসতে দাও।
কিচ্ছু মিস করবেন না স্যার।
সন্দেহজনক কিছু দেখলেই জানাবেন। - তারা অনেক শক্তিশালী স্যার।
তারা যতই শক্তিশালী হোক, আমাদের ভয় পেলে চলবে না। কারণ আইন আমাদের হাতে।
বুঝতে পারছেন? -জি স্যার
তাদের ক্ষমতা আছে বলে আমরা বসে থাকতে পারিনা!
আমরা যা করার তাই করব। -ঠিক আছে স্যার।
আমাকে উপরমহলে জানাতে হবে। ডিটেইল কালেক্ট করে নিন।
যান। -ঠিক আছে স্যার।
ওকে আসতে বলো।
এ-ই সে? -হ্যা স্যার।
বসো। -ঠিক আছে,স্যার।
তোমার নাম কি?
কৃষ্ণা
আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি? - স্যরি স্যার।
তোমাকে কে চাকরী দিয়েছে?
তোমার নাম কি?
কৃষ্ণা
কৃষ্ণা!
তোমার বাবার নাম কি?
সুবান্না, স্যার।
সুবান্না!
আমাকে কেন আসতে বলেছেন, স্যার?
রামান্না,আমার মাথাব্যথা করছে। কফি দিতে বলো।
আমার জন্য চা,স্যার।
দরকার নেই, স্যার। আমি চা কফি খাবো না।
এসব বালছাল বাদ দিয়ে আমার প্রশ্নের উত্তর দে।
ঠিক আছে স্যার।
ওই তিনটে ছেলে কোথায়? -কোন তিনটে ছেলে স্যার?
তুই জানিস না কোন তিনটা ছেলে?
বুঝতে পারছি না কার ব্যাপারে বলছেন,স্যার।
সত্য কথা না বললে গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেব।
শালা জোচ্চোর
ঠিক আছে
দেখ.... -স্যার।
আমরা একের পর এক তিনটে মিসিং কেইস পেয়েছি।
আচ্ছা স্যার।
আমাদের হাতে পাওয়া তথ্যানুযায়ী,
ওই তিনজনকে শেষবার,
তোর অটোতে উঠতে দেখা গেছে।
বেশি চালাকি না করে,
আমাকে বল যে ওদের সাথে কি করেছিস।
আপনি এসব কি বলছেন স্যার?
আমি শুধু একজন অটো ড্রাইভার।
আমার অটোতে প্রতিদিন অনেকেই ওঠে এবং আমি তাদের পৌছে দেই।
আমি কিভাবে জানবো তারা কি করে আর কোথায় যাবে?
তুই মিসিং এর ব্যাপারে কিছু জানিস না, তাই না?
না স্যার!
একটা কফি দিতে কতক্ষণ লাগে রামান্না!
আমি যে রিপোর্ট চেয়েছিলাম সেটা কোথায়?
আমি নির্দেশ দিয়েছি। সে নিয়ে আসছে স্যার।
জানিনা এটা কখন আসবে;
জানিনা তোমরা কখন খুজবে!
আমিই দেখছি!
আমি কোথায় ছিলাম?
তো তুই কিছুই জানিস না?
না স্যার
উপার্জনের জন্য কি করিস?
অটো চালাই স্যার।
ওহ,তাইতো
কতদিন নাগাদ?
এটা একটা লম্বা গল্প, স্যার।
আমি তোর কাছ থেকে গল্প শুনতে চেয়েছি?
আমি বলেছি?
না, স্যার।
আমি যা বলব শুধু তার উত্তর দে।
ঠিক আছে।
কতদিন থেকে অটো চালাচ্ছিস?
পনেরদিন, স্যার।
এস আই কখন আসবে?
আধাঘন্টা পরে, স্যার।
তাহলে তুই পনের বছর থেকে অটো চালাচ্ছিস!
পনের দিন, স্যার।
তুই কিছু গল্পের কথা বলছিলি?
কিছুনা স্যার
বল
বলছি স্যার!
উঠ গাধা।
তুই উঠবি নাকি মার খাবি?
সারাদিন ঘুমে থাকিস
সকাল দশটা বাজে, এখনো বিছানায়।
তোমার সমস্যাটা কি?
চুপ করো, ও উঠবে।
হ্যা,সে উঠবে।
তার কোন দায়িত্বজ্ঞান নেই
উঠ গাধা!
মা, তুমি এই লোককে বিয়ে করেছো কেন?
আমাকে এই বাজে কথাগুলো শুনতে হতনা;
যদি না তোকে জন্ম দিতাম।
আমার জ্যোতিষী আমাকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে বিয়ের সময়টা অশুভ।
আমি উপেক্ষা করেছিলাম
বাচ্চাটার সাথে এইভাবে কথা বলা বন্ধ করবে?
এ বাচ্চা নাকি? উঠ গাধা।
আমাকে শান্তিতে ঘুমোতে দাও না কেন বাবা?
উঠে কাজের তালাশ কর।
আমি চাকরী পেয়ে তবেই বাড়ি ফিরব।
বাবা,তুমি আমার আত্মসম্মানে আঘাত করলে।
ওয়াদা করে বলছি,এর জবাব আমি দেবই।
তোর ওয়াদা পরের অংশের জন্য জমা রাখ।
কাপড় পড়ে তারপর বের হ
এটা আমাদের এলাকা। এখানে সবাই.....
.....ছোটবেলায় আমাকে ন্যাংটা দেখেছে।
হায় ঈশ্বর!মানসম্মান গেল!
আমার শুধু দুজন বন্ধু ছিল!
একজন হলো কালী,
আরেকজন হলো থেভলা!
ভাল লাগার ব্যাপার এই ছিল যে,
তারা আমার তুলনায় কানে কম শুনত
রাজু ছয়টা আধাকাপ চা দে
আরে তোরা তিনজন আছিস,
আর ছয়টা আধাকাপ চা চাচ্ছিস?
তোদের লজ্জা হয় না? তিন বছর হয়ে গেল ঠিকমতো বাকির টাকা দিলি না।
তিন বছর ধরে একই কথা বলতে তোর লজ্জা লাগে না? তারওপর তুই জানিসই যে এই টাকা আর পাবি না।
এই টিটকারিও তোদের মত অলস দের জন্য একেকটা উপদেশ।
গরুর গোবর! চুপ যা রাজু।
ও আগের টাকা চাইলো?
তোর খিচখিচানি দেখে মনে হয় তোর প্যান্ট এর ভেতর পিপড়া আছে।
আমার প্যান্টের ভেতর চিনি আছে, তাই এমন করি।
তোরা সময় নষ্ট না করে একটা চাকরি খুজে নে না!
মুখ বন্ধ করে চলে যা।
তোর মুড অফ কেন কৃষ্ণা?
কেন? কি হয়েছে?
আমার বাবা চাকরি নিয়ে সারাক্ষণ খোটা দেয় ; শুনতে শুনতে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেছে।
আমরা কোন একটা কাজ নেব। চিন্তা করিস না।
' কোন একটা কাজ ' মানে?
আমাদের কিছু করা উচিত।
তুই সত্যি কোন কাজ করতে চাইলে,
আগামীকাল আমার সাথে আসিস
কাজটা কি?
মা! কি হয়েছে বাবা?
আমি কাজে যাচ্ছি
আমি বলেছিলাম না! শেষমেশ ভালই হবে।
ইশ্বর আমাদের সহায় আছেন। যা বাবা।
মুখের কথায় আমি বিশ্বাস করব না।
কে তোমাকে বিশ্বাস করতে বলল? চুপ করে ঘুমাও।
আগে কাজ করে টাকা আন
তারপর যা বলার বলিস।
তোমার এই ব্যাপারটাই ভাল লাগেনা।
আমি তোমাকে নিয়ে কি বলব!
মা, আমি কাজে যাচ্ছি।
আর পারিশ্রমিক নিয়ে এসে প্রমাণ দেব।
আচ্ছা বাবা,মন খারাপ করিস না। সাবধানে যা।
বাবার কথা মনে রাখিস।
আচ্ছা,আমি যাচ্ছি।
আচ্ছা বাবা
আয় ভাই
স্যার, নামাস্তে
স্যার, আমার বন্ধু কৃষ্ণা
নমস্তে স্যার।
এ-ই সে যে একটা কাজ খুজছিলো
হ্যা স্যার।
ওদিকে দেখো।
কাজটা করতে পারবে?
দেখে মনে হচ্ছে, তুমি শিক্ষিত।
আমি কিছুই মনে করব না স্যার।
মানুষই জাতি ধর্ম কাজের বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।
No comments yet. Be the first to leave one.