La passion de Jeanne d'Arc
Pierwsze 97 wierszy.
THE PASSION OF JOAN OF ARC
প্যারিসে, ডেপুটি চেম্বারের লাইব্রেরিতে
সংরক্ষিত আছে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম অসাধারণ দলিল:
জোন অব আর্কের বিচারের দলিল,
যে বিচার তার দণ্ডাদেশ ও মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়েছিল।
এতে, বিচারকদের প্রশ্ন এবং জোনের উত্তর নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
এটি পড়ে, প্রকৃত জোনকে আবিষ্কার করা যায়।
হেলমেট ও বর্ম পরিহিত জোনকে নয়, বরং সাদামাটা আর মানবীয় জোনকে।
এক তরুণীকে, যে তার দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিল।
সাক্ষী হওয়া যায় এক বিস্ময়কর দৃশ্যকাব্যের:
এক অল্পবয়স্ক ও ধর্মভীরু মেয়ের
অন্ধ ধর্মগুরু এবং অভিজ্ঞ উকিলের দল কর্তৃক আক্রমণের শিকার হওয়া।
যাহা বলিব সত্য বলিব...
সত্য বই মিথ্যা বলিব না।
ফ্রান্সে, সবাই আমাকে জোন ডাকে।
আমার গ্রামে, সবাই আমাকে জোনি ডাকে।
তোমার বয়স কত?
ঊনিশ। বোধহয়।
প্রভুর প্রার্থনা জানো?
কে শিখিয়েছে তোমাকে?
আমার মা।
প্রভুর প্রার্থনা পাঠ করতে পারবে?
তোমার দাবি ঈশ্বর তোমাকে পাঠিয়েছেন?
ফ্রান্সকে রক্ষা করতে।
সেকারণেই আমার জন্ম।
তাহলে তোমার ধারণা ঈশ্বর ইংরেজদের ঘৃণা করেন?
ইংরেজদের প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসা কিংবা ঘৃণার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না...
শুধু জানি ইংরেজরা শীঘ্রই ফ্রান্স থেকে বিতাড়িত হবে...
থেকে যাবে শুধু লাশগুলো!
বলেছিলে সেন্ট মাইকেল তোমাকে দর্শন দিয়েছিলেন। উনি দেখতে কেমন ছিলেন?
ডানা ছিল ওনার?
মাথায় মুকুট ছিল?
কেমন পোশাক পরেছিলেন?
পুরুষ ছিলেন না মহিলা ছিলেন কীভাবে বুঝলে?
উনি কি বিবস্ত্র ছিলেন?
ঈশ্বর ওনাকে বস্ত্র দিতে অপারগ মনে করেন?
ওনার কি লম্বা চুল ছিল?
চুল কাটতে যাবেন কেন?
পুরুষের পোশাক পরেছো কেন?
মহিলাদের পোশাক দিলে, সেগুলো পরবে?
আমাকে ঈশ্বরের দেওয়া কাজটা শেষ হলে,
আবার মহিলাদের পোশাক পরবো।
তাহলে ঈশ্বর-ই তোমাকে পুরুষের পোশাক পরার আদেশ দিয়েছেন?
তো, আমাদের প্রভুর কাছ থেকে কী পুরষ্কার লাভের আশা করছো?
আমার আত্মার পরিত্রাণ।
তুমি ঈশ্বরকে অপমান করছো।
এটা অসম্মানজনক।
আমার চোখে, সে নিষ্পাপ।
ঈশ্বর তোমাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?
আপনাদের বিচারের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
সেটা বিচারকদের ভাবতে দিলে হয় না?
ভোট নিয়ে দেখবো নাকি?
আচ্ছা, যাক! ঈশ্বর তোমাকে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?
হয়তো বলেছেন কারাগার থেকে তুমি মুক্তি পাবে?
কবে পাবে?
দিন জানি না...
ক্ষণও জানি না।
মেয়েটা স্বীকার করতে চায় না, তাই স্বীকারোক্তি নিতে কৌশল খাটাতে হবে।
রাজা চার্লসের দস্তখত সম্বলিত একটা পত্র নিয়ে আসো।
কী লিখতে হবে আমি বলবো।
তোমার জন্য বড্ড মায়া হচ্ছে!
তোমার রাজার দস্তখত চিনতে পারবে তো?
ওনার কাছ থেকে তোমার জন্য একটা পত্র এসেছে।
আমি পড়তে জানি না।
“আমাদের প্রিয় জোন,
আমি এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে রুয়েনে যাত্রা করার জন্য প্রস্তুত।
তোমার কাছে এই অনুগত যাজককে পাঠালাম। তাকে বিশ্বাস করো।”
যীশু যেমন ঈশ্বরের পুত্র, তুমিও কি নিজেকে ঈশ্বরের কন্যা মনে করো?
এবার প্রভুর প্রার্থনা পাঠ করবে?
ঈশ্বর কি বলেছেন তুমি কারাগার থেকে মুক্তি পাবে?
হ্যাঁ, এক অভূতপূর্ব বিজয়ের মাধ্যমে!
ঈশ্বর তোমাকে স্বর্গে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?
তাহলে তুমি তোমার পরিত্রাণের ব্যাপারে নিশ্চিত?
ভেবেচিন্তে বলো, উত্তরটা কিন্তু বিপজ্জনক।
তো, তুমি তোমার পরিত্রাণের ব্যাপারে নিশ্চিত হলে, তোমার আর গির্জায় যাওয়ার দরকার নেই?
তোমার উপর কি বিশেষ দয়া আছে?
আচ্ছা, যাক! উত্তর দাও! তোমার উপর কি বিশেষ দয়া আছে?
যদি থাকে, ঈশ্বর যেন তা বজায় রাখেন।
যদি না থাকে, ঈশ্বর যেন আমার উপর তাঁর দয়া দৃষ্টি দেন!
স্যার...
আমাকে প্রার্থনা শুনতে দিন।
জোন, আমরা তোমাকে প্রার্থনা শুনতে দিলে...
পুরুষের পোশাকটা খুলে রাখবে?
তাহলে পুরুষের পোশাক পরেই প্রার্থনা শুনতে চাও?
ওই অশোভন পোশাক...
ঈশ্বরের পক্ষে ন্যক্কারজনক।
তুমি কোনো ঈশ্বর কন্যা না।
তুমি হলে শয়তানের দাস!
টর্চারের ব্যবস্থা করো।
ওকে দেখে ঈশ্বর কন্যাই মনে হচ্ছে।
টর্চার সেলে চলো।
তোমার বিচারকদের দেখো।
গির্জার এই বিজ্ঞ শাস্ত্রবিদরা তোমার চেয়ে কি জ্ঞানী নন?
কিন্তু ঈশ্বর অধিক জ্ঞানী!
শোনো, জোন, আমরা ভালো করেই জানি তোমার দৈববাণী ঈশ্বর থেকে আসেনি...
বরং শয়তানের কাছ থেকে এসেছে।
ভালো দেবদূত আর মন্দ দেবদূতের পার্থক্য কীভাবে বুঝবে?
No comments yet. Be the first to leave one.