Pierwsze 135 wierszy.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
এক হাজার বছর পূর্বে,
মানুষের মতো দেখতে এক অদ্ভুত দানব আত্মপ্রকাশ করে।
মানুষের চেয়েও তারা অনেক বেশি শক্তিশালি।
মানব সভ্যতা বিলুপ্তির প্রায় দ্বারপ্রান্তে এসে উপস্থিত হয়।
যারা টিকে ছিল তারা তিনটি দেয়াল নির্মাণ করে।
মারিয়া, রোজ এবং সিনা।
সেখানে, এক শতাব্দী তারা শান্তিতে জীবন যাপন করে।
তারপর...
জিগানশিনার পতনের দিন।
পাপী আত্মাদের বিনাশের সময় এসে গেছে।
নরক থেকে পিশাচেরা নেমে এসেছে মানুষকে শাস্তি দেয়ার জন্য!
ঈশ্বর এখন সকল পাপের হিসাব নেবেন,
আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্তের সময় এসে গেছে!
ক্রোধের অনলে এখন পুড়বে সবাই!
সময় থাকতে স্রষ্টার কাছে ক্ষমা চাও!
প্রত্যেক পাপাচারী এবার তার পাপের ফল পাবে!
না!
ছেড়ে দে আমাকে!
ও বিশ্বাসীরা...
রক্তের নদীতে ডুবে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটবে এবার!
সবাই ধর্মের ছায়াতলে এসে...
ঈশ্বরের ক্ষমা প্রার্থনা করো!
হে ঈশ্বর!
আমার আত্মাকে তুমি গ্রহণ করো!
এরেন, কী করছ তুমি?
আমরা চাইলেই মাকে বাঁচাতে পারতাম!
এমনটা কেন করলেন?
কেন মাকে বাঁচালেন না?
নিজেকে নিয়ন্ত্রন করো!
এরেন!
এরেন...
তুমি তোমার মাকে বাঁচাতে পারতে না...
কারণ, লড়াই করার মতো শক্তি নেই তোমার।
যে কারণে...
যে কারণে টাইটানটার সাথে লড়তে পারিনি...
কারণ, আমি ছিলাম ভীরু, কাপুরুষ!
আমি দুঃখিত!
আবারও সেই ঘটনাটা ঘটলো!
দ্রুত!
সবাই ভেতরের গেটে যান!
জিগানশিনার সকল মানুষকে জাহাজে করে নিয়ে চলো!
দ্রুত! ওরা আপনাদের খেয়ে ফেলবে!
ওই জায়গাটার আয়তন কম ছিল, ইউ আকৃতির দেওয়ালে ঘিরে ছিল শহরটা!
উদ্দেশ্য ছিল টাইটানদের আকর্ষণ করা যেন...
হামলা করলে এখানে তারা প্রথমে হামলা করে!
জিগানশিনার মানুষদের ওপর টাইটানদের অতর্কিত হামলার কারণে তারা বাধ্য হয় একটা মাত্র গেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য।
সাথে করে কিছু আনা যাবে না!
যতটা সম্ভব বেশি মানুষ নেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা!
আরমিন, বসো...
কিন্তু..
এরেন আর মিকাসা এখনও আসেনি!
ওইতো তারা!
এরেন?
ওদের সাথে কথা বলার দরকার নেই এখন।
ওদের একটু সময় দাও। বড্ড খারাপ কিছু ঘটেছে ওদের জীবনে।
ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
দ্রুত ভেতরে ঢুকুন!
কামান গুলো কোথায়?
তাড়াতাড়ি!
ওরা আমাদের ঠিক সামনেই আছে!
এটা সত্যি হতে পারে না!
হে ঈশ্বর! ঈশ্বর! বাঁচাও আমাদের!
এই, কি করছ তোমরা?
দাঁড়াও!
কি করছ?
জাহাজ মানুষে পরিপূর্ন এখন!
এটা চলে যাচ্ছে!
প্লিজ!
প্লিজ, অন্তত আমার বাচ্চাটাকে নিয়ে যান!
আমি দুঃখিত, পারবো না নিতে।
জাহাজ ছাড়ো!
ওকে নিয়ে যান!
আমাদের নিয়ে যাও!
বোকার হদ্দ...
কোথায় নিশানা করছ?
স্যার, এই পুরনো কামান দিয়ে ঠিকমত নিশানা করা যাচ্ছে না!
এখন কোন কিছুরই পরোয়া করি না আমি।
পরের গোলাটা ভরো!
কোন লাভ নেই!
গেট!
গেটটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে!
আমাদের ফিরে যাওয়া উচিৎ!
হেই!
মাথা খারাপ হয়ে গেছে? এখনই গেট বন্ধ করো না! বাইরে এখনও অনেক মানুষ আছে!
যদি তারা এই গেটটাও ভেঙে ফেলে...
ভেতরে যারা আছে তাদের জীবন সংশয়ের মুখে পড়বে!
আমাদের পুরো উপত্যকাই হারাবো আমরা!
এর মানে এই না, মানুষদের ইচ্ছাকৃতভাবে মরতে দেব আমরা!
কিসের অপেক্ষা করছ?
টাইটানরা কাছাকাছি চলে এসেছে!
এখনই গেটটা বন্ধ করো!
না!
হেই!
এটা আবার কি?
ফায়ার!
কাজ হচ্ছে না!
এটা আবার কি?
দৌড়ে আসছে এটা! পালাও!
টাইটানটা আসছে! দেয়ালটাকে ভেঙে গুড়িয়ে দেবে এটা!
গেটটা বন্ধ করো!
গেট!
ওয়াল মারিয়ার দক্ষিণ দিকে জিগানশিনার পতনের কয়েক ঘন্টা পর।
সংবাদটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়।
খবরটা সত্য? ওয়াল রোজ টাইটানরা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে?
বিশ্বাসই করতে পারছি না!
শতাব্দী প্রাচীন একটা দেয়ালের হঠাত এভাবে পতন হলো কেন?
বিশ্বাস করুন বা না করুন, বাইরে জাহাজ করে পালিয়ে আসা মানুষে গিজগিজ করছে।
কমপক্ষে ৫০০ জন, যা জানি।
প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু জিগানশিনাই কি হারিয়েছি আমরা?
কিন্তু, তারা ওয়াল মারিয়া নিশ্চয়ই ভাঙতে পারবে না, তাই না?
এখন কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা উচিৎ।
এরকম একটা বিপর্যয় আমরা একা সামাল দিতে পারব না।
মাফ করবেন, মহামান্য!
একজন বার্তাবাহক মাত্র জানালো!
ওয়াল মারিয়া ভেঙে টাইটান গুলো ভেতরে প্রবেশ করছে!
সব শেষ!
সব শেষ!
টাইটানেরা এবার মনুষ্য প্রজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে!
সব শেষ!
আর কখনো বাড়ি ফিরে যেতে পারব না!
কেন?
কেন মায়ের সাথে আমি অই সময়ে ঝগড়া করেছিলাম?
মা আর নেই!
সে আর কখনো আমাকে আদর করবে না!
কেন?
তোমার লড়াই করার মতো পর্যাপ্ত শক্তি নেই।
কারণ, আমি...
কারণ, মানুষেরা দুর্বল!
কান্না ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই!?
আমি ওদের সবগুলোকে মেরে ফেলব!
এরেন...
কি হয়েছে, এরেন?
এরেন?
আমি ওদের সবগুলোকে মেরে ফেলব!
No comments yet. Be the first to leave one.