Pierwsze 200 wierszy.
• • • অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
আড়াই হাজার বছর আগে,
এক দানব দরজাটা খোলা শুরু করে
যা মানুষদের কষ্ট দেওয়ার জন্য মানব দুনিয়া ও নরকের মাঝে সেতু স্থাপন করে।
কিন্তু সেই দানবের আগে বুদ্ধা উপস্থিত হন
এবং দানবটার লাল...
ও কালো চোখ
উপড়ে ফেলেন,
যা ছিল ওর শক্তির উৎস।
যাইহোক, চোখ দুইটা বুদ্ধার হাত থেকে পালিয়ে যায়
আর বুদ্ধার থেকে ভাগা শুরু করে।
কালো চোখটা বুদ্ধা শীঘ্রই ধরে ফেলেন
আর একটা সারিরা কৌটার মধ্যে কয়েদ করে ফেলেন।
কিন্তু অন্যদিকে লাল চোখটা পাল্লাতে সক্ষম হয়
মানুষের শরীরে লুকিয়ে থেকে সাত দিন অবধি পালিয়ে বেড়ানোর মাধ্যমে।
তারপর অষ্টম রাতে লাল চোখটা থামে আর ঘুরে দাঁড়ায়,
এই ভেবে যে সে অনেক দূর এসেছে।
কিন্তু বুঝতে পারে যে পথ সে পাড়ি দিচ্ছে সেটা আসলে
সংকীর্ণ ও অগভীর নদীর উপরে থাকা একটা ৭ ধাপ বিশিষ্ট সেতু
আর সে কোনোদিনই বুদ্ধার থেকে পালাতে পারবে না।
তাই সে ভুয়া আত্মসমার্পণ করে
আর নিজ থেকে এসে সারিরা কৌটায় প্রবেশ করে।
তাদের কৌটায় সীল করে
একটাকে পশ্চিমের সুবিশাল মরুভূমিতে, অপরটাকে পূর্বদিকে খাঁড়া পর্বতগাত্রে বন্দি করে
এবং বুদ্ধা তার নামহীন শিষ্যদের বলেন,
"তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে তারা যেন আর কোনোদিন এক না হয়।"
"এটাই তোমার নিয়তি।"
"অক্টোবর ২০০৫" "ভারত-পাকিস্তান বর্ডার"
অবশেষে আমি বের করেছি সারিরা কৌটাটা মরুভূমির কোথায় আছে।
যদি সেটা খুঁজে পেতে সক্ষম হই,
তবে প্রমাণ করতে পারব যে হীরক সূত্রার উপকথা আসলেই সত্যি।
একটা ধ্বংসাবশেষ, যা হীরক সূত্রার উপকথার সত্য প্রমাণ করে, সেটা খুঁজে পাওয়া গেছে।
বৌদ্ধ বিশ্ব এতে গভীর মনোযোগ দিচ্ছে।
রেডিওকার্বন-ডেটিংয়ের ফলাফল বের হয়েছে।
ধ্বংসাবশেষ জালিয়াতির অভিযোগে প্রফেসর কিমকে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তারা ওনার উপর আইনী ব্যবস্থা নিবে।
…ফলাফলের সাথে অমত…
সম্প্রতি কালো সারিরা কৌটার কার্বন সিন্থিসাইজ করা হয়েছে…
২০০৫ সালে সারিরা কৌটার জালিয়াতি কেস ভালোই সোরগোল তুলেছিলো।
প্রফেসর কিমের অদ্ভুত আচরণের কারণে…
"ধ্বংসাবশেষ জালিয়াতি কেসের পর"
"৩৫ বছরে এই প্রথম সুপার ব্লু ব্লাড মুন"
"১৪ বছর পর"
"আজ রাতে রেড মুন দেখা যাবে"
"পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ২ ঘন্টার জন্য, শুরু হবে রাত ১টায়"
সারিরা ক্যাসকেট ভুয়া?
আর উপকথা মিথ্যা?
তোরা জানিসই বা কী?
গাধার দল…
আমি ভুল ছিলাম না।
একদম ঠিক! আমি ভুল ছিলাম না।
ভুল তো ছিলি তোরা!
আমি প্রমাণ করব যে উপকথা সত্যি ছিল।
এবার, নরকের দরজা খুলবে।
নরকের দরজা খুলবে।
আমি ভুল ছিলাম না।
আমি ভুল ছিলাম না।
সোনহোয়া,
সময় হয়েছে।
"প্রথম দিন"
"বিপজ্জনক উপকরণের জন্য সেফটি স্টোর"
ও আগে কী করত?
শুনেছি সন্ন্যাসী ছিল।
- সন্ন্যাসী? - হ্যাঁ।
বৌদ্ধ সন্ন্যাসী?
তাই নাকি?
"বুক-সান, গোয়াংজু"
"মৌন ব্রত: নির্বাক ধ্যান"
ছেওংসক।
ছেওংসক, তুমি দুই বছর যাবত মৌন আছ, তাই না?
কাজটা কঠিন না?
অবশ্যই।
একটা কাজ করতে সক্ষম হবার পরও, তা না করতে নিজেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া অনেক কঠিন।
আমি থামব কবে?
কী মনে হয়? অবশ্যই যতক্ষণে না আমি থামতে বলছি।
আমার সাথে এসো।
ছেওংসক।
দানবের গল্পটা মনে আছে?
বুদ্ধা দানবটাকে শেষ করে দিল না কেন?
কারণ একই সাথে
তাদের অস্তিত্ব আছে আবার নেই।
তাই বুদ্ধা তাদের একে অপরের থেকে অনেক দূরে কয়েদ করেন
যাতে তারা আর কোনোদিন এক না হতে পারে।
একটাকে পশ্চিমে,
আরেকটা পূর্বে কয়েদ করেন।
উনি পশ্চিমে একটা মরুভূমি সৃষ্টি করেন
আর সেটাকে ওখানেই বন্দি করেন, যাতে ওটা অবধি কেউ পৌঁছাতে না পারে।
পূর্বে উনি খাঁড়া পর্বতগাত্র সৃষ্টি করেন, আর অন্যটাকে সেখানে বন্দি করেন।
তারপর বুদ্ধা তার দুই শিষ্যকে পূর্বে পাঠান,
একজন পবিত্র ওঝা এবং একজন নামহীন সন্ন্যাসী।
উনি তাদের রাস্তা এবং পর্বতগাত্রের দেখা শোনার জন্য পাঠান
যাতে দানব দুইটা আর কক্ষনো এক হতে না পারে।
কিন্তু…
একটা সময়,
পশ্চিমের লাল চোখটা একজনের সাহায্য পাবে।
রক্তিম চাঁদের রাতে,
লাল চোখ মুক্ত হবে।
এটা তখন আবার নিজের পথে ফিরবে,
সাত রাতে সাতটা ধাপ অতিক্রম করবে
আর খুঁজে নিবে তার অপর অংশকে।
যদি তারা অষ্টম রাতে
এক হয়…
আমরা দানবটাকে শেষ করতে পারব না,
কিন্তু আমরা তাদের এক হওয়া রুখতে পারি।
আমাদের ধাপগুলোকে শেষ করতে হবে।
যদি আমরা একটা ধাপও শেষ করতে পারি,
তবে তারা দুজন আর এক হতে পারবে না।
ছেওংসক।
আর্নায় (বুদ্ধার তৃতীয় চোখ) ধুলা জমেছে দেখছি।
পরিষ্কার করে দিও।
"ছিলগক, গ্যেওংসাংবুক-ডু"
ধ্যাত। এটা তো ছোট।
কে ওখানে?
"দ্বিতীয় দিন"
- করে কী? - ঠিক জানি না। বলছিল প্রফেসর নাকি।
- ওর সাথে দেখা হলো কীভাবে? - এক মেডিটেশন গ্রুপের মাধ্যমে।
তাদের কথা মতো এটা মেডিটেশন গ্রুপ হলেও, অনেকটা পূজা-অর্চনার মতো ছিল।
আমার জীবনের বারোটা বেজে আছে,
তাই ভাবলাম সেখানে গিয়ে হয়তো লাভ হবে।
আর? লাভ হয়েছিল?
লাভ?
বেশ, হয়তো। মাগনায় চেকআপটা হয়েছে।
- হেলথ চেকআপ? - তেমন ব্যয়বহুল না।
হালকা-পাতলা, ব্লাড টেস্ট আরকি।
সেজন্যই ওখানে গেছিলে?
অবশ্যই না।
অর্গানাইজেশন আমাকে সমাবেশে উপস্থিত হবার জন্য টাকা দিয়েছিল।
- ওরা টাকা দিয়েছে? - হ্যাঁ।
"চার ঋতু"
দুঃস্বপ্ন দেখেছ?
ছেওংসক।
ভালো হোক বা খারাপ, যা চলে গেছে তা নিরর্থক স্বপ্ন ছাড়া কিছুই না।
এমন স্বপ্নদের তোমার উপর চেপে বসতে দিও না।
সময় হয়েছে।
সোনহোয়াকে খুঁজো।
"সোনহোয়া"
আর তাকে বোলো…
দানব এসে পড়েছে।
"তৃতীয় দিন"
"চার ঋতু - স্বাগত"
এই, এই ফুট প্রিন্টের ছবি নিয়েছ?
- এখনই নিচ্ছি! - তোমরা করছিলে কী? ধ্যাত।
এই, টেপটা আরও বাইরে থেকে লাগানো উচিত ছিল।
- জি, স্যার। - এসব কী?
- কে ফোন দিয়েছিল? - মোটেলের মালিক।
- কোনো সাক্ষী আছে? - জায়গাটা অনেক দূরে।
আর উইকডে হবার কারণে, তেমন কেউ আসেনি।
- এগুলো পায়ের জন্য। - কী এগুলো?
যখন ঘটনাটা ঘটে তখন মোটেলের মালিক ঘুমাচ্ছিল।
ঐ জিনিসটা চেক করেছ?
হ্যাঁ। গতরাতে ১১টা ৪৫ এর দিকে, সাসপেক্ট… মানে, ভিক্টিম।
- আসলে ছিল কী? - কী আবল তাবল বকছ!
নিজেই চেক করে দেখুন।
বাথরুমের মধ্যে পুরুষের লাশ রয়েছে। তার সাথের মহিলাটা চলে গেছে।
ধ্যাত…
মহিলা?
এই লোক আর স গ্যেওং-সুক নামের এক মহিলা একসাথে এসেছিল।
ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরায় তাকে মোটেল থেকে যেতে দেখা গেছে।
তার নাম জানলে কীভাবে?
তার জিনিসপত্র সব ফেলে গেছে, সাথে ওয়ালেটটাও।
- টিমকে খুঁজতে পাঠিয়েছে? - হ্যাঁ।
ওটা কী?
এটাই সেই "সাসপেক্ট" যার কথা তখন বলেছিলাম।
ফুটেজে দেখেছিলাম, সে রুমে ঢুকা অবধি একদম ঠিক ছিল।
কিন্তু এখন যেমনটা দেখতে পাচ্ছেন, তার অবস্থা…
"সোনহোয়া"
আমাদের কি সোনহোয়াকে জানানো উচিত না?
- জানো সে কোথায় আছে? - হ্যাঁ।
- তাকে বোলো না। - কিন্তু ভাদান্তে হাজেওং...
এত মাথা ঘামিও না।
তাহলে ওনার শেষকৃত্যের কী হবে?
এমনিতেও ওনার মৃত্যু নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই, তো ব্যাপারটাকে সহজ রাখা যাক।
মৌন ব্রত?
কতদিন থেকে?
কেউ আর তোমাকে মৌন ব্রত রাখতে বাধ্য করছে না, তো এবার ভেঙে দিতে পারো।
ভাদান্তে সোনহোয়া কোথায় আছে জানেন?
"আমি শেষকৃত্যের আগেই ফিরে আসব। - ছেওংসক"
ভাদান্তে সোনহোয়া।
ভাদান্তে না ছাই।
সে সন্ন্যাসী না?
- কেবল কি একজন সন্ন্যাসীই আমাদের অধিষ্ঠিত করতে পারবে? - আমাদের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
আমাদের অধিষ্ঠিত হতে সাহায্য করছে না কেন?
তুমি সন্ন্যাসী না হলেও তো আমাদের অধিষ্ঠিত হতে সাহায্য করতে পারো, তাই না?
যেতে দাও! কেন যেতে দিচ্ছ না আমাদের?
আমাদের অধিষ্ঠিত হতে সাহায্য করো।
"চতুর্থ দিন"
"দেজেওন স্টেশন"
"ইউনহ্যেং-ডং, দেজেওন ৪-৯১"
স গ্যেওং-সুককে একটা পার্কের বাথরুমে পাওয়া গেছে।
সহজভাবে চিন্তা করা যাক।
এরা দুজন এক সাথে আসে।
আর এই লোক পরে আসে।
এদের দুজনকে মৃত পাওয়া গেলে একটা কথা ছিল।
কিন্তু এই লোককে মৃত পাওয়া যায়।
সে মোটেল থেকে সহিসালামত বের হয়,
কিন্তু তার জিনিসপত্র নিয়ে যায়নি বা পুলিশকে ফোন দেয়নি।
তারপর আজ তাকে মৃত পাওয়া যায়, একটা বাথরুমের ভেতরে।
মোটেলের লাশটার মতোই এটার অবস্থাও খুব বাজে।
কী ঘটেছে মনে হয়?
তোমার থিওরি কী? বলো আমাদের।
No comments yet. Be the first to leave one.