Pierwsze 162 wierszy.
সুদূর উত্তরে,
তিন মাসের অন্ধকারাচ্ছন্ন শীতের পর...
একটা জগৎ অপেক্ষায় আছে...
এক পরিবর্তনের...
বসন্তের সূর্য কিরণ।
সর্বপ্রথম সাড়া দেয় স্টারফিসরা।
তারা সবচেয়ে উঁচু জায়গার দিকে ছুটে চলে...
আর অনুভব করে জলে পরিবর্তনের আভাস,
তাদের পায়ের ডগার মাধ্যমে...
তারা জলে ডিম ছাড়ে।
সামুদ্রিক কিউকাম্বার,
শুধুমাত্র তাদের মুখের মাধ্যমে,
তারা বড় হয়ে উঠে।
তারা যতটা পারে, স্টারফিসের ডিম আঁকড়ে নেয়।
দশ দশটা হাত থাকলে, সংগ্রহের পরিমানটা নেহায়েত কম হয় না।
সামুদ্রিক পেন গুলো বেড়ে উঠে তাদের ভাগ বুঝে নেয়ার জন্য।
এই বার্ষিক ভোজ উৎসবে, যে যা পায় তাই হাতিয়ে নেয়।
বিশ্বের এই সর্ব বৃহৎ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আলোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
কেলপ এর পাতা, এক ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল,
সমুদ্রতল বরাবর বেড়ে ওঠে,
তাদের থলে ভরা গ্যাস প্রক্ষেপনের মাধ্যমে।
শীঘ্রই একটা সামুদ্রিক জঙ্গল রূপান্তরিত হয়...
সকল প্রকার প্রানের পরিপূর্ন মেলায়
এই সবুজ সাগরগুলো যদিও অন্যতম উর্বর অঞ্চল,
কিন্তু অন্য সকল সাগরের তুলনায় প্রতিযোগিতার মাত্রা এখানে সর্বাধিক।
আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত।
এইখানে দুই মহা সাগরের মুখোমুখি অবস্থা।
অগভীর স্থানগুলোয় প্রচুর জলস্রোতের কারনে
জন্ম নেয় অজস্র শৈবালের জঙ্গল।
কম্পমান নলগুলো ছাড়া একে দেখতে পাওয়াটা দুষ্কর
এর মাধ্যমেই শ্বাস নেয়, এই সাধারণ অক্টোপাসটি,
পাশ দিয়ে যাওয়া কোন শিকারের অপেক্ষায় আছে সে।
একটা কাঁকড়া আসছে।
অক্টোপাসটি খাবারের আশায় ঘাপটি মেরে বসলো।
তারপর নিজেকে লুকিয়ে নিল...
এক দক্ষ গুপ্ত ঘাতকের ধৈর্য্য নিয়ে।
কিন্তু অক্টোপাসটি অন্যান্য বিশাল সব শিকারীদের সান্নিধ্যেই
এই অন্তরীপের জলে বাস করে।
ফার সিল...
আর হাঙ্গর।
এরা সবাই অক্টোপাস খায়...
যদি দু একটা খুঁজে পায় আরকি।
আর পাজামা হাঙ্গর তো দারুন দক্ষ...
জলাজংগলে শিকার করে বেড়াতে।
এখন সময় আড়ালে হবার।
কিন্তু এই রুক্ষ চামড়ার হাঙরগুলো
বিভিন্ন ফাটলে প্রবেশ করার মত যথেস্ট ছোট।
কিন্তু অক্টোপাসও হাল ছাড়ার পাত্র না।
সে তার কর্ষিকা দিয়ে হাঙ্গরের ফুলকা প্যাঁচিয়ে ধরে।
যাতে হাঙরটি নিঃস্বাস ফেলতে না পারে।
তাই হাঙরটিরই পিছু হটতে হয়।
খোলা জলে অরক্ষিত অবস্থায় বিপদে পড়লে
অক্টোপাসটি এমন অবিশ্বাস্য কান্ড করে...
যা এর আগে কখনো রেকর্ড করা হয়নি।
নিজেকে লুকিয়ে ফেলে সে...
ঝিনুকের খোলকের ভিতরে।
স্বাভাবিক দৃষ্টিতে সে লুকিয়ে আছে।
হাঙরটি শিকারের উপস্থিতি ঠিকই টের পায়...
কিন্তু খোলক গুলো তাকে দ্বিধায় ফেলে দেয়।
হাজারো ক্ষুধার্ত মুখ ভরা জঙ্গলে,
এই বিশেষ কৌশলে অক্টোপাসটি তার জীবন রক্ষা করে।
পৃথিবী জুড়ে মৌসুমী জলে শৈবালের বাগান বেড়ে ওঠে...
বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলবর্তী এলাকা গুলোতে।
এখানে সবচাইতে বড় মাপের শৈবালগুলো
সুবিশাল অরণ্যের আকারে বেড়ে ওঠে,
বিস্তীর্ন ভাবে, শতশত মাইল জুড়ে।
কোন কোন জায়গায় এদের লতাগুলো
৬০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।
তাদের তৈরি এই ঝোপঝাঁড়ই হাজারো প্রাণের ঘর বসতি।
এখানে টিকে থাকতে চরম প্রতিযোগিতায় নামতে হয়।
গ্যারিবলডি মাছের জন্য দারুন এক চ্যালেঞ্জ।
সে নিয়মিত তার জমিনের পরিচর্যা করে,
যা তার খাবারে ভরপুর থাকে।
তার এই কাজ কখনোই শেষ হয়না।
এখান থেকে সে শামুক ও অন্যান্য প্রাণীকে সরিয়ে দেয়
যেগুলো তার জলজ খাবারে ভাগ বসাতে আসে...
তা তারা যত বড়ই হোক না কেন।
সব রকম ঝামেলার সাথেই তার বোঝাপড়া করতে হয়।
কিন্তু সবচাইতে উটকো ঝামেলা হচ্ছে...
sea urchins that can scrape off every vestige of algae from a rock.
এর কাটাগুলো মারাত্বক সুচালো।
যেভাবেই হোক, এগুলোকে সরাতেই হবে।
কিন্তু সামুদ্রিক অর্চিনগুলোর সমস্যা হল...
এগুলো দল বেঁধে আসতেই থাকে।
বেলা শেষে আলো কমে এলে, তাকেও থামতে হয়।
শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, লুকোনোরও প্রয়োজন আছে।
কারন রাতে শিকারীদের আনাগোনা বেড়ে যায়।
একটি টরপেডো রে,
তার শিকারকে ৪৫ ভোল্টের ইলেকট্রিক শকে অচেতন করে দিতে সক্ষম।
গ্যারিবলডি যখন লুকিয়ে থাকে....
অর্চিনগুলো নির্বিঘ্নে খাদ্য গ্রহণ করতে পারে।
ভোর হলেই সে দেখতে পায়...
তার জমিনে আবার হামলা হয়েছে।
পঙ্গপালের মত অর্চিনগুলোর
ঝাঁকে ঝাঁকে ভিড় করার প্রবণতা রয়েছে।
আর এটা সর্বনাশা হতে পারে, শুধুমাত্র গারবলডির ক্ষেত্রে নয়,
শৈবালের জঙ্গলের জন্যও এটি বিধ্বংসী।
সকল গাছপালাই এখন মহাবিপদের মুখে।
অর্চিনগুলো জঙ্গলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে,
কেটেকুটে ফালিফালি করে ফেলে লতা গুল্মের ঝাড়,
পিছনে পরে থাকে সুবিশাল নিস্ফলা জমিন।
দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল বরাবর অনেক শৈবাল জঙ্গলই
এই অর্চিন বাহিনীগুলো একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে।
কিন্তু প্রতিকার ও সন্নিকটেই।
সামুদ্রিক ভোঁদড়।
অন্য জাতের ভোঁদড়রা অধিকাংশ সময় স্থলেই কাটায়,
কিন্তু এরা জল ছেড়ে স্থলে খুব কমই উঠে।
প্রথমদিকে নবজাতকগুলো তেমন ভাল সাঁতারু হয় না,
তাই মা ঘন্টার পর ঘন্টা চেষ্টা করে তাদের পশমকে এমন ভাবে প্রস্তুত করে, যাতে তা তাদের ভেসে থাকায় সহায়ক হয়।
কিন্তু শিশুকে সঠিক পরিমানে দুধ দিতে আর শরীর উষ্ণ রাখার জন্য,
তার শরীরের ওজনের ৩০% খাবার তাকে গ্রহণ করতে হয়।
খোলওয়ালা মাছ খেয়ে সে তার চাহিদা পূরণ করে।
আর তাদের প্রিয় খাবারের মধ্যে অর্চিন অন্যতম।
অতীতে, চামড়ার জন্য এত পরিমানে এদের হত্যা করা হয়েছিল
যে, এরা প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছিল।
ফলে অনেক শৈবাল জঙ্গল অর্চিনদের দখলে চলে গিয়েছিল।
বর্তমানে ভোঁদড়রা সুরক্ষিত....
যেহেতু তাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে,
অসংখ্য শৈবাল জঙ্গলও তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে।
ইদানিং, কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন এলাকাতে,
সামুদ্রিক ভোঁদড়ের সংখ্যা এত বেড়েছে
যে, তাদের বিশালাকায় স্তুপ আকারে ভেসে থাকতে দেখা যায়...
এমন দৃশ্য গত এক শতকেও কারো দৃষ্টিগোচর হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপরীত দিকে কিছু অগভীর জায়গায়...
শৈবালদের জায়গা দখল হয় সমুদ্রের একমাত্র বর্ধনশীল বৃক্ষে,
সামুদ্রিক ঘাস।
এই সামুদ্রিক তৃণভূমিগুলোর বিস্তৃতি
৩০০০ বর্গমাইলের বেশি পর্যন্ত হতে পারে।
ক্রান্তিবলয় জুড়ে টাইগার শার্কদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
দৈর্ঘ্যে তারা ৫ মিটার পর্যন্ত বেড়ে উঠে।
এরা অত্যন্ত মজবুত চোয়ালের অধিকারী।
সবুজ কচ্ছপরা হচ্ছে তাদের শিকার।
কচ্ছপগুলো এই তৃণভূমিতেই খাবারের কাজ সারে।
একটা কচ্ছপ দিনে দুই কেজি পর্যন্ত ঘাস খেতে পারে।
কিন্তু আরামের বিশ্রাম তাদের কপালে নেই।
তরতাজা কচ্ছপগুলো সবসময় হাঙ্গর থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে।
আর এভাবেই হাঙ্গররা কচ্ছপগুলোকে সব সময় তাড়িয়ে বেড়িয়ে,
যে কোন তৃণভূমিকে একেবারে ঘাস শুন্য হওয়া থেকে রক্ষা করে।
আর এতে, আমাদের সকলেরই সুবিধা রয়েছে।
এক টুকরো তৃণভূমি
৩৫ গুন কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিয়ে, তা জমিয়ে রাখতে পারে।
যা আকারে প্রায় একটা রেইন ফরেস্ট এর সমান।
তাই, তৃণভূমি আর হাঙ্গরদের মাঝে এক বিস্ময়কর বন্ধন রয়েছে
উষ্ণ আবহাওয়ার এই বৈরী পরিবেশে।
সবুজ সাগরগুলোতে বেঁচে থাকার যে লড়াই,
তার প্রভাব অনেক সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
প্রতি বছরে একবার অস্ট্রেলিয়ার একটি নির্দিষ্ট তৃণভূমি পরিবর্তিত হয়।
শীতের প্রথম পূর্ণিমার কাছাকাছি সময়ে,
একটা দল বিরাট আকারে সংঘবদ্ধ হয়।
মাকড় কাঁকড়া।
অন্যান্য সময়ে এরা আরো গভীর জলে খাদ্য অন্বেষণ করে থাকে।
এখন তারা তৃণভূমির সমতলে দল বেঁধে এগুচ্ছে।
হাজারে হাজারে... লাখে লাখে।
এরা একে অন্যের উপর চড়তে থাকে...
যা রূপ নেয় বিশাল ঢিবির...
যার উচ্চতা হয় ১০০ মিটারের কাছাকাছি...
মিলনের সঙ্গী খুঁজতে আসেনি তারা, ডিম পাড়তেও না।
তারা এখানে সমবেত হয়েছে...
বিকশিত হবার জন্য।
অন্য সকল কাঁকড়ার মতোই,
এদের দেহও
শক্ত অপ্রসারনশীল খোলকে আবৃত থাকে।
No comments yet. Be the first to leave one.