لومړۍ 200 کرښې.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় ❝ শান্ত কুমার দাস ❞
GYEONGSEONG CREATURE
আমরা মানবদেহের সীমাবদ্ধতা নিয়ে
অনেক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি।
এবং সেই পরীক্ষাগুলির মধ্যে একটির মাধ্যমে নাজিনের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছিলাম।
তাহলে কি এর সবই কাকতালীয় ছিলো?
এটা পেট্রি ডিশে তৈরি পেনিসিলিয়াম মাশরুমের মতো।
সেই ছত্রাকের আকস্মিক আবিষ্কার যেমন ...
মানুষের রোগের ইতিহাসের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে,
তেমনি নাজিনের আবিষ্কার মানবতাকে উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাবে।
আপনি কি নিরাময় ক্ষমতার কথা বলছেন?
হয়তো।
তবে আমরা বিশ্বাস করি এটির ক্ষমতা আরো বেশি।
আচ্ছা।
বুঝিয়ে বলার জন্য ধন্যবাদ।
ডিরেক্টর ইচিরো শিগগিরই জাপানে ফিরবেন।
আপনি তার জায়গায় ওনসং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে পারেন ...
এবং আপনার অসমাপ্ত পরীক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারেন।
আমি আপনাকে সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করব।
কতটা সময় লাগবে বা কত খরচ হবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারবো না।
এখনও কিছুই নিশ্চিত করা হয়নি।
সেটা ব্যাপার নয়।
আমার ব্যস সেইশিনকে চাই।
আপনার কাজ হলো তাকে আমার অনুগত হতে বাধ্য করা।
এটাই আপনাকে করতে হবে।
মিঃ ইশিকাওয়া।
তাহলে তুমি?
গত তিনদিন ধরে এই অবস্থায়....
মানুষ খুন করে বেড়চ্ছিলে?
মিঃ ইশিকাওয়া।
কী হয়েছে তোমার, আকিকো?
সাহায্য করুন, মি. ইশিকাওয়া।
অনসং হাসপাতালে ফিরে যাও।
তুমি দশজনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছো।
তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবেই, আকিকো।
তাহলে বাচ্চাটার কী হবে?
আমাদের বাচ্চা--
নিজের অবস্থা দেখো!
এখনও কিভাবে আশা করো যে ওই বাচ্চাকে আমার সন্তান বলে স্বীকৃতি দেবো ?
আমার জন্য পরিস্থিতিকে আর কঠিন করে তুলবে না, আকিকো।
নিজ থেকে ওর মধ্যে যাও।
এই শেষ অনগ্রহটুকুই তোমাকে করতে পারি।
দেরি না করে ঢুকে পড়ো।
এক্ষুণি!
কী করছো?
কমিশনার!
কমিশনার ইশিকাওয়া!
তাকে গাড়িতে উঠাও!
কমিশনার! জেগে থাকুন!
GYEONGSEONG CREATURE
নবম পর্বঃ নৃশংসতা
বাবা।
আমি ভেতরে এলাম।
চ্যে-ওক।
তোর মা যেখানে আছে, আমি সেখানে যাচ্ছি।
হেই, কে ওখানে?
থামো!
থামো নয়তো গুলি করবো!
আমি এখানে আমার স্ত্রীর খোঁজে এসেছি।
কাতো নামের লোকটাকে গিয়ে বলো,
সে ভুগর্ভস্থ ল্যাবরেটরীতে যে সেইশিনের উপর পরীক্ষা চালাচ্ছে...
সে আমার স্ত্রী।
আমি তার স্বামী হিসেবে আমার শেষ দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছি।
তো, চ্যে-ওক,
জীবনটাকে নিজের মতো এগিযে নিয়ে যা।
দয়া করে,
জীবনকে ভালোবাসিস।
কর্ণেল কাতো, লোকটাকে নিয়ে এসেছি।
তুমি সেইশিনের স্বামী?
হ্যাঁ।
আমার স্ত্রীর সাথে দেখা করতে দিন।
দশ বছর হয়ে গেছে, তাই না?
দশ বছরের পরে ...
প্রথমবার তোমার স্ত্রীর সাথে ...
পুনরায় দেখা হওয়ার পরে আপনি কেমন অনুভব করছো?
জানোয়ার।
কীভাবে…
কীভাবে পারলি তোরা…
জানোয়ারের বাচ্চারা!
হারামজাদা!
ছাড় আমাকে! ছাড়!
জানোয়ার!
শুয়োরের বাচ্চারা, কীভাবে এটা করতে পারলি?
কীভাবে পারলি?!
আমরা ওকে খাবার দিয়ে শান্ত করতে পেরেছিলাম,
কিন্তু এখন আমরা কী করবো? ও আবার আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে, স্যার।
মনে হচ্ছে,
ওর সন্তানকে খুঁজে বের করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
আমরা কী করবো?
আমরা তো চোখ ফেরাতে পারি না।
আমরা তাকে সাহায্য করতে চাইলেও, খুব একটা বেশি সাহায্য করতে পারবো না।
আমাদের একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
আপনি অনসং হাসপাতালে যাবেন না।
যাওয়ার ব্যাপারে ভাববেন ও না কিন্তু, কেমন?
এই যে! তুমি!
কিভাবে এই ধরনের নৃশংস কাজ করতে পারো?
হাসপাতাল মানুষকে বাঁচানোর জন্য, এসব জঘন্য কাজ করার জন্য নয়!
আসলে...
আমি ঠিক জানি না ওখানে কী হয়...
এখন তো জানো! তাড়াতাড়ি একটা প্ল্যান ভাবো!
একজন পুলিশ অফিসার হিসাবে,
এইমাত্র একটা অবৈধ কাজ সম্পর্কে জানতে পেরেছো! এখন কী ওখানে বসে থাকবে ওখানে?
আমি শুধু আদেশ পালন করি, এমনকি যদি আমি কিছু করতে চাই ও,
আমার করার ক্ষমতা নেই।
তাহলে তুমি অসহায়!
এটা কি কোনো ভুল মেনে নেওয়ার অজুহাত?
মাফ করবেন--
হয়তো তোমরা দেশ চালাচ্ছো,
কিন্তু কিছু জিনিস আছে যা মানুষের করা উচিত এবং কিছু জিনিস করা উচিত নয়।
যদি নিজের সীমা না বুঝতে পারো, তাহলে কীভাবে নিজেকে মানুষ বলে ভাবতে পারো?
তোমরা পশুর থেকে আলাদা কোথায় হলে?
ঠিক বলেছেন।
পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখা যাক।
ম্যানেজার গুকেও নিরাপদ কোনো জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেলে ভালো হবে।
আপনার কী পরিকল্পনা?
যখন কোনো সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, ওখানেই ওটাকে পিষে ফেলা উচিত।
মাস্টার!
অনসং হাসপাতালে কী ঘটে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি।
ওখানে যা হয় তা কোনো মানুষের সঙ্গে হওয়া উচিত না।
তবে আমি নিশ্চিত যে তারা গোটা বিশ্বের কাছে তা অস্বীকার করবে ...
এবং বলবে যে তারা এমন কিছু করেনি এবং এই অভিযোগগুলি বানোয়াট।
মিওং-জা অনেক মানুষ মেরেছে, কিন্তু দেখুন ...
কোন সংবাদপত্র সেই ঘটনার খবর ছাপেনি।
এটাই তাদের কাজের পদ্ধতি।
তারা জিনিসগুলিকে এমনভাবে ধামাচাপা দেয় যেন ওগুলো কখনও ঘটেনি।
কিন্তু স্যার--
আপনিই বলেছেন, যা ভুল তা ভুলই, আর যা ঠিক তা ঠিকই।
আমাদের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই বলে আমরা যদি চোখ বন্ধ করে থাকি এখন,
তবে ঐ একই ঘটনা একদিন আমাদের সবার সাথেই ঘটবে।
তাহলে বলুন।
আমরা কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
মনে হচ্ছে না আমরা বেশি কিছু করতে পারবো।
মুখ এবং ক্যারোটিড ধমনীতে ক্ষতগুলি যথেষ্ট বড় এবং গভীর...
যার জন্য রক্তপাত বন্ধ করা অসম্ভব।
- আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব, কিন্তু... - রক্তপাত বন্ধ করুন!
- কিন্তু যদি রক্তপাত চলতেই থাকে... - আরো গজ নিয়ে আসুন, এই মুহূর্তে!
বলতে খারাপ লাগছে,
কিন্তু উনি হয়তো সকাল পর্যন্ত বাঁচবে না, লেডি মায়েদা।
আচ্ছা, তাহলে তো কিছু করার নেই।
জি?
যাই হোক,
দয়া করে আমার স্বামীর ভালো করে যত্ন নিন।
শুভ রাত্রি।
পেয়েছি।
লেডি মায়েদা, মি. শিরো খবর পাঠিয়েছেন।
কী করছিলে?
ওই,
দেখছিলাম।
পৃথিবীটা এখান থেকে বেশ শান্তিপূর্ণ দেখায়, তাই না?
কোনো কষ্ট নেই,
মৃত্যু নেই...
আর না আছে কোনো অন্যায়।
একদম শান্ত।
এখন অন্ধকারের মধ্য দিয়ে দেখা কঠিন,
তবে আমি নিশ্চিত যে সবাই
রাত পার হওয়ার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে।
মিয়ং-জা?
তার সাথে কী হয়েছে?
মনে হচ্ছে তাকে অনসং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আর তাকে ধাওয়া করার সময় ইশিকাওয়া গুরুতর আহত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
তাহলে বাবা আর মিয়ং-জা দুজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আবার।
এমনটা কি হবে যে...
আমরা কখনোই তাদের এই ঘৃণ্য কাজকে থামাতে পারবো না?
আমার সাথে যাবে?
তোমাকে একটা জিনিস দেখানোর আছে।
এগুলো কী?
এটা আমার সংগ্রহশালা।
এখানে কিছু জিনিস বন্ধকী আছে যা আর কেউ নিতে আসেনি,
আর কিছু আমি সময়ে সময়ে কিনেছি।
বন্ধকী দোকান এমনই হয়।
প্রতিটা জিনিসের নিজস্ব গল্প আছে।
হুম।
ওই গ্রামোফোনটি পিয়ংইয়ংয়ের একজন বারবণিতা ওয়াং সু-বকের।
আর…
ওই যে কোটটা সেখানে ঝুলছে,
মি. ইয়ুন দং-জু এটাকে বন্ধক রেখেছিলেন জুনিয়রদের খাবার কেনার জন্য অর্থের জন্য,
কিন্তু এটি খালাস করতে ফিরে আসতে পারেননি।
এটা না সেওক-হির একটা চিত্রকর্ম।
তিনি এমন একজন শিল্পী যার কাজ জোসন আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছিলো।
মনে হয় একজন শিল্পীর জীবন অনেক কঠিন।
এত সস্তা পেইন্টিং এর জন্য বেশি টাকা দেওয়ার জন্য মিসেস নাউল আমাকে বকাঝকা করেছিলেন,
কিন্তু আমি তার পেইন্টিং পছন্দ করি।
তার আরো কিছু পেইন্টিং আমার কাছে আছে।
তোমার...
হাতটা দেবে?
একজন আমেরিকান ধর্মপ্রচারকের কাছ থেকে এই রূপার ব্রেসলেট কিনেছিলাম।
মাঝখানে ওপাল নামের একটা পাথর আছে।
শুনেছি এটি ইউরোপে একটি শুভ পাথর হিসাবে বিবেচিত হয়।
নাও।
এখন থেকে তোমার সাথে কেবল সৌভাগ্যই ঘটবে।
আমার কাছে আরো অনেক আকর্ষনীয় জিনিস আছে।
সময় পেলে, ওগুলো আরো ভালোভাবে দেখবো।
আসো... একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিই।
একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দিই।
যদি আমাদের মধ্যে একজন অন্যজনের আগে মারা যায়,
তবে যে বেঁচে থাকবে তাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে...
অন্যজনকে।
কী বলো?
মৃত্যু আমাকে দুঃখ দেয় না...
কিন্তু এই পৃথিবীতে কেউ আমার অস্তিত্বের একটা চিহ্নও মনে রাখবে না এই ভাবনা...
No comments yet. Be the first to leave one.