لومړۍ 200 کرښې.
অনুবাদ ও সম্পাদনায়: মাহির সামী (হৃদয়) লেখক: টু লাভ ও চার্লি (উপন্যাস) ফাউন্ডার: উড়ছেঘুড়ি ট্রাভেল গ্রুপ Owner: Pankouri A Tangua House Boat
মৃত সাগরের অনুর্বর তীর পেরিয়ে,
জেবুসাইটস নামক এক প্রাচীন জাতি বাস করতো,
কয়েক হাজার বছর আগে মাটির নিচ থেকে বের হওয়া একটি বৃহৎ প্রস্তর খণ্ডের উপর ৷
কথিত আছে যে, তারা শালেমের উপাসনা করতো!
শালেম অস্তগামী সূর্যের দেবতা।
শুধুমাত্র এই শহরটিই শালেমের স্থান হিসাবে পরিচিত ছিলো ৷
জেরুশালেম।
কালক্রমে এই শহরটি তিনটি প্রধান ধর্মের স্রষ্টার বানী প্রচারের প্রবেশদ্বার হয়ে ওঠে ৷
এবং ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লড়াই হয়েছে এই ভূমিকে ঘিরে!
অনেকের মতে, এটা পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু!
জেরুজালেমের কেন্দ্রস্থলে প্রাচীরবেষ্টিত প্রাচীন স্থানটি অবস্থিত!
এটা সংস্কৃতি এবং ধর্মমতে অন্যতম একটি স্থান!
যেখানে ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমরা পাশাপাশি একসাথে বসবাস করে।
যদিও নিজেদের আলাদা এলাকায়,
প্রত্যেকেই নিজ নিজ জেরুজালেমে ৷
জেরুজালেমে প্রত্যেকেরই একটি প্রিয় গেট রয়েছে ৷
আমার প্রিয় গেটের নাম হলো দামেস্ক গেট ৷
আপনি যখন দামেস্ক গেট দিয়ে ঢুকবেন,
আপনি তখন আমার এলাকায়, অর্থাৎ মুসলিম এলাকাতে ঢুকবেন!
এটা আমার জেরুজালেম ৷
আরবিতে আমরা জেরুজালেমকে আল-কুদস বলি, যার অর্থ পবিত্র শহর ৷
এটা এমন জায়গা, যেখানে লোকেরা কাজ করে, যেখানে আমরা আমাদের মুদি মালামাল কিনি ৷
এখানে শিশুরা খেলে এবং এখান দিয়ে স্কুলে যায় ৷
জেরুজালেম আমার কাছে একটি শহরের চেয়েও বেশি কিছু ৷
এটার সৌন্দর্য, এটার আত্মা এবং এটা আমার ধর্মের জন্যও ।
কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, এই শহরটা আমার পরিবার।
অনেকেই মনে করে, আমি অমুসলিম।
আমি যখন মসজিদে যাই এবং মাথায় হিজাব পরি, তখন তারা অবাক হয়ে যায় ৷
আর জেরুজালেম মানেই বিস্ময়ভরা স্থান ।
সপ্তাহে দু'বার ইহুদি এলাকায় বড় উৎসব হয় ৷
ছেলেদেরটাকে বার মিৎজভাহ বলা হয় ৷
মেয়েদেরটাকে ব্যাট মিৎজবাহ বলা হয় ৷
এটা সেই মুহুর্ত, যখন আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হবেন ৷
জেরুজালেমে ইহুদিরা শতাধিক বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে ৷
উদাহরণস্বরুপ আমার পরিবারের কথাই ধরা যাক! আমার মা প্যারিস থেকে এসেছে,
তার বাবা-মা তিউনিসিয়া থেকে এসেছে ৷ আমার বাবার পরিবার পোল্যান্ড থেকে এসেছে ৷
আমরা যেখান থেকেই আসি না কেন, আমরা সবাই এখানে আমাদের শিকড় খুঁজে পাই ৷
মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আমি আমার পূর্বপুরুষদের হাটা একই পাথরের উপর হাঁটছি ৷
বাইবেলের সময় থেকে ইহুদিদের এই প্রতিশ্রুত দেশে ফিরে আসাকে একটি বিশেষ বাক্যে সম্মোধন করি!
আমরা বলি যে আমরা 'আলিয়াহ' করছি, যার অর্থ উচ্চতর (সম্মানিত) স্থানে যাওয়া ৷
আর আমাদের জন্য, অর্থাৎ ইহুদীদের জন্য জেরুজালেমের চেয়ে সম্মানিত স্থান আর নেই ৷
আমার মতে জেরুজালেমে আসার সেরা সময় হলো, ইস্টার ৷ (খ্রিস্টানদের মতে, ফ্রাইডেতে ইহুদীরা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিলো, মৃত্যুর তৃতীয় দিন রবিবারে যীশু মৃত্যু থেকে জেগে উঠেছিলেন। তাই ইস্টার সানডে খৃস্টানরা উদযাপন করে)
প্রতি ইস্টার শুরু হয় পবিত্র রবিবারে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ৷
এখানে আমরা অলিভ পর্বতে উঠে সেখান থেকে নামি !
যীশুর এই শহরে প্রবেশের দিনটি উদযাপন করার জন্য!
প্রতি বছর; আমি এবং আমার ভাই জর্জ এই পাম সানডে শোভাযাত্রায় যোগ দেই ৷
এবং আমাদের পুরো বিশ্বের মানুষের সাথে দেখা হয় ।
ইস্টার মানে বেশিরভাগ মানুষের কাছে ডিম, খরগোশ উপহার দেয়া এবং সাজসজ্জা করা ৷
কিন্তু এখানে আমরা দুই হাজার বছর আগের মতোই একইভাবে ইস্টার পালন করে থাকি ৷
যীশুর সাথে যা ঘটেছিলো তা আমরা স্মরণ করি!
প্রতি ইস্টারে আমরা খ্রিস্টের প্রতি আবেগ ফিরিয়ে আনি ৷
খ্রিস্টান এলাকায় আমারা দেখতে পাই, ইথিওপিয়ান, গ্রীক অর্থোডক্স,
ক্যাথলিক, মিশরীয় খ্রিস্টান, সিরিয়ানদের! এবং প্রতিটি সম্প্রদায়...
...ইস্টার তাদের নিজস্ব উপায়ে উদযাপন করে।
খ্রিস্টান এলাকার পাশেই আর্মেনিয়ান এলাকা,
এবং তারা তাদের নিজস্ব গির্জায় ইস্টার উদযাপন করে।
পুরানো শহরটি খুব ছোট! এবং চারটি এলাকা খুব বেশি নিজেদের ভিতর সম্পর্ক রাখে না।
যদিও আমরা একই এলাকায় বাস করি, কিন্তু আমরা একে অপরের সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না:
এক বর্গ মাইলের চেয়ে ছোট...
...জেরুজালেমের পুরানো শহরটিতে বিশ্বের কয়েকটি পবিত্রতম স্থান রয়েছে,
ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমানদের জন্য ৷
সুতরাং, ভাবা যায় পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ কীভাবে এক ক্ষুদ্র স্থানকে লালন করতে এসেছিলো?
জেরুজালেম আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপের সন্ধিস্থলে অবস্থিত ৷
সভ্যতার উৎপত্তিস্থল হিসাবে পরিচিত একটি অঞ্চল ।
পাঁচ হাজার বছর আগে এখানে প্রথম সাম্রাজ্যের সূচনা হয়েছিলো ।
অন্যান্য বড় শক্তির আবির্ভাবের সাথে সাথে জেরুজালেম,
ক্রমাগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় ।
প্রতিটি সভ্যতা এখানে তার ছাপ রেখে গেছে।
রোমানরা ভূমধ্যসাগর পাড়ে বিশাল বন্দর শহর গড়ে তোলে।
বাইবেলের নবীদের সমাধিতে মুসলিমরা মাজার নির্মাণ করে ।
মৃত সাগরের উপরে একটি উঁচু মালভূমিতে,
রাজা হেরোদ দ্য গ্রেট 'মাসাদা দূর্গ' নির্মাণ করেছিলেন,
এটা একটি পাহাড়ি দূর্গ, যেখানে ইহুদি বিদ্রোহীরা...
রোমান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের শেষ অবরোধ তৈরী করে ।
জুডিয়ান মরুভূমিতে, স্বাধারণ খ্রিস্টানরা মঠ তৈরি করেছিলো ।
কেউ কেউ আজও সেখানে বসবাস করছে ।
চল্লিশ বারেরও বেশি অধিকৃত,
জেরুজালেমের অনেকগুলি শহর ।
প্রত্যেকটি একে অপরের ধ্বংসাবশেষের উপর নির্মিত ৷
এবং এখনো বেশিরভাগই আমাদের পায়ের নীচে পাওয়া যায় ।
কল্পনা করুন, আপনি একজন গোয়েন্দা ৷
এবং আপনি একত্রিত করা প্রমাণের উপর ভিত্তি করে একটি রহস্য সমাধান করার চেষ্টা করছেন:
প্রত্নতাত্ত্বিকরা ঠিক এটাই করেন, শুধু আমরা অতীত জানতে এটা করি ।
একটা জিনিস যা জেরুজালেমকে এমন একটা উত্তেজনাপূর্ণ কাজের জায়গা করে তোলে,
তা হলো, ক্রমাগত এর দখল, এক অন্যের উপরে।
পাঁচ হাজার বছর আগের প্রথম অধিবাসীদের কাছে ফিরে যাচ্ছি ৷
বাইবেলের জেবুসাইটস, এবং তারপর ইস্রায়েলীয়দের মাধ্যমে ৷ (এখানে প্রথমে জেবুসাইটরা থাকতো, তারপর ইব্রাহীম আঃ এর নাতি ইয়াকুব আঃ যার আরেক নাম ইস্রাঈল, তার বংশধর অর্থাৎ বনু ইস্রাইলরা এখানে বসবাস করে)
এবং রোমান যুগ, ক্রুসেডাররা এবং আজ পর্যন্ত।
প্রাচীন জেরুজালেমকে বোঝা মানে একটা বিশাল ধাঁধা কে একত্রিত করার চেষ্টা করার মতো।
যেখানে আমরা বেশিরভাগ অংশই জানি না ৷
এবং আমরা জানি না আসল চিত্রটি কেমন ছিলো ।
আমরা মাটি খুড়ে যা পাই, তা সেই ধাঁধার একটি নতুন অংশ ।
জেরুজালেম একটি অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত,
যা প্রত্নতত্ত্বের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কিছু আবিষ্কারের ফলাফল দিয়েছে-
সবচেয়ে দর্শনীয় আবিষ্কারগুলির মধ্যে একটি হলো মৃত সাগর পুথি,
যা দুই হাজার বছর আগে লেখা হয়েছিলো ৷
এবং এটা হিব্রু বাইবেলের প্রাচীনতম অনুলিপি।
মাটির নীচে গভীরতম স্তরে আমরা পাই প্রাচীনতম অবশিষ্টাংশ,
যারা এই দেশে বাস করত, তাদের ।
কোন বিষয়টা মানুষকে প্রথমে জেরূশালেমের দিকে আকৃষ্ট করেছিল?
এটা তো একটি বিচ্ছিন্ন, অনুর্বর; পাথুরে পাহাড়ি শহর।
উত্তরটা খুবই সহজ; " পানি "
প্রাচীন জেরুজালেম শহরের কেন্দ্রস্থলে,
এটা একটি ঝর্ণা, এখানে সারা বছরই তাজা পানি থাকে ৷
সুতরাং, বাসিন্দারা সেই পানির কাছে পৌঁছাতে শক্ত শীলা খন্ডের মধ্য দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটেছিলো ৷
পানির পাশাপাশি জেরুজালেম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার আরেকটি কারণ রয়েছে ।
এবং সেটা হলো পাহাড়ের চূড়া, যেখান থেকে পুরো শহর দৃশ্যমান ৷
পাহাড়ের বিশাল চূড়া, যেখান থেকে জেবুসাইটসরা,
অস্তমিত সূর্যের দেবতার উপাসনা করতো ।
ইহুদি ঐতিহ্য অনুযায়ী এটা ভিত্তি প্রস্তর, যেখান থেকে বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিলো ৷
এবং বাইবেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাহিনী সংঘটিত হয়েছিলো ।
হযরত ইব্রাহীম আঃ ঈমানের পরীক্ষায় তাঁর পুত্র কে হত্যা করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন।
রাজা হযরত দাঊদ আঃ চুক্তির সিন্ধুক নিয়ে এসেছিলেন ।
রাজা হযরত সুলাইমান আঃ প্রথম উপাসনালয়, স্রষ্টার ঘর (বায়তুল মোকাদ্দাস) নির্মাণ করেছিলেন।
উপসনলায়টি ব্যাবিলনীয়দের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পরেও,
বিশ্বাস বেঁচে ছিল, বাইবেলের মাধ্যমে জানা যায় ৷
যিরূশালেম স্রষ্টার সবচেয়ে নিকটতম স্থান ।
আমার দাদা ১৯৩৬ সালে ১২ বছর বয়সে জেরুজালেমে এসেছিলেন।
কারণ তার বাবা বুঝতে পেরেছিলেন যে ইউরোপে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।
কিন্তু তার পরিবারের বাকি সবাই পোল্যান্ডে থেকে গিয়েছিলো।
এবং তারা সবাই হলোকাস্টের সময় মারা গিয়েছিল। (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানি ইউরোপে গণহারে যে ইহুদী নিধন চালিয়েছিল)
পুরাতন শহরের প্রতিটি জায়গা নিয়ে আমার দাদা গবেষণা করেছেন,
এমনকি তিনি জেরুজালেম সম্বন্ধে সাতটি বই লিখেছেন ।
এখন তার বয়স ৯০ ঊর্ধে, তিনি এখনও প্রতিদিন জানছেন...
...জেরুজালেম সম্পর্কে নতুন কিছু।
আমি মনে করি, তার স্ত্রীর পর এটাই তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা ৷
কিন্তু...
আমি মনে করি, আমি নিশ্চিতও যে তার সেই ভালবাসাটা,
ছড়িয়ে গেছে জেরুজালেমে তার পরিবারের মধ্যে, এমনকি আমার মধ্যেও ৷
অলিভ পর্বতে একটি সমাধি রয়েছে, যা নবী জাকারিয়া আঃ এর বলে জানা যায় ।
এখান থেকেই আমার পরিবারের নাম এসেছে।
জাকারিয়া আঃ দুই হাজার বছর আগে জেরুজালেমের ধ্বংস দেখেছিলেন।
কিন্তু তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে একদিন ইহুদিরা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে আসবে।
ইয়োম কিপ্পু এবং ফাসওভার এর মত আমাদের পবিত্রতম দিনগুলির শেষে,
আমরা গাই, 'আগামী বছর জেরুজালেমে'।
শত শত বছর ধরে এটাই ছিল ইহুদিদের স্বপ্ন,
জেরুজালেমে ফিরে আসা ৷
আর সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আমার আছে ।
আমি সত্যিই এই জায়গার শক্তি অনুভব করি ।
কতই না শক্তি আছে এই জায়গায় ।
আমাদের একটি ঐতিহ্য আছে, প্রতি জন্মদিনে,
এই দেয়ালে একটি প্রার্থনা নোট রাখার ৷
আমরা বিশ্বাস করি যে সমস্ত প্রার্থনা দেয়ালের মধ্য দিয়ে স্রষ্টার কাছে পৌঁছায় ৷
বহু প্রজন্ম ধরে এটা ইহুদিদের আকাঙ্ক্ষার স্থান, পশ্চিম প্রাচীর চারটি প্রাচীরের মধ্যে একটি...
যা বিশাল পাথরের প্ল্যাটফর্মকে বুঝায় ৷
যেখানে দুই হাজার বছর আগে রাজা হেরোদ দ্য গ্রেট উপসানলায়টি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন ৷
মিশরের গ্রেট পিরামিডের সাথে তুলনীয় স্কেলে।
হেরোদ যখন উপসনলায়টি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন,
তিনি পুরো উপসানলায়টি ঘিরে প্রাচীর নির্মান করেছিলেন ৷
আমরা এখন প্রাচীরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ঘুরছি ৷
এবং যখন আমরা এখানে আসি, আমি চাই আপনি নির্মিত প্রাচীরের মধ্যে বড় পাথরগুলির দেখুন।
প্রকৃতপক্ষে, এটা সম্পর্কে চিন্তা করুন: তারা কীভাবে এই বিশাল পাথরগুলিকে এখানে এনেছিলো ৷
এখন আমাদের যে ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে, সেই যন্ত্রপাতি ছাড়াই?
লিখিত রেকর্ড এবং সর্বশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ব্যবহার করে,
আমরা কল্পনা করতে পারি যে দ্বিতীয় উপসানলায়টি দেখতে কেমন হতে পারে,
তার জাঁকজমকের কারণে ৷
রোমান সৈন্যদের দ্বারা দ্বিতীয় উপাসনলায়টি ধ্বংস হওয়ার অনেক পরে! আজ...
...ইহুদিরা একসময় এর নিকটবর্তী দেয়ালে সেটার ক্ষতির জন্য শোক প্রকাশ করে,
দক্ষিন প্রাচীরে !
শত শত বছর আগে,
আমার পরিবার গ্রীস এবং ইতালি থেকে পবিত্র ভূমি দেখতে এসেছিল,
এবং তারা রয়ে গেল।
আমার মায়ের পরিবার এখানে বেথেলহেমে বসতি স্থাপন করেছিল।
এটা সেই শহর, যেখানে যীশু জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ইস্টারে আমরা সবাই চার্চ অফ দ্য ন্যাটিভিটির সামনে একত্রিত হই। (যীশুর জন্মস্থানের চার্চ)
এবং মাঝে মাঝে আমি সবার সাথে সেখানে গান গাওয়ার সুযোগ পাই ৷
কয়েক শতাব্দী ধরে খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীরা যীশুর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ৷
তার জন্মস্থান বেথলেহেম থেকে,
জেরুজালেমে তাঁর মৃত্যুস্থল পর্যন্ত ।
তারা জর্ডান নদী অনুসরণ করে,
যেখানে অনেকে বিশ্বাস করে যে তিনি বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন,
যতক্ষণ না এটি গালীল সাগরের সাথে মিলিত হয় ।
সুসমাচার অনুসারে,
তিনি কফারনাউম গ্রাম থেকে মানুষকে সত্যের দিকে দাওয়াত দেয়া শুরু করেছিলেন ৷
এবং তার উপাসনালয়ে শিক্ষা দান করতেন ।
এই তীরে,
খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে তিনি তার সবচেয়ে বিখ্যাত বানীগুলি বলেছিলেন ৷
এবং স্থানীয় জেলেদের মধ্যে কিছু শিষ্য খুঁজে পেয়েছিলেন ।
আর এখানেই জেরুজালেমের গেথসেমান বাগানে,
নিউ টেস্টামেন্ট অনুযায়ী, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো,
মৃত্যুদণ্ডের আগে ।
গুড ফ্রাইডেতে,
হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ভায়া ডেলোরোসা বা দুঃখের পথে হাঁটেন ৷
বলা হয়, ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আগে যীশু এ পথে হেটেছিলেন ।
শোভাযাত্রাটি চার্চ অফ দ্য হলি সেপালচারের অভ্যন্তরে শেষ হয় ।
আপনি জানেন, এই গির্জাটি আমার কাছে খুব স্পেশাল ।
মাঝে মাঝে আমি এমন মানুষদের দেখি, যারা সারা জীবন এখানে আসার স্বপ্ন দেখেছে ।
আমি বুঝতে পারি, জেরুজালেমে থাকতে পেরে আমি কতটা ভাগ্যবান ।
আমি যে কোনো সময় গির্জায় আসতে পারি,
গোলগোথার পাথর স্পর্শ করার জন্য ৷
আমরা বিশ্বাস করি, এখানেই যীশু ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
এবং যেখানে তাকে দাফন করা হয়েছিলো, সেই কবরটি পরিদর্শন করুন ৷
আর তিন দিন পর যীশু মৃত থেকে জীবিত হয়েছেন ।
কেন অনেকে বিশ্বাস করে যে যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল এবং এখানে কবর দেওয়া হয়েছিলো ৷
তা বুঝতে আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ডে যেতে হবে।
গির্জার নিচে,
প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রাচীন দেয়াল চিত্র খুঁজে পেয়েছেন।
লাতিন ভাষায় একটি শিলালিপি সহ একজন তীর্থযাত্রীর আঁকা একটি জাহাজ, যেখানে লেখা আছে;
"হে প্রভু, আমরা এসেছি । "
No comments yet. Be the first to leave one.