لومړۍ 200 کرښې.
বঙ্গানুবাদেঃ মোহাম্মদ মহি উদ্দিন, শাহ মঈন উদ্দীন এবং সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
সম্পাদনায়ঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
বাবা, খেতে আসো।
দারুন!
মোটামুটি ঠিকই আছে।
যেহেতু তোমার জন্য নাস্তা বানিয়েছি...
তো, গির্জার প্রার্থনা শেষে আমাকে টক-ঝাল-মিষ্টি মাংস ভুনা খেতে দিবে?
স্যুপ বানিয়েছি আমি, আর কিমছি (পাতাকপি দিয়ে তৈরি) তোমার দাদী রান্না করে পাঠিয়েছে।
ডিমের রোল আমি বানিয়েছি।
ডিম আমার টাকা দিয়ে কেনা।
কীসের সাথে কী মিলাচ্ছো?
সবচেয়ে বড় কথা, আমি এটা রান্না করেছি।
আমি যদি ডিম কিনে না আনতাম, তাহলে ডিমের রোল কীভাবে বানাতে?
কিন্তু আমি খুব ভালভাবে রান্না করেছি।
জানো, নাস্তা বানাতে আমার কত কষ্ট হয়েছে?
কি নোনতা!!
লবন অনেক বেশি। এগুলা খাওয়া যায়!!!
ঐ...
ব্যাটা মানুষ হয়ে কান্না করো কীভাবে?
আচ্ছা বাবা, ঠিক আছে। নাটক না করে এবার খাও।
বাবা, তুমি হ্যাঁ বলছ?
তাহলে, আজ গির্জায় গিয়ে খুভ ভালভাবে প্রার্থনা করবে।
জো হুকুম, মহারাজ!
ঈশ্বর আমাদের সবাইকে ভালবাসে।
আমরা যদি অন্তর থেকে তার উপাসনা করি,
তবে, ঈশ্বর আমাদের সব প্রার্থনাই শুনবেন।
কিন্তু কখনও কখনও আমাদের কিছু চাওয়া, সহজে পূরণ হয় না।
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন...
এমনকি সেটা কঠিন বা বেদনাদায়ক হলেও
আমাদের আশা হারানো যাবে না।
নিজের বিশ্বাস ও প্রার্থনার উপর ভরসা রাখতে হবে।
একদিন, ঈশ্বর অবশ্যই আমাদের ভালো প্রার্থনাগুলো পূরণ করবেন।
দুইটা নুডলস, আর সাথে এক প্লেট টক-মিষ্টি-ঝাল মাংস।
ঠিক আছে।
- বাবা। - হুম।
তুমি প্রার্থনা করোনি কেন?
কী প্রার্থনা করবো?
মা কে বাঁচানোর জন্য।
করেছিলাম তো।
অন্তর থেকে?
অন্তর থেকেই করেছিলাম।
তাহলে ঈশ্বর তোমার প্রার্থনা পূরণ করল না কেন?
যদিও...
আমি ঈশ্বরের কাছে তোমার মাকে বাঁচাতে প্রার্থনা করেছি।
কিন্তু তোমার মা...
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে যাতে তুমি সুস্থ ও স্বাস্থ্যকরভাবে জন্মগ্রহণ করো।
তোমার মা আমার চেয়ে বেশি প্রার্থনা করত।
তাই হয়ত, ঈশ্বর তোমার মায়ের ইচ্ছাই পূরণ করেছে।
বাবা...
নিজেকে শক্ত করো।
বাবা, আজকেও কি দেরি করে ফিরবে?
হুম, তুমি ঘুমিয়ে পোড়ো।
রুটিন মাফিক পরিদর্শন চলছে।
প্লিজ, জানালাটা খুলুন।
- সার্জেন্ট চোই। - জ্বি।
আমি দেখছি।
জানালা না খুললে, আমি ভেঙ্গে ফেলতে বাধ্য হবো।
ফুঁ দিন এখানে।
প্লিজ, ফুঁ দিন।
সার্জেন্ট পার্ক! সার্জেন্ট পার্ক!!
বাবা আমার...!!!
বাবা...
বাবা...
তুমি ঠিক আছো?
আমার বাবা অসুস্থ।
অনেক অসুস্থ?
হ্যাঁ।
আমি যদি অন্তর থেকে প্রার্থনা করি
ঈশ্বর কি আমার বাবাকে ভাল করে দিবে?
তোমার নাম কি?
পার্ক ইয়ং হো।
মনে সাহস রেখে প্রার্থনা করো।
ঈশ্বর নিশ্চয়ই তোমার প্রার্থনা শুনতে পাবেন।
আমরা কি একসাথে প্রার্থনা করতে পারি?
বাবু,
উঠো।
তোমাকে কিছু বলার আছে।
মন দিয়ে শোনো।
দাদির কথা শুনবে।
দাদির মনে কখনো কষ্ট দিবে না।
ভালভাবে পড়াশুনা না করলেও, কোনো সমস্যা নেই।
সত্যি?!
কিন্তু তোমাকে একজন ভাল মানুষ হতে হবে।
কাউকে বিপদে দেখলে, তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাবে।
ক্ষুধার্ত মানুষ দেখলে, তাদের সাথে খাবার ভাগ করে খাবে।
অসহায়ের উপর অত্যাচার দেখলে,
তাদের উচিৎ শিক্ষা দিবে।
মনে থাকবে তো, পার্ক ইয়ং হো।
বাবা, তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তো।
আমি...
সবসময় তোমার সাথে থাকব।
বাবা, যেও না।
বাবা...
স্যালুট!
মিথ্যুক কোথাকার! বেরিয়ে যাও।
তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি খুনী!
তুমি এখানে কী করছ?
তোমার কারণেই আমার বাবা মারা গেছে।
প্রতারক! খুনী! ছাড়ো!
আমাকে ছাড়ো।
মিথ্যুক কোথাকার! কেন এসেছ এখানে? বেরিয়ে যাও!
বেরিয়ে যাও এখান থেকে।
বেরিয়ে যাও।
ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ...
বিচারকরা প্রস্তুত, ফাইটাররাও প্রস্তুত।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেস বাসিন্দারা...
একটা জোরে চিতকার হয়ে যাক। তোমরা কি প্রস্তুত!
সর্বপ্রথম পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি নীল কর্নারের খেলোয়াড়কে।
একজন ফ্রি স্টাইল ফাইটার যার উচ্চতা ৫ ফিট ১১ ইঞ্চি; ওজন ১৭০ পাউন্ড।
১৩ পেশাদারী বক্সিং লড়ার রেকর্ড, যেখানে ১০ টাতে জয় আর ৩ টাতে পরাজয়।
বেড়ে উঠেছে ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
এই সেই চ্যালেঞ্জার; "সুপার মেরিন"
জন হোয়াইট...
আর এখন পরিচয় করাবো, লাল কর্নারের খেলোয়ারের সাথে।
৬ ফিট ১ ইঞ্ছি লম্বা এবং ওজন ১৭০ পাউন্ড।
১৭ টি পেশাদারী বক্সিং লড়ার রেকর্ড, যেখানে ১৭ টিতেই জয়। কোনো হার নেই।
কোরিয়ার সিউল শহর থেকে আসা... অপরাজিত এম এফ সি চ্যাম্পিয়ন...
যার আরেক নাম "দ্যা গ্রিম রিপার"
পার্ক ইয়ং হো।
হাই, জেন্টলমেন। নিয়ম মেনে চলবেন ও নিজেকে রক্ষা করবেন।
আমার নির্দেশাবলী অনুসরণ করবেন। আমরা একটা নির্ভেজাল খেলা খেলতে যাচ্ছি।
প্লিজ, দুজনের গ্লাভস মিলিয়ে খেলা শুরু করুন।
ধুর ছাই! চুপ থাক। কিছু করিস না।
প্রতিশোধ...
বাবার জন্য প্রতিশোধ।
প্রতিশোধ...
বাবার জন্য প্রতিশোধ।
প্রতিশোধ, প্রতিশোধ...
প্রতিশোধ...
প্রতিশোধ! এখনই...
তো তৈরি?
বাবু, উঠ।
ইয়ং হো।
বাবা...
বাবা, দাঁড়াও না।
ঈশ্বর বাবাকে খুন করেছে।
বাবার জন্য প্রতিশোধ।
প্রতিশোধ, পার্ক ইয়ং হো।
তোমাকে বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হবে।
ঈশ্বর তোমার বাবাকে খুন করেছে।
প্রতিশোধ! প্রতিশোধ!
ধুর!
আরে, ঠিক আছেন?
ম্যাম শুনছেন।
দেখতেই পাচ্ছেন, ক্ষতটা বেশ গভীর।
মনে হচ্ছে, ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
উনি বিমানে যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন এমনটা ঘটেছে।
সম্ভবত, উনি ঘুমন্ত অবস্থায়, কেউ ওনার হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিল।
চিন্তা করার কিছু নেই।
এক সপ্তাহের এন্টিবায়োটিক ঔষধ দিয়ে দিচ্ছি। উনি ঠিক হয়ে যাবেন।
এন্টিবায়োটিক খেয়েছে।
কিন্তু এখনও রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি।
সেক্ষেত্রে আমাদের আরো কিছু পরীক্ষা করতে হবে।
সিউলে কুয়াশার ঘনত্বের স্তর...
সাধারণ গড়ের তুলনায় প্রায় ৭ গুণ বেশি।
আপনাকে আমার ভাতিজীর ব্যপারে বলেছিলাম?
আমার ভাতিজী এই বছর ১৫ বছরে পা দিবে।
ওর অনিদ্রা রোগের কারণে, প্রতি রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারত না।
সবসময় দুঃস্বপ্ন দেখত।
সবসময় বলত, কেউ জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।
এক সময়, ওর চুল পড়তে শুরু করে...
চোখ দুটোর রং সাদা হয়ে যায়।
চোখ থেকে রক্ত পড়তে শুরু করে।
ওর মা অনেক ভয় পেয়েছিল।
ওকে ডজন খানেক হাসপাতালের ডাক্তার দেখিয়েও
আসল রোগ খুঁজে বের করতে পারিনি।
তারপর, ওর মায়ের এক বন্ধু, একজন তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যেতে বলে।
তান্ত্রিক যখন ওকে দেখে, বলে, ওর হৃদয়ে দোষ আছে।
হৃদয়ে দোষ?
হ্যাঁ।
বলে, ১০ দিনের মধ্যে যদি আমরা কোনো পদক্ষেপ না নিই,
তাহলে, দেবতারা রাগ করবে আর আমার ভাতিজী অন্ধ হয়ে যাবে।
শুরুতে কেউ বিশ্বাস করেনি। কিন্তু দশম দিনেই...
আমার ভাতিজী অন্ধ হয়ে যায়।
তারপর ওরা তান্ত্রিকের কাছে ছুটে যায়, গিয়ে বিকল্প চিকিৎসা নেয়।
তো, এখন দেখতে পায়?
না, এখন আর দেখতে পায় না।
কিন্তু শুনেছি, শুধু ভূত দেখতে পায়।
ও নিজেই এখন ইনচেওনের একজন প্রসিদ্ধ তান্ত্রিক।
যদি ওর সাথে দেখা করতে চান, আমাকে বলতে পারেন।
আমি দেখা করিয়ে দিব।
আমি এসব জিনিসে বিশ্বাস করি না।
ওহ, আচ্ছা।
যদি ইনফেকশানের কারণে এমন হতো, তাহলে রিপর্টের ফলাফলে ধরা পড়ত।
রিপোর্ট সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এসেছে।
সত্যি বলতে, একজন স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে আপনার স্বাস্থ্য অনেক বেশি ভাল অবস্থায় আছে।
তাহলে, হাত থেকে রক্ত ঝরছে কেন?
জানি না।
আপনি এই শহরের, আরো উন্নত হাসপাতালে দেখাতে পারেন।
কিন্তু ফলাফল অবশ্যই একই আসবে।
চলো, তোমার ভাতিজীর সাথে দেখা করি।
ওহ... আচ্ছা স্যার।
এখানেই।
আমি বাইরে আছি।
সে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
বসুন।
ইস্!
আপনি শেষ।
আপনার ভিতর অনেকগুলো প্রেতাত্মা আছে।
কেন?
No comments yet. Be the first to leave one.