لومړۍ 200 کرښې.
• • • অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
আমি কী অপরাধ করেছি
বা আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বললে, ব্যাপারটা আরও সহজ হয়ে যাবে।
আমার হৃদয় খুব দুর্বল।
বেশি চাপ নিলে আবার, পটল তুলতে পারি।
তখন তোমাদের কাজ আরও বেড়ে যাবে।
এই, দেখো।
"প্রেস"
একজন সাংবাদিককে অপহরণ করা গুরুতর অপরাধ।
স্বাধীনতার আগে তো অপরাধ ছিলই, এখন আরও বড় অপরাধ।
তুমি তো নিশ্চয়ই জানো আমরা কোথায় যাচ্ছি, তাই না?
তোমাকে আগে কখনো দেখেছি নাকি?
"লেমবাং, পশ্চিম জাভা"
"১৭ এপ্রিল, ১৯৫৫"
মেজর হেরু কুসুমা!
ওদের বলছিলাম,
বেশি পোদ্দারি করলে খবর আছে, আমার বেস্ট ফ্রেন্ড একজন পুলিশ কমিশনার,
কিন্তু ওরা একদম মুখ খুলেনি।
মনে হচ্ছে তুমিই আমাকে এখানে আনা করিয়েছ।
কী ব্যাপার?
ভেতরে চলো।
তোমাকে কিছু দেখানোর আছে।
কী?
প্লিজ। ভেতরে চলো।
এসব কী?
আজ সকালে...
একজন পরিচারক এখানে এসে চিৎকার শুরু করে।
কেউ কেউ বলছিল ওর চুলগুলো নাক হঠাৎ করেই পেকে যায়।
কোন ধরনের সাইকো
কবর খুঁড়ে লাশ বের করে এখানে এভাবে রাখতে পারে?
এসবের পর, লাশগুলোকে তাদের জায়গায় আবার দাফন করা হবে,
আর এই জায়গা পরিষ্কার করে ফেলা হবে, যেন কিছু ঘটেইনি।
এটা একটা ক্রাইম সিন। ফরেনসিকের জন্য অপেক্ষা করছ না কেন?
আগামীকাল দেশের জন্য অনেক বড় একটা দিন।
মনে আছে?
"কাল শুরু হবে এশিয়ান-আফ্রিকান কনফারেন্স"
"বানডুং হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক শহর"
পুরো বিশ্ব থেকে বিভিন্ন নেতা আসবে আগামীকাল।
এই ধরনের খবর লিক হওয়া যাবে না।
তাহলে আমাকে এখানে টেনে আনলে কেন?
হেরু।
এটা অসম্ভব।
লাশ কখনো হাঁটতে-চলতে পারে না!
আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এটা অনেক বড় কিছু।
এমনকিছু যা অশুভ ও বিপজ্জনক।
বুদিমান...
তুমি আমার একমাত্র সাংবাদিক বন্ধু।
আমি চাই তুমি জনগণকে এই ব্যাপারে বলো,
নাহলে কেউ কখনোই জানতে পারবে না।
আমাকে উপরমহল থেকে মুখ বন্ধ রাখার আর সব প্রমাণ মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এটা গোপন তথ্য হয়ে থাকলে, আমার পত্রিকা ঝামেলায় পড়বে।
তাহলে তোমার পত্রিকা ব্যবহার কোরো না।
খবরটা ছড়াতে অন্যকিছু ব্যবহার করো।
দরকার পড়লে নতুন ম্যাগাজিন বা পত্রিকা তৈরি করো।
আর্টিকেলটা যেন উত্তেজনাপূর্ণ আর রোমাঞ্চকর হয়।
আমি নিশ্চিত কিছু মানুষ এতে ঠিকই বিশ্বাস করবে।
আজ তোমাকে কাজে দেখে অবাক হলাম।
তোমার না যাবার কথা?
"জাকার্তা ১৫ এপ্রিল, ১৯৮৪"
মাফ করবেন, কিন্তু আমি যেতে পারব না, ম্যাম।
আপনি অনুমতি দিলে, আমি এখানেই কাজ করতে চাই।
তোমার মধ্যে অনেক সক্ষমতা রয়েছে।
আমি তোমাকে সত্যিই প্রোমোশন দিতে চাই।
শুধু যে ছোট কাজ করছ তাই না, তুমি কলেজের পড়ালেখাও শেষ করোনি।
আমি এই কাজেই সন্তুষ্ট আছি, ম্যাম।
আমার আগের চাকরিতে সন্তুষ্ট থাকলে,
আজ আমি ডিরেক্টরের পদে হতাম না।
এখন, আমি শুধু কাজই করি না,
বরং অন্যদেরও আগে বাড়ার সুযোগ দিই।
এমন না যে তোমাকে জাকার্তায় স্কলারশিপ দিতে চাই না।
কিন্তু ঐ শহরের ভার্সিটিতেই শুধু তোমার মতো...
কলেজ ড্রপ-আউটদের কোর্স অফার করছে।
আমার ছোট ভাইদের ছেড়ে যেতে পারব না।
তোমার ভাইয়েরা এখন বড় হয়ে গেছে, তাই না?
জি, ম্যাম।
কিন্তু...
আচ্ছা, বলি কি...
আজ একটু চিন্তাভাবনা করো, কাল বেরিয়ে পোড়ো।
তাহলে, তোমার অরিয়েন্টেশনে তাও সময়মতো পৌঁছাতে পারবে। পারবে তো?
এটা তোমার ভবিষ্যতের বিষয়।
সফল হলে, তোমার ভাইদের সাহায্য করতে পারবে।
এখন বেশি জরুরি হচ্ছে, কীভাবে নিজের জীবনকে বদলে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারবে।
বোঝা গেছে?
জি, ম্যাম।
- ধন্যবাদ, ম্যাম। - তোমাকে স্বাগত।
আজকের তাজা খবর! আজকের তাজা খবর!
রহস্যময় স্নাইপাররা বাইরে মুক্ত হয়ে ঘুরছে। সাবধান!
নিজেদের ট্যাটু ঢেকে রাখুন!
জাকার্তার দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল এক ঝড়।
আজকের তাজা খবর!
"রহস্যময় স্নাইপারদের থেকে সাবধান! জাকার্তার দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল এক ঝড়।"
"সিনেমা জংশন বাস স্টপ"
এখনকার পরিস্থিতি কীভাবে ভালো? বলো আমাকে!
চাল সাশ্রয়ী মুল্যে পাওয়া যাচ্ছে, কোনো দুর্ভিক্ষ নেই। আর কী চাও?
কিন্তু দুর্নীতি বেড়ে গেছে, মানুষজনকে রহস্যজনকভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে, কোনো বাকস্বাধীনতা নেই।
এজন্যই তোমার বুঝেশুনে কথা বলা উচিত।
দেখি, ভাই।
দেখি।
চলো এবার।
কোথায় যাচ্ছ, ওইসনু?
চাল কিনতে।
- লিফটে গেলেই তো পারো? - ওতে অনেক সময় লাগে।
এখন কেমন আছ?
হালকা মাথাব্যথা আছে।
আমাদের কী দেখাতে চাচ্ছিস?
আমি এখানে এরকম অনেকগুলো খুঁজে পেয়েছি।
- কী এটা? - সমাধিশিলা।
- কিন্তু এতে তো কিছু লেখা নেই। - বেনামী লাশ হতে পারে।
দেখে তো ভাঙা দেয়াল মনে হচ্ছে।
আশেপাশে কোনো ভাঙা দালানবাড়ি দেখতে পাচ্ছিস?
কিন্তু এটা এত সাদামাটা কেন?
হতে পারে যে এটা বানিয়েছে তার অতটা প্রতিভা ছিল না।
ঠিক জানি না! কিন্তু এটা যে সমাধিশিলা এটুকু আমি নিশ্চিত।
তাছাড়া, সমাধিশিলা বানানো মতো এত একনিষ্ঠতা কার ছিলো?
তো কল্পনাশক্তি একটু বেশিই পাগলাটে! জম্বিরা তোকে তাড়া করে, আর কী যেন!
কীসের জম্বি?
বুন্দি বলেছিল ওকে নাকি একবার জম্বিরা তাড়া করেছিল।
ওকে বলতে মানা করেছিলাম!
- কেন মানা করেছিলি? - কারণ তুই একটা ভয়পাদুড়ে!
মোটেও না! কে বলেছে?
ভয়পাদুড়ে হওয়া খারাপ কিছু না। প্যারা নিস না। কমসেকম তুই দেখতে তো বিশ্রী না।
বাসায় যা!
এদিকে কাজ করতে করতে আমার জীবন বের হয়ে যাচ্ছে।
এখন কি এসে আমাকে রান্না করেও খাওয়াতে হবে? আমাকে তোর চাকর ভেবেছিস?
তোর বোনকে দেখ, না খেয়ে আছে!
- কিন্তু আমার খিদে পায়নি, বাবা। - তুই চুপ কর!
আরি।
তুই ঠিক আছিস?
আরির মা কোথায়? সে রান্না করতে পারে না?
ওর মা অসুস্থ জানিস না?
তোদের বিল্ডিংয়ে থাকি না, তাও সব জানি আমি।
ওর মা কথাও বলতে পারে না। সারাদিন শুয়ে থাকে।
যদি কিছু দরকার পড়ে, তখন কী করে?
- ঘণ্টা বাজায়? - না।
তবে বুদ্ধিটা খারাপ না। আমি আরিকে ঘণ্টার ব্যাপারে বলব।
না, দরকার নেই!
দেখ, বিল্ডিয়ের ইউনিটগুলো কত ছোট ছোট।
একটা ডাক দিলেই সবাই শুনতে পাবে। ঘণ্টার দরকার নেই।
আরিকে যা বলেছিস তা যদি সত্যি হয়েও থাকে, চিন্তা করিস না।
তোদের বিল্ডিংয়ে অনেক লোক থাকে।
তোকে শুধু জোরে একটা চিৎকার দিতে হবে, আর সবাই সাহায্যের জন্য বেরিয়ে আসবে।
তা ঠিক।
এই মামনি, এখনো তৈরি হওনি যে? আজ কাজে যাবে না?
আচ্ছা, তুমি কাজ কোথায় করো বলো তো? রাতে আর সকালে আসো।
ভাবছিলাম বাসা ছেড়ে দিব।
কিন্তু তুমি আসার পর আর ছাড়তে পারলাম না।
তারি, তোমাকে কাজে ছেড়ে আসতে পারি?
তোমার জন্য অপেক্ষা করব। তারপর তোমাকে নিয়ে আমার বাসায় যাব।
তোমার বাসায়?
আর তোমার মা কোথায় যাবে?
তুমি না এখনো মায়ের দোলনায় থাকো?
মেয়ে তো না যেন আগুনের গোলা।
তুই তো ইজ্জত খেয়ে দিলি, মামা।
চুপ, চুদির ভাই!
আমাকে ফলো করছ? আমি বোকা না, বুঝলে?
আমার সাথে হ্যাংকি-প্যাংকি করলে, ঠ্যাং ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিব।
তোমাকে ফলো করছি না। আমি তো বাসায় যাচ্ছিলাম।
- কোন তলায় থাকো? - এই তলাতেই।
কোন ইউনিট?
- ৯২৪। - ৯২৪ তো আমার ইউনিট। আমরা কি তাহলে এক সাথে থাকি?
- মানে... - তোমার সমস্যা কী?
কিছুই না।
তখন আমি তোমার সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু তুমি ভালোভাবেই ম্যানেজ করে নিলে।
- তো... - তো, কী?
জানি না। ব্যস জানতে চাচ্ছিলাম কোথায় থাকো।
লুইচ্চা!
না, না, না। যা ভাবছ ব্যাপারটা তা না।
আচ্ছা, শোনো। আমি খুবই ভালো একটা ছেলে।
আমার বাবা, বড় বোন, আর ছোট ভাইয়ের সাথে ৮ তলায় থাকি।
ভয় পেয়ে থাকলে, আমি দুঃখিত।
বেশ, কেউ তো বলেনি তুমি খারাপ ছেলে।
সাহায্য করতে চাইলে, আমার দরজাটা খুলতে সাহায্য করো। আটকে গেছে।
এটা তো দেখি ৯২৪ না।
কবজাটা নড়ে গেছে। ঠিক করানো লাগবে।
এখন তো দরজাটা খুলতে পারবে?
বেশ, পরে ঠিক করে দিও।
এই!
দরজা ঠিক করা ছাড়া, ইলেকট্রনিকের জিনিসও ঠিক করতে পারো?
পারি।
এটা কাজ করছে না। অগ্রীম ধন্যবাদ।
কী হয়েছে তোর?
কোথায় ছিলি এতক্ষণ?
তো অবশেষে ৯ তলার ঐ বড় দিদির সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে?
কে?
শুনেছি, ও নাকি কল গার্ল (বেশ্যা)।
এগুলো কী ভাষা, বুন্দি! এসব বলা ঠিক না।
কল গার্ল নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।
আমি নিজেই জিগোলো (পুরুষ সঙ্গী) হবার চেষ্টায় আছি।
যখন জিগোলো হবি, তখন কাজ হবে মানুষকে খুশি করা।
কিন্তু নিজেকেই হয়তো খুশি করতে পারবি না। তুই কি এমনটা চাস?
সব চাকরিই তো এমন, তাই না?
তা... ঠিক। কিন্তু তফাত আছে।
কী তফাত?
বলো।
জানি না, আমার মাথা কাজ করছে না।
ও একটা পুল বারে কাজ করে, এটুকুই।
মানুষের খোশগল্প করা ছাড়া কোনো কাজ নেই।
খাবার তৈরি, বাবা।
একটু সেক্সি কাপড় পরা কি খারাপ?
ও কী কাপড় পরে সেটা ওর ব্যাপার।
No comments yet. Be the first to leave one.