لومړۍ 200 کرښې.
মনে হয় শত্রুরা আক্রমণ করেছে।
গুপ্তচরদের ভাষ্য তারা বেশি আগায়নি।
তাহলে ঢোল বাজিয়ে সতর্ক কেন করা হচ্ছে?
বাদশাহকে জানানো উচিত আমাদের।
তার লাগবে না।
কুয়াশা বেশ ঘন হুজুর।
কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
দরজা খুলুন!
দরজা খুলুন!
এটা কোনো চালও হতে পারে।
শেবানি খান যেকোনো পর্যায়ে নামতে পারে হুজুর।
দরজা খুলুন আর সৈন্যদেরকে প্রস্তুত হতে বলুন।
জালাল খান?
আরেকজন বার্তাবাহক ধরা পড়ল।
বাহিরের সাহায্য কীভাবে পাবো এবার?
"আমার বার্তা পড়তে না; দেখতে হয়।
"চলো একে অপরের ধৈর্য পরীক্ষা করা যাক, বাবর।
"দেখা কারটা আগে শেষ হয়।"
শশ...
বার্তাটা বেশ স্পষ্ট, হুজুর।
শেবানি এর আগেও দুইবার ঘেরাও করেছিল।
কিন্তু এবার, আমাদের লোকজন আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
তার ওপর এই শীত ঝামেলা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মহলের ভেতরের কেউ শেবানিকে সাহায্য করছে।
জালাল তৃতীয় বার্তাবাহক যে কাবুল যাবার পথে ধরা পড়েছে।
কিন্তু বাদশাহ, মহলের ভেতরের সবাই তো আপনার অনুগত।
কেন তারা এমনটা করবে?
সেটাই তো জানতে চাই।
এইবার কে আমাকে ধোঁকা দিল?
যদি শেবানি সব জেনে থাকে,
তাহলে এটাও জেনে থাকবে যে, আমাদের জনগণের খাবার নেই।
আমাদের জনগণের জন্য রাজকীয় শস্যাগার খুলে দেন
কিন্তু হুজুর...
মানুষ যাতে ক্ষুধায় না মরে সেটা নিশ্চিত করতে চাই আমি।
বাদশাহ, রাজকীয় শস্যাগারও তো দু'সপ্তাহের মাঝে ফুরিয়ে যাবে।
তারপর?
দু'সপ্তাহ থাকবে...
ততদিনে আমরা আমাদের ভিতরের দুশমনকে খুঁজে বের করবো।
দেখতে দেখতে তিন মাস হয়ে গেলো।
ওর জন্মেরও আর শেবানি খানের ঘেরাও করারও।
পার্থক্য আছে।
শেবানি খানের ঘেরাও স্বার্থপরতা আর নিষ্ঠুরতার নিশান।
আর এই এই নিষ্পাপ সত্ত্বা হল খোদার রহমতের নিশান।
এদের দুজনের নাম কখনো একসাথে তুলবে না।
শেবানি যদি তোমার জীবনে কষ্ট নিয়ে আসে,
তাহলে তোমার ছেলে ভবিষ্যতে তোমাকে খুশি এনে দিবে।
প্রশ্ন হল... ভবিষ্যত কি আদৌ আসবে?
গত ছয় বছরে এই নিয়ে তিনবার শেবানি খান আক্রমণ করলো।
আজ জনসাধারণ ক্ষুধার্ত।
কাল আমরা হব।
মনে হয় বাবর এবং আমাদের হার মেনে নেয়া উচিত।
বাবর অতটা দুর্বল নয়
আবার শেবানিও ততটা শক্তিশালী নয়।
চিন্তা করো না।
শেবানি খানে প্রতিবারের মত এবারও খালি হাতে ফিরে যাবে।
বাবর ভেঙ্গে পড়েছে।
আত্মসমর্পণ করবে সে।
জনগণকে ক্ষুধায় মরতে দিতে পারবে না সে।
সে তার বাবার মতই।
কোমল হৃদয়ের।
তোমার মানে, দুর্বল হৃদয়।
সে কখনো কল্পনাও করতে পারেনি যে, শত্রুপক্ষ এই শীতে আক্রমণ করবে।
কিন্তু শেবানি খানের শত্রুতার গভীরতা
তার শত্রুদের কল্পনারও বাইরে।
বাবরের অনুগতদের মধ্য হতে বিশ্বাসঘাতক খুঁজে ভালো করেছো।
তুমি তোমার আনুগত্য প্রমাণ করেছো, কাম্বার আলি।
বাবর তাদের সাথে এই বিশ্বাসঘাতকতা না করলে, আমি এই সুযোগ কখনো পেতাম না।
বাবরের স্বপ্ন হল,
তার পরিবার আর জনগণের জন্য একটা জায়গা খুঁজে পাওয়া।
নামমাত্র একটা বাড়ি।
আমার মনে হয় সেজন্যই সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
বাড়ি।
শিঙ্গার আওয়াজ যেন না থামে।
আমি এবার ফিরে যাচ্ছি না বাবর যেন এটা বুঝে যায়।
দেখে নিক সে, শেবানি খানের হুঙ্কার তার পুরো সেনার চেয়েও শক্তিশালি।
শেহজাদি।
রাজমাতা আপনাকে তলব করেছেন।
আসছি।
রাজকীয় শস্যাগার খুলে দেয়াটা মোটেও উচিত হয়নি।
বাবর ওর বাবার মতই।
যা রাজশাসনের জন্য ক্ষতিকর।
বাবা সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিত।
আর আমি নিশ্চিত বাবরও বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিবে।
আপনি যা করছেন সেটা মহানুভবতা নয় বরং বোকামি।
এই বোকামিতেই আমার জনগণ খেতে পারছে।
ঐ দেখুন।
কী মনে হয় এরা সুরঙ্গ বানিয়ে পৃথিবীর অপর প্রান্তে চলে যেতে পারবে?
অন্তত সেখানে তারা সুখে থাকবে।
এখানে না খেয়ে মরার চেয়ে ভালো।
কেউ মরবে না বাবর।
রাজ শস্যাগার উন্মুক্ত করে আপনি ভুল না-কি সঠিক করেছেন তা আমি জানি না।
কিন্তু এটা জানি যে, একজন বাদশাহকে তার প্রজার জন্য এটাই করা উচিত ছিল।
যাও সরো।
এটুকুই?
পাচ্ছো যে এতেই খুশি থাকো।
যাও সরো।
আমাকে আটজনের খুদা মেটাতে হবে।
এখানে তো একজনের খাবারও নেই।
আরে সর তো বুড়ি।
চলতে থাকো।
এই যে আম্মা। এখানে বসুন।
ওনাকে নিয়ে যাও।
ঠিকই তো বলেছিল।
বাদশাহ প্রতি ঘরে দুই বস্তা করে শস্য দেয়ার ওয়াদা করেছেন।
তোমরা তো এক মুঠও দিচ্ছ না।
আরে আরে, দেখুন তো কে বলছে?
বাদশাহর বিশেষ বন্ধু।
হুজুর আপনি কাতারে(লাইন) কেন দাঁড়িয়ে আছেন?
আপনার সাথে কেউ কথা বলছে না।
যা আদেশ দেয়া হয়েছে তা আপনাদের পালন করা উচিত।
আপনাদের ভিক্ষে চাই না আমরা।
দুই বস্তা শস্য আমাদের অধিকার। সেটা দিন।
ভিক্ষে চাস না ঠিক আছে। ভালো কথা।
শস্যাগার বন্ধ করো।
-এটা কীভাবে করতে পারেন আপনারা? -আমাদের ভিক্ষে চাই না তাদের।
-চলো। -আমাদের অধিকার আছে এতে।
-চলো। -আমাদের পাওনা এটা।
চলো।
দুই বস্তা শস্য আমাদের অধিকার।
যা ভাগ!
বের কর শালাকে।
কী যে ভাবে নিজেকে?
-বাদশাহর বিশেষ বন্ধু। -হ্যাঁ।
হুজুর অনেক খুশি হবে।
পুরষ্কার পাব আমরা।
চিন্তা করবেন না।
শস্যাগারে সরবরাহ কমতে থাকবে,
আর জনগণ না খেতে পেরে আন্দোলন করবে।
শুধু রাজ্যের বাইরেই না--- ভেতরেও--
এ!
সর সামন থেকে।
এ!
ওঠ! ওঠ!
ধরো ওকে! ভিতরে যেতে দিবেনা!
বাদশাহর ঘর থেকে চুরি করেছি।
গ্রেফতার করবেন না?
বাদশাহর জিনিস চুরি করার শাস্তি অনেক কঠোর।
জানো না সেটা?
কোথায় পেয়েছো এটা?
বাদশাহ নিজে এটা দিয়েছেন আমায়।
অসম্ভব।
বাদশাহর নানিমা এটা তাকে উপহার দিয়েছিলেন।
উনি এটা কাউকে দিতে পারেন না।
তুমি এই চুরির সাজা পাবে।
আমার কথা বিশ্বাস করছেন না কেন?
বাদশাহ এটা দিয়েছেন আমাকে।
হুজুর, শাহ বেগমের তাবিজ চুরি করে পালাচ্ছিল।
কাসিম?
ওয়াদা ভুলে গেছেন তো কী হয়েছে, আমাকে তো মনে রেখেছেন।
আমি তাকে এই তাবিজ দিয়েছিলাম।
কিন্তু হুজুর, সে তো সিপাহিদের বললো--
বাদশাহর সাথে দেখা করার এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে?
আর দেখাও করে ফেললাম।
বলুন কেন দেখা করতে চেয়েছেন?
আমি আপনার জুলুমের শাস্তি চাইতে এসেছি।
প্রজারা না খেয়ে মরছে। সেই জুলুমের।
আবু বখশের মত আপনিও ভুলে গেছেন। সেই জুলুমের।
এখানে এসে জানতে পারলাম আপনি নিজেই তো জুলুমের শিকার।
নিজের পরিবারই ধোঁকা দিলে তার চেয়ে বড় জুলুম আর কী হতে পারে?
আপনি চিন্তিত আছেন বলে হয়ত সে-ও চিন্তিত।
চিন্তায় নেই কে?
হয়ত এটাও জানে বাদশাহকে অসম্মান করা অনুচিত।
আশা করি, বিশ্বাসঘাতকরাও জানে।
ক্ষমতা হারানোর জন্য সব ধরণের চাল চালানো হচ্ছে।
তারা শহরে দাঙ্গা শুরু করে দিয়েছে, মাহমুদ।
শেবানি এটা জানতে পারলে?
জানবে না।
বিশ্বাসঘাতককে পেয়ে গেছি আমরা।
ভেতরে আনো তাকে।
ধরো ওকে! যাও!
ভেবেছিলেন আপনার লোকেরা আমাকে ধরে ফেলবে?
কিন্তু ভুলে গেছেন যে, উপায় না থাকলেও কাসিম উপায় বের করতে জানে।
আমাকে চেনোনি তুমি,
কিন্তু এত বছর পরেও, আমি তোমাকে ভুলিনি মাহমুদ।
তুমি তোমার বাদশাহকে ধোঁকা দাওনি।
নিজের রক্তকে ধোঁকা দিয়েছো।
আপনিও তো ওয়াদা ভঙ্গ করে সেটাই করেছেন।
সমরকন্দে আসার জন্য করেছিলেনই বা কী?
তার সাহায্যে, ইঁদুরের মত গর্ত দিয়ে লুকিয়ে এসেছেন।
মাহমুদ!
আওয়াজ--
নিশকা না থাকলে সে কি আজ এখানে থাকতো?
না।
সে তার বাবার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল।
সব হারালো সে, শেষে জিতলো কে?
আপনি।
না, ওয়াজির।
না ওয়াজির। সমরকন্দের লোকেরাই তাকে শাস্তি দিবে।
সে সমরকন্দের লোকেদের কাছে দোষী।
আপনার বউ বাচ্চার খেয়াল রাখা এখন আমার দ্বায়িত্ব।
মাহমুদ?
বাদশাহ তাকে বিশ্বাসঘাতক ঘোষণা করে প্রজাদের কাছে...
তুমি যেতে পারো।
আমি বলছি যাও।
তুমি আবার আমার সাহায্য করলে, কাসিম।
শুধু ধন্যবাদ যথেষ্ট নয়,
তাই আমি তোমাকে আমার বিশেষ পরামর্শক বানালাম।
কিন্তু, হুজুর---
মানুষকে তার কাজ দিয়ে নয়, নিয়ত দিয়ে বিচার করুন।
মাহমুদ বিশ্বাসঘাতক ছিল এটা মামা জানতো না?
No comments yet. Be the first to leave one.