لومړۍ 200 کرښې.
--অনুবাদক===সাদমান সানজি ---
--অনুবাদক===সাদমান সানজি ---
দম লাগিয়ে হাইয়া অনুবাদক ===>> সাদমান সানজি
তিনটা জিনিস আছে এই দুনিয়ায়...
...যেটা আমার চোখের পানি বন্ধ করতে পারেনি..
..প্রথমত বাবার সেন্ডেল..
..দ্বিতীয় ইংরেজির প্রশ্নপত্র..
..এবং তৃতীয় কুমার শানুর আওয়াজ..
..এইসবে অনেক ব্যাথ্যা আছে.
হাজারবার নিষেধ করেছি.
হেডফোন লাগায়ে রেকর্ড করিস না, কানের পর্দা ফেটে যাবে.
- কি বলছেন আপনি? - আমি কি বলছি?
ঋষিকেষের পণ্ডিত ফোন করছিল, মেয়ে দেখতে যাইতে হবে.
বলতেসে,কালকেই মন্দিরে এসে পড়.
আজকের কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি চলে আয়.
এটা কি রাখছিস? ফেলে দে এটাকে.
জি, আব্বু.
এখানে ২০টাকা রেখে যাচ্ছি.
জি, আব্বু.
আর দেখিস গরু-ছাগল যেন না ঢুকে দোকানে.
জি, আব্বু.
জয়া!তুই লেবু নিয়ে আসছিসতো?
টাকা নিয়েছেন পণ্ডিতের জন্য?
প্রেম,পিছনে বস. সময় নাই.
তাড়াতাড়ি!
আম্মা, শাড়ি খুলে গেছে.
আমি প্রথমেই বলছিলাম পিণ লাগিয়ে নে.
ধর এটা.
তোর বাপকে যেতে দে.
শ্বাস নে.
শাড়ি এবার টাইট করে বেধে দিলাম.
মাথায় কাপড় দে.মন্দিরে যাচ্ছি,কলেজে না.
শাড়ির মাথাতো খুজেই পাচ্ছি না.
- কি করছো ,আম্মু? - চুলে তেল দিয়ে ঠিক করতেছি.
তাকে বল ...
...তাদের সামনে যেন বুক ফুলিয়ে বসে.
বেয়াদবি করার কোন দরকার নাই.
একমাত্র ছেলে আমার.
খাওয়ার সময় শব্দ করবি না. আর কথা বলার সময় থুতু ফেলবি না.
আপনারা এমনভাবে বলছেন যে, আমি জীবনেও মেয়ে দেখি নাই.
অল্প পানি খাবি?
যেতে আর কতক্ষণ লাগবে?
মেয়ে দেখার জন্য পাগল হয়ে গেছে দেখো আমাদের লম্বু.
পরিচিতি পাঠটা প্রথইমে হয়ে যাক.
মেয়ের বাবার নাম, মদন পাল.
আর ছেলের বাবা,চন্দ্র প্রকাস তিওয়ারি.
মেয়ের মা, শুভাদ্রা রানী.
ছেলের মা, শশী তিওয়ারি.
ছেলের দুই বোন,জয়া আর হেমা এবং তাদের স্বামীগণ.
সে ছেলের ফুফু, নয়নতারা.
আমার মনে হয় ছেলে আর মেয়ে নিজেরা মধ্যে কথা বললেই ভালো হয়.
হ্যা.
সান্ধিয়া.
সান্ধিয়া.
প্রেম,তোর নাম বল.
আপনিইতো বলে দিলেন, আব্বু.
- সামারেরতো পরিচয়ই দেয়া হয়নি. -সামার? -সামার এর ছোট ভাই.
এস.এস.সি পরীক্ষা চলছেতো, এইজন্য আসতে পারেনি.
- সান্ধিয়ার পড়ালেখা? - অনার্স করেছে.
ছোটকাল থেকেই মাস্টার হওয়ার খুব শখ.
এমনকি তার পুতুলকেও অংক করাত.
আমাকে কি বলছিস! নিজেই জিজ্ঞাস করে নে.
সে তার পড়ালেখার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছে.
আমাদের প্রেম কমার্সে অনার্স করেছে.
ছোটকাল থেকেই ব্যাংকার হবার শখ.
বইয়ের চেয়ে টাকা বেশি গুনতো.
আরেকবার চিন্তা করে বল.
চিন্তা করেই বলছি.
কি বললি চিন্তা করে ?
এত সুন্দর ও রুচিশীল মেয়েটা. তার স্বভাবটা দেখছেন আপনারা?
একটা কথাওতো সে বলে নাই. স্বভাব এমনিতেই বুঝে গেলেন.
যে মেয়েটা চুপ বসে থাকে তাকে ভাল বলবো নাতো
কাকে বলব তাকে যে সারাদিন দোকানে বসে...
...ছবির গান রেকর্ড করে?
একটা কথা সবাই শোন,মেয়েটাকে আমার ভাল লেগেছে. ব্যাস.
ভাল লাগছে মেয়ে! আর চেহেরা?
চেহারাটায় কি সমস্যা?
ল্যাংরা,লুলা, বোবা,খারাপটা কি?
সাইজ দেখছেন? মোটা.
মোটা!আর তুই কোথাকার নায়ক, এস.এস.সিও তো পাস করতে পারিস নাই.
আজকালকার খাবারগুলাই এরকম.
তোর বোনকেই দেখ না, বিয়ের পর কেমন ভারী হয়ে গেছে..
..তার স্বামী কি এখন তাকে ভালোবাসে না.
তারাতো একে অপরকে পছন্দ করেছে. আমার পছন্দটাতো একবার..?
ডাস্টবিনে যাক তোর পছন্দ.
তোর পছন্দ মত চললে তোর মা-বাপকে রাস্তায় থালা নিয়ে বসতে হবে.
আব্বা,কথা অন্যদিকে নিয়েন না, ভালোভাবে বুঝালে বুঝবে.
তাহলে, বুঝান না.
দেখ,ছেলে কথা শোন
যদি সে আকর্ষণীয় হত, তাহলে আমাদের তাকে কসম্যাটীক্স কিনে দেয়া লাগতো.
মেয়েটা পড়ালেখা জানে. যদি মাস্টার হয়ে যায় তাহলে ঘরে টাকা আসবে.
- ঘরের আর্থিক দিকটাও ভাল থাকবে. - আমি তাকে বিয়ে করব না.
- কথা শেষ. - কি মনে করিস নিজেকে!
মেনে নে, প্রেম. এই পরিবারের জন্য বিয়েটা কর.
কি হইছে?
মাথা ঘুরতেছে.
একটা খেয়ে নিন. এক ঘন্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে.
বিয়ের দিন মরবি নাকি তুই?
বলেছিলাম তোকে,চুইংগামের সাথে দুধ খাইস না. ঐটাই বেড়োচ্ছে,দেখ.
আব্বা,এলোপ্যাথির সমস্যা এটা. সবগুলাই গিলে নিয়েছে.
কেউতো সে সময় থামায়নি.
সোডা খাওয়ায় দেন, ঠিক হয়ে যাবে.
গাদা ফুলের গন্ধ আমার অনেক ভাল লাগে.
আস.
দেখ,কত সুন্দর.
তোড় ফুফু নিজ হাতে সাজিয়েছে.
- প্রেমকে অনেক ভালোবাসেতো. - কাশি দিল.
সর্দি লাগছে?
গাদা ফুলের গন্ধে আমার এলার্জি হয়.
ঠিক আছে,রাতটা রেখে দেই. সকালে সব সরিয়ে ফেলবো.
আয় ভেতরে. অনেক কষ্ট করে লাগায়ছে.
এই ফুলগুলা সড়াও.
কই?
জলদিতে উল্টা-পাল্টা কিছু করিস না.
আগে তাকে চাকরিটা পেতে দে. তারপর সংসার বৃদ্ধি করিস.
সরকারি চাকরি.
শরীর ঠিক আছেতো?
বাথরুম?
এখানেই বদলাও.
ঠিক আছে.
দাড়াও. আমি বাইরে যায়.
ভেতরে আসেন.
সান্ধিয়া
- তোর জন্য ফোন. - আসছি,আম্মা.
- হ্যালো. - ঘুমটা নষ্ট করলাম নাতো.
- তোকে এই নাম্বার কে দিল? - সেটা বাদ দে,স্বামীর সাথে কেমন কাটলো রাত?
বেচারাকে দেখে মনে হয়েছে...
..বাচ্চাকে বাজারের মাঝখানে ফেলে রেখে চলে গেছে.
বিছানার এককোণায় সে শুয়েছে, আরেককোণায় আমি.
শোন,আমি তোকে পরে কল দিব. বিদায়.
লাটসাহেবকে গিয়ে উঠাও.
সকাল-সকাল চিল্লাচ্ছো কেন.
সে শুনে ফেলবে.
তোমার খালি অন্যের চিন্তা কিন্তু নিজের ছেলের চিন্তা নাই.
আমার ছেলেরই কি সব দোষ সেও তো শুরু করতে পারত.
তারও দোষ কম না.
শিক্ষিত বিধায় দামি দিবে না,তাতো হয় না.
আমাকেতো নমস্কারই করে নাই সে.
আর আমাদের ঘর নিয়ে কথা.
ঠিকিই আছে. আমরা কোন স্ট্যান্ডার্ডের!
কেন তোমরা বেচারি মেয়েটাকে দোষ দিচ্ছ?
তার নতুন ঘরে কেমন লাগছে সে বিষয়েও একটু ভাবো.
আমাদের ছেলেটাও যা লজ্জা পায়. অহংকারীওতো কম না সে.
এইরকম ছেলেকে শিক্ষা দেয়া অতিব জরুরী.
গুড মর্নিং,জামাই বাবু.
- সকালবেলা কোথায় যাচ্ছেন? - যুব ক্লাব.
যুব ক্লাবিই একদিন আপনাকে ধ্বংস করবে.
উমম...যোদ্ধা হবে,একটাও মশাতো মারতে পারিস না.
- আপনার সাথে এসে কথা বলব. - এক মিনিট.
হ্যা, কথাবার্তা পরে হবে. আমার দিকে তাকা.
আমার দিকে তাকা. কি হইছিল রাতে?
আপনার মারার ইচ্ছা হলে আমাকে মারেন কিন্তু আমি সেটাই করব যেটা করতে মন বলবে.
একটা সেন্ডেলের বাড়ি খেলে মন মাথা থেকে বেরিয়ে আসবে. আমার সেন্ডেলটা কই?
তাকে মাইরেন না.
দেখ!বউ চা নিয়ে আসছে. আগে দুলাভাইকে দাও.
প্রেম যুব ক্লাবে গেছে. ছেলেবেলা থেকেই তার ব্যায়াম করার বহুত শখ.
তোমার ঘরে কেউ মনে হয় ব্যায়াম করে না?
শুধু বাবা করে. আমি ঘরেই ইয়োগা করতাম.
সেতো দেখতেই পাচ্ছি.
স্মরন করো ভাগাত সিং কে..
..নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বস কে..
..শীবাজী এবং বাজপাই কে.
এইসব মহাপুরুষগণ কি কখনো দিশাহীন ছিলেন?
না.
তাহলে আমরা ওয়াদা করছি..
..আমরা তাদের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে..
..তাদের দেখানো পথে চলব.
অবশ্যই!
- যুবপ্রধান,প্রেম বিয়ে করছে. - অভিন্দন!
- পার্টিতো হওয়া উচিৎ. - হ্যা.
আব্বু ফালতু লোকদের সাথে পার্টি করতে মানা করছে.
আমরা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পার্টি করব না.
অবশ্যই!
ভালভাবে পড়ালেখা করিস,আচ্ছা?
জয়াকে দিন.
- ভাইয়ের খেয়াল রাখবেন. - জী.
বাসায় পৌছায়ে ফোন দিস.
সাবধানে যেও.
আমার সাথে এসব কি ঘটছে বুঝতেই পারছি না.
পলায়ে যা.
কে বাধা দিচ্ছে তোকে?
এস.এস.সি পাসতো করতেই পারি নাই..
..তারওপর কম্পিউটারের কোর্স তাও আবার মার্ক শূণ্য..
..আবার আব্বু আমার বিয়ে করিয়ে দিল..
..আর আপনি বলছে পলায়ন কর?
এসব একদিনেই কি হয় , একটু সময়তো লাগবেই.
তাছাড়া আজকে ঘুম ভাংছে দেরিতে.
এলার্ম বাজেই নাই, আমি কি করতাম.
কিছুতো করিস নাই রাতে, তারওপর দেরি করে উঠছিস.
এরকম যদি চলতে থাকে তাহলে শ্বশুরবাড়িতে থাকায় তোর মুশকিল হয়ে যাবে.
মৃদুলার পেটেও কোন কথা থাকে না.
কত সৌভাগ্যবান তুমি যে, তোমার বিয়ে ক্যাসেট ব্যবসায়ীর সাথে হয়েছে.
তাকে বলিস, রাতে ইংরেজী ছবি যেন দেখে.
সেটা দেখেও কিছু শিখতে পারবি.
প্রতিরোধ গড়ে তোল.
আর ততক্ষণ প্রতিরোধ কর যতক্ষণ না সবকিছু পরিষ্কার হচ্ছে.
ঠিকিই বলছেন,সামনে কিছু বলতে না পারলেও বিছানায়তো প্রতিরোধ করতে পারবো..
..যুদ্ধক্ষেত্রের মত.
যদি সে লজ্জা পায় তাহলে তুই শুরু করবি..
..তোরতো কিছু দায়িত্বজ্ঞান আছে নাকি সংসারের জন্য.
No comments yet. Be the first to leave one.