لومړۍ 200 کرښې.
ভাবানুবাদ- রিফাত কবীর স্বর্ণা
চোসেন রাজত্বের দিনলিপি, গোয়াংহে-গ্রন্থ, ভলিউম ২০,প্রথম বর্ষ, ২৫ সেপ্টেম্বর
গানসেওং, ওনজু, গানগ্রুং আর চোনসেনের আকাশে এক উড়ুক্কু বস্তু দেখা গেছে।
বস্তুটা বড় আর তীরের মতই দ্রুত ছিল।
বজ্রপাতের শব্দের সাথে ওটা স্ফুলিঙ্গের মতই হাওয়া হয়ে যায়।
তারপর আকাশও পরিস্কার- একদম মেঘমুক্ত হয়ে যায়।
২৫ আগস্ট, ১৬০৯
এই, তুই কি কান্না থামাবি না?
আমাদের মিসের জন্য খুব খারাপ লাগছে।
তিনি এত অল্প বয়সে বিধবা হয়ে গেলেন!
তার বয়স কেবল ১৫।
এমনকি তার স্বামীর মুখও দেখতে পারলেন না।
আর এখন তাকে বাকিটা জীবন বিধবা হয়েই কাটাতে হবে।
এ কেমন বিচার?
এই যে কেউ আছ!
মাদাম!
এই,এই,আমাকে বের কর! কেউ আমাকে বাঁচাও! আআআ...
১৬০১ সাল। গোয়াংহে রাজত্বের প্রথম বছর।
চোসেন রাজত্বের দিনলিপি অনুযায়ী এ দিন আকাশে এক অচেনা উড়ন্ত বস্তু দেখা গিয়েছিল।
এটাই সেই যান (UFO) যা আমাকে চোসেন রাজ্যে নিয়ে এসেছিল।
পৃথিবীর মানুষ আমার তারার নাম দিয়েছে কে.এম.টি. ১৮৪.০৫।
এ নক্ষত্রটা অনেকটাই পৃথিবীর মত।
সেখান থেকেই আমি এসেছি।
চোসেন রাজত্ব থেকে এখন পর্যন্ত।
হানইয়াংকে এখন সিউল বলা হয়।
আমি এখানেই ৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে বাস করছি।
চৌম্বক ক্ষেত্র, মাধ্যাকর্ষণ এমনকি পানির সাথেও
আমি নিজেকে পৃথিবীর সাথে পুরোপুরি মানিয়ে নিয়েছি।
আমার সব ইন্দ্রিয়- যেমন- দর্শন ও শ্রবণ ক্ষমতা পৃথিবীর প্রাণীদের চেয়ে সাত গুণ বেশি তীক্ষ্ণ।
আমার বিশেষ ক্ষমতাকে ধন্যবাদ, আমি তাই দেখতে বা শুনতে পারি যা আমার দেখা বা শোনার কথা নয়।
আমি বিশেষভাবে পছন্দ করি এমন কোন খাবার নেই।
তবে আমি পৃথিবীর মানুষের সাথে কোন তরল বা রক্ত বিনিময় করতে পারি না।
এ কারণেই আমি সবসময় একা একা খাই।
ও না !
আমার ব্যাগ।
সে আমার ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে গেল! হায় খোদা!
আমার ব্যাগ।
কেন আমি সাহায্য করলাম না?
আসলে তাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে পড়া আমার জন্য অর্থহীন।
ঠিক যেমনভাবে অন্য গ্যালাক্সির বাসিন্দা হয়েও আমাকে ৪০০ বছর ধরে পৃথিবীতে থাকতে হচ্ছে ...
আপনি চান বা নাই চান...
কিছু ঘটনা ঠিকই ঘটবে।
পৃথিবীর মানুষ একে বলে "নিয়তি"।
[ পূর্ণ চন্দ্রের চেয়েও উজ্জ্বল এ শতাব্দীর ধূমকেতুটি]
নতুন নিয়তি শুরু হতে যাচ্ছে।
এই ধূমকেতুটি পৃথিবীতে আসার জন্যই আমি ৪০০ বছর ধরে অপেক্ষা করছি।
তিন মাসের মাথায় আমি আমার নক্ষত্রে ফিরে যেতে পারব।
-প্রথম পর্ব ভাবানুবাদ- রিফাত কবীর স্বর্ণা
প্লিজ আমার দিকে একটু তাকান!
আপু, এই যে আপনার কফি।
- মোকা লাত্তে? - হ্যাঁ।
এটাই তো আমাকে কিনে আনতে বলেছিলেন।
ছবিটা তুলে ফেলি।
- এই এটা খেয়ে ফেল। - ধন্যবাদ, আপু
আপু! আমাকে এটা কেনার জন্য ২০০ মিটার দৌড়াতে হয়েছে!
এই,তুই জানিস এতে কত ক্যালরি আছে?
এটা খেয়ে ২ ঘণ্টা দৌড়ানোর কোন ইচ্ছা আমার নেই।
আমাদের আপু সব সময় নিজের দিকেই বেশি খেয়াল করেন।
অবশ্যই ,আমার জিনিসপত্র সব গোছানো হয়েছে?
অবশ্যই! আমি দেখেও এসেছি ওরা ঠিকমত ঘর পরিষ্কার করছে কি না।
আপু? এখন আবার কি করছেন?
আমার ফ্যানদের সাথে কথা বলছি।
আবারও SNS? তো এবার ভক্তদের কি বললেন?
*টুইটার* ক্লান্ত বিকেলে মিষ্টি মোকা লাত্তে-ই সবার সেরা।
মনে হচ্ছে এখন বুঝতে পেরেছি স্যার মুন ইক জেওম কেন মোকা-র বীজ কোরিয়ায় পাচার করেছিলেন।
স্যার মুন ইক জেওম , আপনাকে ধন্যবাদ।
আপু!
স্যার মুন ইক জেওম ?
আরে তুই জানিস না স্যার মুন ইক জেওম মোকা-র বীজ পাচার করেছিলেন?
তিনি মোকার বীজ নিজের ব্রাশে ভরে পাচার করেছিলেন যেন চাইনিজরা জানতেও না পারে।
উনি আসলেই খুব ধূর্ত আর কৌশলী লোক ছিলেন।
আপু, ওগুলো তো মোকার বীজ ছিল না, মোকহার বীজ ছিল! (তুলা) *
এইটা কী?
- আরে দেখ,দেখ! - সে মোকা লাত্তে লিখেছে... হা-হা-হা
[-মাথায় তো পুরাই গোবর! - তোমার মাথায় কি একটুও ঘিলু নাই? ]
আমি ওকে এমন টুইট করতে মানা করেছিলাম।
তুই কি করছিলি? হাহ, তুই তো ওকে থামাতে পারতি!
উনি কি কখনো আমার কথা শোনেন? আমিও তো লজ্জায় মারা যাচ্ছি।
- আর্টিকেলটা ডিলিট করা হয়েছে? - আমি চেষ্টা করছি।
কিন্তু সার্চ ইঞ্জিনের এক নম্বর শব্দ এখন মোকা মুন ইক জেওম। দুইয়ে আছে মুন ইক জেওম- চেওন সং ঈ।
সে কি করে এতটা স্টুপিড হয় যে মোকা (কফি) আর মোকহা (তুলা)-র পার্থক্যই বোঝে না?
মুন ইক জেওমও বোধহয় কল্পনাই করেন নি তাকে ইন্টারনেটে সবচে'বেশি খোঁজা হবে,তাই না?
একেই বলে "অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী"
কি হাস্যকর! আমি পাগল হয়ে যাব!
কেন আপনি শুটিং শেষ হতেই আমাকে ডেকেছেন? আমি খুবই ক্লান্ত।
আপনি ক্লান্ত?
আহা, ক্লান্ত হলেও আপনার ত্বক কি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে।
আপনি তো এখনি কোন মেকআপ কমার্শিয়ালের শুটিং করতে পারবেন। তাই না?
আপনি কি বলতে চান? আমি তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে রেস্ট নিতে চাই।
ঠিক আছে। আমিও আপনাকে তাড়াতাড়িই বলতে চাই।
আপনি কি মোকা বীজ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ডের ব্যাপারটা জানতে পেরেছেন, তাই না?
ওটা কি আসলেই বড়সড় ব্যাপার ছিল?
ঠিক তাই! আজকালকার মানুষজন এমনই।
এমন তো না যে তারা সব জানে!
এমনকি আমিও তো আজই মোকা-মোকহার পার্থক্যটা জানতে পারলাম।
- তাই নাকি? - অবশ্যই!
তারা এতটাই ঈর্ষান্বিত যে সারাক্ষণ অন্যের খুঁত ধরতেই ব্যস্ত থাকে।
আমি জানি। মানুষ এমনটাই করে থাকে।
ঠিক তাই!
তাই এমন মানুষের সাথে মেলামেশা করতে যাবেন না।
আর আজকের মত আর কখনো SNS এও যাবেন না।
- আমি তো তেমনটা চাই না। - অ্যাঁ?
কেন? কেন আপনি তেমনটা চান না?
আমি যদি তা না করি, আমি কার সাথে কথা বলব?
আমার ! আমার সাথে! আমি বেশ ভদ্রও!
আমি সেটা আরও অপছন্দ করি।
- চেওন সং ঈ! এটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেল। আপনি স্পন্সর হারালেন... - আ, ঠিক কথা।
জে কে-র প্রধান পার্ক আমাকে ফোন করেই যাচ্ছেন...
জিন গোক? কেন?
আমি ঠিক জানি না।
উনি জানতে চাচ্ছিলেন- আমি আপনার সাথে চুক্তি শেষ করব কী না।
উনি নাকি জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বেশ টাকাপয়সা পেয়েছেন। তাই ভাবছিলেন আমি এজেন্সি পাল্টাতে চাই কি না।
শুনেছিলাম আপনারা দু'জন নাকি বেস্ট ফ্রেন্ড।
তা ব্যাপারটা কি আপনার জন্য ভালো হবে?
জিন গোক, হারামজাদা...
আ, আমি এখন যেতে পারি?
অবশ্যই ! অবশ্যই! আপনি ক্লান্ত। আপনি অবশ্যই যাবেন।
আমরা আপনার নতুন বাড়ি গুছিয়ে ফেলেছি। আপনার পছন্দই হবে।
এখানে দাড়িয়ে কি করছিস? যা,উনাকে এখান থেকে নিয়ে যা!
আসলেই চেওন সং ঈ না জেনেই এমনটা বলেছে?
না কি সে মজা করার চেষ্টা করছিল?
সবাই তো জানেই সে একটা স্টুপিড।
আ, ভুলেই গিয়েছিলাম।
সবাই জানেন তো আজ রাতে ভার্সিটির সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিনার পার্টি হচ্ছে ?
ডীন আমাদের সবাইকে সেখানে উপস্থিত হতে অনুরোধ করেছেন।
প্রফেসর দো মিন জুন। আজ রাতে আসবেন তো?
প্রফেসর দো মিন জুন?
আজ রাতে ডিনার পার্টি হচ্ছে। আপনি কি একসাথে যেতে...
আমি যেতে পারব না।
ওহ... আমরা ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে কলিগ আছি অথচ ১ দিনও একসাথে খাই নি।
প্রফেসর দো, আপনি আমার নামটা জানেন তো?
জানেন না?
হায় রে! আপনাদের তো প্রতিদিন দেখা হয়। আপনি আমার নাম জানেন তো?
তারপর আমার নাম?
আমাকে এখন যেতে হবে।
আপু! আপনার SNS একাউন্ট ডিলিট করে দিন।
আমি তা চাই না!
এই, SNS এ আমার ২০ হাজার ফ্রেন্ড আছে!
ওরা কেমন ফ্রেন্ড! যে কোন মুহূর্তেই ওরা আপনার শত্রু হয়ে যেতে পারে।
এক মাসও হয় নি গারলিক পিৎজা নিয়ে যে কাণ্ডটা হয়েছিল।
চেওন সং ঈঃ সবাই শোন,কি অদ্ভুত ব্যাপার গারলিক পিৎজা থেকে আমি খালি রসুনের গন্ধ পাই!
কেবল আমার বেলায়ই কি এমনটা হচ্ছে?
তারপর গারলিক মানে যে রসুন আপনি সেটাই জানেন না বলে মানুষজন কত হাসাহাসি করল।
আপনার তো এসব লেখার দরকার নেই। কেন ননসেন্সের মত এসব পোস্ট করেন?
এখন মানুষজন আপনাকে নিয়ে কমেন্টে হাসাহাসি করছে।
- আমি এসব একদম পরোয়া করি না। - আপু?
একটা সত্যি কথা বলি?
আপনার মত মানুষের ফ্যানদের সাথে কখনোই যোগাযোগ করা উচিত না।
যতই আপনি যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন, ততই মানুষজন আপনাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করবে।
আপনার চুপচাপ থাকাই ভালো, তাহলে রহস্যময়ী নায়িকা হতে পারবেন...
আউ!আউ! চুপচাপ গাড়ি চালা।
গাড়ি থেকে নামছিস কেন? আমাকে ফলো করবি না।
আপনি তো আপনার এপার্টমেন্ট নাম্বারও জানেন না।
কেন জানব না? গারলিক চিনি না বলে ভেবেছিস নিজের বাসাও খুঁজে পাব না?
- তুই বলেছিলি ২৩০১ নম্বর,তাই না? - তারপরও...
আপনার একা একা লিফটে ওঠা বিপজ্জনক, তাই আপনাকে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাই।
- লাগবে না! - আপু!
লাগবে না! আমি একাই যাব!
না মানে আপনার কানের দুল। ওটা তো স্পন্সরের। তাই ফেরত দিতে হবে।
হয়েছে তো?
আমি গেলাম।
উনাকে একা যেতে দেয়া কি ঠিক হচ্ছে?
আগের বার একা লিফটে উঠে এক বদমাশের ওপর উনি কেমন চড়াও হয়েছিলেন।
এই, মনে আছে বদমাশটাকে আট সপ্তাহ হসপিটালে থাকতে হয়েছিল?
হাতে থাকা পার্সটা দিয়েই কি মারটাই না মেরেছিলেন।
বেচারার কি যে অবস্থা হয়েছিল... ইশ।
সত্যিই প্রথমবারের মত কোন বদমাশের জন্য আমার দুঃখ হয়েছিল।
এক্সকিউজ মি?
কোন বাটন চাপেন নি কেন?
যে ফ্লোরে যেতে চান তার বাটন চাপেন নি কেন?
হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, আমিই চেওন সং ঈ।
আমাকে কতক্ষণ ধরে ফলো করছেন?
আমার নতুন বাসা কীভাবে খুঁজে পেলেন?
কি চান ? অটোগ্রাফ ?
ছবি তুলতে চান? তারপর যাবেন?
আ... তোমাকে দেখে তো কম বয়সী মনে হচ্ছে, আর বুঝতে পেরেছি তুমি যৌবনকালে আছ।
বুঝেছি। কিন্তু তোমার তো পড়াশোনা করে শক্তি খরচ করা উচিত।
অথবা একটু ব্যায়াম করেও শক্তি ব্যয় করতে পার।
যদি উল্টাপাল্টা কিছু করার জন্য আমাকে ফলো করে থাক তাহলে ভুল করেছ!
এটাই আমার প্রথমবার না!
এই বদমাশ! এই! আমার সাথে মজা নিস? তুই আমার বাসায় ঢুকে পড়তে চাস?
এই ! তুই কোথায় যা... চ্ছিস?
আ, তাহলে তুমি আমার পাশের বাসায় যাচ্ছ?
আ...তুমি নিশ্চয় এখানেই থাক।
আ, আমি আজকেই ২৩০১ এ উঠলাম।
তুমি নিশ্চয় অবাক হয়েছ!
তুমি কি আমাকে চেন না?
তুমি চেন না? আমাকে?
- আমাকে কি চিনতে হবে? - না, তেমনটা নয়।
- কিন্তু,আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছ কেন ? - আমাকে পাসওয়ার্ড লিখতে হবে।
আ... সরি... সরি...
আ ছোকরাটা! সে আমাকে কি মনে করে?
সে আসলেই আমাকে চেনে না? তা কীভাবে হয়?
সে কি নর্থ কোরিয়ান?
না কি এলিয়েন?
দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন একজনও নেই যে আমার মেয়ে চেওন সং ঈ কে চেনে না।
আজকাল তো সবাই জাতীয় গায়িকা বা জাতীয় নায়িকার টাইটেল লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
কিন্তু যাকে তাকে তো এ টাইটেল দেয়া ঠিক না।
পুরো কোরিয়ার মানুষ যাকে চেনে তাকেই তো জাতীয় অভিনেত্রী বলা যায়।
এক কি দুইটা ড্রামা হিট হল। আর তাতেই তো তাদের জাতীয় নায়িকা বলা যায় না।
No comments yet. Be the first to leave one.