لومړۍ 200 کرښې.
• • • অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
এখানের মানুষ আদিমকাল থেকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে।
হয়তো যখন ধর্মের অস্তিত্ব ছিল না তারও আগে থেকে।
কিন্তু পূর্বোত্তরের লোকজনের জন্য
ঈশ্বরের সংজ্ঞা,
হয়তো অন্যদের চেয়ে আলাদা।
প্রতিটা অতিপ্রাকৃত জিনিসকে,
আমরা ঈশ্বর ডাকি।
শুধু মৃতদের আত্মাই নয়।
আমাদের বিশ্বাস পৃথিবীর সবকিছুতেই আত্মা রয়েছে।
বাড়ি।
জঙ্গল, পাহাড়।
গাছপালা।
মাঠ।
সবকিছুতে আত্মা রয়েছে।
২০১৮ সালে, এক ডকুমেন্টারি টিম থাইল্যান্ড ঘুরে ওঝাদের জীবন কভার করে।
কিছু ওঝার সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর, টিম সিদ্ধান্ত নেয় নিমের দৈনন্দিন জীবন ফলো করবার।
বায়ান আত্মার মাধ্যম
পূর্বোত্তরে নানান ধরনের "ঈশ্বর" রয়েছে।
উদাহরণসরূপ, আরোগ্যের ঈশ্বর, ধন-দৌলতের ঈশ্বর, উদ্বংশীয় ঈশ্বর, পরিবারের ঈশ্বর।
প্রজাপতি ঈশ্বর, শহরের ঈশ্বর, অঞ্জলি নেওয়ার ঈশ্বর ইত্যাদি।
বিভিন্ন ধরনের ঈশ্বর আছে।
ভালো আত্মারা
আমাদের রক্ষা করবে,
খারাপ আত্মারা বয়ে আনবে দুঃখ আর কষ্ট।
আপনার শরীরের কার আত্মা রয়েছে?
আমি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করব।
লোকে তাকে "মার্শিয়ান" বলে ডাকে।
পূর্বোত্তরের লোকজন তো তাকে সেই নামেই ডাকে।
আমার উপর বায়ানের আত্মা ভর করে আছে।
বায়ান হচ্ছে উদ্বংশীয় ঈশ্বর।
সে ভালো আত্মা, মানুষকে আশীর্বাদ দেয়।
আসলে কেউ জানে না সে কে আর কোথায় থেকে এসেছে।
কিন্তু আদিমকাল থেকে সবাই তাকে বিশ্বাস করে।
"ওঝাদের উত্তরপুরুষ" একটি ডকুমেন্টারি।
আমার পরিবার,
কয়েক প্রজন্ম ধরে, বায়ানের আত্মার জন্য মাধ্যম বনে আসছে।
জন্মের পর থেকেই, আমার নানুর উপর বায়ানের আত্মা ভর করে আছে।
বায়ান মাধ্যম হিসেবে শুধু নারীদের উপর ভর করে।
অনেক মানুষ আমার নানুর কাছে আসতো।
আর প্রতি বছর বিশাল বড় অনুষ্ঠান হতো।
আগে মানুষ ভাগ্য পড়তে বলতো।
যখন নানু মারা যায়,
তখন আত্মাটা আমার খালার উপর ভর করে।
আমার খালার পর,
সে আমার বোনের নোয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়,
কিন্তু নোয় নাকচ করে দেয়।
যার কারণে, বায়ান আমার শরীরকে বেছে নেয়।
যখন কোনো ওঝা সন্মোহের মধ্যে থাকে, তখন কি পুরো শরীর কাঁপে বা গলার স্বর বদলে যায়?
মনে হচ্ছে অনেক টিভি দেখেন, ব্যাপারটা আসলে তেমন না।
আমার কাছে রোজ লোক আসে।
অনেকে আসে চিকিৎসার জন্য।
কেউ কেউ আসে আশীর্বাদ চাইতে।
অনেকে মদ বা মুরগি অঞ্জলি দেয়।
এখানে এসেছ কেন?
ও একটা সাপ ধরে মদের মধ্যে চুবিয়ে দেয় খাবে বলে।
- ওকে মদটা খেতে বারণ করেছিলাম। - খাবার পর হাত আর পা অসাড় হয়ে গেছে।
সাপটা কোথায় ধরেছিলে?
কবরস্থানে।
এজন্যই তুমি অসুস্থ হয়েছ।
কারণ তুমি একটা জন্তুর আত্মা খেয়ে ফেলেছ।
আপনি কি কোনো রোগ সারাতে পারেন?
আপনার যদি ক্যান্সার থাকে, আর আমার কাছে আসেন
তবে মরবেন।
আমি শুধু সেসব রোগ সারাতে পারি যা কোনো অতিপ্রাকৃতের কারণে হয়েছে।
যদি আপনার উপর কোনো খারাপ আত্মা বা অন্য রাজ্যের আত্মা ভর করে থাকে, তবে আমি সারিয়ে তুলতে পারি।
কিন্তু সাধারণ কোনো রোগ হলে, ডাক্তারের কাছে যান।
আমি কখনোই ওঝা হতে চাইনি।
এমন পরিস্থিতিতে, আপনি আর কী-ই বা করতে পারেন?
আমি অনেক অসুস্থ ছিলাম, সেরে উঠছিলাম না।
এত হতাশ হয়ে পড়ি, যে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়।
আমাকে বেছে নিয়েছিল বলে, পালিয়ে গেছিলাম। যদিও, শেষমেশ এটাকে মেনে নিই।
আর ব্যাপারটা দারুণ।
আমার দৈনন্দিন কাজ হচ্ছে প্রার্থনা আর পূজা-অর্চনা করা।
মানুষ আমার কাছে এসে সাহায্য চায়। কিছুদের অবস্থা তো খুবই করুণ হয়।
যাইহোক, আমি এখন খুশি।
বলতে গেলে, আমার মনে নেই কেন আমি মেনে নিতে চাচ্ছিলাম না,
বা কেন তার উপর এত রেগে ছিলাম।
THE MEDIUM (RANG ZONG)
আমরা উইলিওর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যাচ্ছি, বলতে পারবেন ও কে ছিল?
উইলিও আমার বোন নোয়ের স্বামী।
গতবছর ওর ক্যান্সার ধরা পড়ে।
শুনে খারাপ লাগলো।
জানি না কেন আসাতিয়া পরিবারে সবার মৃত এমন করুণভাবে হয়।
ওর দাদাকে নিজের লোকেরাই খুন করেছিল।
যখন ওর বাবা দেউলিয়া হয়, ভেবেছিল ফ্যাক্টরি পুড়িয়ে ইন্স্যুরেন্সের টাকা পাবে।
কিন্তু ধরা পড়ার পর, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে।
আর ওর বড় ছেলে মাইক...
গতবছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।
হুম...
ভালো আছ?
তোমার তো চেহারাই ভুলে গেছিলাম।
আমাদের দেখা করতে হলে কি, কাউকে মরা লাগবে?
- এগুলো সবাইকে দিব? - হ্যাঁ, নিয়ে যাও।
- আমার পরিবারে সবার চেহারা ভুলে গেছি। - ঠিক আছে, নিয়ে যাচ্ছি।
উনি গীর্জার যাজক, নোয়ের সাথে চলাচল আছে।
আসার জন্য ধন্যবাদ।
মিন, যাজক মশাইকে চেয়ার এনে দাও।
মিন, ঠিক আছ?
শুনলাম, বাবার লাশকে তুমিই প্রথম দেখেছ।
আমি ঠিক আছি।
আমাদের পরিবারে ৩ জন আছে।
মানিত সব বড় ভাই।
সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দে, নাহলে মরবি।
পানি খাবেন?
দ্বিতীয়তে নোয়, তারপর আমি সবার ছোট।
আর পরিবারে,
নোয়ের স্বামী উইলিও ছিল, যে এখন মারা গেছে।
খুব বেশিদিন হয়নি, নোয়ের ছেলে মাইকও মারা গেছে।
এখন...
নোয় তার একমাত্র সন্তান মিনের সাথে থাকে।
আসলে নোয় আর উইলিও একটু দেরি করে বিয়ে করেছিল।
ওদের বিয়ে পর,
নোয় ওর শ্বাশুড়ির কুকুরের মাংসের দোকানটা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল।
আগে, ওটা ওর শ্বাশুড়ি চালাতো।
জানি না কেন ও দোকানটা নিলো।
সরকার কুকুরের মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু এরপরও ওরা লুকিয়ে বিক্রি করে।
দুজনের মধ্যে সম্পর্ক তেমন ভালো না,
জানি না কী সমস্যা, কিন্তু এটা অনেকদিন ধরে চলছে।
আমিও ওদের মিল করানোরও চেষ্টা করেছি।
- নিজের জুতা পড়ুন। - অন্যজনের জুতা পড়ে ফেলবেন না।
ধন্যবাদ।
খালাম্মা।
মা তোমাকে বাসায় গিয়ে আমার জন্য কিছু জিনিস আনতে বলেছে।
আমি সব এতে লিখে দিয়েছি।
নিম খালা।
- দরজা বন্ধ করেছ? - হ্যাঁ।
লাকি বাসা থেকে বের হতে পারবে না।
ভুল কাপড় নিয়ে এসেছ তো, আরও মোটা কাপড় আনতে হতো।
তো নিজে গিয়ে নিয়ে আসো।
চাচ্চু, কী বললে?
আমি কিছু বলেছি?
- সাহস থাকলে আবার বলো। - কী বলেছি আমি?
কার্ডের জন্য, আমাকে গালি দিচ্ছ কেন?
আমি কিছুই বলিনি।
কী করছ?
কী করেছি আমি?
কী? বলেছ আমাকে নাকি বেশ্যার মতো দেখতে।
মিন, থামো!
আমি এমন বলিনি।
মা, কিছু করো।
মিন, থামো!
- আগে এখান থেকে চলো। - না, ও কথাটা বলেছে।
- কে কী বলেছে? - তুই বলেছিস।
- হারামির বাচ্চা। - শান্ত হও।
- ছাড়ো আমাকে, মা। - মিন, শান্ত হও।
ও কথাটা বলেছে।
আমি কিছুই বলিনি।
মিন কি সচারাচর এত বেশি মদ খায়?
মদ খেতো কিন্তু জানি না, এত খেত কিনা।
এই প্রথম, ওকে এমন করতে দেখলাম।
- বেশ, ঠিক আছে। - যাই তাহলে।
সাবধানে যেও।
মিন?
মিন?
কে মারা গেছে?
পিছনে যে অন্ধ দাদীমা থাকত সে।
কীভাবে মেরেছে?
জানি না।
মিন।
নিম, কী হয়েছে?
মিনের ঘরে যাচ্ছ কেন?
কী খুঁজছ?
আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি, উত্তর দিচ্ছ না কেন?
হঠাৎ এমন করছ কেন।
আমি খুঁজে দিচ্ছি, কিন্তু আগে বলতে হবে কী হচ্ছে...
এই যে, এটা দেখছ?
জানো এটা কী?
কী...
আমার ঘরে কী করছ, সবাই বের হও!
- মিন, এক মিনিট। - মা, তুমিও বের হও।
মিন, তোমার কি বাজে স্বপ্ন আসে বা অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাও?
- না, আমি না বলেছি। - মিন।
বের হও বলছি!
কী রেকর্ড করছ?
জানো ওটা কীসের তৈরি?
মিন কি অদ্ভুত আচরণ করে, বলো আমাকে?
নোয়।
আমি নিজের বাচ্চার খেয়াল রাখতে পারব, তুমি যাও।
মিনের আলমারিতে ঐ জিনিসটা কী ছিল?
জিনিসটার নাম "ওয়াম্পা তাবা"।
ওটা খারাপ আত্মা দূর করে।
অনুমতি ছাড়া মানুষের ঘরে ঢুকে তার জিনিসে হাত দেয় কীভাবে।
খুবই বিরক্তিকর ব্যাপার,
তাই না?
আপনার ঘরে "ওয়াম্পা তাবা" লাগিয়েছিলেন কেন?
আমি বাচ্চা নই, একজন প্রাপ্তবয়স্ক।
গতকাল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়, অন্ধ দাদীমার দিকে ওভাবে তাকিয়ে ছিলেন কেন?
কীসের অন্ধ দাদীমা?
ওখানে কাউকে দেখেছেন?
হ্যাঁ, ওদের দেখতে পাচ্ছি।
কী ব্যাপার?
যখন ডকুমেন্টারি টিম ভিডিও ফুটেজটা রিভিউ করে,
তখন ক্যামেরায় মিনের অদ্ভুত আচরণ ধরা পড়ে।
মিনের অদ্ভুত আচরণ করার কোনো ব্যখ্যা আছে আপনার কাছে?
অতদূর অবধি যা দেখেছি, সেই হিসেবে তার অনেক কারণ আছে।
বায়ানের আত্মা এখন তার উপর ভর করবে এটা কি সেই সংকেত দিচ্ছে?
জানি না।
যদি বায়ানের আত্মা প্রজন্মের পর প্রজন্মে অতিক্রম করার ব্যাপারটা যদি সত্যি হয়, তবে সেটা একটা সুবিধা।
কোনো ডকুমেন্টারি টিমের জন্য এটা খুবই দুর্লভ ব্যাপার যে তারা বায়ানের মাধ্যম রূপান্তর ঘটতে রেকর্ড করেছে।
No comments yet. Be the first to leave one.