لومړۍ 174 کرښې.
আমার ৬ষ্ঠ অনুবাদ। প্রথমবার, ভাষা বুঝে অনুবাদ করেছি। ক্ষুদ্র ভাষাজ্ঞান কাজে লাগিয়ে, অনুবাদ সম্পন্ন করেছি।
ভুল-ত্রুটি কম করে, সাবলীল অনুবাদ- উপহার দেয়ারই, চেষ্টা ছিল। তবুও, ভুল-ত্রুটি হলে- ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
কমেডি, হিউমার, ফান, রোমান্স, সাসপেন্স, থ্রিল, টুইস্ট- সবকিছুর মিশেলে তৈরি ফিল্মটি দারুন উপভোগ করবেন, আশা করি।
বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনায় রুবায়েদ ইসলাম
আমি এই কাজে রাজি। সব জেনেশুনে, মুখ পর্য্ন্ত না দেখে, টাকা দিয়ে এত অনুরোধ করায়- আপনার কাজ আমি করবোই।
ছেলেটাকে ওর ড্রাইভার ছেড়ে যায়। এরপর, সে প্রার্থনায় দাঁড়ায়।
স্কুল বেশ সুরক্ষিত। সবখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো।
লান্চ-টাইমে ছেলেরা চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে। নিরাপত্তা কর্মীরাও ব্যস্ত থাকে! কম্পাউন্ডের দিকে কেউ আসে না!
সুতরাং, এটাই কিডন্যাপিংয়ের জন্য মুখ্যম সময়।
বিকেলে সে এখানেই খেলে। ওর ড্রাইভারও এসে পড়ে। এখানে একটু কষ্ট হবে। তবুও, চেষ্টা করবো।
ধুর!
- কী ব্যাপার, এখানে কেন? - এই স্কুলের ফি দেই, যেখানে খুশি থাকবো!
সবাই সুইমিং ক্লাসে গেছে। শুধু এই ছেলেই বাথরুমে বসে গেম খেলছিল।
এখানে একটা দরজা আছে যেটার সিসিটিভি কাজ করে না! আরামসে কাজ সাড়তে পারবেন, ভাই।
ধুর, দাও ওটা!
- হ্যালো - যা বলছি মন দিয়ে শোন!
তোর করা একটা ভুল আমায় রাগিয়ে দিতে পারে। সাথে, ২৫ লাখের ক্ষতি করতে পারে! যা তোকেই দিতে হবে!
- আমি ২৫ লাখ দেবো কেন? - বিনা স্বার্থে টাকা দেয়ার মতো ফেরেশতা তুই না। হাত পেতে টাকা চাওয়া ভিক্ষুকও আমি না!
তোর ছেলেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। টাকা সময়মতো না পেলে, ছেলেকে- উপহার বাবদ পাঠাবো, তোর কাছে!
কোথায়, কখন, কীভাবে- টাকা পাঠাবি, পরের কলে জানাবো। ততক্ষণ পর্য্ন্ত, স্টে টিউনড টু- ২৫'লাখ এফএম! আমি কিডন্যাপার আছি, তোর ছেলের সাথে!
হ্যালো, ম্যারি! চিন্তা করবে না। জন'কে পাওয়া যাচ্ছে না! আমি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলছি। এরপর, তোমায় সব বুঝিয়ে বলবো।
- কমিশনার! শুভ সকাল, স্যার! - শুভ সকাল, অশোক।
- বিখ্যাত বিজনেস ম্যাগনেট কেনেডি'কে চেনো তো? - জ্বী স্যার! - ওর ছেলে জন, কিডন্যাপ হয়েছে। বিষয়টা গোপন রাখতে হবে।
বাড়ি এসে ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করে গেছে। তাই, কেসটা তোমায় সামলাতে দিচ্ছি।
- এরিয়া এস.আই. হারিশ তোমায় সঙ্গ দেবে। - ঠিক আছে, স্যার। আমি বেরিয়ে পড়ছি! - জলদি কাজে লেগে পড়ো। - ঠিক আছে।
- স্যার, কিডন্যাপ হওয়া ছেলের বাবা। - হ্যালো, অফিসার। - অশোক। - বসুন।
- কী হচ্ছে, কেনেডি। - শান্ত হও। - মি. কেনেডি, কমিশনার সাহেব আমায়- এই কেস পার্সোনালি সামলাতে বলেছেন।
- নিন, স্যার। - ধন্যবাদ। - নিন।
খুবই বিচিত্র কেস। আপনার কী মনে হয়? আপনার তো অনেক অবৈধ কাজকারবার!
- কাউকে সন্দেহ হয়? - সরাসরি কারো নাম বলাটা সম্ভব নয়, ইন্সপেক্টর!
হারিশ, উনার মোবাইল নাও। প্র্রথম কলটা কোত্থেকে থেকে এসেছিল দেখো। এরপর, উনার মোবাইলের সাথে সিঙ্ক করে, কল ডিটেইলস চেক করো।
এই ক'দিনে ৭টি কিডন্যাপিংয়ের কেস রেজিস্টার হয়েছে। ৫টা বাড়ি থেকে ঘটেছে। ১টি সুপারি নিয়ে এবং আরেকটি রাস্তা থেকে! কিছু তথ্য আরকি!
স্যার প্রাইভেট নাম্বার থেকে কল আসছে। হয়তো কিডন্যাপার!
উনাকে দাও।
মি. কেনেডি, একটি টেকনিক্যাল পয়েন্ট- কল ট্রেস করার জন্য কমপক্ষে ৬০ সেকেন্ড কথা বলতে হবে!
- মনোজ, তৈরি? - জ্বী, স্যার।
- ধরবো? - স্পীকার অন করে কথা বলুন।
- হ্যালো! - হ্যালো, মি. কেনেডি। - আমার ছেলে কেমন আছে? - ওর আর কী, আরামেই আছে।
মৃত্যপূর্বের সুখ ভোগ করছে!
- কথা বলবেন, ছেলের সাথে? - হ্যালো, বাবা! - জন, ঠিক আছো তুমি? - হ্যাঁ, বাবা।
- কিন্তু.. কিন্তু! - ওকে কিছু করবেন না!
এই বাচ্চার জন্য আর কীই বা করতে হবে! যা বলছি ভালো করে শোন। ১০ মিনিটের মধ্যে টাকা- শিভাজি নগরের রিজাল মার্কেটে পৌছে যাওয়া চাই!
বাচ্চা সুস্থভাবে বাড়ি পৌছে যাবে! চিন্তা নেই!
- মনোজ, ধরতে পেরেছ? - হ্যাঁ, স্যার। নিলামাঙ্গাল থেকে এসেছে।
কল নিলামাঙ্গাল থেকে এসেছে! টাকা শিভাজি নগর পৌছে দিতে বলেছে! তার মানে, ঐ গ্যাং শিভাজি নগর থেকে কাজ চালাচ্ছে!
- ঠিক আছে। সব ঠিক থাকবে। আপনি টাকার ব্যবস্থা করুন। - ঠিক আছে, অফিসার! - হারিশ!
- চিন্তা করবেন না, ম্যাডাম। - স্যার, ক্যাশ রেডি।
- হারিশ! - স্যার প্রথম কলটার সঠিক লোকেশন ধরতে পারিনি। কিন্তু, দুটো কলের সিমকার্ড ডিটেইলসই নকল!
- দুটোই নকল? - হ্যাঁ, স্যার।
ওরা একটা খেলা খেলছে, হারিশ! আমরাও একটা খেলা খেলবো।
ব্যাগে সব নকল টাকা রেখে দাও। টাকা আসল নয় জেনে, ওরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করবে। তখনই ট্রেস করে ফেলবো।
- ওদের বলা সময় অনুযায়ী, রিজাল মার্কেটে ব্যাগটা রেখে এসো। - জ্বী, স্যার।
- কী হচ্ছে ওখানে? - ব্যাগের জন্য কেউ আসছে না, স্যার! - সতর্ক থাকো। - জ্বী, স্যার।
আফসার ভাই, একটা চা.. 'আরসিবি'র হয়ে লাগানো হাতে!
- তোমাদের এক হাতে আসে, আমাদের দু'হাতে আসে। - কীভাবে?
আরসিবি'র পক্ষে আনোয়ারের সাথে লাগিয়েছি। সানরাইজার্সের পক্ষে আশরাফের সাথে লাগিয়েছি।
এক হাতে গেলে, আরেক হাতে আসবে! কেমন?
এটাকে বেটিং না, ব্যালেন্সিং বলে।
ব্র্যান্ডেড ব্যাগই তো মনে হচ্ছে!
ব্যাগের কাছে যে ঘুরছে, ওর দিকে লক্ষ রাখো।
- লক্ষ রাখছি, স্যার। সবাই সতর্ক থেকো। - আরেকজন আসছে, বি এলার্ট।
- স্যার, এই ব্যাগ আপনার? - না, ভাই!
- কার ব্যাগ, ভাই! এত দারুন দেখতে! - লক্ষ রাখো। - স্যার, অর্ডার দিলেই ঝাপিয়ে পড়বো।
- আসল না নকল, দেখে নেই! - স্যার, ব্যাগ খুলছে।
- ব্যাগ খুলে ফেলেছে। পালিয়ে যেতে পারে। ধরে ফেলো। - জ্বী, স্যার।
- দেখো.. - স্যার, আমি- মি. পারমেশ। আপনি পারমি ডাকতে পারেন।
স্যার, ধন্যবাদ। সবাই শুধু মারছিল। আপনিই প্রথম, যে কথা বললেন।
- দেখো, পাম্মি! - পারমি, স্যার!
P- U- R- M- Y
P- U- M- M- Y.. ওটা কুকুর!
ঠিক করে কথা বল!
- যা খুশি বলুন, স্যার! - ছেলেটা কোথায়?
- বেঁচে আছে না মরে গেছে? - কোন ছেলে, স্যার?
- কী বলছেন, এসব? - কোন ছেলে?!
- কিডন্যাপিং, এক্সটোর্শন (চাঁদাবাজি) কবে থেকে শুরু করেছিস? - স্যার, আমি- এডিশন (যোগ), সাবট্র্যাকশন'ও (বিয়োগ'ও) ঠিকমতো জানি না!
ডায়লগ মারাস। শ্যুয়ারের বাচ্চা!
স্যার, আপনারা কেন এমন করছেন? আমার ফোনটা দিয়ে দিন, প্লিজ!
বন্ধুদের ফোন দিচ্ছি, আপনারাই কথা বলে নিন।
স্যার, ওর নাম বা ফটো মিলে, এমন কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই।
কে তোর বস?
আরমুগাম।
- কে সে? - স্যার, আমি তার গোডাউনেই স্টোর-ম্যানেজার পদে কাজ করি।
আমার বস- আরমুগাম!
- কালামালিগে প্রাইভেট লিমিটেড। - জ্বী, স্যার। ওখানেই কাজ করি।
- তোকে ঐ ব্যাগ নিতে কে বলেছে? - স্যার, আমায় কেউ বলেনি!
স্যার, সত্যিটাই বলি! আমার ব্যান্ডেড জিনিস খুব পছন্দ। দূর থেকে ব্যাগটা দেখলাম। ভালো ব্র্যান্ডেরই মনে হলো!
স্যার, ওগুলো সব নকল! স্যার, ব্যাগটা খুব পছন্দ হয়েছিল। কোন গাধা ব্যাগটা রাস্তায় ফেলে গেছে, জানতে ইচ্ছে হলো।
আমায় এগিয়ে যেতে তো আপনারাও দেখেছিলেন। ব্যাগে এত টাকা থাকবে কল্পনাও করিনি। বিশ্বাস করুন, স্যার। আসলে, আমার সময়টাই খারাপ যাচ্ছে।
শালারপুত! তোর কথা যদি মিথ্যা হয়, তোর জিনিস এখানেই কেটে রেখে দেবো।
- আমি কিছু কাটি বা না কাটি, কারেন্ট সময়মতো কেটে যাবে! - জেনারেটর চালু করো। - একে ভেতরে ঢুকাও।
স্যার, প্লিজ! অশোক স্যার, প্লিজ...
- স্যার, আমরা কি সঠিক লোককে গ্রেফতার করেছি? - দেখো, অমাবস্যায় চাঁদ দেখা যায় না। এর মানে, এই না যে- চাঁদ নেই! আমরা শুধু দেখতে পাচ্ছি না আর কি!
- দেখে ফেলবো, অপেক্ষা করো। - ঠিক আছে, স্যার
স্যার, কেমন মানুষ সব স্টেশনে! সবার নজর ২৫ লাখে। কেউ কেয়ারলেসই হচ্ছিল না! সকাল থেকে বিকেল পর্য্ন্ত, ১০০ টাকা ধান্ধা করতে কত কষ্ট হয়েছে জানেন? স্যরি, স্যার!
- ন্যায় হচ্ছে, স্যার? - এগুলো নকল টাকা! যাও, হারিশ'কে দিয়ে এসো।
ধুর, এগুলো নকল টাকা! একদম আসল টাকার মতো ছাঁপিয়েছে, শালারা! বুঝতেই পারিনি!
৫০ হাজারের শ্রাদ্ধ হয়ে গেল!
হারিশ স্যার, এত-এত টাকা যাচ্ছে আমাদের স্টেশন থেকে..
- চল, চল.. - স্যার, আমি কিছুই করিনি।
- স্যার, খুব সাবধানে এনেছি। কোথায় রাখবো? - সাবধানতা ধরে রেখে, কোথাও রেখে দিন।
- স্যার, নকল টাকা বুঝতেই পারিনি! - এই, নিয়ে যান তো। - অরিজিনাল হলেই বা কী, আমি তো আর কিছু পাবো না।
- স্যার, প্লিজ! - এই, চল।
স্যার, ঐ ছেলের মোবাইল চেক করেছি। বিয়ে হতে চলা মেয়ের ছবি ছাড়া তেমন কিছু পাইনি। ওর ফেসবুক, ই-মেইল, কল ডিটেইলস চেকের দায়িত্ব ট্র্যাকার মনোজ'কে দিয়েছি।
আপনার জন্যেও একটি কপি নিয়ে এসেছি।
- ঐ চায়ের দোকানে কথা বলেছ? - হ্যাঁ, কথা বলেছি, স্যার।
- নিন, স্যার। - তারপর, পারমি এসেছিল নাকি? - এখন নাইট-শিফটে কাজ করে। একটু আগেও এসেছিল। কয়েকজন খুব কেলিয়েছে। চায়ের টাকাটাও দেয়নি!
- অফিসে? - গিয়েছিলাম, স্যার। - হ্যাঁ, সে এখানেই কাজ করে। খুবই ভালো ছেলে।
- চাঁদাবাজি বা কিছু? - না না! হয়তো, আগে করতো। আমি ওরকম কিছু দেখিনি।
- কিডন্যাপারের কল লোকেশনে গিয়েছিলে? - গিয়েছিলাম, স্যার। কিছুই পাইনি!
সমস্যা যেখান থেকে শুরু হয়েছিল, সেখানে যেতে হবে। চলো, জনের স্কুলে যাওয়া যাক।
- আপনার ছাত্র জনের ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন? - হ্যাঁ, খুবই ভালো ছেলে। লেখাপড়ায় একটু দূর্বল হলেও, এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসে খুব ভালো।
গান, মিমিক্রি, ক্রিকেট- হ্যাঁ, ক্রিকেট খুব ভালো খেলতো।
- স্কুলে কখনো মারপিট বা কিছু? - ওরকম কিছু হয়নি, স্যার। খুবই ভালো ছেলে।
- জন, সুইমিং ক্লাসে রেগুলার আসতো? - জ্বী, স্যার। আসতো।
- ওকে শেষবার কোথায় দেখেছিলেন? - এই ড্রেসিং রুমে। - কত বছর ধরে স্কুলে আছেন? - স্কুল শুরু হওয়ার পর থেকেই।
- পুরো স্কুলেই সিসি ক্যামেরা আছে? - হ্যাঁ, স্যার। শুধু এদিকে একটা দরজা আছে। ওখানকার সিসি-ক্যামেরা কাজ করে না।
- তুমি জানো? - জ্বী, স্যার। - দরজা আছে আর সিসি ক্যামেরা কাজ করে না!
আসলে, অনেক বছর ধরে আছি এখানে...
যাকে ফোনে সব বলেছিলি, তাকে দেখা।
দাও। রিসেন্ট কিডন্যাপারদের মধ্যে- সবচেয়ে পরিচিত মুখ এরাই। কৃষ্না ওরফে কিট্টা, থাঙ্গাভেলু ওরফে ভেলু, প্রাসাদ ওরফে পাট্রে, ভাদ্রাপ্পা ওরফে ভাদ্রা।
- আমি নিশ্চিত এদের মধ্যে কেউ নয়, স্যার। - মানে? - উনার চুল একটু বড়-বড় ছিল।
ঐ ফাইলটা দাও।
- সে? - না, স্যার। - সে? - নিশ্চিত স্যার, এই, এই।
- স্যার, দামোদার ওরফে দামু। - দামু!
হারিশ, এস.আই. নারসিমহা'কে ডেকে- একে ট্র্যাক করতে বলো।
- স্যার, আমি কিচ্ছু করিনি। আমি কিডন্যাপার নই! - আমিও পুলিশ নই, ওয়াচম্যান। চুপ করে থাক।
স্যার, দয়া করে আমার কথাটা শুনুন, প্লিজ!
- অশোক স্যার। - কী হয়েছে? - একবার ব্যাগটা অন্য কেউ নিয়েছে ভাবুন। - ভাবলাম, পরে? - ব্যাগটা যে নিতে চেয়েছিল, সে অবশ্যই ঐ এলাকায় ছিল।
আপনারা যখন আমায় নিয়ে আসছিলেন, তখন নিশ্চয়ই সেও পিছু করে এসেছে। দু'জায়্গার সিসি ক্যামেরা চেক করুন। যাকে কমন পাবেন- সেই কিডন্যাপার।
তোর কথামতো দেখলে, দু'জায়্গায়ই ব্যাগের সাথে থাকা গাধা তুই! এই গাধার কথা শোনার মানে হয় না, স্যার!
স্যার, আমার জীবনের প্রশ্ন, প্লিজ...
- এতবার এক ডায়লগ কখনো শুনিনি! হুদাই! - ধুর, সময়টাই খারাপ যাচ্ছে!
- আমাদের আদেশ করার সাহস করে কীভাবে সে! - না, হারিশ। ওর কথায় যুক্তি আছে। - অবশ্যই আছে, স্যার।
কোনো সম্ভাবনাকে বাদ দেয়া যাবে না। কাজ করো- রিজাল মার্কেটে যাও। পূজারী, স্টেশনের সামনের জুয়েলারিতে যাও। দু'জায়্গার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে এসো।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে, স্যার।
- একটা সংশয় ছিল, স্যার! - এসে বলবে। - ঠিক আছে, স্যার।
- কী হয়েছে, মা? - স্যার, আমার ছোট বোন, আমার স্বামীর সঙ্গে পালিয়েছে। - ইনি কে? - ছোট বোনের স্বামী, স্যার।
- নাম? - কবিতা। - বয়স? - ২৪। - ঠিকানা বলো।
- নাম্বার- ২৩... - স্যার! - কী? - ফোনটা দিয়ে দিন, স্যার।
- একটা কল করবো। - কীসের ফোন? কিচ্ছু নেই এখানে। চুপচাপ বসে থাক!
- বলতে থাকো। - প্রথম মোড়, নবম রাস্তা.. - তারপর? - ৪র্থ ব্লক...
- জেপি নগর। - ফোন নম্বর? - কয় বোন তোমরা? - দুই বোন, স্যার। - এক কাজ করো, ওর অবর্তমানে আরেকটি বোন জুটিয়ে ফেলো। ওরা আরাম করুক। কী বলেন, স্যার?
- স্যার, জলদি খুঁজবেন। - খুঁজে পেলেই জানাবো। যাও, মা। - স্যার। - কী?
পূজারী, স্যার। আসুন স্যার।
- কী হয়েছে? - স্যার, আমার ফোনটা দিন, প্লিজ। - সম্ভব না। ওটা স্যারের আন্ডারে আছে।
স্যার, আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে। ওকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো, প্রমিস করেছিলাম।
ফোন না করলে, টেনশনে পড়ে যাবে না বেচারি! একটা মাত্র ম্যাসেজ করবো, প্লিজ স্যার।
সামনে বিয়ে, আছো জেলে! ভবিষ্যতের পরিণতি সহ্যের অভ্যাস করাতেই- বিধাতার এই ব্যবস্থা। মোবাইল নেই, চুপচাপ বসে থাক।
- প্লিজ স্যার, প্লিজ স্যার। - কী ম্যাসেজ পাঠাবে? চেক করি!
- জলদি কাজ শেষ করে ফেরত দে। - ধন্যবাদ, স্যার।
একটু এই ক্যামেরায়, একটু ওই দিকে.. হ্যাঁ, ডানে জুম করুন। স্যার, কথামতো সমস্ত ফুটেজ চেক করেছি। কিন্তু কাউকে কমন পাইনি!
- চার জন কমন পেয়েছি, স্যার। - চার জন! - হ্যাঁ, স্যার। ৩জন অফিসার আর ঐ ছেলে।
বসুন, স্যার।
প্লে করুন। যান, যান রিওয়ান্ড করুন।
- স্যার, এই ছেলেকেই অপরাধী বলে ভাবছেন? - অসম্ভব, স্যার! এই ছেলে শিশু, কিচ্ছু জানে না।
- শিশুটা ব্যাগে হাত দিয়ে ফ্যাসাদে পড়ে গেছে। - চুপ করো।
- স্যার, আমার কাছে প্রমাণ আছে। - কী প্রমাণ? - স্যার, ম্যাসেজ করার কথা বলে সে আমার থেকে ফোন নিয়েছিল।
- প্রথম থেকে প্লে করুন। - ক্লু এর জন্য ফোনটা দিলাম। একটা ম্যাসেজ পেয়েছি, স্যার।
- কী ম্যাসেজ? - হাই, সোনা। আমি দুঃখিত। আমি আমার মোবাইল হারিয়ে ফেলেছি। স্যার, হতভাগা ছেলে। কান্নাডা, ইংরেজীতে লিখেছে। কিচ্ছু বুঝতে পারছি না!
- জলদি পড়ুন। - আজ শপিংয়ে যাওয়া হবে না! কাল যাবো। বাই!
- এরপর স্মাইলি ঢুকিয়ে দিয়েছে, স্যার। - কোন স্মাইলি?
এক মিনিট, এক মিনিট! রিওয়াইন্ড করুন।
স্লো মোশনে প্লে করুন।
জুম করুন।
- হারিশ, সে ব্যাগ নেয়ার সময় কিছু বলছে। - হ্যাঁ, স্যার। - কী বলছে, জানাটা জরুরি! লিপ রিডারকে ডাকো। - ঠিক আছে, স্যার।
পূজারী, ওর সাথে কথা বলে জানার চেষ্টা করো। ক্লু পেতে পারি। এক মিনিট, আবার প্লে করুন!
- হাই, মিঃ কিডন্যাপার। কেমন আছেন? - আমি?
আহ, তোর অবস্থা! ওখানে তোর বাবা-মা বিয়েতে কত লোক আসবে, সেটা ঠিক করছে। আর তুই এখানে আটকে আছিস।
আমি কোনো দোষ করিনি, স্যার। যে দোষ করেছে, সে আরামসে ঘুরে বেড়িয়ে- আপনাদের দিয়ে দোষ করাচ্ছে।
আর এখানে আপনারা দোষ করে- নির্দোষকে আটকে রেখে, দোষারোপ করে যাচ্ছেন।
তাও ঠিক। আমিও আটকেই আছি।
দ্বিতীয় বিষয়, আমার বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা করার জন্য বাবা-মা কেউ নেই! আমার জীবনে শুধুমাত্র আমি!
সবাই যখন ঘুমোয়, তখন আমার কাজ শুরু হয়। সবাই যখন কাজে যায়, তখন আমার বাড়ি ফেরার সময় হয়।
শুভ সকাল, বস। তোমার জন্য প্রথম ম্যাচের কাঠি খরচ করে ফেললাম! জলদি, ঘরে থাকা সব নকল জিনিস বদলে আসল করে দাও, প্লিজ। ঠিক আছে? আসছি।
No comments yet. Be the first to leave one.