لومړۍ 200 کرښې.
:
::
:::
::::
:::::
:আতিকুল গনি রিপন:
::আতিকুল গনি রিপন::
:::আতিকুল গনি রিপন:::
::::আতিকুল গনি রিপন::::
:::::আতিকুল গনি রিপন:::::
তুমি বলতে পারবে ওরা কি নিয়ে তর্ক করছে?
তুমি ইংরেজি পার?
জি। না, আমার জার্মান উচ্চারণ তত ভালো না।
শুননি দম্পতিরা যতই বুড়ো হয় ততই একে অপরের কথা শোনার ক্ষমতা লোপ পায়?
না তো।
বেশ, মনে করা হয় পুরুষদের উচ্চস্বরের কথা শোনার ক্ষমতা লোপ পায়,
আর অপরদিকে নারীদের নিম্নস্বরের কথা।
- মনে হয় একে অপরকে এড়িয়ে চলে। - হতে পারে।
প্রকৃতি দুজনকে এক ছাদের নিচে রেখে খুন খারাপি থেকে বিরত রেখে বুড়ো বানিয়ে দেয়।
কি পড়ছো?
ও, আচ্ছা।
তুমি?
খাবার গাড়িতে যাব ভাবছিলাম।
- আসবে নাকি সাথে? - হা।
বেশ।
তো তুমি এত ভালো ইংরেজি কোথায় শিখলে?
লস এঞ্জেলস থাকার সময় স্থানীয় একটা গ্রীষ্মকালীন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম।
- তাই? - এখানে কেমন হয়?
জি, ভালোই তো।
তারপর কিছুদিন লন্ডনে ছিলাম।
ওয়াও।
তো তুমি ইংরেজি কোথায় শিখলে?
আমি? আমি আমেরিকান।
- তুমি আমেরিকান? - জি।
- তাই নাকি? - জি।
আরে, মজা করছিলাম।
জানতাম তুমি আমেরিকান, অবশ্য আর অন্য কোন ভাষা পার না, ঠিক?
জি, জি, জি। বুঝতে পারছি, বুঝতে পারছি।
তো আমি অভদ্র, মূর্খ, অসভ্য আমেরিকান
যে অন্য কোন ভাষা পারে না, আর যার নিজস্ব কোন সংস্কৃতি নেই, ঠিক?
কিন্তু চেষ্টা করেছিলাম।
হাই স্কুলে থাকতে ফ্রেঞ্চ শেখার জন্য চার বছরের একটা কোর্স নিয়েছিলাম।
তো, প্রথম যে বার প্যারিস গেলাম, মেট্রো স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে.......
বিড় বিড় করতে লাগলাম- ("একটা টিকিট, প্লিজ"।)
- Une billet, s'il vous plaît. - Un billet.
একটা, যাই হোক — একটা— একটা —
Un billet, s'il vous plait. Un billet, s'il vous plait.
আর যখন কাউন্টারে মহিলার সামনে আসলাম ততক্ষণে কলিজা শুকিয়ে কাঠ।
আর বলতে লাগলাম "ইয়তে* যাওয়ার জন্য একটা টিকিট দেন" বুঝলে এই হলো অবস্থা।
আচ্ছা, যাক....
তো কোথায় যাচ্ছ?
প্যারিসে, সামনের সপ্তাহ থেকে ক্লাস শুরু।
- এখনো স্কুলেই আছ? কোথায় গিয়েছিলে? - জি, লা সরবোন, চিন নাকি?
নিশ্চয়।
- বুদাপেস্ট থেকে আসতেছো? - জি, দাদীমাকে দেখতে গিয়েছিলাম।
কেমন আছেন?
আছে ভালোই।
- সুস্থ আছেন? - ভালো আছেন, জি।
- তো তুমি কোথায় যাচ্ছ? - ভিয়েনা।
- ভিয়েনা? সেখানে কি? - নিজেও জানি না, আগামিকাল কাল সেখান থেকে বিমানে উঠবো।
- ছুটিতে নাকি? - আহ....
- সত্যি নিজেও জানি না কিসে আছি। - বেশ।
চারপাশে চরকির মত ঘুরছি, গত ২/৩ সপ্তাহ ধরে ট্রেনেই বসা।
বন্ধুদের সাথে দেখা-সাক্ষাত, না এমনিতেই?
- জি, মাদ্রিদে একজন বন্ধু আছে, তবে..... - মাদ্রিদ? ভালো জায়গা।
জি, ইউরোপ ভ্রমণ করার একটা পাস পেয়েছিলাম, তো মাগনা আলকাতরা গায়ে মাখছি।
বাহ, বেশ।
তো ইউরোপ সফর ভালো লাগছে?
জি, নিশ্চয়। জি, বলতে পার... জাত মেরে দিছে।
- বুঝনি? - কি?
না, ভ্রমণটা..... মন মত হচ্ছে না.....
যে দরে কেনা সে দরে বেঁচা, বেশ খুলে বলি।
বুঝলে না, সপ্তাহ ধরে জানালার পাশে তাকিয়ে থাকা.....
বলতে গেলে এই কোন রকম যাচ্ছে।
যেমন?
বেশ, বুঝনি, যেমন.....
এমন সব বিচিত্র পরিকল্পনা মাথায় আসবে যা এমনিতে আসার কথা না।
- কেমন পরিকল্পনা? - শুনবে নাকি?
- জি, বল তো। - বেশ।
- একটা পরিকল্পনা হলো, শুনছো? - হু-হুম।
টিভি শো'র জন্য, আমার কিছু বন্ধু আছে যারা ডিশ লাইনের ব্যবসা করে।
জান কিসের কথা বলছি, ডিসের ব্যবসাটা হলো.....
যে কেউ খুব সস্তায় একটা অনুষ্ঠান করতে পারে, আর প্রচারও করতে পারে, বুঝলে?
তো পরিকল্পনাটা হলো একটা অনুষ্ঠান বানানো যা বিরতিহীন ভাবে সারা বছর ২৪ ঘন্টা চলবে, বুঝলে?
যেখানে দুনিয়ার আলাদা আলাদা শহর থেকে
৩৬৫ জন মানুষ অংশ নিবে,
যারা ২৪ঘন্টা বাস্তব জীবনে কি করে তা দেখানো হবে,
তাদের জীবনযাত্রা রেকর্ড করা হবে।
মানে, হয়তো শুরু হবে একটা মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠলো,
আর, অনেক সময় নিয়ে গোসলটা সারলো,
সামান্য একটু নাস্তা করলো, একটু কফি বানালো,
তারপর ধর, হাতে কফির মগ নিয়ে পত্রিকা নিয়ে বসলো।
রাখ, রাখ, মানে সব সাংসারিক আর বিরক্তির ফালতু কাজকর্ম।
যেসব সবাই সবসময় তাদের সারা জীবনভর করে আসছে?
আমি বলব "দৈনন্দিন জীবনের কাব্য."
কিন্তু তুমি তো তোমার মতই বলবে, আমি আমার মত বলবো।
- এসব দেখবেটা কে? - কিন্তু এভাবে ভেবে দেখ.....
একটা কুকুর যখন রোদ পোহায় আমরা সুন্দর বলি কেন?
বুঝলে না? এটা তো এমনিতেই সুন্দর।
কিন্তু একটা লোক যখন বুথের সামনে দাঁড়িয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করে,
আমরা দেখি বিরক্তিকর একটা ব্যাপার হিসেবে।
তো মানুষ নিয়ে বানানো প্রামাণ্যচিত্র জিওগ্রাফিক চ্যানেলের মত?
- জি। - হুম।
- তো কেমন হবে? - আমি.... আমি দেখতে পাচ্ছি......
বিরক্তিকর ২৪টা ঘন্টা, মাফ চাই।
আর, অনেকটা যৌন দৃশ্যের মত- ৩মিনিট পর কাহিল হয়ে নেতিয়ে পড়া, না?
জি! বুঝনি.....
- মানে, সেই একটা ধারাবাহিক অনুষ্ঠান হবে। - জি।
লোকজন এটা নিয়ে আলোচনা করবে।
চাইলে তোমার প্যারিসের বন্ধু বান্ধব নিয়ে শুরু করতে পার।
ওহ, বটে।
আরে, পুরো ব্যাপারটা আমাকে শিহরিত করছে, মানে- অনুষ্ঠানটা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া.....
এক শহর বা এলাকা থেকে অন্য শহরে ছড়িয়ে দেয়া যাতে নিয়মিত প্রচার করা যায়।
কারণ বিরতিহীন ভাবে প্রচার করতে হবে, নয়ত সব বিফলে যাবে।
ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ।
বুঝলে? এরা সেবার মান নিয়ে মাথা ঘামায় না।
শুধু ইউরোপ পর্যবক্ষেণ করে।
সত্যি বলতে বাবা-মা কখনো আমার প্রেম-ট্রেমের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলে বলে না,
বা বিয়ে-শাদি, বাচ্চা-কাচ্চা।
এমনকি যখন ছোট ছিলাম।
ওরা চাইতো আমি যেন ভবিষ্যতে নিয়ে চিন্তা করি, যেমন ইন্টিরিয়র ডিজাইনার,
বা আইনজীবী বা এমন কিছু হই।
আমি যদি বলতাম "লেখক হবো" তো তারা বলতো "সাংবাদিক।"
যদি বলতাম "বিড়ালের পুনর্বাসন কেন্দ্র দিব" ওরা বলত "পশু চিকিৎসক।"
যদি বলতাম "অভিনেত্রী" ওরা বলতো "সংবাদ উপস্থাপিকা।"
সারাক্ষণ এমন টাকা-পয়সা সংক্রান্ত আলোচনা
কিভাবে ভবিষ্যতে শখ পূরণের সাথে সাথে অর্থ-কড়ি রোজগার করা যায়।
হু-হম।
আমি ছোটবেলা থেকেই ধুরন্ধর টাইপের অনুসন্ধানী মানসিকতার ছিলাম।
কেউ আমার সাথে মিথ্যা বলার সাথে বুঝতে পারতাম, বুঝলে?
পরে যখন হাই স্কুলে গেলাম, আমি হয়ে গেলাম....
সবার আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু যেখানে সবাই ভাবত আমার কি করা উচিত ভবিষ্যতে,
আর আমি... বিপরীত কাজটাই করতাম।
কেউ কখনো হিসেব মেলাতে পারতো না।
আমি কখনো অন্য দশটা লোকের মত ভবিষ্যৎ উচ্চাকাঙ্ক্ষায় এত ওতলা হইনি।
হুম, কিন্তু একটা কথা কি জান?
বাবা-মা'রা যদি তোমার কোন কিছুতে একেবারেই নাক না গলায়।
- আর উল্টো যখন সবকিছুতে সমর্থন আর উৎসাহ দেয়...... - ঠিক।
তখন বরং তাদের কে দোষারোপ করা সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
বুঝলে না, যদি তারা ভুলও করে।
একেবারে বেশি ভালো মানুষি, বুঝনি কি বলতে চাচ্ছি? এসবে.....
অসহ্য লাগে,
সত্যিই গা জ্বলে।
বুঝলে, এজন্যই মন্দ কিছুর দিকে ঝোঁক বাড়ে।
আমার মনে পড়ে, শিশুকালটা যেন ছিল....
বুঝলে, যেন জাদুকরী একটা সময়।
আসলে তাই মনে করতাম।
মনে আছে মা যখন প্রথম মৃত্যুর কথা বলে,
যেখানে দাদীমা সদ্যই গত হলেন।
আর আমাদের সারা জ্ঞাতি গোষ্ঠী ফ্লোরিডা থেকে দেখতে আসেন।
আমার ৩ বছর, সাড়ে ৩ বছর আরকি।
যাইহোক, আমি উঠোনে খেলছিলাম,
আর আমার বোন যে কিনা মাত্রই শিখিয়ে দিল
কিভাবে হোস পাইপ দিয়ে বাগানে পানি দিতে হয়।
আহ, আমি সূর্যের দিকে করে পানি ছিটাচ্ছিলাম আর দেখাচ্ছিল যেন রংধনু।
ঠিক আছে?
তো তাই করছিলাম।
আর এই কুয়াশার মধ্যে আমি দাদীমাকে দেখলাম।
বুঝলে? তিনি যেন সেখানে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন।
আর, আমি পাইপটা কতক্ষণ ধরে রাখি,
আর উনার দিকে তাকিয়ে থাকি, আর অবশেষে নজেলটা বন্ধ করে দেই।
বুঝলে? আর তারপর হোসটা হাত থেকে ফেলে দেই।
আর তিনি উধাও হয়ে যান।
তো দৌড়ে ঘরে এসে বাবা-মা'কে বলি।
আর তারা, আমাকে বসিয়ে একগাদা ঝাঁঝালো কথা শুনিয়ে দেন।
কিভাবে, যখন মানুষ মারা যায়, আমি কিভাবে তাদেরকে জীবিত কল্পনা করব।
কিন্তু আমি তো জানি আমি কি দেখেছিলাম।
মনে মনে খুশি ছিলাম যে আমি দেখতে পেয়েছিলাম। তারপর থেকে আর তেমন কিছু দেখিনি।
কিন্তু কিভাবে কি জানি না।
বলতে পার জাগতিক সবকিছুই যে আসলে ঝাপসা তা উপলব্ধি করা আর কি।
বুঝলে না? এমনকী মৃত্যুও।
তুমি ভাগ্যবান যে মৃত্যুর মত ব্যাপারে এমন করে ভাবতে পার।
আমি তো দিনে ২৪ঘন্টা মৃত্যুর কথা ভেবে শিহরিত হই।
কসম।
এজন্যই না এখন ট্রেনে যাচ্ছি, প্লেনে প্যারিস যেতে পারতাম, কিন্তু সত্যিই অনেক ভয় লাগে।
- আরে, কি বল এসব? - আমি পারি না, মাথা থেকে যায় না।
জানি পরিসংখ্যান কি বলে, "না, না না, অনেক বেশি নিরাপদ, ইত্যাদি ইত্যাদি।"
প্লেনে উঠলেই চোখে ভাসে যেন বিষ্পোরণ হচ্ছে।
চোখে ভাসে আমি যেন মেঘের ভিতর দিয়ে নিচে পড়ছি।
আর এত ভয় লাগে যেন মরার আগে জ্ঞান হারানোর মত অবস্থা হয়।
যখন তুমি জানবে যে নিশ্চিত মারা যাচ্ছ, তো?
এ চিন্তা তো মাথা থেকে যেতেই চায় না।
- বেশ... বেশ যন্ত্রণার। - হা, তা তো বটেই।
আসলেই যন্ত্রনার।
- মনে হয় ভিয়েনা। - হা মনে হয়।
- এখানে নেমে যাবে, না? - জি, টানা-হ্যাঁচড়ার জীবন।
যদি তোমার সাথে আগে দেখা হতো, সত্যিই তোমার সাথে কথা বলে ভালো লেগেছে।
জি, আমারও।
তোমার সাথে কথা বলে আসলেই ভালো লাগছে।
মাথায় একটা উদ্ভট চিন্তা আসছে, তবে যদি না বলি,
আজীবন একটা দুঃখ মনে খচখচ করবে।
কি?
আহ... তোমার সাথে কথা চালিয়ে যেতে চাই, যদিও জানি না তোমার আপত্তি হবে কিনা।
তবে, মন বলছে আমাদের মাঝে কোথাও না কোথাও একটা মিল আছে, তাই না?
- জি, আমারও। - আচ্ছা, যাক, তো ভালোই হলো,
তো তুমি আমার সাথে ভিয়েনা নেমে যাও, শহরটা কেমন দেখা যাক।
- কি? - আরে, মজা হবে, আস তো।
- আমরা করবটা কি? - জানি না।
জানি শুধু আগামীকাল সকাল ৯.৩০-এ অস্ট্রিয়ার ফ্লাইট ধরতে হবে,
No comments yet. Be the first to leave one.