لومړۍ 200 کرښې.
• • • অনুবাদ ও সম্পাদনায় • • • সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
হেনরি, পিস্তল আমাকে দিয়ে দাও।
প্লিজ, পিস্তলটা দাও আমাকে।
কী করলাম আমি?
পিস্তলটা দাও আমাকে।
পিস্তলটা দাও আমাকে, হেনরি।
পিস্তলটা দাও আমাকে।
হেনরি, না!
পিস্তলটাও রাখো।
কে তুমি?
এক পথচারী, যে এদিক দিয়েই যাচ্ছিল।
পিস্তলটা বের করো, দুই আঙুল দিয়ে, আর দূরে কোথাও রাখো।
ওকে গুলি করোনি কেন?
পিস্তল ওখানে ছিল।
- যদিও, ও আমাকে কিছু করেনি। - হ্যাঁ, তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
ওকে স্যুপ বানিয়ে দিয়েছ?
হ্যাঁ, দিয়েছি।
- বাইরে তো অনেক ঠান্ডা। - আমার ভাইকে খুঁজছি।
- বেশ, আমি তাকে দেখিনি। - আমি তো বলিইনি ও দেখতে কেমন।
- ও দেখতে তোমার মতো? - কিছুটা।
- তাহলে তো দেখিনি। - ওর সাথে একটা বাচ্চা মেয়ে আছে।
নিচে আসতে পারি?
না। এলি!
কী বললাম তোমাকে?
জোল, ছাড়ো না। দুজনেই থুরথুরে বুড়ো।
- এই ছোট্ট শয়তানটা কে? - ওর কথা কানে নিও না।
এখন বলো আমরা কোথায় আছি।
তোমার কাছে তো ম্যাপ আছে, হারাবে কেন?
এত্তবড় জঙ্গলে ও নিশ্চয়ই পথ দেখানো সংকেতগুলো মিস করে গেছে।
বাপরে বাপ!
আমরা এখানেই কোথাও আছি। কিন্তু ঠিক কোথায়?
আর উত্তরটা তোমার বউয়ের সাথে মিললে খুব ভালো হয়।
ওকে সত্যিটা বলেছ?
হ্যাঁ।
আমাকে সত্যি বলছ?
হ্যাঁ।
বেশ, লুকানোর জন্য ভালো একটা জায়গা খুঁজে পেয়েছ।
লুকানোর জন্য?
তোমার জন্মেরও আগে এসেছিলাম এখানে, বাছা।
- সবার থেকে দূরে। - আমি আসতে চাইনি।
দেখো, তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে নিরাশ করতে চাচ্ছি না,
কিন্তু এতদূর এসেছ যেহেতু,
জানো নিশ্চয়ই বাইরের পরিস্থিতিটা।
- কোডি গেছিলে? - হ্যাঁ, মরতে মরতে বেঁচেছি।
সংক্রমিততে গিজগিজ করছে।
হ্যাঁ, লারামি আর উইন্ড রিভার শেল্টারেও যাওয়া যাবে না।
যেখানে মানুষ আছে, সেখানে যাওয়া যাবে না।
- তো টমি নামটা কখনো শুনোনি? - না।
আর ফায়ারফ্লাইজ (জোনাকি)?
গরম পড়লে ওদের দেখা পাই।
পোকামাকড় না, মানুষের কথা বলছি।
জোনাকিরা আবার কবে থেকে মানুষ হলো?
- পশ্চিমে কোন দিকে গেলে ভালো হবে বলবে? - হ্যাঁ।
পূর্বে যাও।
কিন্তু নদীর ওপারে যেও না।
- ভুলেও না। - নদীর ওপারে কী আছে?
মৃত্যু।
কখনো দেখিনি ওখানে কে আছে,
তবে ওদের ফেলে যাওয়া লাশগুলো দেখেছি।
কিছু সংক্রমিত, কিছু না।
যদি তোমার ভাই নদীর পশ্চিমে গিয়ে থাকে, তাহলে আর বেঁচে নেই।
তোমরা আমাদের ভয় দেখাবে না।
ও তো ভয় পেয়েছে।
ওদের কথা বিশ্বাস করতে যেও না।
ওরা এখানে অনেকদিন ধরে আছে।
- ওটা রেখে দাও। - ওরা কিছুই জানে না।
ফায়ারফ্লাইজের কথা কখনো শুনেনি।
জোল? জোল?
জোল, ঠিক আছ?
- জোল? - চুপ থাকো।
যাহ বাল, মরছ নাকি?
আমি ঠিক আছি।
- ঠিক আছে, ঠিক আছে। - আচ্ছা, তুমি ঠিক আছ?
- আমি ঠিক আছি। - না, না, সত্যিই ঠিক আছ?
কারণ একটা কথা মনে করিয়ে দিই, তুমি মরলে আমি মারা খেয়ে যাব।
- বললাম তো ঠিক আছি। - আচ্ছা।
হঠাৎ করে ঠান্ডা বাতাস বইল তাই এমন হচ্ছে।
বেশ।
তো চলো গিয়ে টমি আর ফায়ারফ্লাইজদের খুঁজা যাক।
খুবই সহজ।
আমাদের ব্যস মরণনদীটা পার করতে হবে।
মরণনদী। ভয়ংকরী।
আর আগানো যাবে না।
সন্ধ্যা লাগতে যাচ্ছে।
নদীর পাশে কিছু গুহা আছে।
আমরা সেখানে আগুন জ্বালবো, আর সকালে উঠে নদী পার হবো।
বেশ। আমার খিদে পেয়েছে।
দুইটা খরগোশ চুরি করা উচিত ছিল।
আমরাও খরগোশ শিকার করতে পারব।
শিকার করতে শেখাবে?
ব্যস হাঁটতে থাকো।
ওখান থেকে নামো। নাহলে ঘাড় মটকে মরবে।
আমাকে একটু দিবে?
- না। - কী? একটু গা গরম করব।
আরে দাও না।
জঘন্য খেতে।
তো আমি ভাবছিলাম।
ধরো আমরা ফায়ারফ্লাইজদের খুঁজে পেলাম, সব খাপে খাপ বসল,
ওরা আমার রক্ত নিয়ে কোনো
হাইফাই মেশিনে ঢুকিয়ে ওষুধ তৈরি করলো।
আচ্ছা?
তারপর?
- মানে, তারপর আমরা কী করব? - "আমরা"?
আচ্ছা, ঠিক আছে। যাইহোক। তুমি।
তুমি এরপর যা খুশি করতে পারবে।
কোথায় যাবে? কী করবে?
এ ব্যাপারে কখনো ভাবিইনি।
হয়তো।
খামার খুলবো, কোনো
এক জায়গায়।
জোশ। কীসের খামার করবে?
ভেড়ার।
- ভেড়া পালব। - ভেড়া।
ওরা শান্ত হয়।
কথা শোনে।
হ্যাঁ, হ্যাঁ। ঠিক আছে।
তো, তুমি আর এক পাল ভেড়া।
রোমান্টিক।
আর তুমি? তুমি কোথায় যাবে?
কোয়ারেন্টিন জোনে বড় হওয়ায়...
পিছনে ছিল সমুদ্র,
সামনে ছিল দেয়াল।
তাই উপরে তাকানো ছাড়া উপায় ছিল না।
স্কুল লাইব্রেরীতে যা যা সম্ভব পড়েছি।
নিল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন, জিম লভেল।
কিন্তু জানো আমার ফেভারিট কে?
- স্যালি রাইড। - হ্যাঁ, স্যালি রাইড!
সেরা একজন নভোচারী।
এটা কাজ করবে, তাই না?
ভ্যাকসিনটা?
এসব নিয়ে এখন ভেবে আর লাভ নেই।
- আমি স্যামের সাথে চেষ্টা করেছিলাম। - কী চেষ্টা করেছ?
আমি জানতাম ও সংক্রমিত।
আমার রক্ত ওর ক্ষততে ঘষে দিয়েছিলাম।
হ্যাঁ জানি, বোকামি করেছি।
কিন্তু আমি...
ওকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম।
বেশ, আমার ধারণা ব্যাপারটা তার চেয়েও অনেক জটিল।
মারলিনের কথা বোঝা একটু মুশকিল, কিন্তু ও বোকা না।
যেহেতু ও বলেছে ওরা পারবে, তার মানে ওরা পারবে।
তুমি আগে পাহারা দিবে নাকি পরে?
আগে-পরে দুই বেলাই পাহারা দিব।
গিয়ে একটু ঘুমিয়ে নাও।
চাঁদে...
ভেড়ার খামারের স্বপ্ন দেখো।
হ্যাঁ, দেখব।
তুমি এখনো ঘুমের ঘোরে কথা বলো।
অনেক সকালে ঘুম ভেঙেছে আমার।
তুমি ঘুমিয়ে পড়েছিলে, তাই পরে আমি পাহারা দিয়েছি।
আমাকে ডাকা উচিত ছিল তোমার।
- তুমি এসব করতে পারো না। - কিন্তু আমি পারি।
কারণ আমি করেছি।
তোমার দায়ভার আমি নিয়েছি, ঠিক আছে?
তাহলে ঘুমিয়ে পোড়ো না।
আমি চুপ ছিলাম, পিছন দিকে খেয়াল রেখেছি,
পায়ের চিহ্ন খুঁজেছি, আর একটা উঁচু জায়গা দেখে
পাহারা দিয়েছি।
যেমনটা তুমি শিখিয়েছিলে।
নিজের আর কী সুনাম করব? আমার মধ্যে সত্যিই প্রতিভা আছে।
পরেরবার আমাকে ডেকে দিবে।
জি, স্যার।
মরণনদী। কিন্তু কোনো মানুষের দেখা পেলাম না।
বেশ।
শিস দেওয়া শিখছি।
শিস কীভাবে দেয় জানো না?
দেখে মনে হচ্ছে আমি শিস দিতে জানি?
না।
মানে সত্যি, তুমি শিস দাও কীভাবে?
- প্রতিভা। - আহারে!
তোমার আমাকে শিকার করতে শিখানো উচিত।
হাহ।
হাহ দিয়ে কী বুঝালে? "বাচ্চা মেয়ে। ওকে দিয়ে শিকার টিকার হবে না।"
শুটিং হয়তো পেরে যাবে।
- কিন্তু ড্রেসিংয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত না। - ড্রেসিং আবার কী?
- প্রাণীর নাড়ি-ভুরি বের করা। - ওহ, আচ্ছা।
একে ড্রেসিং কেন বলে?
মানে, একে তো আনড্রেসিং বলা উচিত
কারণ, মানে
ভেতর থেকে তো সব বের করা হচ্ছে।
তারপরও শেখার ইচ্ছা আছে।
ড্যাম!
তুমি উইল লিভিংস্টোন না।
হ্যাঁ, হ্যাঁ, লিভিংস্টোন এক পিসই আছে।
- তো ওটা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে? - হ্যাঁ।
কীভাবে করে জিজ্ঞেস কোরো না। আমার ধারণা নেই।
তুমি চাইলে কিছু বানিয়েও বলতে পারতে।
আমি বিশ্বাস করে নিতাম।
নদীটা দেখো। একদম নীল।
এই, জোল, এটাই কি মরণনদী?
আমার পিছনে থাকো।
আমরা কোনো ঝামেলা করতে আসিনি।
ব্যস এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম।
বন্দুক নিচে রাখো।
আর তুমি
পাঁচ কদম পিছনে যাও।
আমরা কথা বলে সমাধানে আসলে কেমন হয়?
তুমি মুখটা বন্ধ রাখলে কেমন হয়?
আচ্ছা, ঠিক আছে।
কিছু হবে না তোমার।
সংক্রমিত কারো কাছে গেছ?
No comments yet. Be the first to leave one.