لومړۍ 200 کرښې.
:.:.:অনুবাদ ও সম্পাদনায়:.:.: আহসান১২৩৪৫
১৯৯৫ সালে, অ্যান্ডি নামের একটি ছেলে তার জন্মদিনের জন্য "বাজ লাইটইয়ার" নামক খেলনা উপহার পেয়েছিল।
যেটা তার প্রিয় সিনেমা-ক্যারেক্টর ছিলো।
এটাই ছিলো সেই সিনেমা।
অসীম অনন্ত মহাশূন্য... পৃথিবী থেকে ৪২ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে।
স্টার কমান্ড এসসি-০১ মহাকাশ গবেষণা যান। ক্রু সংখ্যা: ১২০০ জন।
বায লাইটইয়ার দিনলিপি। ভ্রমণের ৩৯০১ তম দিন।
মহাকাশযানের সেন্সর অজানা একটা গ্রহে প্রাণীর সন্ধান পেয়েছে।
সেখানে অনুসন্ধান চালানোর জন্য সাময়িক বিরতি নিচ্ছি।
মহাকাশচারীরা প্রথমে বিষয়টাকে মূল্যায়ন করবে,
এরপর, মহাকাশবিজ্ঞানীদেরকে শীতনিদ্রা থেকে জাগানোর বিষয়টা...
...বিবেচনা করা হবে।
ERIC যতক্ষণ মৌলিক নমুনা সংগ্রহ করতে থাকে,
ততক্ষণে আমি এই অদ্ভুত গ্রহের অস্বাভাবিকতা অনুসন্ধান করতে থাকবো।
ভূমি কিছুটা নড়বড়ে বলে মনে হচ্ছে।
কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে না ....এখানে অক্সিজেন আছে কি না।
কোথাও বুদ্ধিমান প্রাণীর কোনো চিহ্ন নেই বলেই মনে হচ্ছে।
- কার সাথে কথা বলছ? - কেউ না তো!
তুমি আবারও বর্ণনা দিচ্ছিলে।
তা নয়, শুধু দিনলিপি করছিলাম...আরকি।
তুমি জানো, তোমার দিনলিপি কেউ শুনবে না?
আমি জানি, তবে এটা আমাকে কাজের উপর মনোযোগ রাখতে সাহায্য করে।
- ঐযে সজাগ থাকা... - তা ঠিক।
ঠিক আছে... যদি এটাতে তোমার কোনো সমস্যা হয়, কমান্ডার হথর্ন...
তাহলে, তুমি ঐ "শালগম"টায় ফিরে যেতে পারো।
ওটাকে আর "শালগম" বলো না অন্তত।
তবে, ওটা দেখতে তো "শালগম"-র মতোই।
হ্যাঁ, তুমি ভালোই ডিজাইন রিভিউ দিতে পারো।
তুমি কতদিন ধরে জানো যে আমি দিনলিপি করি?
শুরু থেকেই... যেহেতু তুমি আর আমি ক্যাডেট ছিলাম।
অও, একটা কথা... তুমি সাহায্যকারী নিতে ভুলে গেছো।
ওহহো, কমান্ডার হথর্ন...জানোই তো, অটোপাইলট জিনিসটার মতো এদেরও আমার পছন্দ না।
"আমি কি কিছু করার মাধ্যমে আপনাকে সাহায্য করতে পারি, স্যার?"
তারা তো সাহায্য করেই না, বরং আরো ভজঘট পাকিয়ে দেয়।
তারচেয়ে আমি নিজেই কাজটা করলে বেশি ভালো হয়।
এই কারণেই আমি সাহায্যকারীকে নিয়ে এসেছি।
হ্যালো...
- না। - বাজ, নিয়ম রক্ষার্থেই আমরা তাদের সাথে নিয়ে আসি।
- কিন্তু, তাদের চোখদুটো থাকে মরা মরা। - বায!
তুমি তো জানো, বিষণ্ণ চোখ আমি সামলাতে পারি না।
- দেখ, বাজ। - না।
- তার দিকে তাকাও...দেখো... - না...না।
- লাইটইয়ার! - না।
- তার দিকে তাকাও বলছি! - তাকাবো না।
- দেখো...দেখো.. - না।
- তাকাও তার দিকে। - না...না...
ঠিক আছে..ঠিক আছে..তুমি জিতেছ।
শোনো, ফেদার...ফেদারিংহামস্তান...
উচ্চারণটা ফেদারিংহামস্তান, স্যার।
শোনো রুকি, প্রথমত... আমি কথা না বললে তুমি কথা বলবে না।
- ঠিকাছে, সার। - এখন আমি কথা বলছি।
দ্বিতীয়ত, স্যুটের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করবে না।
এই স্যুট কিছু বিষয়কে নির্দেশ করে।
এটা যে কেবল তোমাট শরীরকে রক্ষা করছে.. তা না, এটা পুরো মহাবিশ্বকে রক্ষা করছে।
এই স্যুটটি ওয়ার্ল্ডের নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে,
...পারলে তুমি একাই সেই কাজটা করবে।
যেকোনো মূল্যেই হোক, মিশন শেষ করতে হবে।
তুমি কখনই হাল ছাড়বেন না, যদিও কোনো ছায়াপথ তোমার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
এটা তো খুবই সহজ কাজ।
তুমি আমার সাথে মজা করছ, তাই না?
বলতে পারো... তবে, সাপোর্টই তো দিচ্ছি।
শোনো কমান্ডার, আমার এবং তোমার উপর এই কাজটা শেষ করার দায়িত্ব রয়েছে।
- স্যার! - আমি কথা বলছি এখনও।
তাই, আমি তোমার চিন্তা আর কাজকর্ম সম্পর্কে বুঝতে পারি।
কিন্তু তাকে দিয়ে কী হবে জানি না!
কোথায় গেল সে?
দেখেছ এবার? আমি তোমাকে এটাই বুঝাতে চাচ্ছিলাম।
সমস্যা আখড়া একেকটা।
লতাগুল্ম!
পোকামাকড় !
মহাকাশযানটা দেবে যাচ্ছে।
সবাই "শালগমে" ফিরে যাও!
তাহলে "শালগম" নামটাই পছন্দ হয়ে গেলো?
স্টিলথ মোড চালু করো, আমরা কিছুটা সময় পাবো।
প্রায় পৌঁছে গেছি!
ঠিক আছে, প্ল্যান বি, রেডি?
চলো !
- বিস্ফোরণ! - হুম, আমি আবার রি-রুট করতে পারবো।
আমাকে এক মিনিট সময় দাও
সে কোথায়?
সাহায্য করো!
রুকি...
আমাকে সাহায্য কর!
বায লাইটইয়ার দিনলিপি... গ্রহটি আসলেই বসবাসের অযোগ্য।
উদ্ভট সব শত্রুর কারণে!
সংবেদনশীল পাতাগুলি ক্যাডেট ফার্থ-ফেদারিংকে আটকে রেখেছে...
ফেদারিংস্টন...ফেদার...
তারা রুকিকে ছাড়ছে না।
তাকে আমি বলেছিলাম যে তার উচিত নয় প্রথম--
গুলি করো!
- বায ! - এখনই !
সামনে বাড়ো, রেঞ্জার!
জাহাজে ফেরার পথ তৈরি করছি।
চলে এসো, বায!
দ্রুত করো।
ইঞ্জিন রুমে সব ঠিকঠাকই আছে।
- আমি হুইল ধরছি.. - আর আমি...
তোমাকে কিছু করতে হবে না, আমি করছি...
আমি কিভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?
অটোপাইলট !
- আমি কি কিছু করতে পারি স্যার? - না, বহুত করেছো তুমি।
এখন আদিখ্যেতার সময় না।
কমান্ডার, রিপোর্ট করো!
জ্বালানি ছেড়ে দিয়েছি।
চলো, এবার যাওয়া যাক।
সতর্কতা! লঞ্চ ট্র্যাজেক্টোরিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কাজটা হয়ে যা....
সংঘর্ষ হতে পারে...
শিপটি পরিত্যাগ করুন!
ক্যাপ্টেন লাইটইয়ার, আপনার কি আমার সাহায্যের দরকার?
- প্রয়োজন নেই। - আসলেই?
আমি বায লাইটইয়ার, আর আমি সবসময় নিশ্চিত থাকি!
আশা শেষ, বায।
হাইপার-স্পিড ক্রিস্টাল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
এক কথায়, আমরা এখানে আটকা পড়েছি।
আমি বুঝতে পারছি না...
তুমি কী করছো?
আমি নিজেই পদত্যাগ করছি।
না, তুমি পারবে না।
কমান্ডার হথর্ন, আমি সমস্ত স্পেস রেঞ্জারের দায়িত্ব থেকে নিজেকে অব্যাহতি দিচ্ছি।
এই সব দোষ আমার। তারা আমার চেয়েও ভালো কাউকে ডিসার্ভ করে।
আপনি আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারেন।
মিশনটা শেষ করো, বায!
আর এটাই তো আমাদের কাজ।
সবাই বাড়িতে না ফেরা পর্যন্ত আমাদের কাজ শেষ হবে না।
কিন্তু আমাদের কাছে তো কোনো ক্রিস্টাল ফুয়েল নেই।
তাহলে আমরা ক্রিস্টাল তৈরির জন্য এই গ্রহে সম্পদ আহোরণ করবো!
ক্রিস্টালিক ফিউশন খুবই ভারসাম্যহীন।
তাহলে, আগে পরীক্ষা করে নেবো।
না, এটা খুবই বিপজ্জনক।
হাইপার-স্পিডে সক্ষম একটি ক্রিস্টাল তৈরি করা,
সূর্যকে দড়ি পরাবার চেষ্টা করার মতো।
এরপর, সূর্যের সাথে মহাকাশযানটাকে বাঁধিয়ে কোনো সমস্যা না করে যানটাকে চালানোর জন্য একজন লোকের প্রয়োজন।
কে তাদের পাগল ভাববে না...
বায লাইটইয়ার দিনলিপি, ভ্রমণের ৩৯০২ তম দিন।
পুরো একটা বছর "বনবাসে" থাকার পর,
আমাদের সুদক্ষ ক্রুরা এই গ্রহের অফুরন্ত সম্পদকে ব্যবহারোপোযোগী করে তুলেছে।
অবশেষে, আমাদের প্রথম হাইপার-স্পিড টেস্ট ফ্লাইট এর সময় এসে গেছে।
তুমি রেডি, ক্যাপ্টেন লাইটইয়ার?
আর সবসময়ের মতোই, কমান্ডার হথর্ন।
অসীম মহাকাশ পানে...
অথবা সেটাকে ছাড়িয়েও।
বায, আমাদের সীমানায় কিছুর দেখা পাওয়া গেছে।
আসুন, আমি শুধু...
ক্যাপ্টেন লাইটইয়ার!
পাইলট দিয়াজ।
বাচ্চারা, লতাগুল্মগুলো আজ একটু বেশি সমস্যা করছে, তাই না?
আপনারা চালু করতে প্রস্তুত তো?
আপনি থাকলে আমরা সবাই প্রস্তুত, স্যার।
চার মিনিটের একটা ফ্লাইটের জন্য এক বছর কত পরিশ্রম করা, তাই না?
ভুল বলেননি।
ঠিকাছে, এই নতুন হাইপার-স্পিড জ্বালানী স্থিতিশীল কিনা তা খুঁজে বের করা যাক।
যেনো এই পাথুরে ভূমি থেকে আমরা চলে যেতে পারি।
আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম, এইযে আপনার আইভান, স্যার!
সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
অটোপাইলট !
আর এইযে এখানে, XL-01 ।
বেশ সুন্দর একটা প্লেন।
চলুন, এখন আপনাকে জ্বালানী ক্রিস্টালটা দেখাই।
শুভ সকাল, ক্যাপ্টেন লাইটইয়ার।
এখানে বিশেষভাবে প্রণীত আপনার জ্বালানী মিশ্রণট রয়েছে।
তাহলে, এই জ্বালানিই আমাদেরকে হাইপার-স্পিডে পৌঁছাবে?
এটার সম্ভাবনা ৮৭.৬ শতাংশ।
তাহলে এটার উপরেই কাজ করবো।
শুভকামনা, ক্যাপ্টেন।
আমরা সবাই আপনার উপর নির্ভর করছি...
তোমাকেও, পাইলট।
XL-01 থেকে মিশন কন্ট্রোল, আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন?
পজেটিভ, XL-01।
আমি তোমাকে মিশনটার জন্য চার মিনিট সময় দিচ্ছি।
এরপর, তোমাকে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে হবে।
এটা একটা আদেশ।
বুঝতে পেরেছি।
হাইপার স্পিড, আসছি দেখা করার জন্য।
কাউন্টডাউন, দশ...
...নয়...
...আট, সাত...
...ছয়...
...পাঁচ, চার...
...তিন, দুই...
...এক। পাওয়ার চালু করুন।
IVAN, ফ্লাইট পরিকল্পনাটা পড়ে শোনাও।
হ্যালো, আমি আপনার অভ্যন্তরীণ...
শ্লার অটোপাইলট!
হ্যালো, আমি আপনার অভ্যন্তরীণ ভয়েস-সক্রিয় নেভিগেটর, আমাকে IVAN বলে ডাকতে পারেন।
ফ্লাইট পরিকল্পনা পড়ে শোনাও, IVAN।
অবশ্যই।
আপনার মিশন হলো, মহাকাশে আলফা টিকানির চারপাশে একটা গোল চক্কর দিয়ে গতিমন্থর রিংয়ের মাঝ দিয়ে ফিরে আসা।
টার্গেট ফ্লাইট সময়: 4 মিনিট, 28 সেকেন্ড।
XL-01, আপনি হাইপার-লঞ্চের জন্য প্রস্তুত।
বুঝতে পেরেছি। হাইপার-লঞ্চ শুরু করা যাক তাহলে...
হাইপার স্পিড থেকে ৫০% দূরে...
জ্বালানী স্থিতিশীল রয়েছে।
গতি 0.6c তে বৃদ্ধি করছি।
হাইপার স্পিড থেকে ৪০% দূরে...
গতি 0.7c তে বৃদ্ধি করছি।
হাইপার স্পিড থেকে ৩০% দূরে...
জ্বালানী স্থিতিশীল।
গতি 0.8c তে বাড়াচ্ছি।
হাইপার-স্পীডের জন্য রওনা দিচ্ছি।
No comments yet. Be the first to leave one.