Первые 200 строк.
ভারতবর্ষ তখন ছিল দমনকারী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে।
১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল
পাঁচিল ঘেরা অমৃতসর শহর সাক্ষী হল এক ভীতিপ্রদ গণহত্যার।
ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ার নিজের সৈন্যদের জালিয়ানওয়ালাবাগে
২০,০০০ জনেরও অধিক লোকের এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে, বিনা সতর্কতায়
গুলি বর্ষণের নির্দেশ দেয়।
এই রক্তক্ষয়ী নরসংহারে হাজার হাজার নির্দোষ শিশু, নারী ও পুরুষ নিহত হয়।
এই হত্যালীলা পরিচালিত হয় পাঞ্জাবের তদনিন্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর
মাইকেল ও'ডায়ার এর নির্দেশে।
সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
১৯৩১ পাঞ্জাব, ইন্ডিয়া
শের সিং...
স্বাধীনতা মুবারক।
উঠে পড়! উঠে পড়!
দেশের স্বাধীনতা তো জুটবে না...
এই গরিবেরটাই নিয়ে নে।
আয় চলে আয়।
অনুবাদ ও সম্পাদনা শান্তনু মুখার্জী
জামাকাপড়...
নন্দ সিং এসেছেন দেখা করতে।
পাঠিয়ে দে।
আমাদের এইচএসআরএ কমরেড যারা অবশিষ্ট আছে,
তাদের কিছু রয়েছে কারাগারে...
আর বাইরে যারা আছে তারা ভেঙে পড়েছে।
বিপ্লবের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
- পাসপোর্ট? - লাহোর।
একটা হাতিয়ার চাই।
হাতিয়ার সঙ্গে নিয়ে তুমি বর্ডার পেরোতে পারবে না।
আফগানিস্তানে পেয়ে যাবে।
লন্ডনের ডিটেইল।
নিচে সিআইডি রয়েছে।
- কখন বেরিয়েছে ও? - গতকাল রাতে।
বিয়ে দিয়ে দিই?
সবাইকে ফাঁসিকাঠই বাছতে হবে, তাই না?
জল দাও।
সাবধানে থেকো, বৌদি।
রাওয়ালপিন্ডি পুলিস স্টেশন
গুড আফটারনুন স্যার।
- কী ব্যাপার? - স্যার, শের সিং পলাতক।
কখন থেকে?
স্যার, এক সপ্তাহ ধরে ও থানায় কোনো রিপোর্ট করেনি।
এসো।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, লন্ডন
আমি কানেক্ট করছি।
- হ্যালো। - এসপি পাটিয়ালা, স্যার।
আমরা একটা নতুন পাসপোর্টের আবেদন পেয়েছি। ইংল্যান্ডের জন্য স্যার।
ছবিটা আমাদের সন্দেহভাজন শের সিং এর সাথে মিলে যাচ্ছে।
কিন্তু পাসপোর্ট উদয় সিং এর নামে ইস্যু করা হয়েছে, স্যার।
কী নাম বললে?
উদয় সিং, স্যার!
তোমার কাছে যা কিছু পুরানো ছবি আর অন্যান্য নাম আছে তা পাঠাও।
- আমরা যতটুকু পারি সাহায্য করব। - আচ্ছা স্যার।
১৯৩৩ ইউ এস এস আর(রাশিয়া)
১৯২৭ লাহোর, ইন্ডিয়া
- ঘণ্টি তো আমাদের গলায় বেঁধে গেছে, ব্রিটিশরা। - হুমম।
ছেলেপিলে আয়েশি হয়ে পড়েছে... মানিয়ে নিয়েছে।
বলে, কাকা ট্রেন আছে, বিদ্যুৎ আছে, সিনেমা আছে,
কী না করে দিয়েছে এই ব্রিটিশ সরকার!
ওরা জানে না যে এইসব সুযোগ-সুবিধা তারা নিজেদের জন্য তৈরি করেছে।
হ্যাঁ, রেলওয়ে নেটওয়ার্ক তো ওরা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে,
সারা দেশটাকে লুটে নিতে।
এখানে আমাদের বাড়িতে ডাকাতি করছে,
ওদিকে জাহাজ ভরে ইংল্যান্ডে পাঠাচ্ছে।
ভগৎ!
- ওই বাক্সগুলো তুলে নাও। - কটা রিভলভার আছে?
রিভলভার আছে আটটা।
- গুলি কত রাউন্ড? - তিনশো।
আমাদের এই বাঘের বাচ্চা বন্দুক চালায় না কিন্তু আনে অনেক।
দারুণ, তাই না...?
এটা ওখানে রাখ... রাওয়ালপিন্ডি।
হীর রান্ঝা?
কনভার্ট হয়ে গেছেন?
মানব প্রেম, এইটাই সবকিছু।
আমার কিছু হলে...
কিছু তো একটা হবেই ছেড়ে তো দেবে না এরা।
তার পরও সংগঠন যাতে ঠিক ভাবে চলে,
তার জন্য তোমাকে কিছু বলতে চাই।
তাহলে তো ভগত ভাই, আমাদের তৃতীয় কাউকে ডাকতে হবে।
কেন?
কেননা বেঁচে তো আমিও থাকব না।
তোর যা হবে আমারও তাইই হবে।
তৃতীয় কেউ আছ নাকি?
করতে যদি পারি তাহলে হবে বিপ্লব।
তৃতীয়জনের লোড এসে গেলে আর হবে না...
১৯৩৪ লন্ডন
বিদেশী পাসপোর্টধারীরা ইমিগ্রেশনে যান
- আপনি যেতে পারেন। - ধন্যবাদ।
পাসপোর্ট?
যান।
পাসপোর্ট প্লিজ।
যেতে পারেন।
এই, অক্সফোর্ড স্ট্রিট?
ঠিক আছে।
"অবশেষে, দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে,
বেকারত্ব কিছুটা কমেছে,
সুদের হার কমে যাওয়ায় দক্ষিণে বড় বড় বাড়ি তৈরি হতে শুরু করেছে,
যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার করেছে...
এই দুই স্বৈরশাসক, অ্যাডলফ হিটলার আর বেনিটো মুসোলিনি'র
ভেনিসে সাক্ষাত হয়েছে।
ইল ডুচে নিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাউন্ট সিয়ানোর সাথে আজ মিউনিখে পৌঁছেছেন,
ফ্যুয়েরারের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে।
হাজার হাজার মানুষ ফ্যাসিস্ট নেতাদের জয় জয়কার করে
এবং হ্যান্ডস-অফ-অস্ট্রিয়া নীতিতে সম্মতি জানায়,
যা তাদের জন্য কোন ঐতিহাসিক ঘটনার চেয়ে কম নয়..."
কপ্পিকর- পাঞ্জাব রেস্তোরাঁ
এখানে নেই, গুরুদ্বারাতে খোঁজ নাও।
তুমি বলতে চাও যে তুমি আমেরিকা ফেরত যাওইনি?
কিন্তু নন্দ সিং এর মতে তোমার এখানে ছয় মাস আগেই এসে যাওয়া উচিত ছিল।
ভারতে এইচ.এস.আর.এ এর তো আর কেউ অবশিষ্ট নেই,
তাহলে তুমি এখানে একা আবার রি-গ্রুপ করবে?
আমাদের কাছে খুব একটা তহবিলও নেই।
যেটুকু আছে, খুব ভেবেচিন্তে খরচ করতে হয়।
কীভাবে করবে?
এখানকার সব ভারতীয়রা যে যার নিজের ঘরে সন্তুষ্ট হয়ে বসে আছে।
তাদের জাগাবে কীভাবে?
কোন নামে লন্ডনে এসেছ?
- শের সিং। - নামটা বদলে নাও!
এমআই ৫ আর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড পুলিশ হয়ত ইতিমধ্যেই তোমার নামে সতর্কতা জারি করে দিয়েছে।
নতুন কিছু কাজ জুটিয়ে নাও।
এখানের ভাষায় বললে, কিছুদিন ডুব মেরে থাকো।
অন্য সবার সাথে দেখা করো।
ইনি আবির মুখার্জি।
ব্যারিস্টার, একই আদর্শের সমর্থক!
দত্ত, সুমের সিং, রিহানা সিদ্দিকী ম্যাডাম উনিও আইনজীবী।
মহিলা শাখা পরিচালনা করেন।
সমীর বন্দোপাধ্যায়...
আর এ হল, সুরত আলী।
হিন্দুস্তানি মজদুর সংঘে ওর ভালোই দখল রয়েছে।
এরা সবাই আমাদের যুব কর্মী।
আর জোহলের সঙ্গে তুমি কাল গুরুদ্বারায় গিয়ে দেখা করবে।
ভগত সিং এর সাথে শেষ দেখা কবে হয়েছিল?
ধরা পড়ার আগে।
তারপর তো সরাসরি ওই চিঠিটা পেয়েছিলাম।
কী বলছিল ও?
বাইরে কোথাও গিয়ে সমর্থন জোগাড় করতে বলেছিল।
ইংলিশ বলতে পারো?
সামলে নেব।
কিছু যোগাযোগের নাম, কাজে লাগবে।
লাড্ডু খাবো?
মা!
মা!
বেঁচে আছ কেউ?
ছয় বছর পরে
হিটলারের, বিশ্বে নাৎসি শাসনের পতাকা
উত্তোলনের অভিপ্রায়ের ফলে...
বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে চলেছে...
নেভিল চেম্বারলেইনের তুষ্টির নীতি জাতিকে অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে,
আর উইনস্টন চার্চিল তার যুদ্ধকালীন ঘোষণায় জাতিকে সতর্ক করেছেন,
যে তাদের তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।"
ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ
আমি ভাগ্যবান যে ইস্ট ইন্ডিয়া সংগঠন ও...
...রয়্যাল সেন্ট্রাল এশিয়ান সোসাইটির...
...তরফে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ আমি পেয়েছি।
এই যুদ্ধ যা এখন আমাদের দোরগোড়ায়,
এতে সাম্রাজ্যের সকল সৈনিকের প্রয়োজন হবে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে,
আমি ভারতীয় সৈন্যদের সব কোটা পূরণ করেছিলাম,
আমার পাঞ্জাবের ১ লাখের বেশি শিখ আমাদের সরকারের পক্ষে লড়াই করেছিল।
আরেকটা বিষয় যা আমি নিশ্চিত করেছি তা হল ভারতীয়রা...
যাতে এই যুদ্ধের জন্য মুক্তহস্তে দান করে।
আমাদের সাম্রাজ্য মঙ্গলের প্রতীক চিরকাল ছিল আর আজও আছে।
আর তাই ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ...
... ভারত শাসন করা শুধু আমাদের অধিকারই নয়,
এটা আমাদের কর্তব্যও।
আমরা না থাকলে, তারা বর্বরতা,
লুটপাট আর খুনখারাপিতে লিপ্ত হবে।
একমাত্র আফ্রিকাই নয় যা,
আমাদের, শ্বেতাঙ্গদের জন্য একটা বোঝা।
আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি,
যে এই সংস্কারগুলি কার্যকারী ছিল।
আর এই কারনেই...
সে দেশ আবার এক হয়েছে, শান্তি ফিরে এসেছে।
আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ...ধন্যবাদ।
দেখা হয়ে খুশি হলাম।
মিস্টার ডায়ার!
পুলিস!
সব শেষ...
কোন লাভ নেই...
সব শেষ...
মেরে ফেলেছি, আমি ওকে গুলি করেছি!
ক্যাকস্টন হল!
স্ট্রেচার আসছে।
সব শেষ... কোন লাভ নেই...
সব শেষ...
ওর নাড়ি চেক করো।
ও হাজার হাজার হত্যা করেছে।
কয়েক হাজারকে মেরেছে ও।
সব শেষ...
- হ্যালো... - মিসেস ও'ডায়ার...
ও চিৎকার করে বলল..."স্যার ডায়ার"
ও ছয়টা গুলি ছুড়েছে...
আর একটা বুলেট...
গিয়ে লাগে তাঁর বুকে।
খুব দুঃখিত।
"১৯১৯ সালের পাঞ্জাবের লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার মাইকেল ও'ডায়ার কে,
আজ সকালে লন্ডনে একটি সভায়
একজন ভারতীয় গুলি করে হত্যা করে।
স্যার মাইকেল ইস্ট ইন্ডিয়া এসোসিয়েশনের একটি সভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।
মঞ্চে উপস্থিত সেক্রেটারি অফ স্টেট লর্ড জেটল্যান্ডের হাতেও গুলি লাগে।
No comments yet. Be the first to leave one.