Первые 200 строк.
এই যে, ডাব্বা। এই উঠে পড়্! - আমার সোনামণি!
আসছি। টাটা।
আরে উঠে পড়!
আর একটু বাকি আছে। সবসময় চিবিয়ে চিবিয়ে খাবি।
চললাম সোনা, বাই!
ডাব্বা!
আর একটু।
ডম্বিভেলি ফাস্ট
9A
- অনুবাদ ও সম্পাদনায় - শান্তনু মুখার্জী
রাহুল... রাহুল... উঠে পড়্ রে।
ট্যাপে গিয়ে দেখ্ জল আসছে কিনা।
রাহুল!
ধুর! ছাই! আমি সত্যিই একটা কুম্ভকর্নকে(ঘুমন্ত দৈত্য)জন্ম দিয়েছি।
রাহুল, উঠেছিস? প্রাচি...
প্রাচি, এবার উঠে পড়্ ...
প্রাচি! প্রা...
প্রাচি, পায়ে পায়ে না ঘুরে...
যা গিয়ে দাঁত ব্রাশ কর্, সুসু কর্... ফটাফট্ তৈরি হয়ে নে।
হে ভগবান! এই ছেলেটা সত্যিই একটা সমস্যা!
তোর দাদা? - ও ঘুমাচ্ছে!
সারা রাত টিভি দেখার কী দরকার ছিল?
ওঠ্ ... যা,গিয়ে একটু জল ভরে আন্!
এই নোংরা এখন কে পরিষ্কার করবে? - আমি করব ...
'আমি করব' মানে কী?
উঠে দেখ্, ট্যাংকারটা কাছাকাছি কোথাও আছে কিনা।
আমি দেখতে পারবনা! - দেখবি না?
এ ধরনের আচরণের মানে কী?
ঘুমানোর ঠিক নেই, ঘুম থেকে ওঠার কোনও সঠিক সময় নেই...
আর কিছু বলতে গেলেই মুখে মুখে জবাব...
আরে জবাব দেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা, আমি তো বলেই দিয়েছি যে...
আমি বন্ধুর বাড়ি পড়তে যাব। - তুই পড়াশোনার জন্য...
তোর বাবা অফিসের বাহানায়, আমিই একমাত্র আছি ...
... বিশ্বের যত সময় শুধু আমার হাতে আছে!
তোদের জাগানো, তোদের পিছনে দৌড়ানো...
... তোদের তৈরি করা, সবার টিফিন রেডি করা।
বুঝিস না যে তোদের মত আমারও দুটোই হাত আছে।
সাহায্য করার কথা তো বাদই দিলাম...
ডাকলে সাড়া দেওয়ার মত ভদ্রতাও কারো নেই।
আমিই শুধু সকাল থেকে দৌড়ে মরছি।
চলো... আমরা এবার যাই।
ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে কিছু সাহায্য তো করতেই পারো ... কিন্তু না!
তোমাদের বিছানার চাদর ভাঁজ করতেও সেই আমাকেই যেতে হবে।
সবাই জানে যে জলের সমস্যা রয়েছে...
... তাও সেই রোজ আমাকেই তাগাদা দিতে হবে...
মাথায় দু ঘটি জল ঢেলে আসতে।
এই সমস্ত তাড়া আর দৌড়াদৌড়ি করতে করতে...
তুমি যা ভাবো তার অনেক আগেই আমি মারা যাব।
দুধটা গেল! এই বাড়িটার মত অল্প যায়গা আর কোন বাড়িতে নেই।
কোন কিছুতে ধাক্কা না খেয়ে...
... কেউ এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে পারবেনা।
ঘুমাও, ঠিক আছে?
রাহুল... বসে থেকে সময় নষ্ট করছিস কেন?
আমি তোর মুখ ভেঙে দেব... যা বালতিটা নিয়ে জল ভরে আন্।
আমি এখন পারবনা ... - রাহুল!
এবার সীমা ছাড়াচ্ছে! ওর নিজস্ব কোন ফিলিং নেই, এটা তো নিশ্চিত...
যদি অন্য কেউ বলেও দেয় ...
... ও কতখানি নির্লজ্য সেটা দেখ!
এই বয়সেই এই! ভগবান জানে...
... ভবিষ্যতে কি আছে!
রাহুল,আমাকে আর হয়রান করিস না... জল ভর!
তোমাকে তো আগেই বলেছি, আমি মাঙ্গার বাড়ি যাব,পড়তে।
তুই মাঙ্গার বাড়িই যা বা অন্য কোন আহাম্মকের তাতে আমার কিছু যায় আসে না...
নিজের জিনিষ গুছিয়ে রাখ! জল ভর! তারপর যেখানে খুশি সেখানে যা।
তোকে আবার আলাদা করে বলতে হবে নাকি? উঠে পড়!
আস্তে! একটু ভালো করে বলতে কি হয়? তুমি এত রেগে রেগে কাজ করো...
হচ্ছে টা কী ... উত্তেজিত হলেও ...
... তোমার কাজের কোন সুরাহা হবেনা।
তুমি যদি কেবল শান্তিতে নিজেকে কাজগুলো করো ...
... আরও অনেক ঝামেলা থেকে বাঁচতে পারবে।
হ্যাঁ, তোমার ওখানে বসে বসে...
... মতামত দিতে তো কোন সমস্যাই নেই।
আর কেনই বা হবেনা...?
... বাড়ির বউ আর চাকরানির মধ্যে পার্থক্যটাই বা কী?
এটা আমারই ভুল। আমার একটা চাকরী নেওয়া উচিত ছিল...
আর ছেলেমেয়েকে ক্রেশে(শিশু রক্ষনালয়) রাখার ব্যাবস্থা করা উচিত ছিল।
আমার টিফিন সাপ্লাই এর ব্যবসায় নামা উচিত ছিল...
...তাহলেই সবকিছু ঠিকঠাক চলত।
কিন্তু তুমি চেয়েছিলে আমি বাড়িতে থেকে...
... ওদেরকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলি।
যেন এইকাজে বাবার কোন দায়িত্ব নেই...
আমি সেটাই মেনে নিয়েছিলাম। ওদের খাওয়াদাওয়া থেকে নিয়ে ...
...হাগা মোতা পর্যন্ত সবকিছুর খেয়াল রেখেছি।
তাতে লাভটা কী হয়েছে ...? ছেলে আমার মুখের ওপর জবাব দেয়...
আর ওদের বাবা কাজ বলতে শুধু বসে বসে খবরের কাগজ পড়েন...
এই রাহুল, যারে নীচে গিয়ে একটু জল নিয়ে আয়।
বাবা, তোমাকে বললাম না, বন্ধুর বাড়িতে পড়াশোনা করতে যাব।
তুই অন্য কারও বাড়িতে গিয়ে কী করে পড়াশোনা করবি?
আমি পারি..., বেশ ভালভাবেই। - আচ্ছা!
তবে রেজাল্ট বের হলে কী হয়?
এবার তুই তিনটি বিষয়ে ফেল করেছিস।
আমাকে পড়তে দাও!! ... - আমি জানি আমি ফেইল করেছি ...
কিন্তু সেটা আমার দোষ নয়।
কি? এটা যদি তোর দোষ না হয় তবে দোষটা কার?
মানে...যদি ওর দোষ না হয় তাহলে দোষ নিশ্চয়ই আমাদের।
হয় শিক্ষকের সাথে কোন সমস্যা আছে...
নাহলে, আমার মানুষ করায় কিছু ত্রুটি হয়েছে।
অন্য বাবা-মায়েরা, মানে, শুধু বাবা নয়...
এমনকি মায়েরাও কোনও মনোযোগ দেয় না।
তা সত্বেও বাচ্চারা সমস্ত বিষয়ে পাস করে...
আর এখানে! আমরা 24 ঘন্টা খিদমতে হাজির থাকার পরেও ...
...এই অবস্থা।
আমি ওই টিচারের কাছে টিউশন পড়ি না ...
... যে এই কে তিনটি বিষয় পড়ায়...
সেই জন্যেই আমি ফেইল করেছি ... প্রত্যেকে যারা ...
... টিউশন যায়, তারা পাশ করে।
ঠিক আছে, তোর তো আগেই এটা বলা উচিত ছিল।
যাইহোক... পরের মাস থেকে এই টিউশন যাওয়া আরম্ভ কর।
কিসের টিউশন? আমি এই টিউশন ফিউশনে বিশ্বাস করি না...
তুই বেশি মনোযোগ দিয়ে কেন পড়াশুনা করতে পারবি না...?
তুমিই বা কেন ওকে পড়াশোনায় একটু সাহায্য করতে পার না ...
মা কেন? তুমিও যদি আমাকে পড়াও, তাহলেও ফলাফল একই রকম হবে।
ওহ, তাই নাকি...? কোনও টিউশনের দরকার নেই।
একই টিচার যে তোকে পড়ায় তার কাছেই টিউশনস.. কিছুতেই নয়।
আমি এর জন্য টাকা দিতে পারব না... বুঝেছ...?
তাহলে আমি জীবনেও পাস করব না।
টিউশনের জন্য দেওয়ার মত টাকা তোমার নেই?
আমি টাকা থাকা না থাকার বিষয়ে কিছুই বলিনি।
আমি টিউশনের জন্য টাকা দিতে পারবনা। শুধু তাই বলেছি।
কেন? - কেন মানে?
এটা পরিষ্কার ব্ল্যাকমেল। এক রকম ভাবে, এটা ঘুষ দেওয়ার মতো...
আর আমি সেটা মোটেও পছন্দ করি না।
আর তুমি ভাল করেই জানো এটা আমার নীতিবিরুদ্ধ...
তোমার নীতিগুলি গুরুত্বপূর্ণ না ওর একটা একাডেমিক বছর?
এমন কথা বোলো না। তুমি ভাবো আমি কিছুই বুঝিনা...
আমি যেন কখনই স্কুলে যাইনি বা কখনও পরীক্ষায় পাশ করিনি...
আমি এত বছর ধরে ব্যাংকে কাজ করছি...
এ ধরনের টিউশন আমি কখনও নিই নি।
আমি কখনও এক টাকাও কাউকে বেশি দিই নি...
হ্যাঁ, ঠিক, কিন্তু সে সব দিন চলে গেছে, এখন আর নেই।
এখন যেখানেই দেখবে শুধু টিউশন ক্লাস চলছে ...
... আর বাচ্চারা সব সেই ক্লাসে যাচ্ছে ...
তুমি কি মনে কর,তাদের বাবা-মায়ের কোনও নীতি নেই?
আমি নিজের সম্পর্কে ভাবছি।
যদি দশ জন লোক গাধার মত আচরণ করে...
আমারও তাই করা উচিত, শুধু তারা দশ জন করছে বলেই?
আমি কি নিজের মতে কখনই চলব না?
এটা কী? এটার মানেই বা কী...
...যে টিউশন পড়লেই শুধু তুমি পাশ করবে?
এটাকে কি শিক্ষাদান বলে! এটা একটা ব্যবসা ...
এর থেকে রাহুলের পড়াশোনা না করাই ভাল।
তোমার আর কী? সবকিছুতেই তোমার ঠিক আছে।
এমনকি যে বাড়িতে তুমি থাকো সেটাও ...
... তোমার কাছে ঠিক আছে... ভাড়া বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও।
যখন তোমাকে বালতি নিয়ে জল আনতে যেতে হয় ...
... তোমার হতাশা বোধ হয় না...?
আমি বাবাকে বারবার বলেছিলাম ...
ব্যাঙ্কের পোস্ট দেখে সম্পর্ক ঠিক করা উচিত হবে না।
আর এতেও উৎসাহিত হয়ে পড়ার দরকার নেই...
যে এই পাড়ায় সব ব্রাহ্মনরাই বসবাস করে।
কি হল তাতে?
কিছুই ভুল হয় নি। তোমার ইচ্ছামতোই সবকিছু হবে।
আমি এমন আশা আর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
গত ১৫ বছরে আমি কী পেয়েছি...?
তোমার নীতির দৌলতে আমাদের জীবন তো নষ্ট হয়েই গেছে...
... এবার আমাদের সন্তানের জীবনও নষ্ট করো।
আর নিজের নীতি নিয়ে খুশি থাকো।
আমি আবার সময়ে কলেজে পৌঁছাতে পারবনা।
তোমার বস্ কখন আসবে?
আমি ওর সঙ্গে কথা বলব।
যেন আমাদের আর কোনও কাজ নেই। কেন যে ও প্রতিবার এমন করে?
কি হয়েছে... ও কি ট্যাপ্ খুলছে না?
ভগবান জানে। সবসময় কিছু না কিছু নাটক করে। - দেখুন ওকে।
কেন?
কি ভাবছে নিজেকে...
কি হয়েছে আঙ্কেল? আর কতক্ষণ সময় লাগবে?
ভগবান জানে... - কোন ধারণা নেই।
কোন ধারণা নেই মানে? আপনি যদি না জানেন তবে কে জানবে!
লোকে এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে...
আপনি এমন কী করে করতে পারেন? ট্যাপ্ খুলুন।
অন্যরা কেউ কি কিছু বলছে?
বাকি সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, তাই না?
আপনার সঙ্গে সভ্য ভাষায় কথা বলছি... আপনি শুধু একজন ট্যাংকার কর্মী।
প্রত্যেকেই আপনাকে টাকা দেয় ... তাড়াতাড়ি ট্যাপ্ খুলুন!
ওভারসীয়ার টাকা নিয়েই কথা বলতে গেছে, ঠিক আছে...?
আর সে চাবি নিয়ে চলে গেছে।
বলে গেছে, আমাকে চাবিগুলি দেবে না...
... কোনও টাকাপয়সা না পাওয়া পর্যন্ত...
কিন্তু এখানে সবাই তো টাকা দিয়েছে ...
... ফালতু অজুহাত দিয়ে সময় নষ্ট করবেন না...
নাহলে গিয়ে ওভারসীয়ারকে ডেকে আনুন।
দেখুন, সকাল সকাল আমি কোন ঝামেলা চাইনা...
আমি আপনাকে বলেইছি যে ও টাকা সংগ্রহ করতে গেছে
আপনারা হয়ত সময় মতো টাকা মিটিয়ে দিচ্ছেন...
... কিন্তু আমাদেরও তো ঠিক সময়ে মাইনে পাওয়া উচিত।
আপ্টে... আপ্টে ... থাক, যেতে দাও।
এই যে...এই ১০০ টাকা নিন আর জল দেওয়া শুরু করুন।
আঙ্কেল, আপনি এটা কেন করছেন? ওর একটা বদ-অভ্যাস হয়ে যাবে...
ছেড়ে দিন মাধব কাকা... আপনি এসে লাইনে দাঁড়ান।
আরে মাধব, এই নিয়ে বরং সেক্রেটারির সঙ্গে লড়াই কোরো।
যেহেতু একটা ব্যাংকে কাজ করে, তাই নিজের ক্ষমতা জাহির করছে।
এই সব যুক্তিতর্ক বন্ধ করুন! জলের কী হল?
এইসব ট্যাঙ্কারের ছেলেদের সাথে ওকে পাঙ্গা(গোলমাল)নিতে মানা করুন।
রোজই জলের জন্য ঝগড়া হয়।
প্রতিবারই ও সবার সঙ্গে ঝগড়া বাধাবে।
আমার আজকেও নিশ্চয় দেরি হবে। - আমি ডম্বিভেলিতে থাকতে থাকতে বিরক্ত।
আমাদের এই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া উচিত...
মুম্বইতে কি সবসময় এই ভিড় থাকে?
মুম্বাইয়ের অপর নাম হল ভীড় ...
যদি এটা না হয়, তাহলে মুম্বাইয়ের লোক কষ্ট পাবে।
No comments yet. Be the first to leave one.